ধর্মকে গালি দাও, জার্মান আমেরিকায় directly চলে যা

ফক্স নিউজ জানিয়েছে, আমেরিকা কিছু বাংলাদেশী ব্লগারদের রিফুজি স্টেটাস দিবে, কারণ জঙ্গীরা একজন ব্লগারকে হত্যা করেছে।

১৭৯৪ সনে পাশকৃত আমেরিকার অধিকার সংরক্ষণ বিলের সংবিধানের ১নম্বর সংশোধনীতে বলা হয়েছে, আমেরিকা একটি ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ, সরকার কোনো ধর্মীয় ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবেনা, সবার মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে। আবার বলা হয়েছে, কেউ কারো ধর্ম নিয়ে ব্যাঙ্গ, কটাক্ষ করে কোনো কথা বলতে পারবেনা। কেউ কারো ধর্মীয় পোশাক বা আচরণ নিয়েও কোনো কটাক্ষ বা ব্যাঙ্গ করতে পারবেনা।

আমেরিকানরা যাকে খুশি তাকে তাদের দেশে থাকতে দেবে এটি তাদের ব্যাপার। কিন্তু যে আইনে বাংলাদেশের কিছু ব্লগারকে রিফুজী স্টেটাস দেয়ার চিন্তা করছে তাতে আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্টকে কেউ বা কোনো সংস্থা বিভ্রান্ত করেছে কোনোভাবে।

বাংলাদেশের কিছু তথাকথিত ব্লগার; মৌলবাদের বিরুদ্ধে কোনো কথাই বলেনা, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধেও কোনো আন্দোলন গড়েনা, মানুষের সামনে কোনো বিশ্লেষণ ধর্মী আলোচনাও নিয়ে আসেনা।
যা নিয়ে আসে তা হলো মানুষের ধর্মবিশ্বাস নিয়ে কটুক্তি, কোরান, আল্লাহ ও তার রসুল নিয়ে ব্যঙ্গোক্তি এবং অযোক্তিক একপেশে অনর্থক ইসলাম ধর্মকে নোংরা গালাগালি।

দুঃখজনক ভাবে সাম্প্রতিক নিহত একজনের ব্লগে, নবী (স) এর বদনা থেকে বিয়ে আর আল্লাহকে নিয়ে ব্যাঙ্গ আর গালাগালি ছাড়া কিছু নেই তার পোস্টগুলিতে। আমেরিকান স্টেট ডিপার্টমেন্ট সম্ভবত: তাদের লেখার সাবজেক্ট জানেনা। তারা মুক্তমনা নয়, তারা বিজ্ঞানমনস্কও নয়।

মুর্তিপুজা, আগুনপূজা,শয়তানপূজা, মানুষ পূজা, মানুষের ভাবনাকে আবদ্ধ করা সব ধর্ম মুক্তমনাদের বিষয় না হয়ে শুধু আল্লাহ আর রসুলকে (স) গালাগালী করা কেমন মুক্তমনা? তাদের টার্গেট শুধু একটি ধর্ম, যা আমেরিকান আইনের বিরুদ্ধে।

শুনেছি অনেকে করে মাসোহারার বিনিময়ে। গালাগালিকে তারা মৌলবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন দেখিয়ে আমেরিকান স্টেট ডিপার্টমেন্টকে আর ইউরোপিয়ানদের বোকা বানাচ্ছে।

পৃথিবীর আর কোনো দেশে এই গালি দেয়া ব্লগার নেই, কারণ ইসলামকে গালি দিয়ে কারো প্রবাসী হতে হয়না। ফ্রান্সের চার্লী হেবডো কার্টুন পত্রিকা, সালমান রুশদী, রিচার্ড ডকিন্স ইসলামের বিরুদ্ধে লেখে, কারণ বিতর্কিত লেখা বিক্রি হয় বেশি। লেখা বেচে তাদের খেতে হয়, বেঁচে থাকতে হয়, তেমনি বাংলাদেশের গালি ব্লগাররা তাদের অনুসরণ করে উন্নত দেশে মজার জীবনে বেঁচে থাকার জন্যে। গালি ব্লগার হিসাবে পরিচিতি পেলে যদি আমেরিকা যাওয়া যায় তাহলে রিস্ক নিতে দোষ কি?

জঙ্গীবাদের ব্যাপারে বাংলাদেশ বরাবরই সতর্ক, গালি ব্লগারদের ব্যঙ্গোক্তিক লেখার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে, তারপরও অনাকাংখিত হত্যাকান্ড ঘটছে।

সেজন্যে আমাদের সরকারকে আরো সতর্ক হতে হবে, একদিকে আগুন জ্বালানো গালি ব্লগার অন্য দিকে আইন হাতে নেয়া জঙ্গী,– দুই দলকেই কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সরকারী ভাবে আমেরিকান স্টেট ডিপার্টমেন্টকে এই দুই দলেরই অবস্থান পরিস্কার বোঝাতে হবে।

ধর্মের পক্ষের আর বিপক্ষের কোনো শক্তি বা ষড়যন্ত্রকারী আমদের দেশের দুটি বিষয় নিয়ে যেন খেলতে না পারে -একটি হচ্ছে নিরাপত্তা আর একটি হচ্ছে মানুষের বিশ্বাসের ক্ষেত্রটির অপমান। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার আর তার জনগণ দু দলকেই চিন্হিত করে প্রতিহত করতে পারলে দুই শত্রুই পরাজিত হবে।

আমেরিকায় অবস্থানরত বাংলাদেশ প্রেমী আইন বিশারদদের কেউ চাইলে আমেরিকান কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন। ভাষা আন্দোলনের স্বীকৃতি এভাবেই আদায় করেছিলেন দুইজন কানাডা প্রবাসী দেশপ্রেমিক। আর বাংলাদেশে গালি ব্লগারদের পোস্ট দেখা মাত্র স্ক্রিন শট নিয়ে বা রেকর্ড করে বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করতে হবে। সব রকম সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শক্ত হয়ে দাড়িয়ে যেতে হবে সবাইকে। শান্তিতে থাকতে হলে অশান্তির কারণগুলিকে প্রতিহত করতে হবে, যেমনটি আমরা করেছিলাম ১৯৭১এ সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 88 = 91