কাঁটাতারের অন্ধকারে জাতি

বাস্তবজীবনে আমার কিছুই নাই।আসলে কিছুই নাই যারা বলে তাদের ও নিজের বলতে কিছু না কিছু থাকে।আমার তাও নাই,টোটাল ব্লেঙ্ক! কাঁধে যে যন্ত্রটা নিয়ে দেশের এখানে ওখানে ভন্ডামী করে বেরাচ্ছি সে যন্ত্রটিও বড় ভাইয়ের কাছ থেকে ধার করা। জানি না,এ ধার কবে শোধ হবে!
কিছু না থাকার পরে ও মাঝে মধ্যে ধনী ধনী একটা রব ওঠে আমার মধ্যে। কারন আছে,বুঝিয়ে বলছি-
ভন্ডামি আর ভবঘুরে (বাস্তবিক অর্থে কিছু পারি না বলেই সহি একটা কাজ বেছে নেওয়া) স্বভাবের কারনে আমি বেশ কিছুদিন বাংলাদেশ বর্ডার সংলগ্ন একটা এলাকায় আসর বসিয়েছিলাম। পাশেই বর্ডার কাঁটাতারের বেড়া! এ পার বাংলাদেশ ওপার ভারত মাঝখানে সীমান্ত।চলাচল নিষেধ! আর নিষিদ্ধ কাজেই মানুষের আগ্রহ বেশি।আর এ আগ্রহের কারনে সৃষ্টি চোরাচালান।একটা কাঁটাতারের মধ্যেই আছে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার গল্প। এ গল্প আমার নিজের চোখে দেখা নিজের কানে শোনা।ধনী তো আমি অবশ্যই!

গল্পের অল্প একটুস আপনাকে শোনায়-

চোরাচালানে ভারত থেকে সব চেয়ে বেশি যে জিনিসটা আসে সেটি একটি ঔষধ।নিষিদ্ধ ঔষধ,নাম #ফেনসিডিল।বর্ডার সংক্রান্ত এলাকার কমবেশি মানুষের আয়ের উৎস এ চোরাচালান(মদ,গাঁজা,ফেনসিডিল,অস্ত্র)।এ এলাকায় থাকার সুবাধে এখানকার মানুষ গুলো থেকে কিছু তথ্য পেয়েছিলাম।আমার ভাষায় এ গুলোকে আমি বলি “#বাংলার #পঙ্গুত্বের #তথ্য”।এ তথ্যগুলোর অনেকগুলো নিজের চোখে ও দেখেছি। সংবাদপত্র কিনবা টিভি খবরে এ সব তথ্য হয়ত পাব না। না পাওয়ায় স্বাভাবিক কারন খবরের চ্যানেল গুলো ইদানিং সার্কাস দেখানো শুরু করেছে!বাঙ্গালিকে দেশ এগুচ্ছে বলে ঘুম পারিয়ে রাখা হচ্ছে। অবুজ বাঙ্গালি জানে ও না,প্রতিরাতে ১০ লক্ষ বোতল ফেনসিডিল সীমান্ত পথে আমাদের দেশে এসে ঢুকে। তার চেয়ে ও অবাক করা তথ্য শুধু রাজধানী শহর ঢাকা যেখানে শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু সেখানেই প্রতিদিন প্রায় ৫ লক্ষ বোতল ফেনসিডিলের চাহিদা আছে।
যাদের কাছে এ জিনিসের চাহিদা তাদের বয়স গড়ে ১৫ থেকে ৩০ এর মধ্যে।১৫ থেকে ৩০ এর মধ্যে বুদ্ধিমান ছেলেগুলোর কেন ফেনসিডিলের প্রয়োজন পরছে প্রতিদিন?
ফেনসিডিলে আসক্ত এ তরুন সমাজকে আমি ২ ভাগে ভাগ করি। এক ভাগে আছে পথে জন্মানো,স্টেশনে থাকা,বস্তিতে থাকা শিশু যারা জন্মের পর থেকেই এ নেশার সাথে পরিচিত এবং একসময় গিয়ে আসক্ত! তারা ছিনতাই চুরি ডাকাতি করে। এরা দোষী! তবে এদের সম্পুর্ণ ভাবে আপনি দায়ী করতে পারবেন না। কারন এদের জন্মের পেছনে এদের হাত ছিল না। বাংলাদেশে জীবিত প্রতিটি লোকের দায়িত্ব সংবিধান অনুযায়ী গনপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকারের। সরকার যুগে যুগে দায়িত্বে অবহেলা করেছে।ছেলে গুলো মাঠে ঘাটে, রাস্তায়-স্টেশনে অশিক্ষা কুশিক্ষায় বেড়ে উঠেছে।তাই দেশের ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে আসক্ত তরুনদের এই অংশের দায় সরকারের উপর পড়ে।

