জিয়ার মাজার বলে কিছু নাই। এটি একটি লোকদেখানো নাটক-প্রহসন মাত্র।

জিয়ার মাজার বলে কিছু নাই। এটি একটি লোকদেখানো নাটক-প্রহসন মাত্র।
সাইয়িদ রফিকুল হক

বিএনপি’র সবসময়ের জন্য নিযুক্ত অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও পেশাদার দালাল রুহুল কবির রিজভী অতিসম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে, “জিয়ার মাজার সংসদভবন এলাকা থেকে সরানো যাবে না। এটি সরালে খুব অসুবিধা হবে। দেশে রক্তারক্তি হবে। দেশ অচল হয়ে যাবে। আর জনগণ মেনে নিবে না! জনগণ রাস্তায় নেমে আসবে ইত্যাদি।”

বাংলাদেশে যে-কয়েকটি ভণ্ডমাজার আছে তন্মধ্যে জিয়ার মাজার উল্লেখযোগ্য। আর জিয়ার এই মাজার ভণ্ডদের কাছে আসলেই পবিত্র! কারণ, এখানে প্রতিদিন পুংজনন্দ্রিয়ের যে-পরিমাণ বীর্যপাত ঘটে তা পৃথিবীতে বিরল। এটা এইজন্য বলছি যে, একরাতে এইরকম ভয়াবহ বীর্যপাত পৃথিবীর আর কোথাও হয় না। আর পৃথিবীর কোনো নাইট-ক্লাব কিংবা বৃহৎ-বোথেলেও এতো-এতো বীর্যপাত হয় না। তাই, এই দেশে জিয়ার মাজার একটি বৃহত্তম বীর্যপাতের স্থানে পরিণত হয়েছে। আর জন্মলগ্ন থেকেই জিয়ার মাজারকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশে আশির দশক থেকেই সেখানে গড়ে উঠেছে ‘ভ্রাম্যমাণ-পতিতা ও তার খদ্দরদের আবাসস্থল’! বছরের-পর-বছর এখানে সন্ধ্যার পর থেকে কিছুসংখ্যক অবাঞ্ছিত-নরনারীর অবাধে রমণলীলা শুরু হয়ে যায়।

দেশের কয়েকজন গবেষকের এক সমীক্ষায় দেখা যায়, আসলে, জিয়ার মাজার বলে কিছু নাই। কারণ, এখানে সাবেক স্বৈরাচার ও আত্মস্বীকৃত-প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের কোনো লাশ নাই। মৃত্যুর পরে জিয়ার লাশ নদীতে নিক্ষেপ করা হয়। আর জানা যায়: এখানে জিয়াউর রহমানের যে কফিন রাখা হয়েছে তাতে জিয়ার লাশ নাই—তাই, কাফনদাফনের সময় তা কাউকেই দেখতে দেওয়া হয়নি। এটি একটি সাজানো নাটক মাত্র। আর জিয়ার ইমেজবৃদ্ধি করার জন্য ঢাকার এই প্রসিদ্ধস্থানে তাকে সমাহিত করার প্রহসন সফলভাবে মঞ্চস্থ হয়েছিলো। এসব বিএনপি’র শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতাই জানে। আর তাদের সুদূরপ্রসারী-চক্রান্তের অংশবিশেষ হিসাবে তারা সেখানে এসব করেছিলো। এবং এই ‘ডামি’লাশের মাজারকে কেন্দ্র করে এখনও তাদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। বিএনপি’র নেতারা সবই জানে—কিন্তু তারা কখনও এব্যাপারে মুখ খোলে না। কারণ, এতে তাদের ‘পদ ও পদবী’ ছুটে যেতে পারে। তাই, আধুনিকযুগে রুহুল কবিরের মতো সমাজস্বীকৃত-মূর্খরা শুধুই জিয়ার মাজার বলে এতো চিৎকার ও চেঁচামেচি করে থাকে।

