মুহাম্মদ সম্পর্কে আসল তথ্য জেনে , সেটা নিয়ে কিছু বললে সেটা হয়ে যায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ?

কোরান হাদিসে মুহাম্মদ সম্পর্কে কিছু ভাল কথা বলা থাকলেও অনেক ভিন্নধর্মী তথ্যও আছে। আমাদের শৈশবে বা কৈশোরে , সেইসব তথ্য যেমন- তার ডজনের ওপর বিয়ে, দাসীর সাথে যৌনসঙ্গম বা বন্দিনী নারীকে ধর্ষন, বানিজ্য কাফেলা লুটপাট , ৬ বছরের আয়শাকে বিয়ে, বা পুত্রবধু জয়নাবকে বিয়ে, ইত্যাদি কেন আমাদেরকে বলা হয় না ? কেন এসব সত্য তথ্য আমাদের কাছে গোপন করে যাওয়া হয় ? এটাই কি ব্রেইন ওয়াশের প্রাথমিক পদক্ষেপ ? কোন অধিকারে আমাদের ব্রেইনকে এভাবে শৈশবেই ধ্বংস করে দেয়া হয় ? যারা এ কাজ করে তাদেরকে এ অধিকার কে দিয়েছে ? অতপর এখন সেসব জেনে , তা নিয়ে প্রশ্ন করলে , সেটা কিভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয় ?

সেই শৈশবে জ্ঞান হওয়ার আগে , আমাদেরকে মুহাম্মদ সম্পর্কে যে সব তথ্য জানান হয় না , সেগুলো হলো –

১। মুহাম্মদ সর্বমোট ১৩ টা বা তার বেশী বিয়ে করেছিলেন।
সহিহ বুখারী :: খন্ড ১ :: অধ্যায় ৫ :: হাদিস ২৬৮:
মুহাম্মদ ইব্ন বাশ্‌শার (র) ………. আনাস ইব্ন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) তাঁর স্ত্রীগণের কাছে দিনের বা রাতের কোন এক সময় পর্যায়ক্রমে মিলিত হতেন। তাঁরা ছিলেন এগারজন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আনাস (রা)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি কি এত শক্তি রাখতেন? তিনি বললেন, আমরা পরস্পর বলাবলি করতাম যে, তাঁকে ত্রিশজনের শক্তি দেওয়া হয়েছে। সা’ঈদ (র) কাতাদা (র) থেকে বর্ণনা করেন, আনাস (রা) তাঁদের কাছে হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে (এগারজনের স্থলে) নয়জন স্ত্রীর কথা বলেছেন।

এখানে ১১ জনের কথা বলা হয়েছে , কিন্তু সেটা খাদিজা মারা যাওয়া ও একজনকে তালাক দেয়ার পর।তবে ইবনে ইসহাকের রচিত মুহাম্মদের জীবনী থেকে জানা যায় , মুহাম্মদের আসলে ২০ এর বেশী স্ত্রী ছিল। কোরানেই বলা হয়েছে , মুহাম্মদ যত ইচ্ছা খুশী বিয়ে করতে পারবেন-

সুরা আহযাব- ৩৩: ৫০: হে নবী! আপনার জন্য আপনার স্ত্রীগণকে হালাল করেছি, যাদেরকে আপনি মোহরানা প্রদান করেন। আর দাসীদেরকে হালাল করেছি, যাদেরকে আল্লাহ আপনার করায়ত্ব করে দেন এবং বিবাহের জন্য বৈধ করেছি আপনার চাচাতো ভগ্নি, ফুফাতো ভগ্নি, মামাতো ভগ্নি, খালাতো ভগ্নিকে যারা আপনার সাথে হিজরত করেছে। কোন মুমিন নারী যদি নিজেকে নবীর কাছে সমর্পন করে, নবী তাকে বিবাহ করতে চাইলে সেও হালাল। এটা বিশেষ করে আপনারই জন্য-অন্য মুমিনদের জন্য নয়। আপনার অসুবিধা দূরীকরণের উদ্দেশে। মুমিনগণের স্ত্রী ও দাসীদের ব্যাপারে যা নির্ধারিত করেছি আমার জানা আছে। আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।

২। মুহাম্মদের অনেক দাসী ছিল যাদের সাথে তিনি নিয়মিত যৌনকাজ করতেন।

সুরা আল মুমিনুন- ২৩: ৫-৬: এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে। তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না।

উপরের ৩৩: ৫০ নং আয়াতেও দাসীদের সাথে যৌনকাজ করার বিধান জারি আছে।

ইবনে ইসহাক রচিত সিরাতে উল্লেখ আছে তিনি নিয়মিত তার দাসী মারিয়ার সাথে বিয়ে বহির্ভূত যৌনকাজ করতেন ও তার গর্ভে ইব্রাহিম নামের এক ছেলের জন্ম হয় যে কি না শৈশবেই মারা যায়। এ ছাড়া বন্দিনী নারীদেরকে দাসী হিসাবে বিবেচনা করে তাদের সাথেও বিয়ে বহির্ভূত যৌনকাজ( আসলে ধর্ষন) করার বিধান কোরান ও হাদিসে বিদ্যমান। যেমন –

