বৈশাখ এবং হুমায়ুন আজাদের প্রবচনগুচ্ছ

স্যার আপনার কথাগুলো মনে পড়ে… এই মাটিতে আপনার কথাগুলো কি ভীষণ সত্য ছিল… সত্যিই আপনি ছিলেন অন্য কোন সময়ের। এখনও আপনি আসেন নি… নিচের প্রবচনগুলো হুমায়ুন আজাদ স্যারের। আজ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে যখন পাখাময় পিপীলিকারা পাখা মেলে তখন স্যারের এই লাইন গুলো আপনাকে দিতে পারে শীর্ষসুখ। শুভ নববর্ষ। সব জরা কাটুক আজ, সবাইকে পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা। আর আমি এর শেষ প্রবচন মেনে নিয়ে, এই তো আছি বেশ।
……………………………………………………..

হিন্দুরা মুর্তিপূজারী; মুসলমানেরা ভাবমুর্তিপূজারী। মুর্তিপূজা নির্বুদ্ধিতা; আর ভাবমুর্তিপূজা ভয়াবহ।

আমাদের অঞ্চলে সৌন্দর্য অশ্লীল, অসৌন্দর্য শ্লীল। রুপসীর একটু নগ্ন বাহু দেখে ওরা হৈ চৈ করে, কিন্তু পথে পথে ভিখিরিনির উলঙ্গ দেহ দেখে ওরা একটুও বিচলিত হয় না।

মোল্লারা পবিত্র ধর্মকেই নষ্ট ক’রে ফেলেছে; ওরা হাতে রাষ্ট্র পেলে তাকে জাহান্নাম ক’রে তুলবে ।

বিধাতা মৌলবাদী নয়। কে প্রার্থনা করলো, কে করলো না; কে কোন তরুনীর গ্রীবার দিকে তাকালো, কোন রূপসী তার রূপের কতো অংশ দেখালো, এসব তাকে বিন্দুমাত্র উদ্বিগ্ন করে না। কিন্তু বিধাতার পক্ষে এতে ভীষন উদ্বিগ্ন বোধ করে ভন্ডরা।

এদেশের মুসলমান এক সময় মুসলমান বাঙালি, তারপর বাঙালি মুসলামান, তারপর বাঙালি হয়েছিলো; এখন আবার তারা বাঙালি থেকে বাঙালি মুসলমান, বাঙালি মুসলমান থেকে মুসলমান বাঙালি, এবং মুসলমান বাঙালি থেকে মুসলমান হচ্ছে। পৌত্রের ঔরষে জন্ম নিচ্ছে পিতামহ।

ধর্মের কাজ মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা; তাই এক ধার্মিকের রক্তে সব সময়ই গোপনে শানানো হ’তে থাকে অন্য ধার্মিককে জবাই করার ছুরিকা।

ধার্মিক কখনোই সম্পুর্ন মানুষ নয়, অনেক সময় মানুষই নয়।

আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে।

পৃথিবীতে যতোদিন অন্তত একজনও প্রথাবিরোধী মানুষ থাকবে, ততোদিন পৃথিবী মানুষের।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “বৈশাখ এবং হুমায়ুন আজাদের প্রবচনগুচ্ছ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + 1 =