জিডিপি ’র দলীয়করণ ও এর বিকল্প

একটি গণতান্ত্রিক দেশে কোন ক্ষমতাসীন দল নিজ শাসনামলে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে যে পরিমাণ অবদান রাখে তার উপর দলটির ভবিষ্যৎ গ্রহনযোগ্যতা নির্ভর করে। বিশ্ব রাজনীতিতে নিজ দলের গ্রহনযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজন পড়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, প্রয়োজন পড়ে বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ প্রস্তুত করা ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম মাপকাঠি বা ইনডিকেটর হিসেবে জিডিপি বা মোট দেশজ উৎপাদন কে ব্যবহার করা হয়। আর তাই দলীয় কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তথ্য ম্যানুপুলেশনের বা গণনা ভেরীর মাধ্যমে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ানো কমানোর প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়। রাজনীতিবিদদের এই ম্যানুপুলেশনের মানসিক রোগ থেকে জনগনকে উত্তরণে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন শুধুমাত্র জিডিপি একটি দেশের উন্নয়নের একমাত্র ইনডিকেটর হিসেবে গণ্য করা উচিৎ নয়।

চলতি অর্থবছরে (২০১৫-২০১৬) মাথাপিছু আয় হবে ১,৪৬৬ ডলার এবং পাশাপাশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.০৫ শতাংশ হবে বলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশে জিডিপি বাড়ছে, অর্থনীতি বড় হচ্ছে। সংখ্যায় ভুল শুদ্ধ যাই হোক না কেন বাংলাদেশ তার সম্ভাবনাময় খাতগুলো কে ঠিকমত বিনিয়োগ বান্ধব করতে পারছে কিনা কিংবা কতটুকুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে বা দক্ষ জনশক্তি তৈরি হয়েছে কিনা সেটাই ভাববার বিষয়। তাছাড়া জীবনযাত্রার মান ঠিক কতটুকুন বেড়েছে বা নাগরিক সুবিধা ঠিকমত মারজিনাল লেভেলে পৌঁছেছে কিনা বা ঠিক কি পরিমাণ মানুষ এখনো দারিদ্র্য-সীমার নিচে বসবাস করে সেসব বিষয় অবশ্যই প্রাধান্য দিতে হবে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের দোহাই দিয়ে মাথাপিছু ঋণের পরিমান বাড়ছে কিনা, অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে দেশ পরিবেশগত ঝুঁকির মধ্যে নিজেকে ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঠেলে দিচ্ছে কিনা সেসবও উপেক্ষা করা উতিচ নয়।

