ইসলামধর্মে ‘মাদ্রাসাশিক্ষা’ বলে কোনো শিক্ষা নাই (প্রথম পর্ব)


পবিত্র কুরআনের কোথাও ‘মাদ্রাসা’ শব্দটি নাই। আর আমাদের মহানবী হজরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র জবানেও কোনোদিন ‘মাদ্রাসা’ শব্দটি উচ্চারিত হয়নি। আর তাই, ইসলামীশরীয়ত মোতাবেক এটি সম্পূর্ণ ‘বিদআত’(আর বিদআত মানে: নতুন সৃষ্টি। আর এগুলো ইসলামের যুগে, রাসুলের যুগে ছিল না)।

ইসলামধর্মে ‘মাদ্রাসাশিক্ষা’ বলে কোনো শিক্ষা নাই (প্রথম পর্ব)
সাইয়িদ রফিকুল হক

পবিত্র কুরআনের কোথাও ‘মাদ্রাসা’ শব্দটি নাই। আর আমাদের মহানবী হজরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র জবানেও কোনোদিন ‘মাদ্রাসা’ শব্দটি উচ্চারিত হয়নি। আর তাই, ইসলামীশরীয়ত মোতাবেক এটি সম্পূর্ণ ‘বিদআত’(আর বিদআত মানে: নতুন সৃষ্টি। আর এগুলো ইসলামের যুগে, রাসুলের যুগে ছিল না)। কিন্তু মাদ্রাসাগুলো ‘বিদআত’ হলে তো একশ্রেণীর মোল্লার শানশওকত সমূলে বিনষ্ট হবে। তাই, এরা ঘোষণা করেছে: মাদ্রাসা হলো: ‘বিদআতে হাসানা’। অর্থাৎ, এটি ভালো-মানের বিদআত। আর এইজন্য এইসব এখন জায়েজ। নিজেদের স্বার্থে এরা মাদ্রাসাকে ‘জায়েজ’ বলে স্বীকার করে নিয়েছে। আর এদের কাছে নিজেদের ‘মাদ্রাসা’ বিদআত হওয়া সত্ত্বেও তা জায়েজ। কিন্তু এদের কাছে দুনিয়ার বা অন্যের ভালো সবকিছু নাজায়েজ! এরা কতবড় ষড়যন্ত্রকারী ও পবিত্র ইসলামের অপব্যাখ্যাকারী!

মাদ্রাসা মানেই ‘ইসলামীশিক্ষা’—এটি মাদ্রাসা-পড়ুয়া মাদ্রাসার একশ্রেণীর ডিগ্রীধারী লোকজন মনে করতে পারে। আসলে, এটি কি ইসলামীশিক্ষা? এখানে, পবিত্র কুরআন ও হাদিস একটুখানি শিক্ষা দেওয়া হয় মাত্র। মহান আল্লাহ এবং ইসলামের কোনো ‘নবী-রাসুল’ মাদ্রাসাশিক্ষাকে কখনও ইসলামীশিক্ষা বলে ঘোষণা করেননি। এমনকি মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনের কোথাও কোনো আয়াত নাজিল করে মাদ্রাসাশিক্ষাকে ইসলামীশিক্ষা বলে ঘোষণা করেননি। এখন একশ্রেণীর মোল্লা-মৌলোভীরা যা বলছে: তা এদের মনগড়া কথা। আর এরা দাবি করছে: মাদ্রাসাশিক্ষাই ইসলামীশিক্ষা!

