ঘোষপাড়ার শেষ ইতিহাস

ঝকঝকে ফ্লাটবাড়ি, প্রসস্ত রাস্তা, দোতালা টাইলস করা মসজিদ, কিন্ডার কার্ডেন মাদ্রাসা, দুপুরে যখন জোহরের আজান শুরু হয়, মুসল্লি আর মাদ্রাসা ছাত্রদের ঢলের মধ্যে “ঘোষপাড়া” নামটাই কেমন যেন তখন বেখাপ্পা লাগে! “কুরআন-সুন্নাহ বাস্তবায়ন কমিটি” নামের একটা সংগঠন বছর দশেক আগে ঘোষপাড়া নামটা পাল্টিয়ে তাই “ ইসলামবাগ” নামকরণের চেষ্টা করেছিল। এর প্রতিবাদে স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মী, ছাত্র ইউনিয়নের পোলাপান একটা প্রতিবাদ সভা করেছিল স্থানীয় শহীদ মিনারে। ঘোষদেরই এক ঘর এখনো ঘোষপাড়ায় রয়ে গেছে, ওবাড়িরই ছেলে বাপ্পা ঘোষ খগেন্দ্রনাথ কলেজের ছাত্রলীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের মঞ্চেও কবিতাটবিতা পাঠ করতে তাকে দেখা যায়। ঘোষপাড়া নাম বদলের সাম্প্রদায়িক প্রচেষ্টার প্রতিবাদী সভায় সে-ও একটা বক্তব্য রেখেছিল। পরদিন ঘোষদের ‘জয় বাবা লোকনাথ মিষ্টান্ন ভান্ডারে’ ফোনে কে যেন বাঁজখাই গলায় ধামক বলেছিল, মালাউনের বাচ্চা, বেশি বাড়িছ না! মাইরা একদম রাস্তায় ফালাই রাখুম…।

হুমকি খেয়ে বাপ্পা ঘোষের মা, ঠাকুরমা মরাকান্না জুড়ে দিলেন। হরি ঘোষের একটাই ছেলে। দুই মেয়ের বড়টাকে বিয়ে দিয়েছেন ইন্ডিয়াতে। ছোট মেয়েটা ক্লাশ নাইনে উঠার পর মাসির বাড়ি আগরতলা রেখে এসেছেন। একটা মুসলমান ছেলে সঙ্গে প্রেমফ্রেমে জড়িয়ে পড়েছিল। আগারতলাতেই তার বিয়ে হয়ে গেছে বছর দুই আগে। ঠাকুরমা পান ছেঁচতে ছেঁচতে বিড়বিড় করতে থাকে- ছ্যাড়াডারে কত কইরা কই- হিন্দুর পোলা- আমাগো এত কিছুতে যাওয়েন কাম কি! অহন তর বন্ধুরা কেউ আহে না! কেউ দেহি জিগায় না…।

হরি ঘোষ রাতে ফিরে ভেতর ঘর থেকে ছেলেকে উদ্দেশ্য করে চেঁচায়- কুত্তার বাচ্চারে কত কইছি সময় পাইলে একটু দোকানে ব, আমাগো এইসব বালছাল কইরা কি হইব- অহন মর কুত্তার মত…।

বড় রাস্তার একদম মাথায় হরি ঘোষের মিষ্টির দোকান। ব্যবসা পড়তির দিকে। পুঁজি খেপে গিয়ে ব্যবসায় টান পড়েছে। টাকার অভাবে মিষ্টি বানাতে পারে না। তাদের দোকানের গুডের সন্দেহের খুব নামডাক। কোলকাতায় এক পিসি থাকে, পিসতুতো ভাইবোনদের জন্য গুডের সন্দেস নিয়ে বাপ্পা বেনাপোলের বাসে চড়ল হুমকি খাওয়ার সপ্তাহ খানেকের মধ্যে। মাস ছয় সেযাত্রা কোলকাতা থেকে বাপ্পা ঘুরে এসেছিল। তার পার্টির বড় ভাইই পরামর্শ দিয়েছিল, কদিন ঘুরে আয় কোথা থেকে। তগো তো ইন্ডিয়াতে আত্মীয়-স্বজন থাকে। পরিস্থিতি শান্ত হোক, তখন আসিস, এই মুহূর্তে হুজুরদের বিরুদ্ধে গেলে পার্টির বদনাম হবে। কেন্দ্র থেকে পরিস্কার কইয়া দিছে কোনমতে ধর্মটর্ম নিয়া জড়ানো চলবে না… বুঝছত না?

