প্রসঙ্গ : নিঃসঙ্গতার একশ বছর

১৯৮২ সালে সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস এর “নিঃসঙ্গতার একশ বছর” বইটা মাত্র শেষ করলাম। চমত্‍কার একটি বই। পড়ার পরামর্শ রইল।

ফ্ল্যাপে লিখা কথা
‘Cien Anos de Soledad’ (১৯৬৭) বা’ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অব্‌ সলিচিউড’ (১৯৭০) বা ‘নিঃসঙ্গতার একশ বছর’ (২০০০) একটি পরিবারের কাহিনী। এই ‘বুয়েন্দিয়া’ পরিবারেইএকজনের নেতৃত্বে একদল দুঃসাহসী অভিযাত্রী দক্ষিণ আমেরিকার গহীন এক জঙ্গলে বসতি স্থাপন করে। সূত্রপাত ঘটে-প্রায় আক্ষরিক অর্থেই, এক মহাকাবিক জগতের; একই সঙ্গে নিয়তির আশীর্বাদপুষ্ট, অভিশাপলাঞ্ছিত আর খামখেয়ালীর শিকার একটি অসাধারণ বংশের; অভূতপূর্ব ঘটনা-দূর্ঘটনা পরম্পরার; আর সেই সঙ্গে অবশ্যই একটি অলোকসামান্য উপন্যাসের, প্রকাশের পর মুহূর্ত থেকেই যা পাঠকের মনোযোগ এবং ভালোবাসা অর্জন করে ক্লাসিকের পর্যায়ভূক্ত হয়ে গেছে। মূলত এই উপন্যাসটির জন্যেই ১৯৮২ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরুস্কার লাভে করেন লেখক।
উপন্যাসটির অসংখ্য পাত্র-পাত্রীর মধ্যে রয়েছে হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়ার মতন অসাধারণ কৌতুহলী, উদ্ভাবনীশক্তিসম ্পন্ন, দুঃসাহসী,ও বুদ্ধিমান চরিত্র, যে নিজের জ্ঞান-বুদ্ধি খাটিয়েই আবিষ্কার করে ফেলে যে পৃথিবী গোল;তার স্ত্রী, উরমুলা ইগুয়ারান নামের কর্মঠ, সর্বব্যাপিনী, সর্বংসহা, শতায়ু, নিঃসঙ্গ নারী, যাকে সারা জীবন তাড়া করে ফেরে তারবংশে শুয়েরের লেজাবিশিষ্ট কারো জন্মের আশংকা; রয়েছে, পায়ের তলায় সর্ষে নিয়ে সারা দুনিয়া ঘুড়ে বেড়ানো, বিদগ্ধ, রহস্যময়, বেদে মেলকিয়াদেস; সুন্দরী রেমেদিওস নামের সৃষ্টিছাড়া সৌন্দর্যের অধিকারিণী এক অপার্থিব রমণী, যার প্রণয়পিপাসুরা একের পর এক বৃথাই আত্মাহুতি দিয়ে চলে তার রূপের অনলে, আর অবশেষে যে প্রকাশ্যে দিবালোকে ধীরে ধীরে উর্ধাকাশে উঠে মিলিয়ে যায় অসীম শূন্যে; রয়েছে, কর্ণেল অরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া। বত্রিশটি সশস্ত্র বিদ্রোহ সংগঠিত করে সব কয়টাতেই হেরে গিয়েছিল সে, এড়িয়ে গিয়েছিলো তার প্রাণের ওপর চালানো চোদ্দটা হামলা, তিয়াত্তরটা অ্যামবুশ আর একটা ফায়ারিং স্কেয়াড। যুদ্ধের পর তাকে দেয়া আমরণ অবসর ভাতা ঘৃণাভরে ফিরিয়ে দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে গিয়েছিল নিজের কামারশালায় বসে ছোট ছোট সোনার মাছ বানিয়ে। আর রয়েছে, এসব ঘটনা-দুর্ঘটনা, লৌকিক-অলৌকিকের কেন্দ্রবিন্দু মাকোন্দা নামের গ্রামটি, যে-গ্রামকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে উপন্যাসের প্রায় সব পাত্র-পাত্রীর ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাজনৈতিক, আধ্যাত্মিক ও বৈধ-অবৈধ যৌন-জীবন; আর এসব এক অদ্ভুত উপায়ে মিলেমিশে গিয়ে যে-জগতের সৃষ্টি করেছে তা একদিকে যেমন পাঠকের কাছে রীতিমতন আশ্চর্য আর অদ্ভুত বলে মনে হয়, তেমনি আবার তা নিতান্ত পরিচিত বলেও ঠেকে; মনে হয়, এ-কাহিনী যেন মানবেতিহাসেরই এক সুনিপুণ পুনর্বয়ণ

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on “প্রসঙ্গ : নিঃসঙ্গতার একশ বছর

  1. ইস্টিশনবিধি-৫ ভেঙে আপনি প্রথম
    ইস্টিশনবিধি-৫ ভেঙে আপনি প্রথম পাতায় ২ এর অধিক পোস্ট দিয়েছেন। আপনাকে সতর্ক করা হচ্ছে। প্রথম পাতায় দুটি পোস্ট রেখে বাকীগুলো সরিয়ে দেওয়া হল। ভবিষ্যতে বিধি মেনে ব্লগিং করার জন্য আপনার দৃষ্টি আকর্ষন করা হচ্ছে।

  2. মার্কেজের লেখায় এমন জাদু থাকে
    মার্কেজের লেখায় এমন জাদু থাকে যে পাঠক তা শেষ না করে উঠতে পারে না। সব কিছুতে একটা পরাবাস্তব অনুভুতি কাজ করে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

70 − 64 =