সুরা নিসা – ৪: ২৪: এবং নারীদের মধ্যে তাদের ছাড়া সকল সধবা স্ত্রীলোক তোমাদের জন্যে নিষিদ্ধ; তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়ে যায়-এটা তোমাদের জন্য আল্লাহর হুকুম। এদেরকে ছাড়া তোমাদের জন্যে সব নারী হালাল করা হয়েছে, শর্ত এই যে, তোমরা তাদেরকে স্বীয় অর্থের বিনিময়ে তলব করবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য-ব্যভিচারের জন্য নয়। অনন্তর তাদের মধ্যে যাকে তোমরা ভোগ করবে, তাকে তার নির্ধারিত হক দান কর। তোমাদের কোন গোনাহ হবে না যদি নির্ধারণের পর তোমরা পরস্পরে সম্মত হও। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিজ্ঞ, রহস্যবিদ।

এই আয়াত এর ব্যখ্যা হিসাবে মুহাম্মদ নিজেই হাদিসে বলেছেন –

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৮ :: হাদিস ৩৪৩২:
উবায়দুল্লাহ ইবন উমর ইবন মায়সারা কাওয়ারীরী (র)……।আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সা) হুনায়নের যুদ্ধের সময় একটি দল আওতাসের দিকে পাঠান । তারা শক্রদলের মুখোমুখী হয়েও তাদের সাথে যুদ্ধ করে জয়লাভ করে এবং তাদের অনেক কয়েদী তাদের হস্তগত হয় । এদের মধ্য থেকে বন্দিনী নারীদের সাথে যৌনকাজ করা রাসুলুল্লাহ (সা) -এর কয়েকজন সাহাবী যেন না জায়িয মনে করলেন, তাদের মুশরিক স্বামী বর্তমান থাকার কারণে । আল্লাহ তায়ালা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন এবং নারীর মধ্যে তোমাদের অধিকারভূক্ত দাসী ব্যতীত সকল সধ্বা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ-, অর্থাৎ তারা তোমাদের জন্য হালাল, যখন তারা তাদের ইদ্দত পূর্ন করে নিবে ।(নিসা- ৪: ২৪)

কোরানের এই বিধান অনুসরন করে , মুহাম্মদ নিজেও খায়বারে ইুহুদি বসতি আক্রমন করে , সকল ইহুদিকে হত্যা করে , ইহুদি সর্দার কিানানার স্ত্রী সাফিয়ার সাথে সেই রাতেই যৌনকাজ করেন যে দিনে মুহাম্মদ তার স্বামীকে হত্যা করেন। যদিও পরের দিন মুহাম্মদ তাকে বিয়ে করেন বলে কথিত আছে। কিন্তু বিয়ের আগেই তিনি সাফিয়ার সাথে যৌনকাজ করেন। যে নারীর স্বামীকে দিনে হত্যা করা হয়েছে , সেই নারীর সাথে সেই রাতেই যৌনকাজ করাটা ধর্ষন কি না সেটা বিবেকবান পাঠকই বলতে পারবেন।

৩। মুহাম্মদ ৫১ বছর বয়েসে , ৬ বছর বয়সী শিশু আয়শাকে বিয়ে করেন।
৪। মুহাম্মদ ৫৪ বছর বয়েসে , ৯ বছর বয়সী শিশু আয়শার সাথে যৌন কাজ করেন।

আয়শাকে বিয়ে ও তার সাথে যৌনকাজের বিষয়ে অসংখ্য হাদিস বিদ্যমান। সবাই সেটা এখন জানে। ৯ বছর বয়সী একটা শিশুর সাথে ৫৪ বছর বয়সী একটা প্রৌড় ব্যাক্তি যৌনকাজ করলে , সেটা কিভাবে আদর্শ কাজ হয় সেটা বোঝার জন্যে মারেফতি জ্ঞান থাকতে হবে।

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৭ :: অধ্যায় ৬২ :: হাদিস ৬৪:
মুহাম্মদ ইব্ন ইউসুফ ….. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা) যখন তাঁকে শাদী করেন তখন তাঁর বয়স ছিল ৬ বছর এবং নয় বছর বয়সে রাসূলুলস্নাহ্ (সা) তাঁর সাথে বাসর ঘর করেন এবং তিনি তাঁর সান্নিধ্যে নয় বছরকাল ছিলেন।

