আল্লাহর রসুল মুহাম্মদকে অবমাননার শাস্তি কি ?

নবী মুহাম্মদের যারা সমালোচনা করে , খাটি ইমানদার মুমিন তাদেরকে চাপাতির কোপে পরপারে পাঠিয়ে দিচ্ছে একের পর এক। তখন কিছু লোক মিন মিন করে বলে – ইসলাম এভাবে হত্যার কথা বলে না, যদিও ভাব দেখে মনে হয় , তারা বরং এ হত্যাকান্ডে মনে মনে খুব খুশী। যাইহোক , মুহাম্মদকে সমালোচনার শাস্তি যে কি তা কোরান হাদিস থেকে দেখা যাক।

প্রথমেই কোরান থেকে দেখা যাক ,

সুরা আল আহযাব- ৩৩: ৫৭: যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে অপমান করে, আল্লাহ তাদের প্রতি ইহকালে ও পরকালে অভিসম্পাত করেন এবং তাদের জন্যে প্রস্তুত রেখেছেন অবমাননাকর শাস্তি।

অর্থাৎ মুহাম্মদকে যে কেউ সমালোচনা করুক , তার জন্যে এই ইহকালেই মহা অবমাননাকর শাস্তির বিধান জারি আছে। সেই শাস্তিটা যে কি , তা কিন্তু কিছু পরের আয়াতেই বলা হচ্ছে ,

সুরা আহযাব- ৩৩:৬০-৬১: মুনাফিকরা এবং যাদের অন্তরে রোগ আছে এবং মদীনায় গুজব রটনাকারীরা যদি বিরত না হয়, তবে আমি অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আপনাকে উত্তেজিত করব। অতঃপর এই শহরে আপনার প্রতিবেশী অল্পই থাকবে।অভিশপ্ত অবস্থায় তাদেরকে যেখানেই পাওয়া যাবে, ধরা হবে এবং প্রাণে বধ করা হবে

মদিনায় মুহাম্মদ সম্পর্কে মানুষজন কি গুজব রটনা করত ? আসলে মুহাম্মদ যখন একের পর এক বিয়ে করছিলেন , এভাবে ডজনের ওপর স্ত্রী নিয়ে একটা হারেম বানিয়েছিলেন , তখন মানুষ কানাঘুষা করছিল , এ কেমন নবি যে নাকি নারী লিপ্সু ? তারপর তিনি যখন তার পালিত পুত্রের বধু জয়নাবকে বিয়ে করেন , তখনও লোকজনে ভীষণ কানাঘুষা করছিল। মুহাম্মদকে তখন সবাই লুইচ্চা টাইপের কিছু একটা বলে তার সমালোচনা করছিল। বিশেষ করে ইহুদি আর খৃষ্টানরা এ ধরনের সমালোচনা করছিল। কারন , মুহাম্মদ দাবী করছিলেন তিনি হলেন সর্বশেষ নবী যিনি কি না সর্বশ্রেষ্ট আদর্শ মানুষও , তিনি কেন এভাবে নারীলিপ্সু হবেন ? বিশেষ করে , তার পুত্রবধু বিয়েটা মুহাম্মদকে ভীষণ সমালোচনার মধ্যে ফেলে দেয়। সেই ১৪০০ বছর আগেকার অসভ্য আরব সমাজেও কেউ নিজ বা পালিত পুত্রের স্ত্রীকে কেউ বিয়ে করার কল্পনাও করত না। এটা ছিল তাদের কাছে চুড়ান্ত অনৈতিক একটা ব্যাপার। বর্তমান যুগেও এটাকে সবাই অনৈতিক ব্যপার বলেই মনে করে , এমন কি অধিকাংশ মুসলমানরাও। আর তখনই মুহাম্মদ কোরানের উক্ত ৩৩:৬০-৬১ আয়াত নাজিল করেন। আর তাতে , তার সমালোচনাকারীর কি শাস্তি খুব পরিস্কার ভাষায় বলা আছে , সেটা হলো — সোজা কল্লা কাটা।