ঘোষপাড়া নাম বদলের আন্দোলন থেকে অবশ্য “কুরআন-সু্ন্না বাস্তবায়ন কমিটি” নিজেই সরে আসে। নাম বদল করলে নানা রকম সমস্যা ও পেরেসানিতে পড়তে হবে স্থানীয়দেরই। স্থানীয় মাদ্রাসার মুরব্বিরাই পোলাপানকে শান্ত করেন। অবশ্য নাম বদলাতে না পারলেও ‘জি লেন’ ডাকার একটা প্রচলণ হয়েছে সাধারন্যের কাছে। ‘জি-লেন’ মানে ঘোষপাড়া!

নব্বই দশকে ভারতে বাবরী মসজিদকে কেন্দ্র করে এখানে একটা কালি মন্দিরে ভাংচুর হয়েছিল। হরি ঘোষের বাড়িতে সে বছর কালি পুজায় বাপ্পা একটা কালো পতাকা এনে টাঙ্গালো। ছাত্রলীগের ছেলেরা বলল, পতাকা নামা।

-ক্যান?

-আমরা পার্টি থিকা পাহাড়া দিতাছি না। মনববন্ধন করছি। পতাকা লাগাইয়া কালার করার কি আছে?

বাপ্পা ঘাড় ত্যাড়ার মত তার মতে অটল থাকল।

কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মাহমুদ বাপ্পার প্রাইমারি স্কুলের ক্লাশমেট ছিল। ডেকে নিয়ে গিয়ে বলল, পতাকাটা নামায় ফেল!

-ক্যান?

-ক্যান আবার কি? সরকার তগো প্রটেক্ট দিতাছে না? না দিলে থাকতে পারতি? এমপি সাহেব আইয়া মন্দিরে দেখা করছে না? কি বুঝাইতে চাস পতাকা টাঙ্গাইয়া? সংখ্যালঘু নির্যাতন? সরকারকে বিতর্কিত করতে চাস! তর কোন বাবাগো এইটা দেখাইয়া কি হালাইতে চাস…

বাপ্পা একটু গোঁয়ার কিছিমের। বাড়ি এলো নাক ফাটিয়ে। মাহমুদের বাবা আফসার উদ্দিন জেলা বিএনপির সভাপতি। একই পাড়ায় বাস। হরি ঘোষ গিয়ে তাকে বলল, দেখেন দাদা, আপনার ছেলে কি করছে আমার পোলার!

আফসার উদ্দিন শান্তভাবে বলল, দাদার যে কথা! আমার ছেলে আপনার ছেলেরে মারবে না তো কি আপনার ছেলে আমার ছেলেরে মারবে?

এসব পুরোনো প্যাচাল। বাপ্পা এরিমধ্যে রাজনীতি ছেড়ে বিয়েথা করে সংসারী হয়েছে। হরি ঘোষ মারা গেছে বছর দুই। মিষ্টির দোকানটি উঠে গেছে। বাপ্পা বাপের ব্যবসায় যায়নি। লেখাপড়া শেষে কিছুদিন চাকরি করে এখন প্রিন্টিং লাইনে ছোটখাট ব্যবসা শুরু করেছে। তাও বছর পাঁচ হয়ে গেছে। বাপ্পার এক ছেলে, নাম শুভজিৎ।

জি-লেনের হরি ঘোষের একটা একতলা বাড়ি দাদার আমলের, রংহীন নোনায় খাওয়া দেয়াল, বাপ্পা ঘোষের ব্যবসাপাতি যে ভাল না সেটা বসতবাড়ি দেখেই আন্দাজ করা যায়। প্রতিবেশীরা অবশ্য বিশ্বাস করে না। তাদের সন্দেহ টাকা-পয়সা যা সব ইন্ডিয়াতে পাচার করছে! শালারা এইদেশেরটা খাবে আর ইন্ডিয়াতে জমাবে! মালুদের স্বভাবই এইরকম। অরা এই দেশরে ভালবাসে না…।