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৭ :: অধ্যায় ৬২ :: হাদিস ৬৫:
মু’আলস্না ইব্ন আসাদ (রা) ….. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত যে, যখন তাঁর ছয় বছর বয়স তখন নবী (সা) তাঁকে শাদী করেন। তিনি তাঁর সাথে বাসর ঘর করেন নয় বছর বয়সে। হিশাম (রা) বলেন, আমি জেনেছি যে, আয়েশা (রা) নবী (সা)-এর কাছে নয় বছর ছিলেন।

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৭ :: অধ্যায় ৬২ :: হাদিস ৮৮:
কাবিসা ইব্ন উকবা (রা) ….. উরওয়া (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী (সা) আয়েশা (রা)-কে শাদী করেন তখন তাঁর বয়স ছিল ছয় বছর এবং যখন বাসর করেন তখন তাঁর বয়স ছিল নয় বছর এবং (মোট) নয় বছর তিনি নবী (সা)-এর সাথে জীবন যাপন করেন।

সুনান আবু দাউদ :: বিবাহ অধ্যায় ১২, হাদিস ২১২১:
সুলায়মান ইবন হারব –আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ( আমার পিতা) আমাকে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) – এর সাথে যখন বিবাহ দেন, তখন আমি মাত্র সাত বছর বয়সের কন্যা ছিলাম। রাবী সুলায়মান বলেন, অথবা ছয় বছর বয়সের কন্যা ছিলাম। আর তিনি আমার সাথে সহবাস করেন, আমার নয় বছর বয়সের সময়ে।

৫। মুহাম্মদ তার পালিত পুত্র যায়েদের স্ত্রী জয়নবকে বিয়ে করেন।

সুরা আহযাব- ৩৩: ৩৭: আল্লাহ যাকে অনুগ্রহ করেছেন; আপনিও যাকে অনুগ্রহ করেছেন; তাকে যখন আপনি বলেছিলেন, তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই থাকতে দাও এবং আল্লাহকে ভয় কর। আপনি অন্তরে এমন বিষয় গোপন করছিলেন, যা আল্লাহ পাক প্রকাশ করে দেবেন আপনি লোকনিন্দার ভয় করেছিলেন অথচ আল্লাহকেই অধিক ভয় করা উচিত। অতঃপর যায়েদ যখন যয়নবের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল, তখন আমি তাকে আপনার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করলাম যাতে মুমিনদের পোষ্যপুত্ররা তাদের স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে সেসব স্ত্রীকে বিবাহ করার ব্যাপারে মুমিনদের কোন অসুবিধা না থাকে। আল্লাহর নির্দেশ কার্যে পরিণত হয়েই থাকে।

মুহাম্মদ তার নিজের পালিত পুত্রের স্ত্রীকে বিয়ে করতে খায়েশ করেছেন , এই কথা যদি আশপাশের লোকজন জানে , তাহলে নিশ্চিতভাবেই তারা মুহাম্মদকে বদমাইশ বা লুইচ্চা বলে গালাগালি করবে। মুহাম্মদ তাই এই লোক নিন্দার ভয়েই মুখ ফুটে জয়নাবকে বিয়ে করতে পারছিলেন না। কিন্তু দয়াল আল্লাহ মুহাম্মদের মনের দু:খ বুঝতে পেরে , সেটা দুর করার জেন্য উক্ত আয়াত পাঠিয়ে দেয়। মুহাম্মদও অত:পর ধুম ধাম করে জয়নবকে বিয়ে করে ফেলেন।

৬। মুহাম্মদ মদিনার পাশ দিয়ে যাওয়া মক্কার বানিজ্য কাফেলার ওপর আক্রমন করে তাদের মালামাল লুঠপাট করতেন।

মুহাম্মদ তার আটজন সাহাবিকে মদিনা থেকে মক্কা পেরিয়ে মক্কা ও তায়েফের মাঝখানে নাখলা নামক স্থানে বানিজ্য কাফেলা আক্রমন করে , তাদের মালামাল লুটপাট করে নিয়ে আসতে আদেশ দেন। কিন্তু তারা ঘটনাচক্রে এমন সময় বানিজ্য কাফেলা আক্রমন করেন যেটা ছিল নিষিদ্ধ মাসে। সেই তখন চারটা মাস ছিল যখন আরবরা যুদ্ধ বা মারামারি করত না। মুহাম্মদের দল সেটা ভঙ্গ করলে ,মক্কাবাসীরা এটা নিয়ে সমালোচনা শুরু করে এই বলে যে – মুহাম্মদ কেমন মানুষ যে নিষিদ্ধ মাসের প্রথাও মানে না ? তখন উক্ত বানিজ্য কাফেলা আক্রমন তথা ডাকাতির ঘটনাটাকে বৈধতা দেয়ার জন্যেই মুহাম্মদ উক্ত নিচের কোরানের বানী নাজিল করেন :

