চোয়াল চাপা ব্যাথা

রিকশায় উঠতে যেয়ে পা হড়কে যায় ছেলেটার। প্রচন্ড ব্যথায় চোয়াল চেপে ধরে। তবুও তীব্র ব্যথায় আক্রান্ত হবার বদলে মাঝ রাস্তায় তার মনে পড়ে যায় মেয়েটির কথা,তার অপ্সরী…..হ্যাঁ,ঠিক সেই একই জায়গায় আঘাত।
সেবার রিকশা থেকে নামতে গিয়ে মচকানো পা নিয়ে মেয়েটির সাথে দেখা করতে যায় ছেলেটা,ফুলে যাওয়া গোড়ালীতে মেয়েটা আদর করে হাত বুলিয়ে দিয়েছিল। যতই ন্যাকামি হোক আর যতই বিজ্ঞান অস্বীকার করুক…মচকানো পায়ের ব্যথা সত্যি সত্যিই কমে গিয়েছিল এক নিমেষে। প্রায়ই ছেলেটা ইচ্ছে করে রুমাল রুমে রেখে যেতো,বিধ্বস্ত চেহারা দেখলে মেয়েটা ওড়নার কোনা দিয়ে ঘর্মাক্ত মুখের ক্লান্তি মুছিয়ে দেবে,এই লোভে। কি যে অদ্ভুত এক ভালবাসা মাখানো প্রশান্তি ঐ ওড়নায়!! কি যে নরম একপ্রকার মমতার ছোঁয়া ঐ হাতটায়!!
একদিন এক মেঘলা দিনে হঠাৎ মেয়েটা হারিয়ে গেলো। ছেলেটার এতবড় পৃথিবীটা দেখতে দেখতে ফাঁকা হয়ে যায়। জীবন তো কারও জন্য থেমে থাকে না,ছেলেটিরও থামে নি। শুধু চারপাশে কাউকে পায় না যে নিজে পাশে বসে এই ভোজনরসিক প্রেমিকটাকে রেঁধে খাওয়াবে, বাড়তি একটু পেঁয়াজ-মরিচ-লেবু কেটে দেবে…যে কি না খুব দুঃসময়ে ছেলেটার হাতটা দু’হাতের মধ্যে চেপে ধরে বলবে,”আমি জানি তুমি পারবে। দেখো,সব ঠিক হয়ে যাবে।” জানি কিছুই ঠিক হবে না,তবুও এই কথা বলার জন্য একজন থাকা লাগে।
যে কোনদিন কিছুই চাইলো না,কোন অভিযোগ নেই,কোন আবদার নেই….সামান্য ক’গাছা কাঁচের চুঁড়িতেই যে খুশিতে কেঁদে ফেলতো,সেই মানুষটাকে কিছুই দেয়া হলো না।
পুরুষের একটা ধ্রুব সাইকোলজি আছে….যে নারীর চাহিদা খুব কম, তার পায়ে পুরো দুনিয়াটা এনে রাখতে ইচ্ছে করে…

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

32 + = 35