জিডিপির গণনায় সহজতর ভেলকির সুযোগ হচ্ছে ভিত্তি বছর বা বেইস ইয়ার (Base Year)। এই ভিত্তি বছর এবং জিডিপি ডিফ্লেটর এদিক সেদিক করে জিডিপি প্রবৃদ্ধি যে বাড়ানো কমানো সম্ভব তা মোটামুটি সবাই জানে এবং বোঝে। সময় পার হওয়ার সাথে সাথে বেইস ইয়রের (Base Year) গুরুত্বও কমতে থাকে। “আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল” (আইএমএফ ) এর মতে যেহেতু অর্থনীতিতে প্রতিনিয়তই যোগ হয় নতুন সেক্টরের সম্ভাবনা সেহেতু জিডিপি গণনার জন্য ভিত্তি বছর(Base Year) অন্তত প্রতি পাঁচ বছর পর পর হালনাগাদ করা প্রয়োজন।বাংলাদেশের জিডিপি ক্যালকুলেশনে নতুন খাত বা সেক্টর যোগ না হলেও বেইস ইয়ার (Base Year) ঠিকই পরিবর্তন হয়েছে । কিছুদিন আগে,২০১৪ সালে নাইজেরিয়ার জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ৮৯% বেড়ে গিয়েছিল শুধুমাত্র ভিত্তি বছর(Base Year) পরিবর্তনের ফলে। অর্থাৎ তখন নাইজেরিয়াতে যে লোকটির মাথাপিছু আয় ছিল ১০০ টাকা সে এক রাতের ব্যবধানে অতিরিক্ত ৮৯ টাকার মালিক হয়ে যায়। এই অতিরিক্ত ৮৯ টাকার ঘাটিতি মেটানোর জন্য তার ইনকাম ইকুয়ালিটি আছে কিনা, তার লেবার প্রোডাকটিভিটি কতখানি ইত্যাদি কিন্তু বিবেচনাধীন ছিল না। বাংলাদেশেও ভিত্তি বছর পরিবর্তন করায় ঠাস করেই মাথাপিছু আয় বেড়ে যায়। আগে ১৯৮৪-১৯৮৫ সাল কে ভিত্তি বছর ধরে জিডিপি গণনা করা হতো। এরপর তা পরিবর্তন করে ১৯৯৫-১৯৯৬ কে ভিত্তি বছর করা হয়। পরবর্তীতে তাও পরিবর্তন করে ২০০৫-২০০৬ সাল কে ভিত্তি বছর করা হয়। আবার প্রাইস মেকানিজমের মাধ্যমেও ফাইনাল গুডসের মূল্য এদিক সেদিক করে এবং “মার্জিনাল প্রপেনসিটি” এর মাধ্যমেও জিডিপি বাড়ানো কমানো সম্ভব এবং সেই প্রক্রিয়াই এবার ফলো করা হলো বলে অনেকেই বলেছেন। অর্থনীতিতে এটা কে বলা হয় “Smart Window Dressing” এটাকে অনেক অর্থনীতিবিদ যৌক্তিক মনে করলেও অনেকের মতে এটা নৈতিকতা বিবর্জিত কিংবা অতিরঞ্জিত করার উদ্দেশ্য বলে বিবেচিত।

বস্তুত,লজিক্যালি গণনা কার্যের চতুরতায় জিডিপি বাড়ানো কমানো যায় কিন্তু হয়তো তা “ইকোনোমিকাল ইথিক্স” (Economical Ethics) নাও সাপোর্ট করতে পারে। সংখ্যা নিয়ে খেলা করার মাধ্যমে অর্থনীতিতে যে উন্নয়নের গতি দেখানো হচ্ছে তাতে সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ কতখানি ? নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন বা উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের জন্য তাড়াহুড়া করে সংখ্যা নিয়ে খেলা করে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বা মাথাপিছু আয় বাড়িয়ে দেখানো যায় কিন্তু এতে ভুক্তভোগী হয় সাধারণ জনগণ। বাজারের ভারসাম্য অবস্থার (Equilibrium Position) ব্যাঘাত ঘটে, সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়, ক্ষতি হয় ব্যবসায় বাণিজ্যের; ক্ষতি হয় বিনিয়োগ পরিস্থিতির। অর্থনীতির এরুপ অবস্থায় সাধারণ জনগণের রিয়েল সেভিংস বলতে কিছুই থাকে না বরং উল্টো মাথাপিছু ঋণের বোঝা বাড়ে। “যাহা ইনকাম তাহাই খরচ” – এমন এক পরিস্থিতির তৈরি হয়। আয় বৈষম্য সৃষ্টি হয়; সম্পদ কুক্ষিগত হয়।

