বিধর্মী/নাস্তিক হত্যা কি ইসলাম স্বীকার করে???

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ব্লগার এবং অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নাজিমুদ্দিন সামাদকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।নাজিমুদ্দিন সামাদের ওপর আক্রমণের সময় তার সঙ্গে থাকা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সাউথ ইস্টের শিক্ষার্থী নাজিবের ওপরও আক্রমণ হয়। সৌভাগ্যক্রমে নাজিব বেঁচে যান।রাত নয়টার দিকে ঢাকার পুরনো অংশ সূত্রাপুরের একরামপুর ট্রাফিক মোড়ে কয়েকজন যুবক সামাদের গতিরোধ করে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। এক পর্যায়ে তিনি রাস্তায় পড়ে গেলে তাকে গুলি করে চলে যায় দুর্বৃত্তরা। ওই সময় হত্যাকারীরা ‘আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

নাজিমউদ্দীনকে যে বা যারা খুন করেছে তারা একটা ভিন্ন মতবাদ,ভিন্ন দর্শন,ভিন্ন চিন্তার পার্থক্যের ভিত্তিতেই খুন করেছে। আর এই ভিন্ন পার্থক্যটা হচ্ছে প্রগতিশীলতা,নাস্তিকতা,ধর্মান্ধদের সমালোচনা কিংবা বিশেষ কোন ধর্মকে সমালোচনা করা। আর অনেকগুলো ধর্মের মধ্যে সেই বিশেষ ধর্ম হচ্ছে ইসলাম ধর্ম এবং নবীর সমালোচনা করা। ইসলামী মতবাদ বলে নবী ও ইসলাম সমালোচনাকারীর একমাত্র শাস্তি হচ্ছে তাদেরকে হত্যা করে ফেলা। তাই ইসলাম যে তার সমালোচনাকারীকে হত্যা করতে বলে এটি যাতে প্রকাশিত হয়ে না পড়ে তার জন্য সব রকম চেষ্টা মডারেট মুসলিরা। তাদের প্রচারের মূল লক্ষ্য হলো, ইসলামী নিদের্শে হওয়া খুনগুলোকে প্রচার করা যে, ইসলামের এই ধরণের খুনকে কোনভাবেই সমর্থন করে না। কিন্তু আসুন তাহলে এবার একটু জেনে নিই ইসলাম এ ধরনের হত্যাকে সমর্থন করে কি করে না,তা কোরআনের মাধ্যমেই একটু পর্যালোচনা করা যাক।কারণ হাদিসের কথা বললে সেটাতো আবার জাল হাদিস হয়ে যায় আপনাদের চোখে।তবে আমারও এতো সুভাগ্য হইনি এখনো এত বড় হাদিসের বই ধৈর্য ধরে পড়ার।তবে কোরআনটা পড়া হইছিল এই ইহুদীদের তৈরী স্মার্টফোনের কল্যানে।আচ্ছা ফালতু কথা না বলে এখন একটু নিচের দিকে নজর রাখা যাক,-

# আর তাদের কে হত্যাকর যেখানে পাও সেখানেই এবং তাদেরকে বের করে দাও সেখান থেকে যেখান থেকে তারা বের করেছে তোমাদেরকে।বস্তুতঃ ফেতনা ফ্যাসাদ বা দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা হত্যার চেয়েও কঠিন অপরাধ।আর তাদের সাথে লড়াই করো না মসজিদুল হারামের নিকটে যতক্ষন তারা তোমাদের সাথে সেখানে লড়াই করে। অবশ্য যদি তারা নিজেরাই তোমাদের সাথে লড়াই করে।এ হল কাফেরদের শাস্তি।(২:১৯১)
# খুব শীঘ্রই আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করবো।কারণ,ওরা আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করে যে সম্পর্ক কোন সনদ অবতীর্ণ করা হয়নি।আরা ওদের ঠিকানা হলো দোযখের আগুন।বস্তুতঃ জালেমদের ঠিকানা অত্যন্ত নিকৃষ্ট।(৩:১৫১)
# যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।(৫:৩৩)
# যখন নির্দেশদান করেন ফেরেশতাদিগকে তমাদ্র পরওয়ারদেগার যে,আমি সাথে রয়েছি তোমাদের,সুতরাং তোমরা মুসলমানদের চিত্তসমুহকে ধীরস্থির করে রাখ। আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করে দেব। কাজেই গর্দানের উপর আঘাত হান এবং তাদেরকে কাট জোড়ায় জোড়ায়।(৮:১২)
# যুদ্ধ কর ওদের সাথে, আল্লাহ তোমাদের হস্তে তাদের শাস্তি দেবেন। তাদের লাঞ্ছিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের জয়ী করবেন এবং মুসলমানদের অন্তরসমূহ শান্ত করবেন।(৯:১৪)
# তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম।(৯:২৯)
# হে নবী, কাফেরদের সাথে যুদ্ধ করুন এবং মুনাফেকদের সাথে তাদের সাথে কঠোরতা অবলম্বন করুন।(৯:৭৩)

