একজন সিরিয়ান রিফিউজির সাথে কথোপকথন

একজন সিরিয়ান রিফিউজির সাথে কথা হচ্ছিলঃ

একদিন আমরা সিরিয়ানরা ইউরোপ দখল করব…
– কিভাবে?

আমরা আস্তে আস্তে ইসলাম ধর্ম বিস্তার করব, তারপর ইউরোপিয়ান মেয়ে বিয়ে করে মুসলিম বানাব, অনেকগুলি বাচ্চা নিব, এভাবেই আস্তে আস্তে পুরো ইউরোপ আমরা দখল করে নিব।
-কিন্তু তোমরা তো এখানে এসেছ জীবন বাঁচাতে, তোমাদের দেশে যুদ্ধ চলছে, তাই দয়া করে ইউরোপ তোমাদের আশ্রয় দিচ্ছে…

ওরা আমাদের আশ্রয় দিতে বাধ্য, আমাদের দেশের যুদ্ধের জন্য তো ওরাই দায়ী।
-জার্মানি, সুইডেন কিভাবে দায়ী হল? ওরা তো কিছু করছেনা, তোমরা তো নিজেরাই শিয়া, সুন্নি মারামারি করছ, আমেরিকা রাশিয়াকে ডেকে নিজেরাই নিজেদের মানুষ হত্যা করছ।

সবই ইহুদী খ্রিস্টানদের ষড়যন্ত্র, এরা সরাসরি কিছু না করলেও পিছনে পিছনে ঠিকই সাপোর্ট দিছে। বাশার আল আসাদকে এরাই সাপোর্ট দিয়ে আমাদের মানুষ মারছে। শিয়ারা, কুর্দিরা মিলে সুন্নিদের উপর হামলা করছে।
-কিন্তু তোমরাও তো শিয়াদের মারছ, শিয়ারা তোমাদের মারছে। এটা তো তোমাদের নিজেদের ঝামেলা।

আমরা শিয়াদের ঘৃণা করি, কারন ওরা আমাদের অনেক মানুষ মেরেছে, ওরা মুসলমান না।
-তোমরা কি একজন শিয়াকেও মারোনি?

মেরেছি, কারন ওরা নামমাত্র মুসলিম, আমরা সুন্নিরাই একমাত্র সহিহ মুসলিম।
-সিরিয়াতে যদি সমস্যা মিটে যায় তাহলে কি সিরিয়া ফেরত চলে যাবে?

সিরিয়াতে কেন যাব? ৬ হাজার ডলার খরচ করে কি চলে যাওয়ার জন্য এসেছি? এখানকার পাসপোর্ট নিব, এখানেই থাকব।
-সুইডেন সরকার কেমন সহযোগিতা করছে তোমাদের?

থাকা খাওয়ার অবস্থা জঘন্য। আমি সিরিয়াতে রাজার মত থাকতাম। এখানে এসে রুম শেয়ার করতে হয়। খাওয়া ভাল না। আমাদের আরো সুযোগ সুবিধা দেয়া উচিত।
-লাখ লাখ মানুষ এখানে এসেছে। সরকার যতটুকু পারছে করছে। নিজেরা কাজ করে সেই ট্যাক্সের টাকায় তোমাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করছে। কাজ করলেও তো পারো, তোমাদের তো কাজের সুবিধা আছে। কাজ করে নিজেদের মত করে আরামে থাক।

আমি কি ইউরোপে কাজ করতে এসেছি? শুধু পাসপোর্টটা পেয়ে নেই। তারপর সরকার বাড়ি দেবে, টাকা দেবে। আর কোন টেনশন নাই।
-ইউরোপ দখলের কথা কি যেন বলছিলে?

আমরা লাখ লাখ মুসলিম এখানে এসেছি। একসময় মসজিদ বানাব, খ্রিস্টান মেয়েদের বিয়ে করে মুসলিম বানাব, অনেক বেশি বাচ্চা নিব, সরকার বড় বাসা দিবে, টাকাও বেশি পাওয়া যাবে। সেইদিন বেশি দূরে নয় ইউরোপে ইসলামের ঝাণ্ডা উড়বে, ইনশাল্লাহ।
-ইউরোপের প্রতি কি একটুও কৃতজ্ঞতা নেই তোমাদের? এই যে তোমাদের আশ্রয় দিল।

কিসের কৃতজ্ঞতা? আমরাও অনেক ইউরোপিয়ানদের অনেক আশ্রয় দিয়েছি। এটা আমাদের অধিকার।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 6 = 4