বর্তমানে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রচলিত মাদ্রাসাশিক্ষা কখনও ইসলামীশিক্ষা হতে পারে না। তার কারণ, এটি ‘ইস্ট-ইন্ডিয়া-কোম্পানী’র ইংরেজদের আবিষ্কার। আর তারা তাদের স্বার্থের জন্য মুসলমানদের বিভ্রান্ত করতেই প্রচলিত মাদ্রাসাশিক্ষার উদ্ভব ঘটায়। এভাবে, ‘কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা’ ও ‘ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা’ দুটিও ইংরেজদের আবিষ্কার। এমনকি ভারতের দেওবন্দে যে ‘দারুল উলুম দেওবন্দ’ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা-ও ইংরেজদের পৃষ্ঠপোষকতায়। মূলত ভারতীয় উপমহাদেশে মাদ্রাসাশিক্ষার প্রচলন ঘটিয়েছে ইংরেজ-শাসকগোষ্ঠী। আর তাদের আবিষ্কৃত মাদ্রাসাশিক্ষা কখনও সর্বজন-স্বীকৃত ইসলামীশিক্ষা নয়। কারণ, ইসলামের কোনো ‘নবী-রাসুল’ কিংবা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এইসব মাদ্রাসাকে কোনোভাবেই স্বীকার করা হয়নি।
আমরা এখন বলতে পারি: বর্তমানে প্রচলিত মাদ্রাসাশিক্ষা একটি ধর্মভিত্তিকশিক্ষা মাত্র। আর এতে পবিত্র কুরআন ও হাদিসের কিছু অংশ পড়ানো হয়। তাই বলে এটিই ইসলামীশিক্ষা কিংবা একমাত্র ইসলামীশিক্ষা নয়। আর কেউ দাবি করলেই তা সরাসরি ‘ইসলামী’ হয়ে যায় না। বর্তমানে একইভাবে-একইকায়দায় ইসলামের নামে বিভিন্ন ‘ব্যাংক’ খোলা হয়েছে! আসলে, এগুলো কী কোনো ইসলামী-ব্যাংক? না, কক্ষনো নয়। এগুলো ইসলামী-ব্যাংক নয়। পবিত্র ইসলামের নাম-ভাঙ্গিয়ে সমাজের একশ্রেণীর ধর্মব্যবসায়ীগোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ ষোলোআনা আদায় ও হাসিল করার জন্য এবং সাধারণ মূর্খমুসলমানদের ধোঁকা দিতেই এই ইসলামী-ব্যাংকের জন্ম দিয়েছে। অথচ, আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখুন, ইসলামের নামধারী প্রতিটি ব্যাংকই ‘সুদভিত্তিক’ তাদের কার্যক্রম-ব্যবসা চালু করেছে। এবং তারা তা অদ্যাবধি বহাল রেখেছে। নিজেদের ব্যবসার জন্য কোনোকিছুতে পবিত্র ‘ইসলাম’ শব্দটি ব্যবহার করলেই তা সরাসরি ‘ইসলামী’ হয়ে যায় না।

মাদ্রাসাশিক্ষাকে প্রচলিত একটি ভিন্নধর্মী-শিক্ষাব্যবস্থা বলা যেতে পরে। কিন্তু কখনওই এটিকে ইসলামীশিক্ষা বলে প্রচার করা বিধিসম্মত হবে না। আমাদের কাছে সেই জিনিসই একমাত্র ‘ইসলামী’ হবে: যা একমাত্র মহান আল্লাহ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। যেমন, ইসলামধর্ম, আমাদের মহানবী হজরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, পবিত্র কুরআন ও পবিত্র রাসুলের মুখনিঃসৃত বাণী। এগুলো ইসলামী। আর মহান আল্লাহ কুরআনে যা বলেছেন তা ইসলামী। কিন্তু মাদ্রাসা যে ইসলামীশিক্ষা তার পক্ষে কেউ একটি আয়াতও পেশ করতে পারবে না। একশ্রেণীর মাদ্রাসাপাস লোকজন সবসময় নিজেদের ‘আলেম’ দাবি করে বসে থাকে, আর তারা এভাবে সমাজের উঁচুস্তরে পৌঁছাতে চায়। আসলে, এসব সম্পূর্ণ ভণ্ডামি। কেউ একটাকিছু শিখে নিজেকে ‘আলেম’ দাবি করলেই সে আলেম হয়ে যায় না। এব্যাপারে মহান আল্লাহর দলিলসমূহ রয়েছে। পবিত্র কুরআনে আলেমের সংজ্ঞা তিনিই প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে আমাদের দিয়েছেন। আর তাই, মাদ্রাসাশিক্ষা যদি ইসলামীশিক্ষা হতো, তাহলে, তার বিষয়ে বা তার স্বপক্ষে অবশ্যই পবিত্র কুরআনের কোথাও-না-কোথাও অন্তত একটি আয়াত থাকতো।

মাদ্রাসা বা মাদ্রাসাশিক্ষা আমাদের রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে ছিল না,আর রাসুলের প্রিয়-সাহাবী, চার খলিফার যুগেও ছিল না। এমনকি তাবেঈন কিংবা তাবে-তাবেঈনদের যুগেও ছিল না। তাছাড়া, কোনো আল্লাহর ওলী কখনও কোনোপ্রকার মাদ্রাসাপ্রতিষ্ঠা করেননি। যেমন, মহান আল্লাহর বিশ্বস্ত ওলী (বন্ধু) হজরত আব্দুল কাদের জিলানী রহ., খাজা মাঈনুদ্দীন চিশতী রহ., হজরত শাহজালাল রহ. কেউই কোনো মাদ্রাসাপ্রতিষ্ঠা করেননি।