সুরা বাকারা -২: ২১৭: সম্মানিত মাস সম্পর্কে তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে যে, তাতে যুদ্ধ করা কেমন? বলে দাও এতে যুদ্ধ করা ভীষণ বড় পাপ। আর আল্লাহর পথে প্রতিবন্দ্বকতা সৃষ্টি করা এবং কুফরী করা, মসজিদে-হারামের পথে বাধা দেয়া এবং সেখানকার অধিবাসীদেরকে বহিস্কার করা, আল্লাহর নিকট তার চেয়েও বড় পাপ। আর ধর্মের ব্যাপারে ফেতনা সৃষ্টি করা নরহত্যা অপেক্ষাও মহা পাপ। বস্তুতঃ তারা তো সর্বদাই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকবে, যাতে করে তোমাদিগকে দ্বীন থেকে ফিরিয়ে দিতে পারে যদি সম্ভব হয়। তোমাদের মধ্যে যারা নিজের দ্বীন থেকে ফিরে দাঁড়াবে এবং কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের যাবতীয় আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে। আর তারাই হলো দোযখবাসী। তাতে তারা চিরকাল বাস করবে।

এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে ইবনে কাসিরের তাফসিরে : www.qtafsir.com অথবা http://www.quraneralo.com/tafsir/

৭। যে কেউ মুহাম্মদের সমালোচনা করত, মুহাম্মদ তাদেরকে হত্যা করতেন।

এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও তথ্য সূত্র জানা যাবে এখানে : https://wikiislam.net/wiki/List_of_Killings_Ordered_or_Supported_by_Muhammad

৮। যে কেউ ইসলাম ত্যাগ করত , মুহাম্মদ তাদেরকে হত্যা করতেন।

সুরা নিসা -৪: ৮৯: তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে চলে আসে। অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না এবং সাহায্যকারী বানিও না।

মক্কার কিছু লোক , মদিনার পাশ দিয়ে বানিজ্য কাফেলা নিয়ে যাওয়ার সময় মুহাম্মদের দল কর্তৃক আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে মদিনায় গিয়ে মুহাম্মদের কাছে ইসলাম গ্রহন করত , কিন্তু মক্কায় গিয়ে প্রচার করত , তারা ইসলাম ত্যাগ করেছে। তাদেরকে হত্যা করার জন্যে উক্ত বিধান জারি হয়। ইসলাম ত্যাগকারীকে যে সোজা হত্যা করতে হবে , এ সম্পর্কে বহু হাদিস বিদ্যমান। যেমন –

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ২৬০:
আলী ইব্ন আব্দুল্লাহ (র)……………..ইকরামা (রা) থেকে বর্ণিত, আলী ( রা) এক সম্প্রদায়কে আগুনে পুড়িয়ে ফেলেন। এ সংবাদ আব্দুল্লাহ ইব্ন আববাস (রা)-এর নিকট পৌছলে তিনি বলেন, ‘যদি হতাম, তবে আমি তাদেরকে জ্বালিয়ে ফেলতাম না। কেননা, নবী নবী (সাঃ) বলেছেন, তোমরাল্লাহ নির্ধারিত শাস্তি দ্বারা কাউকে শাস্তি দিবে না। বরং আমি তাদেরকে হত্যা করতাম। যেমন নবী (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার দীন পরিবর্তন করে, তাকে হত্যা করে ফেল।

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৮ :: অধ্যায় ৮৪ :: হাদিস ৫৭:
আবূ নু’মান মুহাম্মদ ইবন ফাযল (র)… ইকরামা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী (রা)- এর নিকট একদল যিন্দীককে (নাস্তিক ও ধর্মদ্রোহী) আনা হল। তিনি তাদেরকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিলেন। এ ঘটনা ইবন আব্বাস (রা)- এর কাছে পৌঁছলে তিনি বললেন, আমি হলে কিন্তু তাদেরকে পুড়িয়ে ফেলতাম না। কেননা, রাসূলুল্লাহ – এর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে যে, তোমরা আল্লাহর শাস্তি দ্বারা শাস্তি দিও না। বরং আমি তাদেরকে হত্যা করতাম। কেননা, রাসূলুল্লাহ – এর নির্দেশ রয়েছে, যে কেউ তার দীন বদলে ফেলে তাকে তোমরা হত্যা কর।</strong>

৯। যে কেউ ইসলাম গ্রহন না করত , মুহাম্মদ তাদেরকেও এক পর্যায়ে হত্যা করতেন।

সুরা তাওবা -৯: ৫: অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

অর্থাৎ ইসলাম গ্রহন না করার কারনে অমুসলিমদেরকে যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই হত্যা করতে হবে। তবে যদি তারা ইসলাম গ্রহন করে তাহলে তাদেরকে ছেড়ে দিতে হবে। এই আয়াতের প্রকৃত অর্থ বুঝতে হলে , যেতে হবে ইবনে কাসিরের তাফসিরে। তাফসিরের লিংক আগেই দেয়া আছে।

