সাভারে দুর্ঘটনা : তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া

এরই মধ্যে খবরে সবাই জেনে গেছেন: ‘ঢাকার অদূরে সাভার বাসস্ট্যান্ডের পাশে রানা প্লাজা নামের একটি বহুতল ভবন আজ বুধবার সকালে ধসে পড়েছে। ওই ভবনে বিপণী কেন্দ্র, পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ছিল। এ কারণে ধসে পড়ার সময় ভবনটিতে বহু মানুষ ছিলেন বলে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে।’

যে বিল্ডিংয়ে গতকালই ফাটল দেখা গিয়েছিল, সেই বিল্ডিংয়েই আজ শ্রমিকদের কাজ করানো হচ্ছিলো! এবং তার ফলাফল এখন আমরা দেখতেই পাচ্ছি।

প্রথম আলোর খবরে আরেকটা উল্লেখযোগ্য অংশ এরকম: ‘ওই ভবনের তৃতীয় তলার একটি পোশাক কারখানায় ফাটল দেখা দিয়েছিল। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে সাভারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কবীর হোসেন সরদার সেটি পরিদর্শনে যান। তখন তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ভবনটি ভেঙে পড়ার কোনো কারণ নেই। তবে এ ব্যাপারে আজ বক্তব্য জানার জন্য ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে পাওয়া যায় নি।’

অথচ সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বিডিনিউজটুয়েন্টিফোর ডটকম ” জানাচ্ছে,
“সকাল সাড়ে আটটার দিকে নয়তলা ভবনটি পেছনের দিক থেকে হঠাৎ ধসে পড়তে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যে মূল খুঁটি ও সামনের দেয়ালের অংশবিশেষ ছাড়া পুরো কাঠামোটিই ভেঙে পড়ে। এ সময় আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।” অর্থাৎ ভবন বেশ ভালো রকমেরই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।

দায়িত্বজ্ঞানের কী আশ্চর্যজনক ঘাটতি, কাণ্ডজ্ঞানের কত আশঙ্কাজনক অভাব থাকার পরেও আমাদের এইসব সরকারী কর্তাব্যক্তিরা দেশটা চালিয়ে নিচ্ছেন – ভাবতেই অবাক লাগে! যেখানে বিল্ডিংয়ে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছিল গতকাল, যেখানে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করাই কর্তব্য ছিল, সেখানে আমাদের ইউএনও সাহেব (সম্ভবত মালিকপক্ষেরই প্ররোচনায়) ঘোষণা দিয়েছিলেন, “ভবনটি ভেঙে পড়ার কোন কারণ নেই” – আর ভবন ভেঙে পড়ে মানুষ হতাহত হওয়ার পর আজ তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

বিভিন্ন পোশাক কারখানায় প্রায়ই নানা দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন শ্রমিক মারা যায়, প্রত্যেকবারই দুয়েকদিন খুব হম্বিতম্বি করে সরকার এবং মালিকপক্ষ, এক-দুই-তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় (যাদের তদন্ত রিপোর্ট কোনদিন আলোর মুখ দেখে না, আর দেখলেও তাতে কিছু আসে-যায় না), মিডিয়াও পাবলিক ডিমান্ড বুঝে খুব ফলাও করে ওসব নিয়ে প্রচার করে, অমুক-তমুক বিশেষজ্ঞ লাইভ শোতে এসে কফির মগে চুমুক দিয়ে ভ্যাজরভ্যাজর করে চলে যান – তারপর সবাই সব ভুলে যায়।

ফলাফল: আবারও সেই একই কাহিনী।

আসলে এদেশের হোমড়াচোমড়ারা এসব ‘সস্তা’ শ্রমিকদের জীবনের মূল্য আদৌ বোঝে না। আর বোঝার মত যারা এদেশে আছে, তারাও কেউ হোমড়াচোমড়া না, তারা শ্রমিকদেরই আপনজন। সেজন্যে এ ধরনের দুর্ঘটনায় দুয়েকটা রক্তচোষা মুনাফালোভী মালিক অথবা সরকারের মন্ত্রী-এমপি-ইউএনওদের ভাগ্নে-ভাস্তে-শালা-সম্বুন্ধি না মরা পর্যন্ত এমন দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে। অমন কয়েকটা ‘দামী’ লোককে এভাবে একবার মরতে দিন, দেখবেন এসব দুর্ঘটনা একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৫ thoughts on “সাভারে দুর্ঘটনা : তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া

  1. আসলে এদেশের হোমড়াচোমড়ারা

    আসলে এদেশের হোমড়াচোমড়ারা এসব ‘সস্তা’ শ্রমিকদের জীবনের মূল্য আদৌ বোঝে না।

    কথা আসলে এটাই!!! :মনখারাপ:

  2. দায়িত্বজ্ঞানের কী আশ্চর্যজনক

    দায়িত্বজ্ঞানের কী আশ্চর্যজনক ঘাটতি, কাণ্ডজ্ঞানের কত আশঙ্কাজনক অভাব থাকার পরেও আমাদের এইসব সরকারী কর্তাব্যক্তিরা দেশটা চালিয়ে নিচ্ছেন – ভাবতেই অবাক লাগে! যেখানে বিল্ডিংয়ে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছিল গতকাল, যেখানে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করাই কর্তব্য ছিল, সেখানে আমাদের ইউএনও সাহেব (সম্ভবত মালিকপক্ষেরই প্ররোচনায়) ঘোষণা দিয়েছিলেন, “ভবনটি ভেঙে পড়ার কোন কারণ নেই” – আর ভবন ভেঙে পড়ে মানুষ হতাহত হওয়ার পর আজ তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

    দায়িত্ব মানে কি এরা জানে????জানলে বিয়াল্লীশ বছর ধরে এই দেশ দেখা লাগে??????/

  3. স্বস্তা শ্রমের মূল্য দুনিয়ার
    স্বস্তা শ্রমের মূল্য দুনিয়ার কোনও মালিকপক্ষই অত গুরুত্ব নিয়ে দেখে না। তাই তাদের দেখভাল করার দায়িত্ব শ্রমিক ইউনিয়ন, কিম্বা সরকারের ঘাড়ে বর্তায়। আর আমাদের দেশের কর্তাব্যক্তি একে অপরের পোঁদে আঙ্গুল দিয়ে চাটতে ব্যস্ত, এসব দেখার সময় আছে?

  4. প্রথমে শুনলাম রানা প্লাজার
    প্রথমে শুনলাম রানা প্লাজার মালিক বিল্ডিংয়ের ভেতর অফিসে আটকা পড়ছে। এখন আবার শুনতেছি সেই মালিক যুবলীগ নেতারে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কেম্নে কী? :কনফিউজড:

    এইদিকে মখা আলমগীর বিবিসিরে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করছে, “কিছু হরতাল সমর্থক ভবনটির ফাটল ধরা দেয়ালের বিভিন্ন স্তম্ভ এবং গেট ধরে নাড়াচাড়া করেছে। ভবনটি ধসে পড়ার পেছনে সেটাও একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে।” :ভাবতেছি:

    খবরটা পেপারে প্রথম যখন পড়লাম তখন মনে হইল আমি মনে হয় মতিকণ্ঠের কাগুজে ভার্শন পড়তেছি। পরে দেখি ঘটনা সত্য – আসলেই এই কথা বলছে মখা! :-B

    মাননীয় চোদনা, আপনার কথায় আমি আবারও স্পীকার হয়ে গেলাম!! :খাইছে:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 4 = 6