আর একটা হাদিসের কথা না বললেই না হয়।যেখানে বিভিন্ন সময় ওয়াজ মাহফিলে ইহুদী বৃদ্ধ কবি আবু আফাক এবং আসমা-বিনতে মারওয়ান যখন তার সন্তানকে বুকের দুধ পান করাচ্ছিলেন তখন কিভাবে হত্যা করেছিল নবীর এক অনুসারী এবং হত্যার পর নবী ইবনে আব্দুলার সাথে নামাজ আদায়ের কথা বর্নণা করা হয় খুব গর্ভ সহকারেই।

এরপরেও যদি কোন মডারেট মুসলি বলে ইসলাম নাস্তিক/বিধর্মী কিংবা ইসলাম সমালোচনাকারী হত্যা সাপোর্ট করে না তাহলে এখনো আপনি বোকার রাজ্যে বাস করছেন।আর এপনি যখন কোরআনের আল্লাহর বানী অস্বীকার করবেন তখন আপনিও মুনাফিক।আর মুনাফিকের পরকাল জাহান্নামের আগুন।এ সম্পর্কে কোরআনে আল্লাহ বলেছে,-

‘‘আল্লাহ মুনাফেক নর-নারী ও অবিশ্বাসীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাহান্নামের আগুনের যেখানে ওরা থাকবে চিরকাল, এই ওদের জন্য হিসেব। ওদের ওপর রয়েছে আল্লাহর অভিশাপ, ওদের জন্য রয়েছে স্থায়ী শাস্তি।’’(৯:৬৮)
‘‘যারা আল্লাহর সঙ্গে দৃঢ় অঙ্গীকারে আবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে এবং যে সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখার জন্য আল্লাহ নির্দেশ করেছেন তা ছিন্ন করে আর পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে বেড়ায় তাদেরই জন্য রয়েছে অভিশাপ এবং তাদের জন্য নিকৃষ্ট বাসস্থান।’’(১৩:২৫)
এখন আপনি বলেন ইসলাম নাস্তিক হত্যা স্বীকার করে কি করে না?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১০ thoughts on “বিধর্মী/নাস্তিক হত্যা কি ইসলাম স্বীকার করে???

    1. উপরের হাদিসগুলো সত্যা না
      উপরের হাদিসগুলো সত্যা না মিথ্যা সেটা বলেন আগে। আর কোরান বাংলা পড়া শুরু হইছে দেখেই ইসলাম বাঙালীর কাছে সমালোচনার ধর্ম হয়ে উঠেছে। বাংলা না থাকলে অন্ধভাবে বিশ্বাস করতে হত।

      1. অল্প বিদ্যা ভঙ্করি একটা
        অল্প বিদ্যা ভঙ্করি একটা ব্যপার অাছে সেটা নিশ্চই জানেন ? অার কুরান একটা অলৌকিক গ্রন্থ, যে যেমন বিশ্বাস নিয়ে তা পড়ে সে তাতে তাই দেখতে পায়। দয়াময় মহান অাল্লাহ তায়ালা তিনি সুউচ্চ অতিমহান প্রজ্ঞাময়, মানুষের লিখিত গ্রন্থের মত একে অনুবাদ করা কতটা সম্ভব?

        1. পিছলাইলেন। পোস্টে কোরানের
          পিছলাইলেন। পোস্টে কোরানের আয়াতগুলো কি সত্য না মিথ্যা? এটার কোন জবাব দিলেন না। যদি কোরান না বুঝা যায়, অনুবাদ না করা যায় তাহলে এই জিনিস দিয়ে কি কাজে লাগবে?