ঘোষদের পুরোটাই ইন্ডিয়াতে চলে গেছে কয়েক ধাপে। ৪৭ সালে একবার। পাকিস্তান আমলে ৬৫ সালের যুদ্ধে, তারপর ৭১ সালের যুদ্ধে। স্বাধীনতার পরের ধাপটা অবশ্য সেভাবে চোখে পড়ে না।

৬৫ সালের যুদ্ধের সময় আমজাদ সর্দার ঘোষ পাড়ায় এসে বলল, অই তরা সব পলা, তাড়াতাড়ি পলা, একদম জানে মাইরা ফেলব তেগো!… সেই ভরা পাকিস্তান আমলের বুড়ো হিন্দু মানুষগুলো ঠক ঠক করে ভয়ে কাঁপে। ঘরে সমত্ত মেয়ে। ও সেলেমান, বাঁচা, কই জামু, কি কছ? আমজাদ সর্দার আর সলেমান সর্দারের পকেটে তখন কড়কড়ে নোট। পকেট থেকে একশ টাকার নোট বের করে তাদের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে, এটা নিয়ে বাবু আগে ভাগো। পরিস্থিতি ভাল হলে আবার আসবা।… বাপ্পার জেঠুর ছেলে পরিতোষ কমিউনিস্ট পার্টি করত। ৬৫ সালে তাদের গোটা পরিবার তখন পাকিস্তানের শত্রু, তারা পাকিস্তান ও ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এনিমি পোপার্টি হিসেবে হৃষিকেশ ঘোষের বাড়ি সুলেমান সর্দারকে সরকার থেকে একশ বছরের জন্য লিজ নিতে হয়নি অবশ্য, দলিল দেখিয়েই সুলেমান সর্দার বলেছে এই বাড়ি হৃষিকেশ ঘোষ তার কাছে বিক্রি করে ইন্ডিয়া চলে গেছে। ৭১ সালে মেলেটারি পুরো ঘোষপাড়া জ্বালিয়ে ছাড়খার করে দিয়েছিল। সেই হামলায় লাঠি-বল্লম নিয়ে সাতজন সাহসী ছেলে প্রতিরোধ করতে দাঁড়িয়েছিল। ঘোষপাড়া প্রাইমেরী স্কুলের পিছনে সেই প্রতিরোধের স্মৃতি ধরে রাখতে স্বাধীনতার পর একটা স্মৃতিস্তম্ভ করা হয়েছিল। এখন ময়লা আবর্জনা ফেলে জায়গাটা ঢাকা পড়ে গেছে।

সন্ধ্যাবেলা বাপ্পা ঘরে থেকে বের হওয়ার সময় মার ডাক পেয়ে ভুরু কুঁচকে ফেলল। এই সন্ধ্যাবেলা ঘ্যানঘ্যানি শুনতে ভাল লাগবে না। মা ওঘর থেকে আমতা আমতা করে বলেন, এতবছর মায়ের পুজা হইছে, এইবার না হইলে একটা অমঙ্গল হইব। ছেলেপুলে নিয়ে থাকি বাবা, তুই মানা করিস না…।

বিরক্তি মিশিয়ে বাপ্পা জবাব দিলো, যখন থাকবা না তখন এই জায়গায় কে পুজা করবো শুনি?

-যখন থাকুম না তখন তো কোন দায় নাই। আমি বউ হইয়া এই বাড়িতে আসার পর কোনদিন পুজা বন্ধ হয় নাই…।

বাপ্পার এ বছর পুজা করার কোন ইচ্ছাই নাই। তাদের বাড়িতে কালি পুজাটা একটু জাঁকজামক করেই করা হয়। এখন আর সে অবস্থা তাদের নেই। তবু এই পুজাটা কষ্টেসৃষ্টে একটু বেহিসাবীই হয়ে যায়। বাপ্পা একদিন মাকে ঠাট্টা ছলে বলল, মা, এই যে এত যত্ন করে ঠাকুর সেবা করো, মা মা করে মাথা ঠুকো, কিছু কাজ হয়?