এছাড়া অমুসলিমরা যে পর্যন্ত ইসলাম কবুল না করবে , ততক্ষন পর্যন্ত তাদের সকলের বিরুদ্ধে চিরকালীন যুদ্ধ ঘোষনা করেছে মুহাম্মদ , যেমন –

সুরা তাওবা -৯: ২৯: তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

উক্ত আয়াতের যে ব্যখ্যা মুহাম্মদ দিয়ে গেছেন , তা আছে হাদিসে , যেমন –

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩০
আবু তাহির, হারমালা ইবন ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবন ঈসা (র)……আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই – এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি । সূতরাং যে কেউ আল্লাহ ছাড়া ইলাহ নেই স্বীকার করবে, সে আমা হতে তার জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শরীআতসম্মত কারণ ব্যতীত । আর তার হিসাব আল্লাহর কাছে ।

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩১
আহমাদ ইবন আবদ আয-যাবিব (র)………আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই,-এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত এবং আমার প্রতি ও আমি যা নিয়ে এসেছি তার প্রতি ঈমান না আনা পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি । এগুলো মেনে নিলে তারা তাদের জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে, তবে শরীআতসম্মত কারণ ছাড়া ।আর তাদের হিনাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে ।

এতক্ষন যে বিষয় গুলো নিয়ে আলাপ হলো , সেগুলো কি কখনই আমাদেরকে বলা হয় শৈশবে বা কৈশোরে ? যদি আমাদেরকে বলা হতো যে আমাদের নবী ডজনের ওপর বিয়ে করেছেন , দাসীর সাথে যৌন কাজ করতেন বা তিনি বুড়া কালে ৬ বছরের শিশু বিয়ে করে তার সাথে যৌনকাজ (যা আসলে ধর্ষন) করেছেন, বা বানিজ্য কাফেলা আক্রমন করে লুটপাট করতে বলেছেন , বা যে ইসলাম গ্রহন করবে না তাকে হত্যা করতে হবে , একথা বলেছেন , তাহলে আমরা কয়জন
মুহাম্মদকে নবী ভাবতাম ? কিভাবে তাকে মহান ব্যাক্তি বা সর্বশ্রেষ্ট আদর্শ মানুষ ভাবতাম ?

এই বিষয়গুলো কেন আমাদের শৈশবেই বা কৈশোরে আমাদের কাছে লুকান হয় বা গোপন করে যাওয়া হয় ? এটাই কি ব্রেইন ওয়াশ পদ্ধতি ? আর এখন আমরা যখন এইসব তথ্য কোরান হাদিস থেকে জানতে পারি, তখন এ সম্পর্কে কিছু বললে বা জিজ্ঞেস করলে সেটা হয়ে যায়, ইসলাম নিয়ে কটুক্তি ? ইসলাম বিদ্বেষ ? মানুষের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত ?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৭ thoughts on “মুহাম্মদ সম্পর্কে আসল তথ্য জেনে , সেটা নিয়ে কিছু বললে সেটা হয়ে যায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ?

  1. বা বা। আমাদের নবী নিজের বিয়ে
    বা বা। আমাদের নবী নিজের বিয়ে করা বউদের সাথে সেক্স করলে সেটা দোষ! আল্লার আদেশে ৯বছরের আয়েশাকে বিয়ে করলে সেটা দোষ! (যে আয়েশা ২০০০ হাজারের অধিক হাদীস বর্ননা করেছেন; কোরানের আয়াতের তাফসীর করেছেন আর অসংখ্য মানুষকে ইসলাম ধর্ম শিক্ষা দিয়েছেন)! কুরায়শদের উপর বানিজ্য অবরোধ করে তাদের কাফেলা আক্রমন করলে দোষ (যে কুরায়শরা নবীকে হত্যা করতে চেয়েছিল আর মক্কা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল)!!

    আর আপনারা অগনিত নারীর সাথে বিয়ে না করে লিভ টুগেদার করবেন, সেটা অনৈতিক বা দোষের নয়; প্রকাশ্যে রাস্তা ঘাটে নারীকে চুমু খাবার জন্য ফেসবুক ইভেণ্ট খুলবেন সেটা দোষের নয়! অস্ত্র-মদ-পর্ন শিল্পের পৃষ্ঠপোষকতা করে টাকা কামাই করবেন সেটা দোষের নয়!! সমকামিতার পক্ষে সাফাই গেয়ে এইডস এর মহামারী বাধাবেন সেটা খারাপ নয়।
    বাহ এই না হলে মুক্তচিন্তা!!!