          1. এভাবে খন্ডিত ভাবে বিকৃত করে
            এভাবে খন্ডিত ভাবে বিকৃত করে কুরান উপস্থাপনের পুরানো কৌশল দিয়ে নাস্তিক্যবাদিরা কখনো জয়ী হতে পারবেনা। মুখথুবরে পরে থাকবে তাদের কৌশল এবং তারা নিজেরা, রাস্তার পাশে ডাস্বিনের মধ্যে।

          2. পুরো আয়াত এখানে উল্লেখ করার
            পুরো আয়াত এখানে উল্লেখ করার পরও বলছেন খণ্ডিত! এগুলো কোরানেরই অংশ, এগুলো সংসস্কার করা এখন যুগের দাবী। না হয় ইসলাম সব জায়গায় মার খাবে।

    2. ভাইয়া,আপনি যেহেতু বাংলায়
      ভাইয়া,আপনি যেহেতু বাংলায় লিখছেন সেহেতু বাংলা বুঝেন এবং পড়তে,লিখতে সবই পারেন।তাহলে আমাকে আবার বাংলা ওডিও দেওয়ার কারণ কি।আমিতো বাংলায় লিখে কোড করেছি।বিশ্বাস না হলে রেফারেন্স দেখতে পারেন।

      আমাকে গালিদেয়ার অধিকার তোমাকে দেয়া হল,কিন্তু নবীকে নয়,আমার ভুল আছে,কিন্তু ইসলামে নেই।

      এখানে গালির কথা আসলো সেটাই বুঝলাম না।আর নিজের মত করে সবাইকে ভেবে নিবেন না দয়া করে।

  1. আপনি তো বিরাট চালাক। কোরানের
    আপনি তো বিরাট চালাক। কোরানের আয়াতগুলো নাযীল হয়েছিল মুশরীক আর প্যাগানদের বুরুদ্ধে চলতে থাকা যুদ্ধের সময়। আর আপনি এসব আয়াতকে নাস্তিক হত্যার বিধান হিসেবে চালিয়ে দিচ্ছেন!!!

    1. আমি চালাক আপনার মতে,মেনে
      আমি চালাক আপনার মতে,মেনে নিলাম আপনার কথা,তাহলে ১৪০০ বছর আগের কোরআন তো ছিল তখনকার সময় উপযোগী এখনকার জন্য না তাই নয় কি?নাকি কথার মারটা এই জাগায়,ঠাকুর ঘরে কে রে,আমি কলা খাই না।আর বড় বড় মুফতি মাওলানারা যখন এই আয়াত,হাদিস গুলা পড়েই বিধর্মী,নাস্তিক হত্যার ঘোষনা দেয় তখন আপনার মত মডারেট কোথায় থাকে?নাকি তারা আপনার থেকে কম বুঝে?আপনাদের পবিত্র ভূমি সৌদিতে কেন বিধর্মীরা প্রকাশ্য নিজ ধর্ম পালন করতে পারেনা?আচ্ছা ভীন ডেশে যেতে হবে না,২০১৩ সালের শফী হুজুরের নাস্তিক হত্যা ওয়াজিব হয়ে গিয়েছে বলে ঘোষনা দিয়েছিল মনে আছে?আবার গত ৮ তারিখের এক শফী হুজুরের বয়ান শোনেছেন?
      http://www.banglamail24.com/news/144402
      আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ এর ওয়াজ মাহফিলে তার বয়ান শুনেছেনতো?
      https://www.facebook.com/video.php?v=1630103827238475
      আচ্ছা একটা কথা বলি আপনাকে কিছু মনে কইরেন না,আপনারা সামনে থেকে কিছু বলতে পারেন না,এবং ভদ্র ভাষায় নাস্তিক বিধর্মীদের মনে মনে ঠিকই পুন্দান,অন্য দিকে শফীরা তা করে না।যা সত্য তাই বলে।তাই আমি মনে করি যারা সরাসরি বলে তাদের থেকে আপনার মত লোকেরাই ভীষন ভয়ংকর।কারণ চোরে যদি মনে মনে মন কলা খায় তাহলে কয়টা কলা খেল তা কিন্তু ধরা যায়,ঠিক আপনাদের অবস্থাও তাই।ধন্যবাদ ভাই,কিছু মনে করবেন না।

      1. কারণ চোরে যদি মনে মনে মন কলা
        কারণ চোরে যদি মনে মনে মন কলা খায় তাহলে কয়টা কলা খেল তা কিন্তু ধরা যায় না,ঠিক আপনাদের অবস্থাও তাই।ধন্যবাদ ভাই,কিছু মনে করবেন না। –

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

36 + = 39