আবার আমরা মূল আলোচনায় ফিরে আসি। সন্ধ্যার পর থেকে প্রতিদিন একশ্রেণীর ভাসমান-পতিতা ও তাদের খদ্দেরগণ বিশেষ আকর্ষণে বিকাল থেকে এখানে ভিড় জমাতে থাকে। আর পরম নিশ্চিন্তে ভাসমান দেহপসারিণী ও তাদের খদ্দেরগণ অতিআকর্ষণে এখানেই জমায়েত হতে থাকে। এতো লোক এখানে আসে এটা তো একটা তীর্থস্থান বটে! আর এখানে, সন্ধ্যারাত থেকে রাত ভোর না-হওয়া পর্যন্ত চলে ভাসমান-পতিতার খদ্দেরদের ক্রমাগত ভয়ানক বীর্যপাত! আর এখানে, যে-কেউ গেলে দেখতে পাবে: ভূতলে পড়ে আছে কনডম আর কনডম! অসংখ্য পরিত্যাক্ত-কনডমের খোসা এর চারপাশে এখানে-সেখানে আর যত্রতত্র ছড়িয়েছিটিয়ে রয়েছে। এই কি মাজারের নমুনা? আসলে, এটি কোনো মাজার নয়—জিয়ার মৃত্যুর পরে তার দলীয় কতিপয় স্বার্থান্বেষী আর রাজনৈতিক নেতা-নামধারীপাষণ্ড বাংলাদেশের মানুষকে ধোঁকা দিয়ে সহজে রাজনীতি করার জন্য এখানে একটি মাজার-মঞ্চস্থ করেছে। বাংলাদেশের সব মানুষকে চ্যালেঞ্জসহকারে আর প্রকাশ্যে-ঘোষণা দিয়ে দিয়ে বলতে পারি: এখানে কোনো মাজার নাই। এখানে জিয়ার কোনো লাশ নাই। আর এখানে, একজন জিয়ার লাশ সমাহিত করার চূড়ান্ত নাটক মঞ্চস্থ করা হয়েছে। বিএনপি’র লোকজন বাংলাদেশে তাদের স্বার্থের রাজনীতি চালিয়ে যাওয়ার জন্য ‘জিয়ার মাজারনাটকের’ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এখানে যদি কারও লাশ থাকে—তাহলে, কবর থেকে তা তুলে এখনই তার ডিএনএ টেস্ট করা উচিত। আসলে, এখানে জিয়া নামক কারও লাশ নাই। এখানে একটি ডামি-কফিন সাজিয়ে তা-ই দাফন করা হয়েছে। বাংলাদেশের কিছুসংখ্যক মূর্খ-মানবসন্তানকে জিয়ার মাজারের নামে আজও হিপনোটাইজ বা মোহাচ্ছন্ন করে রাখা হয়েছে। আজ এর একটা সমাধান করা উচিত।

জিয়ার মাজারে কাউকে ফাতিহা পড়তে দেখা যায় না। আর দিনের বেলা এর ভিতরে খুব কম লোকই প্রবেশ করে থাকে। কিন্তু সন্ধ্যা হওয়া মাত্রই কী-এক আকর্ষণে একশ্রেণীর মানুষ-নামধারী জীব হন্তদন্ত হয়ে ছুটে যায় সেখানে। এখানে, লোকজন বেশি হয় বলে সাধারণ বিএনপি’র লোকজন মনে করে থাকে: আসলেই এটি খুব পবিত্র মাজার!
আসলে কী?
এখানে, প্রতিদিন সন্ধ্যার পরে একশ্রেণীর পাপাত্মার জমায়েত হয় শুধু নির্বিঘ্নে বীর্যপাতের জন্য। এটি বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ বীর্যপাতের স্থান! একটা কথা মনে রাখবেন: দেশের একটি চিহ্নিত-ভণ্ডগোষ্ঠী জোর করে সাধারণ কারও কবরকে বা ডামি-লাশের স্থানকে মাজার বলে যতোই চিৎকার ও চেঁচামেচি করুক না কেন—তা কখনও মাজার হয়ে যাবে না। মাজার হয় সত্যিকারের একজন মানুষের কবরস্থান। আর এখানে তো কোনো মানুষের লাশ নাই! তাহলে, এটি জিয়ার মাজার হয় কীভাবে?

প্রতিদিন এখানে ছুটে আসছে দেহবাদী সস্তা প্রেমিক-প্রেমিকা-জুটি আর ভাসমান পতিতাদল ও তাদের বিশ্বস্ত খদ্দেরগণ। আর এরা মনের আনন্দে পুংজনন্দ্রিয়ের বীর্য ও স্ত্রীজনন্দ্রিয়ের ফ্লুইড নিঃসরণ করছে। তাই, এটি কোনো মাজার নয়। বরং মাজারের নামে সকলপ্রকার ভণ্ডামি ও রমণলীলার এক উন্মুক্তস্থান।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
০৮/০৪/২০১৬

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

14 − 5 =