বর্তমানে সহিহ মুমিন বান্দারা কোরানের উক্ত নির্দেশ মেনেই মুহাম্মদের সমালোচনাকারীকে চাপাতির কোপে হত্যা করছে। তবে মুহাম্মদ যেসব ঘটনা নিয়ে ঘটিয়ে গেছেন , সেসব ঘটনা নিয়ে আলোচনা করা কিভাবে সমালোচনা হয় , সেটা কিন্তু ঠিক বোধগম্য নয়।

মুহাম্মদের একজন সমালোচনাকারীকে কিভাবে মুহাম্মদের নির্দেশে হত্যা করা হয়েছিল , তার একটা সুন্দর ঘটনা আছে হাদিসে ,

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৫ :: অধ্যায় ৫৯ :: হাদিস ৩৬৯
আলী ইব্ন আবদুল্লাহ্(র) … জাবির ইব্ন আবদুল্লাহ(রা) থেকে বর্ণিত, (একদা রাসুলুল্লাহ(সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)) বললেন, কা‘ব ইব্ন আশরাফের হত্যা করার জন্য প্রস্তুত আছ কে? কেননা সে আল্লাহ্ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দিয়েছে। মুহাম্মদ ইব্ন মাসলামা (রা) দাঁড়ালেন, এবং বললেন ইয়া রাসূলুল্লাহ আপনি কি চান যে আমি তাকে হত্যা করি? তিনি বললেন, হাঁ। তখন মুহাম্মদ ইব্ন মাসলাম(রা) বললেন, তাহলে আমাকে কিছু(কৃত্রিম) কথা বলার অনুমতি দিন। রাসূলুল্লাহ(সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হাঁ বল। এরপর মুহাম্মদ ইব্ন মাসলাম(রা) কা‘ব ইব্ন আশরাফের নিকট গয়ে গল্লেন, এ লোকটি (রাসূল(সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের কাছে সাদ্কা চায়। এবং আমাদেরকে বহু কষ্টে ফেলেছে। তাই (বাধ্য হয়ে) আমি আপনার নিকট কিছু ঋণের জন্য এসেছি। কা‘ব ইব্ন আশরাফ বলল, আল্লাহর কসম পরে সে তোমাদেরকে আরো বিরক্ত করবে এবং আরো অতিষ্ট করে তুলবে। মুহাম্মদ ইব্ন মাসলাম(রা) বললেন, আমরা তো তাঁকে অনুসরণ করছি। পরিণাম ফল কি দাঁড়ায় তা না দেখে এখনই তাঁর সঙ্গ পরিত্যাগ করা ভাল মনে করছিনা। এখন আমি আপনার কাছে এক ওসাক বা দুই ওসাক খাদ্য ধার চাই। বর্ণনাকারী সুফিয়ান বলেন, আমর(র) আমার নিকট হাদিসখানা কয়েকবার বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি এক ওসাক বা দুই ওসাকের কথা উল্লেখ করেননি। আমি তাকে (স্মরণ করিয়ে) বললাম, এ হাদীসে তো এক ওসাক ও দুই ওসাকের কথাটি বর্ণিত আছে। তখন তিনি বললেন, মনে হয় হাদীসে এক ওসাক বা দুই ওসাকের কথাটি বর্ণিত আছে। কা‘ব ইব্ন আশবাফ বলল, ধারতো পেয়ে যাবে তবে কিছু বন্ধক রাখ। মুহাম্মদ ইব্ন মাসলাম(রা) বললেন, কি জিনিস আপনি বন্ধক চান। সে বলল, তোমাদের স্ত্রীদেরকে বন্ধক রাখ। মুহাম্মদ ইব্ন মাসলাম(রা) বললেন, আপনি আরবের অন্যতম সুশ্রী ব্যক্তি, আপনার নিকট কি করে, আমাদের স্ত্রীদেরকে বন্ধক রাখব আমরা? তখন সে বলল, তাহলে তোমাদের পুত্র সন্তানদেরকে বন্ধক রাখ। তিনি বললেন, আমাদের পুত্র সন্তানদেরকে আপনার নিকট কি করে বন্ধক রাখি? (কেননা তা যদি করি তাহলে) তাদেরকে এ বলে সমালোচনা করা হবে যে, মাত্র এক ওসাক বা দুই ওসাকের বিনিময়ে বন্ধক রাখা হয়েছে। এটাতো আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাকর বিষয়। তবে আমরা আপনার নিকট অস্ত্রশস্ত্র