আমাদের রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিদায়ের বহুকাল পরে নিজামুল মুলক নামে একব্যক্তি বাগদাদে নাকি একটি মাদ্রাসাপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আর এর নামকরণ করা হয়েছিলো ‘নিজামিয়া-মাদ্রাসা’। আর এখানে, শিক্ষকতা করতেন মুসলিম-চিন্তাবিদ ও দার্শনিক ইমাম গাজ্জালী। কিন্তু তৎপূর্বকালে কোনো নবী-রাসুল ও আল্লাহর ওলী কখনও কোনো মাদ্রাসাপ্রতিষ্ঠা করেননি। এখনকার উদ্ভাবিত: এইসব আলিয়া-মাদ্রাসার জন্ম হলো ইংরেজ-আমলে ইংরেজদের হাতে।

মাদ্রাসা ইসলামীশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলে ইসলামের সিলেবাসে তা সংযোজিত হতো। আর ইসলামীসিলেবাসের মূল দলিল বা ভিত্তি হলো: আল-কুরআন। এই কুরআন-অনুযায়ী ইসলামীসিলেবাসে রয়েছে:

১. মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণবিশ্বাসস্থাপন।
২. তাঁর মনোনীত রাসুল: হজরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর বিশ্বাস ও আস্থা স্থাপন।
৩. ঈমানের ভিত্তি হিসাবে ‘কালেমায়ে তৈয়্যেবা’ ও ‘কালেমায়ে শাহাদাতে’র প্রতি অটল বিশ্বাসস্থাপন। এছাড়াও কালেমায়ে তাওহীদ ও কালেমায়ে তামজীদ-এর প্রতিও বিশ্বাস রাখতে হবে। আর এই চারটি কালেমাই মুসলমানের ঈমান-আকিদাহর সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
৪. ‘ঈমানে মুফাস্সল’ নামক সাতটি বিষয়ের উপর চিরস্থায়ীভাবে অটল বিশ্বাস ও আস্থা রাখতে হবে। এটি মুসলমানদের ‘ঈমান-আকিদাহ’র অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
৫. ইসলামের মূল স্তম্ভ পাঁচটি। যথা: কালেমা, সালাত(নামাজ), রমজান(রোজা), হজ্জ ও জাকাত। কিন্তু এখানে, মাদ্রাসা কোথায়?

মুসলমানদের ঈমান-আকিদার মূলভিত্তি হলো উপরিউক্ত বিষয়গুলো। কিন্তু এখানে কোথাও মাদ্রাসার কথা নাই। অনেকে অজ্ঞতাবশতঃ বলে থাকে: ‘মাদ্রাসা নবীর ঘর!’ আসলে কি তা-ই? এটি নবীর নামে মিথ্যাচার। কারণ, আমাদের প্রিয়-নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর ২৩বছরের সফল নবুওতী-জীবনে মক্কা-মদীনার কোথাও কোনো মাদ্রাসাপ্রতিষ্ঠা করেননি। আর তিনি কোনো মাদ্রাসাশিক্ষকও ছিলেন না। তিনি ছিলেন জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-নির্বিশেষে সকল মানুষের নবী। আর পৃথিবীর সকল মানুষের শিক্ষক। আর তাই, তিনি বলেছিলেন:

“আনা বুয়েস্তু মুয়াল্লেমান”—অর্থাৎ, আমি পৃথিবীতে তোমাদের শিক্ষকরূপে প্রেরিত হয়েছি।