    1. বা বা বা ! বিয়ে করা বউয়ের
      বা বা বা ! বিয়ে করা বউয়ের সাথে সেক্স করলে সেটা দোষের হবে কেন ? তবে কেউ যদি একটার পর একটা বিয়ে করে একটা হারেম বানায় , তাহলে তাকে আর যাই হোক , সর্বকালের শ্রেষ্ট আদর্শ মানুষ বলা যায় না , কি বলেন ?

      আল্লাহর আদেশে ৯ না , ৬ বছরের শিশুকে বিয়ে ? তাজ্জব কান্ড ! নিজের খায়েশ মিটাতে শিশু বিয়ে করে তাকে আল্লাহর আদেশ বলি চালিয়ে দেয়া , খুবই কাঁচা কৌশল। এটা অসভ্য আরব দেশে ১৪০০ বছর আগে মানুষকে বুঝানোর জন্যে করা যেতে পারে , বর্তমান কালের মানুষকে এই ধরনের ভুজুং ভাজুং দিয়ে বোঝান যায় না। কিন্তু কথা হলো , মুহাম্মদের এই শিশু বিয়ের কথা আর শিশুর সাথে যৌনকার্যের কথা , পাঠ্য বইযে নেই কেন ? এসব গোপন করে যাওয়া হয় কেন ?

      মক্কার লোক মুহাম্মদকে কখনই মক্কা ত্যাগ করতে বাধ্য করেছে , এটাও আরও হাজারটা মিথ্যা প্রপাগান্ডার মত আর একটা মিথ্যা কথা। দলিল থেকে প্রমান করুন তো এটা সত্য ঘটনা। আর তাছাড়া যদি মুহাম্মদ বিতাড়িত হয়েই থাকে , তারপর তার মত একজন কথিত সর্বশ্রেষ্ট আদর্শ মানুষ ডাকাতি শুরু করবে ? আর সেটাই সমর্থন করছেন ? ডাকাতি করা ছাড়া আল্লাহ মুহাম্মদকে আর কিছুই বলতে পারে নি ? তার মানে ডাকাতি হলো ইসলামে একটা পবিত্র পেশা, কি বলেন ?

  2. স্ত্রীর নাম
    স্ত্রীর নাম

    খাদিজা বিনত খাওয়ালাত (রা) বয়স ৪০ —- দুই বারের বিধবা

    সাওদা বিনত যা’মা (রা) বয়স ৫০ ———- বিধবা

    একমাত্র মা আয়েশা ছাড়া মুহাম্মদ সা আর কোন কুমারী স্ত্রী ছিল না।প্রায় সবাই ছিল বিধবা আর তালাক প্রাপ্তা।

    আয়েশা বিনত আবু বকর সিদ্দিক (রা) বয়স ৯ (!)
    হাফসা বিনত উমর (রা) বয়স ২২ ————— বিধবা

    যায়নাব (রা) বয়স ৩০ —————- বিধবা

    উম্ম সালমা (রা) বয়স ২৯ —————- বিধবা

    যায়নাব বিনত জাহাশ (রা) বয়স ৩৮ ———————- তালাকপ্রাপ্তা

    জুয়াইরিয়া বিনত হারিস (রা) বয়স ২০ ——————— বিধবা

    উম্ম হাবিবা বিনত আবু সুফিয়ান (রা) বয়স ৩৬ ————— বিধবা

    রায়হানা বিনত উমরু বিন হানাফা (রা) সঠিক বয়স জানা যায় নাই———— বিধবা

    সাফিয়া বিনত হুবাই বিন আখতাব (রা) বয়স ১৭ —————-২ বারের বিধবা

    মারিয়া কিবতিয়া বিনত শামুন (রা) সঠিক বয়স জানা যায় নাই —— অবিবাহিতা মিশর থেকে আসা

    মায়মুনা বিনত হারিস (রা) বয়স ৩৬ ————————– বিধবা ও তালাকপ্রাপ্তা

    নবীজি ৯ বছরের আয়েশা কে বিয়ে করেছিলেন আল্লাহর আদেশে । তিনি ইসলামের একজন বিখ্যাত মুয়াদ্দীস, তাফসীরকারক এবং প্রচারক।

    1. কাজেই দেখা যাচ্ছে আমাদের
      কাজেই দেখা যাচ্ছে আমাদের নবীজি বেশীরভাগই বিধবা আর তালাকপ্রাপ্তা মহিলা বিয়ে করেছিলেন।
      আচ্ছা আপনি কি আপনাদের মধ্যের অন্তত একজন নাস্তিকও দেখাতে পারবেন যে কোন বিধবা নারী বা তালাকপ্রাপ্তা নারীকে বিয়ে করেছে?
      আমাদের নবী কিন্তু তার ১২ জন স্ত্রীর সাথে বসবাস করেছিলেন কেউ তাকে ছেড়ে যায়নি। বরং তার আদর্শ

