আমি এবং মানবতা – ২

অনেক বন্ধু, বড় ভাই আছে যারা বরাবরই বলে থাকে চাপাতি যদি পছন্দ হয়ে থাকে তাহলে তোমার বকবাস লিখাগুলো লিখে যাও। আর কিছু বন্ধু, বড় ভাই আছে যারা শুধুই অনুপ্রেরণা আর ভালবাসায় সিক্ত করে এবং নিয়মিত করার সুযোগ করে দেয়। তাদের বলছি, যারা আমার লেখা পড়ে ভয় পান এই ভেবে যে কোন একদিন আমার সাথে সাথে আপনাদের কে ও কোপানো হবে, আপনারা আজীবন বেচে থাকুন এই কোপানো সমাজে, তাদের প্রতিনিধি হয়ে। যারা নির্ভীক এবং সত্যের সৈনিক হয়ে আমাকে অনুপ্রেরণা, ভালবাসা দিয়ে সামনে এগিয়ে দেন আপনারা সত্যের প্রতিনিধিত্ব করে আজীবন বেচে থাকুন এই সমাজে। অনেক চেষ্টা করেছি থেমে থাকার। কিন্তু মাথার টিক বাম পাশটায় কেমন যেন চুলকায় এবং মাথার ভেতর এক ধরনের পোকা কামডায় প্রতিনিয়ত। তাই আজ ও বসে পডলাম অযোক্তির বিরুদ্ধে যুক্তি লিখব বলে। অনেকদিন ধরে ভেবেই যাচ্ছি কিভাবে আমার এই বিষয়টা অন্ধ সমাজের কাছে সহজলভ্য করে বুঝানো যায়। হটাৎ আজ খানিকটুকু চিন্তা করে মনে হচ্ছে আমি অন্ধ সমাজকে বুঝাতে পারব, মানুষ কি?, ধর্ম কি?, মানবতা কি? যদি ও মানবতা, মানুষ, ধর্ম নিয়ে আমার ডিগ্রী করা নেই, তারপর ও আমার মনে হল আমার মনে ঘূর্ণায়মান বিষয়াদি অন্ধ সমাজের এক অন্ধ ব্যাক্তির মনে নাডা দিতে পারে। এবং যদি নাডা দিয়েই থাকে তাহলে আমি নিজেকে সার্টিফিকেটধারী, ডিগ্রিধারী মনে করব। অন্ধ সমাজ বলতে বুজাচ্ছি সেটাই যেটা ধর্ম চিনে, মানুষকে নয়। বাংলাদেশ। ৭১ সালে লাখ লাখ শহীদের বিনিময়ে অর্জিত ভূখন্ডের নাম। বর্তমানে এই স্বাধীন নামক পরাধীন ভূখন্ডে প্রায় ১৬ কোটি মানুষের বসবাস। আওবার চেহারা প্রায় মানুষের মতই এবং সবাই হাত-পা ওয়ালা মানুষ ও বটে। সমস্যা একটাই ধর্ম। চারটি আলাদা আলাদা ধর্ম দ্বারা বিভেজিত এই মানুষগুলো। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান। চেহারা একই রকম, হাত-পা মুখমন্ডল সবার একই। ফারাকটা শুধু ধর্মেই। সব জায়গায় একই থাকে সবাই, একজনের বিপদে আরেকজন ঝাঁপ দেয়, কিন্তু ঐ যে ফারাক একই জায়গায়। ধর্ম। কিছু মানুষ আছে যারা নাস্তিক নামে খ্যাত। যারা আওব মানুষকে মানুষের কাতারে গন্য করে, ধর্মের আডালে নয়। এবং এই কারনেই ধর্মান্ধ কিছু সন্ত্রাসীরা তাদের রক্তাক্ত করে, বিভাজন করতে না পেরে। এবং অন্ধতা দূর হবে বলে। একটু চিন্তা করলেই বুজবেন ধর্মের চাদর গায়ে জডিয়ে রাখলে কোনদিন ও অসাম্প্রদায়িক হওয়া যায় না, এবং অন্ধতা দূর করা যায় না। এবং যারা নানান ধর্মের চাদর গায়ে দিয়ে থাকে তারা মানবতার শত্রু। আচ্ছা আমি যদি নির্দিষ্ট কোন ধর্মের আডালে থাকি এবং ঐ ধর্মের নীতিগুলো মেনে চলি তাহলে কিভাবে অন্য একটি ধর্মের মানুষকে ভালবাসতে পারব? নির্দিষ্ট যে কোন ধর্ম অবশ্যই বলে থাকে যে নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের সাথে ভাল থাকার কথা এবং ঐ ধর্মের উপর আঘাত আসলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিতে। পূথিবীতে যত ধর্মই আছে আওব ধর্মেই স্পষ্টত বলা থাকে নিজ ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের পূজা, ভক্তি করার জন্য। এক কথায় কাজের চেয়ে অকাজ বেশি করার কথা বলা হয়। আশ্চর্যজনক বর্তমানে মডারেট ধার্মিকেরা বলেন নিজস্ব ধর্মগুলো মানুষে ভালবাসার কথা বলে বা মানবতার কথা বলে। আমার প্রশ্ন এই জায়গায় আটকে থাকে, ধর্ম যদি মানুষকে ভালবাসতে শিখায় তাহলে ধর্মের নামে মানুষ খুন করা হয় কেন? তাহলে কি শুধু মানুষেরআ ধর্ম কে ভালবাসে? ধর্ম কি মানুষকে ভালবাসে না? তাছাড়া ইসলাম এ স্পষ্টত বলা আছে জিহাদ যুদ্ধের কথা। ধর্মের উপর আঘাত আসলে খুন করার কথা। এবং সেটা তারা বোকার মত মেনে ও চলে। মানুষ ধর্ম করে কেন? কি লাভ? ধর্ম মানুষকে টাকা ও দেয় না তাহলে? অবশ্য দিয়ে ও থাকে। মুক্তমনা, সত্যবাদী দের খুন করার জন্য বড় বড় ধর্মব্যাবসায়ীরা জামাত-শিবিরের চেচ্রা ছেলেদের ব্যাবহার করে। আর তারা ও হালের গরুর মত কিছু টাকা পেয়ে খুন করে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের। মানুষ বুঝে না ধর্ম নামের ভাইরাসটির কারনে আজ পুরো বিশ্বব্যাপী বড় বড় যুদ্ধ সংঘটিত হচ্ছে। মারামারি খুনোখুনি হচ্ছে। এ শুধু একটি ইস্যু মাত্র। আমার মতে ধর্ম সেটাই যেটা দিয়ে দুনিয়ার সকল মানুষকে ভালবাসা যাবে। ধর্ম সেটাই যেখানে বৈষম্য থাকে না, মারামারি থাকবে না। পরিশেষে এইটুকুই বলব আপনি যদি কোন নির্দিষ্ট ধর্মের আডালে থাকেন আপনি হবেন সাম্প্রদায়িক, ধর্মান্ধ, উগ্র গোষ্ঠীরর মানুষ। জীবন সংক্ষিপ্ত, আসুন সকল মানুষকে আমাদের আপনজন ভেবে ভালবাসি, ধর্মের চোখে দেখা পরিহার করি। তাহলেই হবে সুন্দর মানবতার পূথিবী। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপনার গুরুত্বপূর্ন সময় ব্যয় করে আমার সামান্য এই লেখাটি পড়ার জন্য।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 + 5 =