এবার আরেকটা অংশের কথা বলি-এরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শিক্ষিত।এদের জন্ম পরিচয়,মা-বাবা,প্রিয়তম এবং সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার অনেক গুলো কারন থাকে। তবুও সমাজের এ অংশ একসময় আসক্ত হয়ে পড়ে। কারন বিভিন্ন-মানসিক অশান্তি,বেকারত্ব ব্লা ব্লা……
ফেনসিডিলের নেশা মানুষকে একটা ঘোরের মধ্যে নিয়ে যায়। এ ঘোরে পৃথিবী শান্ত।এ নেশা আপনাকে চুপ চাপ ভাবাবে। এ ভাবনা মনে হবে আনন্দদায়ক।ফেনসিডিলে আসক্ত মানুষ বেকারত্বের শোক ভুলে যায়,প্রিয়তমা হারানোর শোক ভুলে বসতে পারে।এ নেশা আরো একটা কাজ করে।আপনাকে ঝিম ধরিয়ে বসিয়ে রাখবে ঘন্টার পর ঘন্টা।ঝিমুতে থাকা এ অংশের জন্য ও দায়ী করব আমি গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারকে। কারন মানসিক অশান্তিতে আক্রান্ত বিরাট এ সংখ্যাটির সামনে মানসিক শান্তি ফিরিয়ে আনার অন্য কোন পথ খোলা রাখেন নি আপনি।বরং খুব সহজেই ৫০০ -৮০০ টাকার মধ্যে ছোট কাঁচের বোতলে ফেনসিডিল নামক ঔষধ খেয়ে ঝিম মেরে বসে থাকার সহজ পথ খুলে রেখেছেন।তারা সহজ পথ বেছে নিয়েছে!

এবার ঘটনায় আসা যাক যে দেশে গড়ে প্রতিদিন ১০ লক্ষ যুবক সারাদিন মাঠ-ঘাট-স্টেশন-ফুটপাত কিনবা বদ্ধ রুমে শুধু ঝিমিয়ে থাকে সে দেশ এগুবে কার শক্তিতে।

“গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার” বাঙ্গালিকে ডিজিটেল আলোক স্বজ্জা আর কয়লা বিদ্যুতের স্বপ্ন দেখিয়ে লাভ নেই।যে জাতিকে প্রতিদিন কাঁটাতারের নিচে অন্ধকার গিলিয়ে পঙ্গু করছেন সে জাতিকে আলোর মুখ দেখাবেন কি দিয়ে?

সবুজ মূর্খ
বোকা বাঙ্গালী।।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “কাঁটাতারের অন্ধকারে জাতি

  1. সব শুধু সরকারেরই দোষ দিয়ে এই
    সব শুধু সরকারেরই দোষ দিয়ে এই দুনিয়াতে পার পেলেও, অাল্লাহর দরবারে পার পাবেন না, ওখানে প্রতিটা মানুষের হিসেব শুধু তার নিজেকেই দিতে হবে্। এ দুনিয়াতে কি দয়াময় অাল্লাহ মানুষকে ফেনসিডিল খেয়ে ঝিম মেরে বসে থাকার জন্য পাঠিয়েছেন? এটা বুজার জ্ঞ্যন, বয়স কি তাদের তিনি দেননি?

    1. এ দুনিয়াতে কি দয়াময় অাল্লাহ

      এ দুনিয়াতে কি দয়াময় অাল্লাহ মানুষকে ফেনসিডিল খেয়ে ঝিম মেরে বসে থাকার জন্য পাঠিয়েছেন?

      যেখানে আল্লাহর ইশারা ছাড়া গাছের একটা পাতাও নড়ে না, সেখানে আপনি কিভাবে মনে করলেন কেউ নিজের ইচ্ছায় ফেন্সিডিল খেয়ে ঝিম মেরে বসে থাকে? এটা আল্লাহর উপর খবরদারীর শামিল নয় কি?

      1. এ দুনিয়ার একটু জীবনের জন্য
        এ দুনিয়ার একটু জীবনের জন্য মানুষ ভাল-মন্দ যা করতে চাইবে তার খনস্থায়ী তওফিক তিনি হয়ত তাকে দিবেন, কিন্ত তার এ মন্দ চাওয়া বা ইচ্ছা প্রকাশ করার জন্য তাকে যে শাস্তি পেতে হবে তা কিন্ত তাকে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, অার অাখেরাতে তার এই হাতের কামাই করা মন্দ কর্মের ফলই সে ভোগ করবে

          1. সুরা নাবা: অায়াত
            সুরা নাবা: অায়াত
            ৪০. অামি অবশ্যই অাসন্ন অাযাব সম্পর্কে তোমাদের সতর্ক করে দিয়েছি,
            সেদিন মানুষ দেখবে তার হাত দুটি (এ দিনের জন্যে) কী কী জিনিস পাঠিয়েছে, (এ দিনকে) অস্বীকারকারী ব্যক্তী তখন বলে উঠবে, হায়, কতো ভালো হতো যদি মানুষ (না হয়ে) অামি
            (অাজ) মাটি হতাম!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

68 − 65 =