আমাদের নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন মানবতাবাদী-মহাপুরুষ। আর তাই, তিনি জীবনে কখনও কোনো মানুষহত্যা করেননি। বিভিন্ন রেওয়াতে বর্ণিত হয়েছে: তিনি ২৭টি মতান্তরে ২৯টি জিহাদে সশরীরে অংশগ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু তিনি কোনো মানুষহত্যা করেননি। এইজন্য তিনি মহান। কিন্তু তাঁর নাম-ভাঙ্গিয়ে যারা নিজেদের স্বার্থে মানুষহত্যা করছে, তারা কেউই ইসলামের, মুসলমানের বা আমাদের নবীজীর কেউ নয়। এরা শুধুই বিভ্রান্ত—আর সাবেঈন।
আমাদের নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর প্রিয়-সাহাবীদের উদ্দেশ্যে প্রায়শঃ উপদেশবাণী প্রদান করতেন। যে-গুলো হাদিস নামে পরিচিত। অনেক মূর্খ বলে থাকে: আমাদের নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘দারুল আরকাম’ নামে একটি মাদ্রাসাপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এগুলো সম্পূর্ণ বানোয়াট, মনগড়া, মিথ্যা ও আবোলতাবোল কথা। আসল সত্য হলো: আমাদের রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর পবিত্র জীবনে কখনও-কোনোদিন একবারের জন্যও ‘মাদ্রাসা’শব্দটি উচ্চারণ করেননি। এমনকি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ হাজার-হাজার হাদিস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্য: নবীজীর একজন সাহাবীও মাদ্রাসাবিষয়ক একটি হাদিস বর্ণনা করেননি। কারণ, আমাদের নবীজী কখনও মাদ্রাসাশিক্ষাপ্রতিষ্ঠা করেননি।
আমাদের আরও মনে রাখতে হবে: মাদ্রাসা ইসলাম-অনুমোদিত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়। এখানে, একশ্রেণীর মৌলোভীগণ নিজেদের ‘আলেম-উলামা’ দাবি করছে। আর তারা তাদের প্রতিষ্ঠিত ‘মাদ্রাসা’ ও ‘মাদ্রাসাশিক্ষা’কে ইসলামীশিক্ষা বলে সগর্বে প্রচার করছে। প্রকৃতপক্ষে, মাদ্রাসার স্বপক্ষে মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের কোনো বাণী নেই। এরা সমাজে-রাষ্ট্রে প্রভাববিস্তারের জন্য পরিকল্পিতভাবে ‘মাদ্রাসাশিক্ষা’কে ইসলামীশিক্ষা বলে ঘোষণা করছে। কিন্তু এতে তাদের স্বপক্ষে দলিল কোথায়? তারা কেউই আজ পর্যন্ত মাদ্রাসাশিক্ষার পক্ষে পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত অথবা পবিত্র রাসুলের একখানা হাদিস পেশ করতে পারেনি। আর তারা কখনও তা করতে পারবে না।

মাদ্রাসায় পড়লেই যে-সে আলেম-উলামা হবে না। পবিত্র ইসলামের কোথাও অর্থাৎ, আমাদের কুরআন-হাদিসের কোথাও লেখা নাই যে, মাদ্রাসায় পড়লেই সে আলেম! আমাদের মহান আল্লাহ কিংবা মহান রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনও বলেননি মাদ্রাসায় পড়লেই তুমি আলেম হতে পারবে। এগুলো একশ্রেণীর সাধারণ মোল্লা-মৌলোভী ও ধর্মব্যবসায়ীদের নিজেদের আবিষ্কৃত-মনগড়া মতবাদ মাত্র। এরা দুনিয়ালোভে উন্মত্ত হয়ে মহান আল্লাহর আদেশ-নিষেধ ভুলে জোরপূর্বক নিজেদের আলেম বলে প্রচার করছে। এগুলো একরকমের মূর্খতা। আরে, আলেম ছিলেন হজরত আলী রা., হজরত আব্দুল কাদের জিলানী রহ., হজরত মুজাদ্দেদে আলফেসানী রহ., হজরত খাজা মাঈনুদ্দীন চিশতী রহ., হজরত শাহজালাল রহ., হজরত বায়েজীদ বোস্তামী প্রমুখ। এরা ছিলেন মানুষ ও মানবতার বন্ধু। আর এরা কখনও নিজের স্বার্থে মানুষখুন করেননি।

বর্তমানে প্রচলিত ‘কওমী ও আলিয়া’ নামক মাদ্রাসাশিক্ষার মনগড়া দুইটি ধারা আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশের মোল্লাদের নিজস্ব তৈরিকৃত শিক্ষাব্যবস্থা। আর এর সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নাই। তার কারণ:

১. মাদ্রাসাশিক্ষার কথা একটিবারের জন্যও কুরআনে উল্লেখ করা হয় নাই;
২. রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুখে কখনও ‘মাদ্রাসা’ শব্দটি উচ্চারিত হয় নাই;
৩. এটি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে ছিল না;
৪. এটি ‘সাহাবায়ে কেরাম’ তথা ‘খোলাফায়ে রাশেদীনে’র যুগেও ছিল না;
৫. এটি তাবেঈনদের যুগে ছিল না;
৬. এটি তাবে-তাবেঈনদের যুগেও ছিল না;
৭. এটি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিদায়ের কয়েকশ’ বছর পরে জন্মলাভ করেছে।

এমন বানোয়াট-শিক্ষা কীভাবে ইসলামীশিক্ষা হতে পারে? যে-শিক্ষায় মহান আল্লাহর অনুমোদন নাই, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুমোদন নাই, কুরআনের স্বীকৃতি নাই—তা কীভাবে ইসলামীশিক্ষা হতে পারে?