জিডিপি ’র সমস্যা নিয়ে ছোট পরিসরে বিস্তর আলোচনা করা সম্ভব নয়। জিডিপি এর ক্যালকুলেশন প্রসেসে যে বিস্তর সমস্যা রয়েছে এ ব্যাপারে অর্থনীতিবিদরা হাজার হাজার গবেষণা করে দেখিয়েছেন। কম বেশি সবাই মনে করেন, জিডিপি এর সমস্যা হচ্ছে এটি “কস্ট” আর “বেনেফিট” আলাদা করে না। সামাজিক উন্নয়ন বা সমৃদ্ধি কতখানি হয়েছে তা জিডিপি দ্বারা পুরোপুরি বোঝা যায় না বরং জিডিপি দ্বারা অর্থনীতির সাইজ কতটুকু সেটা বোঝা যায়। কাটছাঁটের মাধ্যমে তা বাড়ানো কমানো যায়। সম্পদের সুষম বন্টন হয়েছে কিনা তা জিডিপি’র মাধ্যমে বোঝা যায় না। জিডিপি প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাওয়া মানে জীবন যাত্রার মান বৃদ্ধি পাওয়া নয়। এছাড়া জিডিপিতে বেশ কিছু বিষয়াদি উপেক্ষা করা হয়। যেমনঃ
০১.স্বাস্থ্য ০২. শিশুমৃত্যু ০৩. অসুস্থ্যতা ০৪. আত্মহত্যার হার ০৫. অপরাধ
০৬.দারিদ্র্য ০৭. পরিবেশগত স্বাস্থ্যহানি /ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি
০৮. মহাসড়ক ও সেতু এবং অবকাঠামো ও স্থায়ীত্ব ০৯. পরিবার ভাঙ্গন
১০. অবসর সময় ১১. কাজ যোগাড়ে খরচ ১২ আয়ের ব্যবধান (নারী/পুরুষ উভয়ই)

“…….Yet the Gross National Product does not allow for the health of our children, the quality of their education, or the joy of their play. It does not include the beauty of our poetry or the strength of our marriages, the intelligence of our public debate or the integrity of our public officials. It measures neither our wit nor our courage, neither our wisdom nor our learning, neither our compassion nor our devotion to our country; it measures everything, in short, except that which makes life worthwhile.” (Robert F. Kennedy,1968)

জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ার সাথে সাথে মূল্যস্ফীতির সম্পর্ক রয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ার সাথে সাথে মূল্যস্ফীতি বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। মূল্যস্ফীতি কতটা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে তা মূদ্রানীতির দক্ষতার উপর নির্ভর করে। আবার পূঁজি বাজারকে উপেক্ষা করেও কেবল মুদ্রাবাজারকে কেন্দ্র করে মুদ্রানীতি প্রণয়ন করাও ঠিক নয়। দক্ষ মূদ্রানীতি প্রণয়ন করা না হলে সেক্ষেত্রে বাজারে বিনিয়োগ পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়। ব্যাংকিং ব্যবস্থার ক্রেডিট ম্যানেজমেন্ট ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। এমনকি উৎপাদনশীলখাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সুতরাং শুধুমাত্র জিডিপি নিয়ে পড়ে থাকলেই হবে না। মূদ্রা বাজারে ক্যাপিটাল গ্রোথ, ক্রেডিট গ্রোথসহ পূঁজি বাজার পরিস্থিতির দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক খাতের অন্যান্য ইনডিকেটর গুলোকেও প্রাধান্য দিতে হবে। উন্নত দেশগুলো তাই করছে। জিডিপি এর পাশাপাশি নিচের সূচক গুলোও দেখা উচিৎ।

(ক) বিনিয়োগ ও অর্থ সূচকঃ

দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি যাচাই বাছাই করার জন্য বিনিয়োগ সূচক তৈরি করা হয়। এই সূচকে যে সকল বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত করা হয় সেগুলো হচ্ছেঃ
১. মোট বিদেশি বিনিয়োগ (সেক্টরাল) ২. প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট ৩. পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট
৪. মোট পোর্ট ফোলিও ইনভেস্টমেন্ট ৫. ফরেন লোন ৬. বেলেন্স অব পেমেন্ট স্ট্রাকচার