মা তখন পুজা করছেন। মৃদু ধমক দিয়ে বলেন, যা আকথা কইছ না!

-এ বছর ঠিক করছি কালি পুজা করুম না। বেহুদা কোন টাকা পয়সা নষ্ট করতে আমি রাজি না।

বুড়ির বুকটা ধক্ করে উঠে! স্বামীর আমল থেকে ছেলের আমল। স্বামীর মুখে এই কথা শুনলে পুরো ঘর এক করে ফেলতেন। বুড়ির চোখ ছল ছল করে উঠে। বেশি কিছু বলতে পারেন না।

-যামুগা যখন এইখানে পুজা কইরা আর কি হইব?

-এত বছর পুজা হইছে…

বাপ্পা আরো কিছু বলতে গিয়েও থেমে যায়। বৃহস্পতিবারের সন্ধ্যার পর তাগাদা থাকে। দুটো গার্মেন্টের ভিজিটিং কার্ডের বিল আনতে যাবে। এক সময় রাজনীতি করত বলে এখন পার্টি অফিসের পোস্টারের কাজটাজও পায়। সেখানেও বকেয়া টাকা আনতে যাবে। কথা না বাড়িয়ে বাপ্পা তাই বেরিয়ে পড়ে।

ঘোষপাড়ার শেষ পুজা। বাপ্পা আগে কখনই যা করেনি সেটাই করে ফেলল। লাইটিং একদম পুরো গলি থেকে শুরু করে পুজার প্যান্ডেল পর্যন্ত। বড় রাস্তায় ককসিট দিয়ে একটা গেইট। এই জাকজমক দেখে সবাই জিজ্ঞেস করে, কি, এইবার এ্যাতো? বাপ্পা শুকনো হাসি দিয়ে বলে, এই আর কি…।

-শুনলাম ইন্ডিয়া চলে যাচ্ছো সব বেচেবুচে?

-কার থিকা শুনছেন?

-এই শুনছি আর কি…

-হ, ঠিকই শুনছেন।

-হ, কি আর করবা… তোমাগো আবার ইন্ডিয়াতে সবই আছে… হ ভাল মনে করলে যাও গা…।

বাপ্পার বুকটা অভিমানে ভরে যায়। কেউ তো বলে না, যাবি না বাপ্পা! এইটা কি তর দেশ না!… অথচ সবাই যেন বিদায় জানাতে তৈরি!

গেইটের সামনে বাপ্পা লাইটিংয়ের কাজ দেখছিল। চায়ের দোকানে সেন্টু তাকে দেখেই ওখান থেকেই লম্বা করে নমস্কার বলল। বাপ্পা একটু চেয়েই মাথাটা নমস্কার গ্রহণ করার মত দুলিয়ে ফের গেইটের কাজ দেখছিল মাথা উঁচিয়ে। সেন্টু ওর পুরো গ্রুপ নিয়ে তখন বাপ্পার সামনে এসে হাজির।

-দাদা এত আয়োজন করছেন!

কানা সবুজ বলল, বাপ্পাদা, আমাগো বকশিস!

ভুরু কুঁচকে ফেলল বাপ্পা, কেন জানি কানা সবুজের বলার ধরণ দেখে ভেতরে ভেতরে একটা বুনো রাগ জেগে বসতে শুরু করল। রুক্ষ চাউনিতে বাপ্পা বলল, তগো আবার বকশিস কিয়ের?

-বাহ, পুজা করতাছেন!

বাপ্পার মাথার ভেতর যেন কেউ আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। সে বিস্ফোরিত চোখে কানা সবুজের দিকে তাকায়। এত বড় সাহস!

সেন্টু তার হাতটা কানা সবুজের মুখের কাছে নিয়ে মুখ খিচিয়ে বলে, থাপড়াইয়া গাল ফাটাইয়া ফালুমা হালারপুত! দাদার লগে এমনে কথা কছ!… বাদ দেন দাদা। কথাডা আসলে উয়ে এমনে কইতে চায় নাই, মানে কইতে চাইছিল, এলাকার পোলাপানরে একটু পানিটানি খাওয়ার টেকা দিবেন না?

