এলোমেলো কিছু কথা

১. সিলেটের শাহরিয়ার খুন হলো, মনে আছে ? কিন্তু কোন বিচারের নামগন্ধ পেলাম না । কয়েকদিন খুব লাফালাফি হলো । কিন্তু শেষমেশ, সে খুনটাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়া হলো । যদিও তার ঘরে একটা নোট/চিরকুট পাওয়া গিয়েছিল । যাতে স্পষ্টতই বোঝা যায় শাহরিয়ারের মৃত্যু আত্মহত্যা নয় ,খুন । তাছাড়া শাহরিয়ারের লাশও জানালার গ্রীলে গলা বাঁধা অবস্থায় এমন ভাবে ঝুলছিল যেন হাঁটু ভাজ করা ছিল । ওভাবে হাঁটু ভাজ করে কীভবে একজন আত্মহত্যা করে জানা নেই , কিন্তু বাঙলাদেশ পুলিশ ঠিকই জানে । তারপর যাই হোক, মনভুলো বাঙাল তা ভুলে গেছে অবলীলায় । তাই সঠিক তদন্তও হয়নি, বিচারও হয় নি ।

২. বাঙলাদেশ প্রশানের সফলতা শুধুমাত্র প্রবীর শিকদার আর মোহন কুমাার মন্ডলের মতন নিরীহ আর সরল-সাধারন মানুষদেরকেই গ্রেফতার করাতে । কোন সঠিক খুনিকে গ্রেফতার করার সুনাম(!!) তাদের খুব কমই । অভিজিৎ রায় হত্যা হওয়ার পর এক বছর কেটে গেছে । অথচ প্রশাসনের দ্বারা গ্রেফতারকৃত তথাকথিত খুনীদের বিচার হয়নি এখনো । অথচ দুদিন আগেই দেখলাম রাফিদা আহমেদ বন্যা লিখেছেন , “ এফবিআই( FBI)এর একজন কনসালটেন্ট রাস্তার ক্লোজ-সার্কিট-ক্যমেরার ভিডিও দেখে তাকে বলেছেন যে, তাদেরকে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ফলো করা হচ্ছিল । কিন্তু যারা ফলো করছিল তাদের একজনকেও গ্রেফতার করতে পরে নি পুলিশ । হতেই পারে যারা ফলো করছিল, তারা অভিজিৎ রায়-কে হত্যা করে নি । কিন্তু যাদের ‘কে গ্রেফতার করা হয়েছে তারাই যে খুনি, তার সঠিক প্রমান কী ?? আর যদি প্রমান থেকেই থাকে তবে বিচার হচ্ছে না কেন ?

৩. ওয়াশিকুর রহমান বাবু হত্যার পরও এক বছর কেটে গেছে । ওয়াশিকুর বাবুর হত্যাকান্ডের স্থানের পাশেই পুলিশ পাহারায় ছিল , অথচ হত্যাকারীদের মধ্যে দুজনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয় দুজন সাধারন পথচারী । পুলিশ কী সেখানে ডিমে তা দিচ্ছিল ! যে কারনে খুন হলো এক লেখক ? আবার এমনও হতে পারে যে, পুলিশরা ঘুষ খেয়েছিল খুনীদের কাছে থেকে ।বিস্মিত হবেন না । আমি নিজে বহু পুলিশকে ১০০ থেকে শুরু করে লক্ষ টাকা অবধি ঘুষ খেতে দেখেছি । প্রশাসনের লোকদের মাঝে পুলিশের ঘুষ খাওয়ার পরিমান কেমন জানি না , তবে কোন টাকার নোট দোকানী না নিলেও পুলিশকে দিলে নিবে তা নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি । যাইহোক, বাবুর খুনিদের কিন্তু বিচার হয় নি । আশা করছি হবেও না । কেননা বিচার হলে রাজনৈতিক নেতাদের কথা বলা আর নির্বাচনের আগে সাধারন মানুষদেরকে মিথ্যা আশ্বাস দেয়ার খেলা খেলা যাবে না । সেই দুই খুনী একজন মৌ-লোভীর নাম বলেছিল , যে কিনা খুনের পরিকল্পনাকারী ও মূল হোতা । কিন্তু এখনো তাকে গ্রেফতার করতে পারে নি প্রশাসন ।