(খ) মানব উন্নয়ন সূচক (Human Development Index)ঃ

১৯৯০ সাল থেকে মানব উন্নয়ন সূচক UNDP কর্তৃক প্রকাশিত হচ্ছে। ২০১৪ সালে ১৮৭ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪২, ভারতের অবস্থান ছিল ১৩৫, ভুটানের অবস্থান ১৩৬, শ্রীলংকা ৭৩ এবং পাকিস্তান ১৪৬। মানব উন্নয়ন সূচকে যে সকল ইন্ডিকেটর ব্যবহার করা হয় সেগুলো হচ্ছেঃ
১. আয়ু ২. শিক্ষা ও বয়স্কদের স্বাক্ষরতার সুযোগ ৩. মোট শিক্ষা গ্রহনের বছর
৪. আয়ের সুষম বন্টন ৫. মাথাপিছু জিডিপি’র হার ৬. স্বাস্থ্য সেবায় সাফল্য
৭. লিঙ্গ সমতা/বৈষম্যহীনতা ৮. গণতন্ত্র পরিস্থিতি ৯. অন্যান্য

(গ) ফিস ইন্ডেক্স (Fordham Index of Social Health -FISH)ঃ

আমেরিকায় উন্নয়নের পরিমাপক হিসেবে এই ইনডেক্সটি ব্যবহার করা হয়। মোট ১৬ টি আর্থ-সামাজিক সূচক নিয়ে এটি তৈরি। যেমনঃ
১. শিশুমৃত্যু ২. শিশু নির্যাতন ৩. শিশু দারিদ্র্য ৪. দু:খ/ আত্মহত্যা ৫.ওষুধের অপব্যবহার ৬. স্কুল ড্রপ আউট / ঝড়েপড়ার প্রবণতা ৭. গড় সাপ্তাহিক আয়
৮. বেকারত্ব ৯. স্বাস্থ্য বীমা ১০. বয়স্ক ব্যক্তিদের মাঝে দারিদ্র্য ১১. বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা ১২. মাদকজনিত কারণে মৃত্যু ১৩. হত্যা ১৪. খাদ্য রেশন/ কনজ্যুমার আইন ১৫. হাউজিং/ গৃহায়ণ/ পুনর্বাসন ১৬. আয় বৈষম্য

(ঘ) জিপিআই ইনডেক্স (Genuine Progress Indicator -GPI)ঃ

মোট আঠারোটি সূচক কে প্রাধান্য দিয়ে এই ইনডেক্স টি তৈরি করা হয়।
১. অস্বীকৃত কাজ (গৃহ পরিচারিকা,মাদার’স কেয়ার)২. অপরাধ ৩. পরিবার ভাঙ্গন
৫. পরিবারের কাজ ৫. স্বেচ্ছাসেবামুলক কাজ ৬. আয় বন্টন ৭. সম্পদ হ্রাস
৮. দূষণ ৯. প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের হার ১০. দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত ক্ষতি (জলাভূমি, কৃষিজমি,সেতু নির্মানে নদী শাসন, পানিহীনতা)১১.অবসর সময় পরিবর্তন
১২. আয়ু ১৩. বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরতা ১৪. সরকারি সেবার স্থায়ীত্ব (মহাসড়ক, রাস্তার অবকাঠামোগত স্থায়ীত্ব) ১৫. অবসর সময়ের ক্ষতি ১৬. স্বয়ংক্রিয় দুর্ঘটনার খরচ ১৭.বেকারত্বকালীন খরচ ১৮.পরিবেশ দূষণজনিত খরচ(শব্দ, বায়ূ, পানি)