      কিন্তু আপনাদের অভিজিত রায়ের প্রথম স্ত্রী আত্নহত্যা করেছিল। রাজীব হায়দারের স্ত্রী পরকীয়ার কারনে রাজিবকে তালাক দিয়েছিল। তসলিমা নাসরীনের স্বামী একমাসও তার সাথে থাকে নি। কাজেই বুঝতে পারছেন ধর্মহীন নাস্তিকদের জীবনটা আসলে কেমন।

      1. অভিজিৎ রায় কি দাবী করেছে সে
        অভিজিৎ রায় কি দাবী করেছে সে একজন আদর্শ মানুষ , আর তাকে সবার অনুসরন করা দরকার ? আর আপনি কি না অভিজিৎ রায়ের মত একজন সামান্য মানুষের সাথে কথিত সর্বশ্রেষ্ট আদর্শ মানুষ মুহাম্মদের তুলনা করছেন ? আপনার কান্ডজ্ঞান লোপ পেয়ে গেছে।

        ইসলাম গ্রহন না করার জন্যে মুহাম্মদ একটার পর একটা জনপদ আক্রমন করে , তাদেরকে মেরে কেটে সাফ করে দিয়ে , তাদের নারীদেরকে বন্দি করে , সবচাইতে সুন্দরী বন্দিনী নারীকে নিজের জন্যে রেখেছেন , বাকীগুলো সব অন্যদের মধ্যে বিলিয়ে দিয়েছেন , যৌন ফুর্তি করার জন্য। এর চাইতে মহান আর আদর্শ কাজ দুনিয়াতে আর কি হতে পারে ? এটা কি আমার কথা ? না আমার কথা না। এটা হলো সহিহ হাদিসের কথা , দেখুন :

        সহিহ বুখারী :: খন্ড ১ :: অধ্যায় ৮ :: হাদিস ৩৬৭
        ইয়া’কূব ইবন ইবরাহীম (র)……আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) খায়রব যুদ্ধে বের হয়েছিলেন। সেখানে আমরা ফজরের সালাত খুব ভরে আদায় করলাম। তারপর নবী (সঃ) সওয়ার হলেন। আবূ তালহা (রা)-ও সওয়ার হলেন, আর আমি আবূ তালহার পেছনে বসা ছিলাম। রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) তাঁর সওয়ারীকে খায়বরের পথে চালিত করলেন। আমার হাঁটু নবী (সঃ) এর ঊরুতে লাগছিল। এরপর নবী (সঃ) –এর ঊরু থেকে ইযার সরে গেল। এমনকি নবী (সঃ) –এর ঊরু উজ্জলতা এখনও আমি দেখছি। তিনি যখন নগরে প্রবেশ করলেন তখন বললেনঃ আল্লাহ আকবার। খায়বর ধ্বংস হউক। আমরা যখন কোন কওমের প্রাঙ্গনে অবতরণ করি তখন সতর্কীকৃতদের ভোর হবে কতই না মন্দ! এ কথা তিনি তিনবার উচ্চারন করলেন। আনাস (রা) বলেনঃ খায়বরের অধিবাসীরা নিজেদের কাজে বেরিয়েছিল। তারা বলে উঠলঃ মুহাম্মদ! ‘আবদুল ‘আযীয (র) বলেনঃ আমাদের কোন কোন সাথী “পূর্ণ বাহিনীসহ” (ওয়াল খামীস) শব্দও যোগ করেছেন। পরে যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা খায়বর জয় করলাম। তখন যুদ্ধবন্দীদের সমবেত করা হল। দিহরা (রা) এসে বললেনঃ হে আল্লাহর নবী (সঃ)! বন্দীদের থেকে আমাকে একটি দাসী দিন। তিনি বললেনঃ যাও তুমি একটি দাসী নিয়ে যাও। তিনি সাফিয়্যা বিনত হুয়াই (রা)-কে নিলেন। তখন এক ব্যক্তি নবী (সঃ) এর কাছে এসে বললঃ ইয়া নবী (সঃ)য়াল্লাহ! বনূ কুরাইযা ও বনূ নাযীরের অন্যতম নেত্রী সাফিয়্যা বিনত হুয়াইকে আপনি দিহয়াকে দিচ্ছেন? তিনি তো একমাত্র আপনার এ যোগ্য। তিনি বললেনঃ দিহয়াকে সাফিয়্যাসহ ডেকে আন। তিনি সাফিয়্যাসহ উপস্থিত হলেন। যখন নবী (সঃ) সাফিয়্যা (রা)-কে দেখলেন তখন (দিহয়াকে) বললেনঃ তুমি বন্দীদের থেকে অন্য একটি দাসী দেখে নাও। রাবী বলেনঃ নবী (সঃ) সাফিয়্যা (রা)-কে আযাদ করে দিলেন এবং তাঁকে বিয়ে করলেন। রাবী সাবিত (র) আবূ হামযা (আনাস) (রা)-কে জিজ্ঞেসা করলেনঃ নবী (সঃ) তাঁকে কি মাহর দিলেন? আনাস (রা) জওয়াব দিলেন তাঁকে আযাদ করায় তাঁর মাহর। এর বিনিময়ে তিনি তাঁকে বিয়ে করেছেন। এরপর পথে উম্মে সুলায়ম (রা) সাফিয়্যা (রা)-কে সাজিয়ে রাতে রাসূলুল্লাহ (সঃ) –এর খিদমতে পেশ করলেন। নবী (সঃ) বাসর রাত যাপন করে ভোরে উঠলেন। তিনি ঘোষণা দিলেনঃ যার কাছে খানার কিছু আছে সে যেন তা নিয়ে আসে। এ বলে তিনি একটা চামড়ার দস্তরখান বিছালেন। কেউ খেজুর নিয়ে আসলো, কেউ ঘি আনলো। ‘আবদুল ‘আযীয (র) বলেনঃ আমার মনে হয় আনাস (রা) ছাতুর কথাও উল্লেখ করেছেন। তারপর তাঁরা এসব মিশিয়ে খাবার তৈরি করলেন। এ-ই ছিল রাসূল (স) এর ওয়ালীমা।