বন্ধক রাখতে পারি। রাবী সুফিয়ান বলেন, লামা শব্দের অর্থ হল অস্ত্রশস্ত্র। অবশেষে তিনি (মুহাম্মদ ইব্ন মাসলাম) তাকে(কা’ব ইব্ন আশরাফকে) পুনরায় যাওয়ার ওয়াদা করে চলে আসলেন। এরপর তিনি কা’ব ইব্ন আশরাফের দুধ ভাই আবূ নাইলাকে সঙ্গে করে রাতের বেলা তার নিকট গেলেন। কা’ব তাদেরকে দুর্গের মধ্যে ডেকে নিল এবং সে নিজে (উপর তলা থেকে নিচে নেমে আসার জন্য প্রস্তুত হল। এ সময় তার স্ত্রী বলল, এ সময় তুমি কোথায় যাচ্ছ? সে বলল, এইতো মুহাম্মদ ইব্ন মাসলামা এবং আমার ভাই আবূ নাইলা এসেছে। (তাদের কাছে যাচ্ছি) আমর ব্যতীত বর্ণনাকারীগণ বলেন যে কা’বের স্ত্রী বলল, আমি তো এমনই একটি ডাক শুনতে পাচ্ছি যার থেকে রক্তের ফোঁটা ঝড়ছে বলে আমার মনে হচ্ছে। কা’ব ইব্ন আশরাফ বলল, মুহাম্মদ ইব্ন মাসলামা এবং দুধ ভাই আবূ নাইলা, (অপরিচিত কোন লোক তো নয়) ভদ্র মানুষকে রাতের বেলা বর্শা বিদ্ধ করার জন্য ডাকলে তার যাওয়া উচিৎ। (বর্ণনাকারী বলেন) মুহাম্মদ ইব্ন মাসলামা(রা) সঙ্গে আরো দুই ব্যক্তি নিয়ে (তথায়) গেলেন। সুফিয়ানকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, ‘আমর কি তাদের দু’জনের নাম উল্লেখ করেছিলেন? উত্তরে সুফিয়ান বললেন, একজনের নাম উল্লেখ করেছিলেন। আমর বর্ণনা করেন যে, তিনি আরো দু’জন মানুষ সাথে করে নিয়ে গিয়েছিলেন। এবং তিনি বলেছিলেন, যখন সে (কা’ব ইব্ন আশরাফ) আসবে। আমর ব্যতীত অন্যান্য রাবীগণ ( মুহাম্মদ ইব্ন মাসলামার সাথীদের সম্পর্কে) বলেছেন যে(তারা হলেন) আবূ আবস ইব্ন জাব্র হারীস ইব্ন আওস এবং আব্বাদ ইব্ন বিশ্র। আমর বলেছেন, তিনি অপর দুই ব্যক্তিকে সাথে করে নিয়ে এসেছিলেন। এবং তাদেরকে বলেছিলেন, যখন সে আসবে তখন আমি (কোন বাহানায়) তার চুল ধরে শুঁকতে থাকব। যখন তোমরা আমাকে দেখবে যে, খুব শক্তভাবে আমি তার মাথা আঁকড়িয়ে ধরেছি, তখন তোমরা তরবারী দিয়ে তাকে আঘাত করবে। তিনি (মুহাম্মদ ইব্ন মাসলামা) একবার বলেছিলেন যে, আমি তোমাদেরকেও শুঁকাব। সে(কা’ব) চাদর নিয়ে নিচে নেমে আসলে তার শরীর থেকে সুঘ্রাণ বের হচ্ছিল। তখন (মুহাম্মদ ইব্ন মাসলামা(রা) বললেন, আজকের মত এতো উত্তম সুগন্ধি আমি আর কখনো দেখিনি। আমর ব্যতীত অন্যান্য রাবীগণ বর্ণনা করেছেন যে, কা’ব বলল, আমার নিকট আরবের সম্ভ্রান্ত ও মর্যাদাসম্পন্ন সুগন্ধী ব্যবহারকারী মহিলা আছে। আমর বলেন, মুহাম্মদ ইব্ন মাসলামা(রা) বললেন, আমাকে আপনার মাথা শুঁকতে অনুমতি দেবেন কি? সে বলল, হাঁ এরপর তিনি মাথা শুঁকলেন এবং এরপর তার সাথীদেরকে শুঁকালেন। তারপর তিনি পুনরায় বললেন, আমাকে (আরেকবার শুঁকাবার জন্য) অনুমতি দেবেন কি? সে বলল, হাঁ। এরপর তিনি তাকে কাবু করে ধরে সাথীদেরকে বললেন, তোমরা তাকে হত্যা কর। তাঁরা তাকে হত্যা করলেন। এরপর নবী(সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) –এর নিকট এসে এ সংবাদ জানালেন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৫ thoughts on “আল্লাহর রসুল মুহাম্মদকে অবমাননার শাস্তি কি ?

