বাংলাদেশ এশিয়ার অর্থনীতির ‘টাইগার’ হয়ে উঠবে

বাংলাদেশ নিয়ে যেকোনো ইতিবাচক ভবিষ্যদ্বাণী অবশ্যই প্রেরণাদায়ক। নির্বাচন বা ক্ষমতার পালাবদলকে কেন্দ্র করে সূচিত রাজনৈতিক সহিংসতা মাঝেমধ্যেই অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে চেষ্টা করছে। উত্থান-পতনের সাক্ষী প্রবীণ বাঙালিদের কাছে এক বিস্ময়ের নাম বাংলাদেশ। স্বাধীনতার পরের পহেলা বৈশাখের সঙ্গে গত এক দশকের তুলনা করে দেখলে আমাদের দেশের অগ্রগতির চিত্র স্পষ্ট। ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ থেকে স্বাধীনতার ৪৫ বছরে বাংলাদেশ এখন ‘এশিয়ার উদীয়মান টাইগার’। নববর্ষের হালখাতার মতো হিসাব করলে ব্যর্থতার সঙ্গে সঙ্গে অর্জনের তালিকা কম দীর্ঘ নয়। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সূচকে দৃশ্যমান অগ্রগতি অনেক। সেই তকমা কাটাতে বাংলাদেশকে বহু ঘাত-প্রতিঘাত পার হতে হয়েছে। এক দশকের বেশি সময় ধরে গার্মেন্টস, কৃষি, জনশক্তি রপ্তানিসহ নানা খাতের সম্মিলিত প্রয়াসে গড়ে ছয় শতাংশের ওপর প্রবৃদ্ধি এবং এবার ৭.০৫ যা বাংলাদেশকে ‘নেক্সট ইলেভেন’ দেশগুলোর একটিতে স্থান এনে দিয়েছে। শুধু ভালো নীতি অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে পারে না; এর জন্য নীতি প্রণয়নের পাশাপাশি তদারকি ব্যবস্থারও উন্নয়ন করা জরুরি। একই সঙ্গে সামাজিক, রাজনৈতিক ও মানসিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটালেই অর্থনীতি শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড়াবে। বাংলাদেশও সস্তা শ্রম কাজে লাগিয়ে দ্রুত উন্নতি করতে পারে। এর আগেও অনেক বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশকে এশিয়ার অর্থনীতির উদীয়মান বাঘ হিসেবে দেখেছেন। বিদেশি ব্যবসায়ীদের পছন্দের তালিকায় থাকা ২৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষে অবস্থান করছে। পদ্মা সেতু নির্মাণ, গার্মেন্ট খাতের স্থিতিশীল পরিবেশসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় বাংলাদেশের রপ্তানি সামনে আরো বাড়বে। দেশ স্থিতিশীল থাকলে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লে বাংলাদেশ সত্যিই একদিন এশিয়ার অর্থনীতির ‘টাইগার’ হয়ে উঠবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

48 − 43 =