জালালের গল্প ও প্রধানমন্ত্রীর হুংকার

কালকে ‘জালালের গল্প” মুভিটা দেখলাম।

মুভির শুরুর দিকের কাহিনীটা এরকম,

নদীতে করে পাতিলে ভেসে আসা একটি শিশুকে পাওয়া যায়। শিশুকে পাওয়ার পরপরেই গ্রামে বিভিন্ন ভাল ঘটনা ঘটতে থাকে। গ্রামের মানুষ মনে করে শিশুটি গ্রামে মঙ্গল বয়ে নিয়ে এসেছে। অনেকেই শিশুর পা ধোওয়া পানি পড়া খেতে থাকে। তাদের ধারনা শিশুর উছিলায় তাদের বালা মুসিবত দূর হয়ে যাবে। শিশুর পালিত বাবাও শিশুটিকে নিয়ে ব্যাবসা খুলে বসে।

তার কিছুদিন পরেই গ্রামে নদী ভাঙ্গন, কলেরা ইত্যাদি দেখা যায়। সবাই ওই শিশুটিকেই দায়ী করে। পরে গ্রামের সালিসের নির্দেশে শিশুটিকে আবার পাতিলে করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

ছোটবেলায় আমার নানাবাড়িতে ঠিক একি রকম একটি ঘটনা আমি নিজ চোখে দেখেছি। এলাকায় গুঞ্জন ওঠে একজন ছোট হুজুর কে পাওয়া গেছে, যাকে অনেকে পিচ্চি হুজুর বলেও ডাকছিল। একটি সাত মাসের বাচ্চা নাকি কুরআন তেলওয়াত করতে পারে। অনেক ধরনের গুজব শোনা যাচ্ছিল। একজন ডিসি নাকি তার বাসার সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। সে আঙ্গুলের ইশারা করাতে নাকি গাড়ি বন্ধ হয়ে যায়। কোনভাবেই গাড়ি চালু করা যাচ্ছিল না। সে নাকি আবার আঙ্গুল ইশারা করাতে গাড়ি স্টার্ট নেয়। আবার নাকি কোন অন্ধ তার পানি পড়া খেয়ে চোখে দেখতে পাচ্ছে।

পুরো এলাকায় গুঞ্জন। অনেকেই যাচ্ছে পানি পড়া নিতে, রোগ বালাই দূর করতে। তো কৌতূহলবশত আমিও গেলাম দেখতে ঘটনাটা কি।

গিয়ে দেখলাম মহা কারবার। মেলা বসে গেছে শিশুটির বাসার চারদিকে। দেদারসে পানির বোতল বিক্রি হচ্ছে। নাগরদোলা, খাবারের দোকান কি নেই? অন্ধ, কালা, কুষ্ঠরোগী এমন কেউ বাদ নেই যে আসেনি। বিশাল লাইন লেগেছে পানি পড়া নেওয়ার জন্য।

শিশুটি আগে পানিপড়া দিত, কিন্তু ক্লান্ত হয়ে পড়ায় শুধু পানিতে নজর দিয়ে যায়। তাতেই রোগীরা খুশি। এরপরেও চাহিদা সামাল দিতে না পারায় মাইকে ফু দেয়া শুরু হল।

অনেক এস এস সি পরীক্ষার্থীকে দেখলাম কলম পড়া নেওয়ার জন্য লাইনে দাড়াতে। সামনে পরীক্ষা, যদি পিচ্চি হুজুরের বদৌলতে এ প্লাস পাওয়া যায় খারাপ কি?

তার পরের ঘটনা অবশ্য জানা নেই, কয়জন অন্ধ চোখে দেখতে পেয়েছে জানি না। তবে অত্র উপজেলায় কেউ এ প্লাস পায়নি ওই বছর।ফেলের সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি।

এরকম অনেক ঘটনা বাংলাদেশে ছড়িয়ে আছে, ধর্মের নামে ভন্ডামি, ধর্মকে পুজি করে ব্যাবসা। সহজ সরল মানুষদের ঠকিয়ে পয়সা আদায় করে যাচ্ছে নিয়মিত কিছু ধার্মিক লোকজন।
কিন্তু এদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলেই চাপাতির কোপ, জেল আর সামাজিকভাবে অপমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ধর্ম নিয়ে বাজে কথা বলে কেউ কোপ খেলে তার জন্য সরকার দায়ী নয়। এই কথাতেই বোঝা যায়, যারা খুন হয়েছে অথবা ভবিষ্যতে হবে, তাদের বিচারের আমরা কি প্রত্যাশা করতে পারি সরকারের কাছ থেকে।

এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রী বলেছেন, যারা খুন হয়েছে তাদের লেখা খতিয়ে দেখা হবে।
আমাদের অনেকবার বলা হয় আমরা কেন লেখি? না লিখলেই তো পারি।

আমরা টাকা, ভাত অথবা কাপড়ের জন্য লেখিনা। মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও বুক টানটান করে অসত্য, ভণ্ডামি আর কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লিখেছি, লিখে যাব।

স্রোতের বিপরীতে সাতার কাটতে চাইলে অনেক বাধাই আসবে, বার বার দূরে ঠেলে নিয়ে যাবে। তারপরেও এগিয়ে যেতেই হবে।
স্রোতে গা ভাসিয়ে দেওয়া খুব সহজ, যারা প্রতিকুল স্রোতকে জয় করে তারাই শেষ পর্যন্ত জয়ী।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

66 − = 64