আসলে, উন্নয়ন শব্দটা উচ্চারণ যতটা সহজ বাস্তবে তা পরিমাপ করা বেশ কঠিন। উন্নয়ন মানে ঘরে ঘরে স্মার্ট ফোন বৃদ্ধি নয়, ঘরে ঘরে ইনটারনেট সরবরাহ নয়, একই রাস্তা বার বার খুড়ে ঢালাই করা নয়, উন্নয়ন মানে কেবল ফ্লাই ওভার নির্মাণ নয়। উন্নয়ন মানে হচ্ছে কৃষি প্রধান অর্থনীতির কৃষি সম্প্রসারণ, কৃষকের আয় বৃদ্ধি, সাধারণ জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি বৃদ্ধি, দেশীয় পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ, রপ্তানি বৃদ্ধি, রাজনৈতিক পরিবেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ এবং একটি সুষ্ঠু স্থিতিশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ। আর এই “নিশ্চিতকরণের” দায়িত্ব তখনই ফলপ্রসূ হয় যখন দেশ যোগ্য নেতা পায়। যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে, লোভ ও দূর্নীতির প্রভাবে আজ আমাদের দেশের অর্থনীতি এখনো বাচ্চাই রয়ে গিয়েছে; সাইজে বড় হচ্ছে কিন্তু সাবালক হচ্ছে না।

কিছু অযাচিত তথ্য (নিজ গরজে যাচাই করার অনুরোধ রইলো)ঃ

১.বাংলাদেশে মোট আবাদি জমির পরিমাণ ২ কোটি ১ লাখ ৫৭ হাজার, মাথাপিছু আবাদি জমির পরিমাণ ০.২৮ একর।

২. বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৫ অনুযায়ীঃ
সাধারণ জনমিতিক পরিসংখ্যান মতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩৬% , স্বাক্ষরতার হার ৬২.৩%, পুরুষ ও মহিলার অনুপাত ১০৪.৯, শিশু মৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ৩৩ জন, মহিলা(১৫-৪৯ বছর) উর্বরতার হার ২.১২, পুরুষের গড় আয়ু ৬৯.৯ বছর, মহিলার গড় আয়ু ৭১.৫ বছর, স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহারকারী ৬৩.৮% , সরকারি হাসপাতালে শয্যা প্রতি জনসংখ্যা ১৬৫২ জন।

৩. বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৫ অনুযায়ীঃ
খানা আয় ও ব্যয় জরিপ ২০১০ অনুযায়ী সিএনবি পদ্ধতিতে দারিদ্রের উর্ধসীমা (জাতীয় ৩১.৫০%, পল্লী ৩৫.২০%, শহর ২১.৩০% ) এবং দারিদ্রের নিন্মসীমা( জাতীয় ১৭.৬০%, পল্লী ৩২১.১০%, শহর ৭.৭০%

৪. ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে কৃষিখাতে প্রবৃদ্ধি ২.০৭%, শিল্পখাতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হার ১০.৩২% (প্রাক্কলিত)

৫. ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে বিনিয়োগ বোর্ড কর্তৃক নিবন্ধিত বিনিয়োগের পরিমাণ ২১,৬৭২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে সর্বাধিক বিনিয়োগকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র ২,৩৭৯.৩৭ কোটি টাকা। ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের মধ্যে সেবা মূলক শিল্পে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করা হয়।

৬. ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ১,৮২, ৯৫৪ কোটি টাকা, কর রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ১,৫৫,২৯২ কোটি টাকা; ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে রাজস্ব ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ১,২৮, ২৩১ কোটি টাকা

৭. ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে দেশে মোট স্থাপিত বিদ্যুত উৎপাদন ক্ষমতা ১১২৬৫ মেগাওয়াট যার মধ্যে সরকারি খাতে ৬,২০০ মেগাওয়াট, বেসরকারি খাতে ৪,৫৬৫ মেগাওয়াট এবং আমদানিকৃত ৫০০ মেগাওয়াট । মোট বিদ্যুত উৎপাদন ২২,৬৯১ মিলিয়ন কিলোওয়াট আওয়ার। ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে বিদ্যুতের সিস্টেমলস ১১.১৯%