  1. আমি যতটুকু বুঝি ইসলামের
    আমি যতটুকু বুঝি ইসলামের প্রতিষ্ঠা লগ্নে সময়টা খুব কঠিন ছিল। মুহাম্মদ ধর্মযুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন। মুশরীক আর প্যাগানরা মুহাম্মদ আর মুসলিমদেরকে নানা রকম ভয় দেখান আর অপবাদ প্রচারে লিপ্ত ছিল। মুহাম্মদকে ইসলাম আর মুসলিম সমাজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করতে হচ্ছিল। মুহাম্মদ বেশীরভাগ মানুষকে ক্ষমা করেছিলেন কিন্তু মুসলিমদের জন্য হুমকী হয়ে উঠা কিছু মানুষকে হত্যা করতে হয়েছিল।

    1. তাহলে মুহাম্মদের মহানুভবতার
      তাহলে মুহাম্মদের মহানুভবতার গল্পগুলো কি ঠিক? আপনার মনে করা দিয়ে কি ইসলাম চলে? কোরান ও হাদিসের এই নির্দেশনাগুলো এখনো বহাল তবিয়তে আছে। নবী কোথাও বলেছে এই হত্যার পর তোমরা আর মানুষ হত্যা করবে না? আপনার কথা মত যদি আমরা ধরে নিই তখনকার সময়ের প্রেক্ষিতে মানুষ হত্যার প্রয়োজন ছিল, তাহলে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে কোরান ও হাদিস সংস্কারের প্রয়োজন আছে নয় কি?

      ইসলামের ১৪০০ বছরের ইতিহাসে ইসলাম প্রতিষ্ঠা পেয়েছে হত্যা, যুদ্ধ, লুণ্ঠনের মাধ্যমে নয় কি?

  2. নাস্তিক মৃত্যু বাংলাদেশের
    নাস্তিক মৃত্যু বাংলাদেশের অর্থনিতীর জন্য ভাল। একজন নাস্তিক মরলে ১০০০ নাস্তিকের ইউরোপ আমেরিকার ভিসা নিশ্চিত হয়। এটা লাভ নয় তো কি?

    1. তাতো অবশ্যই। আর এই কাজ
      তাতো অবশ্যই। আর এই কাজ আপনাদের মত কিছু কাপুরুষরাই করে। পিছন দিয়ে আঘাত করে নেকড়ের মত পালিয়ে যায়। আপনাদের পূর্বপুরুষরা কিন্তু নাম প্রকাশ করতো। চালিয়ে যান 72 টা পতিতা তো আছেই।

  3. কাব ইবনে আশরাফের হত্যা
    কাব ইবনে আশরাফের হত্যা একমাত্র নয়,অন্তত আরো দুজনকে হত্যা করা হয় ইসলাম ও নবীর ব্যাঙ্গ করে কবিতা লেখার জন্য।একজন আবু আফাক অন্যজন আসমা বিনতে মারওয়ান।হত্যার ঘটনা শুনে নবী মুগ্ধ হয়ে খুনীকে ‘বসির’ উপাধি দেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 + 3 =