ব্যরিস্টার ড. তুরিন আফরোজরা এভাবেই অপব্যাখ্যা করেন!

তুরিন আফরোজের ব্যাখ্যা।
১ম দফা : সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপন করতে হবে। কুরআন ও সুন্নাহ্ পরিপন্থী আইন সংবিধান থেকে বাতিল করতে হবে।
* সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং অনুচ্ছেদ ১২ অনুযায়ী ধর্মনিরপেক্ষতা নীতি হল আমাদের সংবিধান এবং রাষ্ট্রের অন্যতম মূলনীতি। এ মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ১ম দফাটি কখনও-ই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
* সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭(২) অনুযায়ী সাংবিধানিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন বাতিল বলে গণ্য হবে। সংবিধান হল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন। আর তাই সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আইন কুরআন ও সুন্নাহ্ সমর্থিত হলেও বাংলাদেশের আইন হতে পারবে না। ১ম দফাটি তাই অগ্রহণযোগ্য।
* ইসলামের নীতি অনুযায়ী সংবিধান কোনো ধর্মগ্রন্থ নয়। আর তাই ‘মদিনা সনদ’-এর ইসলামীকরণ করা হয়নি। কিন্তু ইসলাম হেফাজতের নামে ইসলামের এ শিক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিয়ে মুমিন মুসলমানদের বিভ্রান্ত করাটাই হল একটি ইসলাম-পরিপন্থী কাজ। ইসলামের দৃষ্টিতে ১ম দফাটি তাই মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।

ব্যাখ্যা খণ্ডন।
১ম দফা : সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপন করতে হবে। কুরআন ও সুন্নাহ্ পরিপন্থী আইন সংবিধান থেকে বাতিল করতে হবে।

এই দাবীতে দুটো অংশ রয়েছে। এক. সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপন করা।

আল-কুরআনে আল্লাহর ওপর আস্থা রাখার নির্দেশ বেশ কয়েকবার এসেছে।
সূরা আহযাব: ০৩, নামল: ৮৯, তাগাবুন: ১৩, ইবরাহীম: ১২, আনফাল: ৬১, আলে ইমরান: ১২২, তাওবা: ৫১, আহযাব: ৪৮, ইউনুস: ৮৪, ইউনুস: ৮৫, শুরা: ১০, তালাক: ০৩, মায়েদা: ৩৩, ইউসুফ: ৬৭ সহ আরো বহু আয়াতে।
অনুরূপভাবে সবক্ষেত্রে কুরআন-সুন্নাহর অনুসরণের নির্দেশও আল-কুরআনে বহুবার এসেছে।
সূরা আলে ইমরান: ১৩২, মুহাম্মদ: ৩৩, আলে ইমরান: ৩২, তাগাবুন: ১২, মায়েদা: ৯২, আনফাল: ৪৬, নিসা: ৫৯, আনফাল: ২০, আনফাল: ০১, মুজাদালা: ১৩, নূর: ৫৪, তাগাবুন: ১৬ সহ আরো অন্যান্য আয়াতে।

আর ইসলামের যে কোনো সাধারণ আদেশ-নিষেধ ব্যক্তি জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন ও রাষ্ট্রীয় জীবনে শিরোধার্য। যেগুলো কেবল ব্যক্তিগত বা পারিবারিক, সেগুলো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক পরিমণ্ডলে সীমাবদ্ধ থাকবে। উপরোক্ত আয়াতগুলো সাধারণ। এগুলোর ব্যাপ্তি রাষ্ট্র থেকে শুরু করে সর্বত্র। কাজেই এই দাবীর বিরোধিতাই বরং ইসলাম-বিরোধিতার শামিল।
আর সংবিধানের প্রথম ভাগ প্রজাতন্ত্র অধ্যায়ে আছে ( ২) জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোনো আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসমঞ্জস্ হয়, তাহা হইলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইবে৷
তাছাড়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান শুরু হয়েছে “বিস্‌মিল্লাহির-রহ্‌মানির রহিম” দিয়ে। এবং অনুচ্ছেদ ২(ক) অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। কাজেই ইসলামের মৌলিক দুটি নির্দেশনা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত থাকাটাই সংবিধানপন্থী। না থাকাটা বরং সংবিধানের পরিপন্থী।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “ব্যরিস্টার ড. তুরিন আফরোজরা এভাবেই অপব্যাখ্যা করেন!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 3