৪. আমি আমার একটা লেখা পোষ্টে উল্লেখ করেছিলাম ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাস অবধি শুধুমাত্র ঢাকা থনাগুলোতেই ৫০০ এর উপর ”নারী ও শিশু নির্যাতন” মামলা । সেগুলোর কোন বিচার হয়েছে বলে মনে হয় না ।হলেও গুটিদুয়েক । আজকে দেখলাম গত ৩ মাসে ৬৬ টি ধর্ষণ ও ৪০ এর বেশি শিশু হত্যা । এসবের কবে বিচার হবে জানি না । আমার তো আশংকা হচ্ছে যে এসবের বিচার আদৌ হবে কিনা ! কেননা বাঙলাদেশের কোর্টের অবস্থা আরও শোচনীয় । কছু চমৎকার মানের কালো গাউন পরা লোক ’মরা মানুষকেও জীবিত করে দিতে পারেন নানা রকম প্রমান দিয়ে’ ।

৫. যথারীতি অনন্ত বিজয় দাশ হত্যার বিচার হয় নি । কে জানে ! হয়তো অপরাধী সেই ক্যামেরাম্যান সহ তার সঙ্গীরা জেলে বসে মনের আনন্দে বিড়ি ফুকছে আর তাস হাকাচ্ছে । বিচার হয় নি ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যার ।
নিলয় নীল নিজের বেঁচে থাকার নিশ্চয়তায় জন্য থানায় গিয়েছিলেন সাধারন ডাইরী করতে । কিন্তু পুলিশ তার ডাইরী নেয় নি , উল্টো ইপদেশ দিয়েছিলো, যেন সে বিদেশে চলে যায় । নিলয় নীল হতার বিচার কে করবে !! প্রশাসন !! প্রসাশন সহ বর্তমান বিচারালয়ও রাজনীতিবিদদের দেখানো পদাঙ্ক অনুসরণ করে । আর বর্তমান বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি রাজনীতিবিদ এমনকি দেশের প্রধানমন্ত্রীও হত্যাকারী জঙ্গি ও সাহায্যকারী মডারেট ইসলামপন্থিদের মূল তোষামোদকারী । সরাসরি সাহায্যকারী হলেও অবাক হবো না ।

৬.দেশে ধর্ষণ , খুনের হার ভয়াবহ রকমে বৃদ্ধি পাচ্ছে । সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের পর বলা হয়েছিল ২৪ ঘন্টার মধ্যে খুনীকে পাকড়াও করা হবে । কিন্তু সেই ২৪ ঘন্টা শুরু কখন হবে আর শেষ হবে কবে তা কেউ জানে না । গত বছর জাতিসংঘের বিজ্ঞান, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর প্রতিবেদন বলা হয়েছে, সাংবাদিক খুনের সংখ্যা বিবেচনায় বিশ্বের শীর্ষ ২০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১২তম ।

৭. এই তো কিছুদিন আগে, ধর্মান্তরিত খ্রিশ্চান মুক্তিযোদ্ধাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে । এটা কারা করেছে তা সারা-দেশের মানুষ স্পষ্টত জানলেও জানে না প্রশাসন । তাছাড়া বাঙলাদেশের বর্তমান এইডস্সম রোগের নাম ধর্মান্ধতা । এই রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তি যে কোনও কিছু করতে পারে । সে নিজের বুকে বোমা বেঁধে জীবন দিয়ে হাজার জীবন হত্যা করতেও পিছপা হয় না ।
যাইহোক , একটা কথা বললে হয়তো আমার পুরো বক্তব্য পরিষ্কার হবে –

”আয়লান কুর্দিরা মরলে পত্রিকার প্রথম পাতার খবর হয় । আর তুলসী রানীর পেটে লাথি মেরে যুবলীগ নেতা তার পেটের বাচ্চাকে হত্যা করলে কারো কিছুই যায় আসে না । আর মাতাল হয়ে এমপিরা যে কোন শিশুর পায়ে গুলি করেও মাপ পেয়ে যায় তাৎক্ষনিক । “

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + 2 =