বাংলা নববর্ষ পালন করবেন , আবার দাবী করবেন নিজেকে মুসলমান- এটা কি মুনাফিকি নয় ?

বাংলা নববর্ষ যে বা যারাই যেভাই চালু করুক না কেন , তা আসলে হিন্দু মুশরিকি সংস্কৃতি। বাংলা নববর্ষে পশু পাখীর মূর্তি নিয়ে মিছিল হয়, নাচা নাচি হয়, সাথে থাকে ঢোল-বাদ্য। এর সব কিছুই কঠিনভাবেই ইসলামে হারাম। এখন আপনি বাংলা সংস্কৃতির নামে এইসব হারাম কাজ করবেন , আবার দাবী করবেন মুসলমান , এটা কি মুনাফিকি নয় ?

যেদিন থেকে আমরা ইসলাম গ্রহন করেছি , সেদিন থেকেই আমরা আমাদের বাঙ্গালী সংস্কৃতিকে জলাঞ্জলি দিয়ে সবাই ইসলামী আরব সংস্কৃতিকে নিজেদের সংস্কৃতি হিসাবে গ্রহন করেছি।ইসলামী সংস্কৃতিতে কোন নাচানাচি , মূর্তির মিছিল, ঢোল বাদ্যের কোন স্থান নেই। মূর্তি বা ছবির ব্যাপারে বহু হাদিস আছে , যেমন :

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৩ :: অধ্যায় ৩৪ :: হাদিস ৪২৮:
হযরত আবদুল্লাহ ইবন আবদুল ওয়াহহাব (রঃ) ……..হযরত সাঈদ ইবন আবুল হাসান (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, আমি ইবন আব্বাস (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এমন সময়ে তাঁর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আবু আব্বাস, আমি এমন ব্যক্তি যে, আমার জীবিকা হস্তশিল্পে। আমি এ সব ছবি তৈরি করি। ইবন আব্বাস (রাঃ) তাকে বলেন, (এ বিষয়ে) রাসূলূল্লাহ্ (সাঃ) কে আমি যা বলতে শুনেছি, তাই তোমাকে শোনাব। তাঁকে আমি বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কোন ছবি তৈরি করে মহান আল্লাহ্ তা’আলা তাকে শাস্তি দিবেন, যতক্ষন না সে তাতে প্রান সঞ্চার করে। আর সে তাতে কখনো প্রান সঞ্চার করতে পারবেনা। (একথা শুনে) লোকটি ভীষনভাবে ভয় পেয়ে গেল এবং তার চেহেরা ফ্যাকাশে হয়ে গেল। এতে ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেন, আক্ষেপ তোমার জন্য, তুমি যদি এ কাজ না-ই ছাড়তে পার, তবে এ গাছ-পালা এবং যে সকল জিনিসে প্রান নেই, তা তৈরী করতে পার। আবু আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) (রঃ) বলেন, সাঈদ (রাঃ) বলেছেন, আমি নযর ইবন আনাস (রাঃ) থেকে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ইবন আব্বাস (রাঃ) হাদীস বর্ননা করার সময় আমি তার কাছে ছিলাম। ইমাম বুখারী (রঃ) আরো বলেন, সাঈদ ইবন আবু আরুবাহ (রঃ) একমাত্র এ হাদীসটি নযর ইবন আনাস (রঃ) থেকে শুনেছেন।

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫৪ :: হাদিস ৪৪৮:
ইব্নমুকাতিল (র)……………..আবূ তালহা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছি, যে ঘরে কুকুর থাকে আর প্রাণীর ছবি থাকে সে ঘরে (রহমতের) ফিরিশ্‌তা প্রবেশ করেন না।