৮. বর্তমানে দেশে জ্বালানী তেলের মজুদ ক্ষমতা ১০.৯১ লক্ষ মেট্রিক টন, মোট আবিষ্কৃত গ্যাস ক্ষেত্র ২৬ টি যার ১৯ টি গ্যাস ক্ষেত্রের ৯০ টি কূপ থেকে গ্যাস উতপাদিত হয়। ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে প্রকৃত গ্যাস উতপাদিত হয়েছে ১২.৫৬ ট্রিলিয়ন ঘনফুট , ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে জ্বলানি আমদানির পরিমাণ ছিল পরিশোধিত ১৭,১৬,৬১৪ মেট্রিক টিন, অপরিশোধিত জেডি , কেরোসিন, অকটেন ও ডিজেল ৭, ০৫,১৯৩ মেট্রিক টন, ফার্নেস অয়েল ৪, ৭৪, ৯৪৬ মেট্রিক টন।

৯. বিশ্বে ইন্টারনেট সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৬৩ তম ১ম অবস্থানে রয়েছে ডেনমার্ক, ২য় অবস্থানে ফিনল্যান্ড।

১০. ২০১৪ সালের দুর্নীতি সূচকে নিম্নক্রমে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪তম

১১.SDSN -এর রিপোর্টে সুখী দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১০৯তম ।

১২. বিশ্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি নমিন্যাল মূল্যের ভিত্তিতে ৫৮তম এবং ক্রয় ক্ষমতার ভিত্তিতে ৩৬তম অবস্থানে রয়েছে। প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধির অর্থনীতিতে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ২২তম। বর্তমানে বাংলাদেশের মাথাপিছু ঋণ ৩২,০০০ টাকা।

১৩. ২০১৫ সালে বৈশ্বিক শান্তি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম

১৪. FAO-এর রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশে ক্ষুধাপীড়িত লোকসংখ্যা রয়েছে ২ কোটি ৬৩ লাখ।

১৫. প্রবাসী ও কল্যাণ মন্ত্রনালয় এর ১০জুন, ২০১৫ সুত্রানুযায়ী বিশ্বের ১৬০টি দেশে বাংলাদেশের ৯৩,৪১,৩৭৭ জন কর্মী রয়েছে যার মধ্যে নারী ৩,৯২,৬৫৬জন ।

১৬. ফান্ড ফর পিস এর প্রকাশিত তালিকায় ভঙ্গুর রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান হচ্ছে ৩২ তম, সবচেয়ে শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ সুদান এবং সবচয়ে কম ভঙ্গুর রাষ্ট্র হচ্ছে ফিনল্যান্ড।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৭ thoughts on “জিডিপি ’র দলীয়করণ ও এর বিকল্প

  1. বিশ্লেষণটা দারুণ
    বিশ্লেষণটা দারুণ
    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীগণ সংসদে দাঁড়িয়ে নিজেদের উন্নয়ন দেখাতে বারবার জিডিপির কথা বলে যেটা সত্যিকার অর্থে কোন উন্নয়নই নয়

  2. লেখাটি পড়ে ভালো লাগল। এ বিষয়ে
    লেখাটি পড়ে ভালো লাগল। এ বিষয়ে লেখার জন্য মনঃস্থির করেছি খবরটি দেখেই। আপনার লেখাটা আমার সে কাজে সাহায্য করবে বিরাট। আমার লক্ষ্য, জিডিপির হিসাব দেখে খুশি হওয়ার আদৌ কিছু আছে কিনা তা দেখানো, পাশাপাশি জিডিপি বৃদ্ধি ও জনগণের জীবনমানের বিকাশ কোনটা কি অবস্থায় আছে তার তুলনা করা। দ্রুতই লিখে ফেলব।

  3. চমৎকার লাগল আপনার বিশ্লেষন।
    চমৎকার লাগল আপনার বিশ্লেষন। জিডিপি অংক দেখিয়ে আইওয়াশ করছে সরকার। ফাঁপা অর্থনীতিকে জিডিপি’র গল্প শুনিয়ে কতদিন টিকিয়ে রাখা যাবে?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 4 = 6