আমার বন্ধু রাশেদ

জাফর ইকবাল স্যারের শিশুতোষ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস অবলম্বলে নির্মিত বাংলা ছবি আমার বন্ধু রাশেদ । মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কিছু অষ্টম শ্রেণীর ছেলেদের যুদ্ধে অংশ গ্রহন বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা ও যুদ্ধ ক্ষেত্রে তাদের বুদ্ধিমত্তার বিষয় পরিষ্কার ভাবে তুলে ধরা হয়েছে । লাড্ডু নামের ছেলেটি পরে বন্ধু ও শিক্ষকের দেয়া রাশেদ নামে যার আত্মপ্রকাশ সে ছিল এই গল্পের মূল চরিত্র ।

রাশেদের মত আমিও আমার স্কুল জীবনে সপ্তম শ্রেণীতে নতুন একটি বিদ্যালয়ে ভর্তি হই । আমার নাম আগে থেকে ভালো ছিল তাই পরিবর্তন করতে হয় নি । কিন্তু নতুন এই পরিবেশে একটা জিনিস খুব ভালো করে বুঝেছিলাম যে বিদ্যালয় টি ছিল বাংলাদেশের বুকে এক টুকরো পাকিস্তান । এখানে ক্লাস বন্ধ করে জামাত শিবিরের দ্বীনি সভা নামে রাজনৈতিক মিটিং হোত ।না যেতে চাইলেও জোর পূর্বক যাওয়া লাগত ।ঠিক যেন একাত্তরে উর্দু পড়া বাধ্যতামূলক ছিল । তখন নাকি সুর করে পড়তে হত এক কুত্তা মাটি মে লেটা হে আর আমাকেও স্কুলে শিবিরের নেতা দের রাজনৈতিক আলাপচারিতা শুনতে হত ।

একদিন এক সভায় নেতা বলল আমরা অহিংসার রাজনীতি পছন্দ করি । আমরা কোন মারামারি কাটাকাটিতে বিশ্বাস করি না । তখন সাহস করে বলে ফেললাম আমার এলাকা ও ডঃ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের ও তার কর্মী বাহিনী দ্বারা মানুষ খুনের কথা ।প্রমান ও দিলাম নাম ঠিকানা সহ ।তখন থেকে সবাই আমাকে আড় চোখে দেখা শুরু করলো ।কেউ কেউ বলত আমি কট্টর আওমিলিগ । আমি বলতাম ভালো খুব ভালো ।বলতাম তাহলে তো তোমরা আমার দলের ও আমার দেশের সাধারণ মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন দেশে এখনও পাকিস্তান কে প্রেমিকা ভেবে চুম্বন রত আছ । তোমরা তো আসলে প্রশংসনীয় ।

নারায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবার স্লোগান দিয়ে যখন জামাতের রাজাকাররা আমার এলাকায় প্রবেশ করতো তাদের ক্ষমতার সময় তখন দেখতাম আমার বড় ভাইয়েরা সাউন্ড বক্সে বঙ্গবন্ধুর ৭ ই মার্চের ভাষণ চালিয়ে দিত ।দেখতাম যখন শিবিরের হায়েনারা ২০- ২৫ জন মিলে বড় ভাইকে মারতে আসতো তখন দরজা খুলে তোরা তো আমার এক লোকমা ও হবিনা বলে অস্ত্র নিয়ে বের হয় তখন ছাগুরা ম্যা ম্যা করতে করতে পালিয়ে যায়। দেখতাম শত অত্যাচারে ও স্বাধীনতার চেতনা থেকে পিছু হাঁটতো না তখন নিজেকে গর্বিত মনে করতাম ।

এখনকার কথা বলি ।এখন নাকি মানুষ কে মুসলিম না মালাউন তা জানার জন্য কলেমা জিজ্ঞেসা করা হয় ।আমার বন্ধু রাশেদ এ ইবু কেও তার মুক্তিযোদ্ধা বড় ভাই চার কলেমা শেখার জন্য বলেছিল ।বলেছিল লুঙ্গি তুলে খৎনা দেখাতে বিব্রত না হতে । আমি মাঝে মাঝে ভাবি শিবিরের নেতা কর্মীরা তাদের রাজাকার নেতাদের কাছে কতবার লুঙ্গি বা পায়জামা খুলে তাদের খৎনাকৃত শিন্ন দেখিয়েছে বা হাত তুলে বলেছে আমারটা আমারটা আগে দেখেন আমার খৎনা হয়েছে আমি মালাউন না আমি আস্তিক । আর নেতাদের কেউ সমকামী হলে তো কথাই নেই ।

কাঠ মোল্লাদের সাথে অনেক বার মুখোমুখি হয়েছি ।সংঘাত ও হয়েছে অনেক কিন্তু রাশেদ আমি দুঃখিত তোমার মত স্টেইন গান চালাতে পারিনি । বিবেকের তাড়নায় হাতে নাইন এম এম থাকতেও গুলি করতে পারিনি ভেবেছি ওরাও মানুশ।পারিনি ওদের মত আল্লাহ হুয়াকবার বলে মানুষ জবাই দিতে ।

রাশেদ তুমি জীবন দিয়েছিলে শুধু পাকিস্তান জিন্দাবাদ না বলার জন্য বলেছিলে জয় বাংলা । আজ স্বাধীনতার এতো বছর পরও আমি পাকিস্তান জিন্দাবাদ বা তার সম্পূরক ধ্বনি শুনতে পাই ।আর আমি জয় বাংলা বললে আমায় ভারতীয় দালাল মালাউন নাস্তিক বলে আমার মৃত্যু দণ্ড চায় ধর্মের দোহাই দিয়ে ।

তুমি চোখের বাধন খুলে দেওয়ার আকুতি করেছিলে ।মিনতি করেছিলে প্রিয় মাতৃভূমি দেখতে ।তা পুরন হলনা তোমার মনে হয়েছিল মরার আগে,তুমি আর নদী দখবে না আকাশ দেখবে না ।তুমি দেখে গেলে না এই অপুরুপ বাংলাদেশ

তাই বহু দিন আমি বাংলার আকাশ দেখিনি । ছুইনি নদীর ঘোলা পানি ………..

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “আমার বন্ধু রাশেদ

  1. ছবিটি দেখেছি। তবে বইটি পড়ার
    ছবিটি দেখেছি। তবে বইটি পড়ার অনুভূতি ছিল অন্যরকম।যে কেউ ইচ্ছে করলে বইটি ডাউনলোড করতে পারেন https://www.mediafire.com/?7w33huc2d4e3cgd

  2. ছবির চেয়ে বইটা বেশী ভালো
    ছবির চেয়ে বইটা বেশী ভালো লাগে। অনেকবার পড়েছি। তবে সিনেমাটা যেহেতু কিশোর দর্শককে টার্গেট করে বানানো, সেক্ষেত্রে হয়ত ঠিকই আছে। আপনার অনুভূতি পড়ে ভালো লাগল। শুভকামনা আপনার জন্য।

  3. বইটা বেশ কয়েকবার পড়েছি, সত্যি
    বইটা বেশ কয়েকবার পড়েছি, সত্যি অসাধারণ, মুভিটা অর্ধেক দেখেছিলাম, কেনো জানি বারবার বইটাই বেশি টেনেছে আমাকে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

82 − = 79