-পুজার সময় আসিস, ভাল খাবারের আয়োজন আছে।

-না দাদা, ঐ সব আপনারাই খান। আমাগো খালি পানি খাওয়ার টেকা দিলেই হইব…

বাপ্পা ভেতরে ভেতরে রাগে কাঁপতে থাকে। এই পাড়াতেই তার সমবয়েসি আসলাম, মুহসিন থাকে। সেন্টু কি ওদের সঙ্গে এভাবে কথা বলতে পারবে? তার কাছ থেকে মদ খাওয়ার পয়সা চাইছে! এরা স্থানীয় আওয়ামী লীগের পোলাপান। এক সময় সে ছাত্রলীগ করেছে। তবু সে কেবলই “দাদা” যাকে প্রত্যেক বছর এলাকার এইসব সেন্টু আর কানা সবুজদের ডেকে বলতে হয়, তেরা সহযোগিতা না করলে তো ভাই পুজা করতে পারুম না। দেখিস রাত-বিরাতে মেয়েছেলেরা আসব, কোন গ্যাঞ্জাম যেন না হয়… বাপ্পা ওদের হাতে কিছু টাকা তুলে দেয়। ওরা বাপ্পাকে আশ্বস করে যায়, দাদা কোন চিন্তা করবেন না। আমরা রাইতে গেইটের সামনেই থাকুম। কোন হালারপুতে গ্যাঞ্জাম করবো? কিন্তু এখন এই মুহূর্তে বাপ্পার ভেতরের সেই পুরোনো গোয়ার মানুষটা জেগে উঠেছে। মনে মনে সে বলে, এক পয়সা পাবি না। পয়সা কি তর বাপ রেখে গেছে আমার কাছে!

বাপ্পা মুখে বলে, কোন টাকা-পয়সা হবে না- যা!

সেন্টু এবার উষ্মা দেখিয়ে বলে, বাহ্, বাড়ি বেচলেন, তারও তো কিছু পাইলাম না!

বাপ্পা সেন্টুর চোখে চোখ রেখে বলে, আমার বাড়ি তো কিনছে মুহসিনরা, যা অগো কাছে গিয়া চা তো?

সেন্টু কাধ ঝাড়া দেওয়ার মত করে বলল, হুনেন দাদা, এলাকার পুলাপানরে রাগাইয়া আপনি কিন্তু কিছু করতে পারবেন না এইটা কইয়া দিলাম।

বাপ্পা চিবিয়ে চিবিয়ে বলল, যা! পারলে কিছু করিছ…

ভোররাতে মেয়েমানু্ষের কান্নার রোল শুনে বাপ্পা দৌড়ে বাইরে বের হয়। বাপ্পা সদ্য ঘুম ভাঙ্গা চোখে দেখে মূর্তির মাথা ছিন্ন হয়ে মাটি পড়ে রয়েছে। একটা হাত ভাঙ্গা…। বাপ্পার বয়স ছত্রিশ। তার এতগুলি বছরের সে কোনদিন এমন দৃশ্য দেখেনি। তার কল্পনাতেও ছিল না তাদের বাড়ির পুজায় এমন কিছু ঘটতে পারে। কাটা মন্ডুটার দিকে চেয়ে বাপ্পার নিজেকে পরাজিতর মত মনে হলো। যেদিন থেকে তার ঈশ্বর আর ধর্মের অবিশ্বাস জন্মেছে সেদিন থেকে এই মূর্তির কাছে সে মাথা নত করেনি। কিন্তু এই ভাঙ্গা মূর্তি আজ তার কাছে নিজের অসহায়ত্ব আর একরাশ পরাজয়ের সিম্বল। নিজ দেশে পরবাসী হওয়ার যন্ত্রণা যেন…।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৯ thoughts on “ঘোষপাড়ার শেষ ইতিহাস

  1. বলতে পারিনা তুমি যেও না
    বলতে পারিনা তুমি যেও না সুধাংশু….
    রক্ষা করতে পারিনা সুধাংশুদের,অন্যায় জুলুম থেকে…
    কেন থাকবে বাপ্পা সুধাংশুরা?তারচে বরং চলে যাক,বেঁচে থাক…

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 5 = 5