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৮ :: অধ্যায় ৭৩ :: হাদিস ১৩০
ইয়াসারাহ ইব্ন সাফওয়ান (র)…………….আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী (সা)ামার নিকট আসলেন। তখন ঘরে একখানা পর্দা ঝুলানো ছিল। যাদে ছবি ছিল। তা দেখে নবী (সা)-এর চেহারার রং বদলিয়ে গেল। এরপর তিনি পর্দাখানা হাতে নিয়ে ছিড়ে ফেললেন। আয়েশা (রা) বলেন, নবী (সা) লোকদের মধ্যে বললেনঃ কিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিনাযাব হবে ঐসব লোকদের যারা এ সকল ছবি আঁকে।

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৭ :: অধ্যায় ৬২ :: হাদিস ১১০
ইসমাঈল (র)…… নবী (সাঃ) এর সহধর্মিণী হযরত আয়শা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একটি বালিশ বা গদি কিনে এনেছিলাম, যার মধ্যে ছবি ছিল । যখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সেই ছবিটি দেখেলেন, তিনি দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে গেলেন; ভিতরে প্রবেশ করলেন না । আমি বুঝতে পারলাম যে, তাঁর চোখে এটা অত্যন্ত অপছন্দনীয় ব্যাপার। আমি বললাম, ইয়া বাসূলাল্লাহ! আমি আল্লাহর কাছে তওবা করছি এবং তাঁর রাসূলের কাছে ফিরে আসছি। আমি কী অন্যায় করেছি ? তখন বাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন এই বালিশ কিসের জন্য ? আমি বললাম, এটা আপনার জন্য খরিদ করে এনেছি, যাতে আপনি বসতে পারেন এবং হেলান দিতে পারেন। তখন বাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, এই ছবি নির্মাতাকে কিয়ামতের দিন শাস্তি প্রদান করা হবে এবং বলা হবে, যা তুমি সৃষ্টি করেছ তার প্রাণ দাও এবং তিনি আরও বলেন, যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকে, সেই ঘরে রহমতের ফেরেশ তা প্রবেশ করে না।

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৭ :: অধ্যায় ৭২ :: হাদিস ৮৪২
ইমরান ইব্ন মায়সারা (র)……………..আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আয়েশা (রা)-এর নিকট কিছু পর্দার কাপড় ছিল, তা দিয়ে তিনি ঘরের এক দিকে পরদা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) তাকে বললেনঃ আমার থেকে এটা সরিয়ে নাও, কেননা এর ছবিগুলো নামাযের মধ্যে আমাকে বাধার সৃষ্টি করে।

এত হাদিসের পরে কি আরও প্রমান দিতে হবে ? অনেকেই এখন হয়ত প্রশ্ন করবে – কোরানের কোথায় বলা আছে বাংলা নববর্ষ পালন করা যাবে না ? এমন ধরনের প্রশ্ন যারা জিজ্ঞেস করবে , তারা নিশ্চিতভাবেই শয়তানের দোসর। কোনমনেই মুমিন বান্দা না।

এবার দেখা যাক , আমাদের আলেমরা কি বলে এই নববর্ষ নিয়ে :

পহেলা বৈশাখ হারাম
পহেলা বৈশাখ কঠিন হারাম
পহেলা বৈশাখ পালন বেদাতী কাজ

এর পরেও যদি মুমিনেরা বলে পহেলা বৈশাখের সাথে ইসলামের কোনই সম্পর্ক নেই, তারা মুনাফিক।