আমাদের দেশের একশ্রেণীর মাদ্রাসা-পাস লোকজন মাদ্রাসাশিক্ষাকে ‘ইসলামীশিক্ষা’ আর দেশে প্রচলিত ‘সার্বজনীন জাতীয় শিক্ষাকে’ অনৈসলামিক শিক্ষা বলে থাকে। এটা তাদের সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা। আর এসব তাদের সম্পূর্ণ মনগড়া, মিথ্যা, বানোয়াট, আবোলতাবোল ও আলতুফালতু কথা। পবিত্র কুরআনের কোথাও মাদ্রাসাশিক্ষার কথা বলা হয়নি। আর মহান আল্লাহ একবারও ‘পবিত্র কুরআনে’ মাদ্রাসা-শব্দটি উচ্চারণ করেননি। আল্লাহর রাসুলও তাঁর সারাজীবনে কোথাও কোনোভাবে একবারের জন্যও মাদ্রাসা-শব্দটি উচ্চারণ করেননি। এর মানে কী? এর মানে হলো: মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.) মাদ্রাসাশিক্ষাকে কবুল করেননি। তাহলে, ইংরেজ-আমলে প্রচলিত মাদ্রাসাশিক্ষা কীভাবে ইসলামীশিক্ষা হয়?

মাদ্রাসার পক্ষে কেউ কখনও পবিত্র কুরআনের একটি আয়াতও দেখাতে পারবেন না।

(আলিয়া-মাদ্রাসার বাইরে কওমী-খারিজী-মাদ্রাসাগুলো এখানকার আলোচ্য বিষয় নয়। তবে এগুলোসম্পর্কেও পরবর্তী পর্বে আলোচনা করা হবে। আসলে, ভারতীয় উপমহাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বস্তরের মাদ্রাসাশিক্ষার প্রচলন ইংরেজগণই ঘটিয়েছিলো।)

(ক্রমশঃ)

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
০৩/০৪/২০১৬

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৭ thoughts on “ইসলামধর্মে ‘মাদ্রাসাশিক্ষা’ বলে কোনো শিক্ষা নাই (প্রথম পর্ব)

  1. মনের মাধুরি দিয়ে উদ্ভট কথা
    মনের মাধুরি দিয়ে উদ্ভট কথা বার্তা বলে গেলেন , তাই না ?

    তো বলুন তো , কোরান হাদিসের কোথায় বলা আছে বাংলাদেশে মসজিদ তৈরী করতে হবে ? বাংলাদেশের মানুষকে ইসলাম গ্রহন করতে হবে ? কোরান হাদিসের কোথাও দেখাতে পারবেন ?

    আতর্কিতে বানিজ্য কাফেলার ওপর আক্রমন করে , তাদেরকে হত্যা করে তাদের মালামাল লুটপাট করাকে কি বলে ? বলুন তো । আপনি উত্তর দিলে , পরে অন্য কথা আসবে।

        1. আপনি যদি ইসলাম সত্যি-সত্যি
          আপনি যদি ইসলাম সত্যি-সত্যি বুঝতে চান, তাহলে আপনাকে রাসুলের জীবনাদর্শ-সম্পর্কে পুরাপুরি ওয়াকিব হাল হতে হবে। আর তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ রাখতে হবে।
          আপনাকে ধন্যবাদ।

  2. বর্তমানে ভারতীয় উপমহাদেশে

    বর্তমানে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রচলিত মাদ্রাসাশিক্ষা কখনও ইসলামীশিক্ষা হতে পারে না। তার কারণ, এটি ‘ইস্ট-ইন্ডিয়া-কোম্পানী’র ইংরেজদের আবিষ্কার। আর তারা তাদের স্বার্থের জন্য মুসলমানদের বিভ্রান্ত করতেই প্রচলিত মাদ্রাসাশিক্ষার উদ্ভব ঘটায়।

    ইংরেজরা বিভ্রান্ত করতেই মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছে –এমন তথ্য কই পাইলেন ? বিভ্রান্তিকর তথ্য না দিয়ে কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার ইতিহাস দেখুন ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 14 = 20