স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী নাকি ধর্মের ‘হোমগার্ড’? রাষ্ট্রযন্ত্রের নির্লিপ্ততাই ব্লগার হত্যার পথকে বেগবান করছে।

এক বছরে পাঁচ জন ব্লগার ধারাবাহিকভাবে খুন হল । রাষ্ট্রযন্ত্র ব্লগার খুনকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা আখ্যা দিয়ে নিজেদের ব্যর্থতাকে শাঁক দিয়ে মাছ ঢাকায় ন্যায় ঢেকে রেখে গলা চেঁচিয়ে বলছে রাষ্ট্রে কোন জঙ্গী নেই । মেনে নিলাম রাষ্ট্রে কোন জঙ্গী নেই । এখন একটা প্রশ্ন , রাষ্ট্রে যদি কোন জঙ্গী না-ই থাকে তবে , ধর্ম নিয়ে লেখালেখির ফলে ব্লগারদের কেন চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয় ? আছে , এই প্রশ্নের কোন জবাব রাষ্ট্রযন্ত্রের কাছে ? যদি রাষ্ট্রে জঙ্গীবাদ না-ই থাকে তবে কারা খুন করছে একের পর এক ব্লগারদের ? তাছাড়া ধর্ম নিয়ে লেখালেখি করলে কেন ৫৭ ধারা নামক অবৈধ আইনে গ্রেফতার করা হয় ব্লগারদের কিংবা ধর্ম বিরোধী লেখালেখির উপর কেন সীমা রেখা অংকন করে দেয়া হয় ?

আওয়ামী লীগের বড় নেতা থেকে পাঁতি নেতা পর্যন্ত সকলের মুখেই শুনি তাদের সরকার রাষ্ট্রে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে এবং তা রক্ষা প্রাণপণ চেষ্টা করছে । আসলে আওয়ামী লীগ সরকার গণতন্ত্র ও আইনের শাসন বলতে কি বুঝেন তা একটু দেখা উচিত । আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে গণতন্ত্র অর্থ ভোট কেন্দ্রে যাওয়া । এতদিন ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়াটা ছিল গণতন্ত্র , কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে গণতন্ত্র ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে । আর বাকি থাকলো আইনের শাসন । আইন কেবল মাত্র তাদের সরকারী লোকদের জন্য । তাদের সরকার চোরকে সাধু বললে চোর সাধু আর সাধুকে চোর বললে সাধু চোর । এখানে আইনের শাসন আওয়ামী লীগ নেতাদের মুজিবীয় পোষাকের পকেটে অবস্থান করে ।

রাষ্ট্রে একের পর এক ধারাবাহিকভাবে মুক্তমনা ব্লগারকে খুন করা হচ্ছে । একের পর এক নানা অজুহাতে ধর্ষন করে খুন করা হচ্ছে নারীদের । ব্লগার খুনের বিচার আমরা অতীতে আশানূরুপ কোন অগ্রগতি দেখতে পাই নি । আর ধর্ষনের বিচার দূরে থাক , কাপড়ের অজুহাত তুলে ধর্ষিত নারীকে আরো কয়েক বার ধর্ষন করে দেয় রাষ্ট্রযন্ত্র । সম্প্রতি , জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র নাজিমুদ্দিন সামাদ নামে এক ব্লগারকে কুপিয়ে ও গুলি করে খুন করা হয় । সামাদ হত্যাকান্ড নিয়ে আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর করা কয়েকটি মন্তব্য শুনে তাকে রাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী নয় বরং ধর্মের ‘হোমগার্ড’ ভাবতে শুরু করেছি । সামাদের খুনি কারা সে বিষয়ে খোঁজ না নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী প্রসাশনকে খোঁজ নিতে বলেছেন কি লিখতেন নিহত ব্লগার সামাদ । অর্থাত্‍ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে , রাষ্ট্রে খুন করা অপরাধ নয় ; বরং ধর্ম নিয়ে লিখে খুন হওয়াটা বড় অপরাধ ।

একের পর এক ব্লগার খুন , নারী নিপীড়ন ও ধর্ষন ঘটে চলেছে রাষ্ট্রে । আর রাষ্ট্র যখন ব্লগার খুন , নারী নিপীড়ন ও ধর্ষনের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা আখ্যা দিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা এঁড়িয়ে যেতে চান তখন প্রশ্ন আসে , রাষ্ট্রযন্ত্র কি ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতেই ক্ষমতা মসনদে বসেছেন নাকি জনগণ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্ষমতার মসনদে বসেছেন ? সম্প্রতি , তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনু এক বক্তব্যে বলেছেন , গণতন্ত্র কাঁচের ন্যায় নয় ; যে , দু’একজন ব্লগার খুন হলেই গণতন্ত্র ভেঙে যাবে । এখন মন্ত্রী মহোদয়ের নিকট প্রশ্ন , ঠিক কতজন ব্লগার খুন হলে গণতন্ত্র কাঁচের মত ভাঙবে , সঠিক ভাবে বলবেন কি ?

নিজেদের ব্যর্থতাকে নিলর্জ্জের মত এঁড়িয়ে যাওয়ার ফলে আমরা আমাদের মস্তিস্ককে দিনে দিনে ফুটপাতে ছিঁটকে পড়ে থাকতে দেখছি । রাষ্ট্রযন্ত্রের নিলর্জ্জ বক্তব্যের কারণে আমরা আমাদের মা-বোনকে ধর্ষিত হতে দেখছি , খুন হতে দেখছি । ঠিক কত ব্লগার খুন হলে রাষ্ট্রযন্ত্রের নিলর্জ্জের মত নিজেদের ব্যর্থতা এঁড়িয়ে যাওয়ার ঘটনার পরিসমাপ্তি ঘটবে ? ঠিক কত মা-বোনকে ধর্ষিত হওয়ার পর রাষ্ট্রযন্ত্র নিলর্জ্জ বক্তব্য দেয়া থেকে বিরত থাকবে ?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী নাকি ধর্মের ‘হোমগার্ড’? রাষ্ট্রযন্ত্রের নির্লিপ্ততাই ব্লগার হত্যার পথকে বেগবান করছে।

  1. রাষ্ট্রের এমন আচরন খুবই
    রাষ্ট্রের এমন আচরন খুবই পীড়াদায়ক। এবিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়া হবেনা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তা রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিদের বক্তব্য শুনলেই বোঝা যায়।দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হোক সমস্যা নাই,গণতন্ত্র রক্ষা করে ক্ষমতায় থাকতে পারাই এদের একমাত্র লক্ষ্য।

  2. একটা গর্দভকে ধরে এনে
    একটা গর্দভকে ধরে এনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছে। ব্লগার হত্যার দায় এই গর্দভ কোনভাবেই এড়াতে পারবে না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

42 − = 40