ইসলামী সংস্কৃতিতে ইহজগতে আনন্দ উল্লাস করার কোন স্থান নেই। সব আনন্দ হলো পরকালে। বেহেস্তে প্রতিটা পুরুষের জন্যে আকন্ঠ মদ্য পান করে ৭২ টা কুমারী নারীর সাথে অনন্তকাল যৌন কেলী করার সুযোগ। সেটাই হলো ইসলামের মূল কথা। আর সেই বেহেস্ত পাওয়ার সহজ রাস্তা হলো জিহাদ। তাই মুসলমানদের আসল সংস্কৃতি হলো – জিহাদ , যা বাস্তবায়ন করছে – আই এস , আল কায়েদা , তালেবান , বোকো হারাম, হিজবুত তাহরির, জে এম বি এরাই। কেউ যদি বলে যে এসব জিহাদ বাংলাদেশে চলবে না , বা তালেবানী রাষ্ট্র এখানে হবে না , তাহলে বুঝতে হবে তার ইমানে সমস্যা আছে। এমতাবস্থায় , হয় আমাদেরকে ইসলাম ছেড়ে পরিপূর্ন বাঙ্গালী হতে হবে , আর না হয়, ইসলামকে আকড়ে ধরে তালেবানী শাসন কায়েম করতে হবে। দুটোই এক সাথে ধরে থাকার কোনই সুযোগ নেই , আর তাতে ক্ষতি ছাড়া লাভ নেই।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “বাংলা নববর্ষ পালন করবেন , আবার দাবী করবেন নিজেকে মুসলমান- এটা কি মুনাফিকি নয় ?

  1. @কাঠমোল্লা
    @কাঠমোল্লা

    জায়গামত টোকা দিয়েছেন কাঠ ভাই। এইরকম ২/৪ টা স্যাম্পল মাঝে মধ্যে delivery দিয়েন। মডারেট মুমিন দের কাজ কাম হল পুরা সুবিধাবাদীর মতন। কিছু মানবে, কিছু মানবে না, এই অবস্থা।

    বাচ্চার ধুমধাম করে জন্মদিন পালন করবে, বলবে ‘আমরা মুসলমান’।

    সুদ খাবে না, কারন এইটা হারাম; কিন্ত ব্যাংক লোন নিয়ে বাড়ি কিনবে (এমন ভাব যেন এইটা বিনা সুদে লোন), আর বলবে ‘আমরা মুসলমান’।

    বেকন খাবেনা, কারন এইটা হারাম; কিন্ত পার্টি হলে ২/৪ পেগ সুরাপান করতে সমস্যা নাই; আর বলবে ‘আমরা মুসলমান’।

    হিপক্রেসি আর কত দিন? ১৪০০ বছর ধরেই তো হিপক্রেসি চলে আসতেছে।

  2. নববর্ষে মানুষ পান্তা ইলিশ
    নববর্ষে মানুষ পান্তা ইলিশ খাবে ;
    পরস্পরকে শুভকামনা যানাবে; মেলার আয়োজন করবে; কিভাবে দেশকে সামনে এগিয়ে নেয়া তার জন্য আলোচনা সভার আয়োজন করবে; রক্তদান কর্মসূচীর আয়োজন করবে; গরীব মানুষদের বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করবে—- এসবে কোন দোষ নেই। ইসলাম এইসব কর্মসূচী সমর্থন করে।

    কিন্তু সেটি না করে কোটি কোটি টাকা ব্যায় করে মূর্তি বানিয়ে; উদ্ভট মুখোশ পড়ে; কর্কশ সূরে বাশী বাজিয়ে ; নারী- পুরুষ ধাক্কা-ধাক্কি করে; নর্তন-কুর্দনের নামে নারীর শরীর প্রদর্শনের ব্যাবস্থা করে; সন্ধ্যায় গাজার আসর বসিয়ে নববর্ষ পালন করাকে ইসলাম কিছুতেই সমর্থন করতে পারে না। এগুল উদযাপন করবে নাস্তিকরা । সুস্থ বিবেকবান মানুষ নয়।

  3. এতে ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেন,
    এতে ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেন, আক্ষেপ তোমার জন্য, তুমি যদি এ কাজ না-ই ছাড়তে পার, তবে এ গাছ-পালা এবং যে সকল জিনিসে প্রান নেই, তা তৈরী করতে পার।
    আজকাল ছোটো শিশুটিও জানে গাছের জীবন আছে । কাজেই এসব হাদিসের কোন মুল্য নেই । হয়ত সে কারণেই আসল মুসলমান আলেমরা সমসত হাদিসকেই বাদ দিতে চাচছেন কারণ হাদিসের কারণেই আল কায়েদা , আইসিসের উতপাত ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 51 = 54