২০ হেক্টর জায়গা জুড়ে ‘ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী উদ্যান’

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ স্মরণে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের চোত্তাখোলায় ২০ হেক্টর জায়গাজুড়ে নির্মাণ করা হচ্ছে ‘ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী উদ্যান’। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাহাড়ঘেরা এই চোত্তাখোলার বেসক্যাম্প থেকেই মুক্তিবাহিনী পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে লড়াই করে মুক্ত করেছিল ফেনী, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার খ্যাত এই চোত্তাখোলায় এবার ত্রিপুরার রাজ্য সরকার নির্মাণ করছে মৈত্রী উদ্যান। ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে ১৩০ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশের ফেনী সীমান্তের ওপারের বিলোনিয়া শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে সীমান্তবর্তী এলাকা চোত্তাখোলা। চোত্তাখোলার তৃষ্ণা অভয়ারণ্যের পাশে ২০ হেক্টর জমিতে সাপের মতো বয়ে চলা জলাশয় দিয়ে বিভক্ত সাতটি টিলার ওপর নির্মিত হচ্ছে মূল ভাস্কর্য। সবচেয়ে উঁচু টিলার ওপর রয়েছে বঙ্গবন্ধুর ৩২ ফুট উচ্চতার একটি ভাস্কর্য। এটি ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের আদলে নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরেকটি ১২ ফুট ভাস্কর্য রয়েছে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের আদলে। এর সামনেই রয়েছে অস্ত্র হাতে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার ভাস্কর্য। সবুজ বৃক্ষরাজি ঘেরা পাহাড়ের বিচ্ছিন্ন টিলাগুলোকে যুক্ত করতে এবং প্রাকৃতিক আবহ ধরে রাখতে তৈরি করা হয়েছে কাঠের সেতু। ভাস্কর্যের পেছনে নির্মাণ করা হচ্ছে টেরাকোটায় চিত্রিত সাতচলি্লশ থেকে একাত্তর পর্যন্ত বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের নানা দিক নিয়ে স্থাপনা। সেখানে রয়েছে বেশ কয়েকজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সমাধিস্থল।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + 1 =