        সাফিয়া সুন্দরী ছিল। তার দিকে তাকিয়েই মুহাম্মদের মধ্যে প্রেমের বন্যা বয়ে গেল। সুতরাং যা হওয়ার তাই হলো। তিনি সাফিয়াকে অন্য একজনকে দান করে দেয়ার পরেও , সেটা বাদ দিয়ে নিজের জন্যে উক্ত সাফিয়াকে রেখে দিলেন। আর কি করলেন ? যে দিন তিনি সাফিয়ার স্বামী কিনানাকে নির্মমভাবে হত্যা করলেন , হত্যা করলেন তার ভাই , বাবা কাকা সহ গোত্রের সকলকে, সেই রাতেই মুহাম্মদ দু:খ ভারাক্রান্ত সাফিয়ার সাথে বাসর রাত যাপন করলেন। আহা , কি মহান ও দয়ালূ আমাদের নবী মুহাম্মদ। নিশ্চিতভাবেই সাফিয়া সেই রাতে মুহাম্মদের সাথে বাসর রাত যাপন করার জন্যে প্রেমোন্মাদ হয়ে গেছিল, আর দয়াল নবী সেটা সহ্য করতে না পেরে , সেই রাতেই তাকে নিয়ে বাসর রাতের নামে যৌনফুর্তিতে মত্ত হয়ে গেলেন।

        বর্তমানের কোন বদমাইশ , লুইচ্চা চরিত্রহীন লম্পটের পক্ষেও এই ধরনের নির্মম নিষ্ঠুর কাজ করা সম্ভব না। তাদের পক্ষে সম্ভব না , কোন মানুষকে হত্যা করে , সাথে সাথেই তার স্ত্রীর সাথে যৌন ফুর্তি করা। কিন্তু মহান দয়াল ও কথিত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট আদর্শ মানুষের পক্ষে সেটা অতি সহজ কাজ বটে !

        1. হা হা সাফিয়া রা বহু আগে থেকেই
          হা হা সাফিয়া রা বহু আগে থেকেই নবীর স্ত্রী হবার স্বপ্ন দেখতেন। তিনি তার স্বামীকে তার ইচ্ছা প্রকাশ করলে তাকে স্বামী কেনান চড় পর্যন্ত মেরেছিল।
          তিনি স্বানন্দে নবিজীর সাথে বিয়েতে রাজী হয়েছিলেন এবং ইসলাম প্রচারে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিলেন

          1. তার মানে হইলো স্বামী থাকার
            তার মানে হইলো স্বামী থাকার পরেও সাফিয়া অন্য একজনকে মনে মনে স্বপ্ন দেখতেন এবং আপনার কথা মত সেটা ইসলাম সম্মত । এখন যদি আপনার স্ত্রী মনে মনে অন্য এক জনের স্ত্রী হবার স্বপ্ন দেখেন স্বানন্দে অন্য ব্যক্তিকে বিয়ে করতে রাজি থাকে আপনি কি খুব সানন্দে সেই বিয়েতে রাজি হবেন????? নিজের স্বামী কিনানা, ভাই , কাকা সহ গোত্রের সকলকে সকলকে হত্যা করলে সেই মেয়ে স্বানন্দে বিয়েতে রাজি হবে এইটা কোন পাগলেও বিশ্বাস করবে না ।

          2. হা হা হা , দারুন ঘটনা তো ?
            হা হা হা , দারুন ঘটনা তো ? সাফিয়া মুহাম্মদের স্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখত ? তাই নাকি ? তা কোন সহিহ কিতাবে এটা লেখা আছে ? দয়া করে সেটা এখানে পেশ করুন। না হলে তো মনে হচ্ছে , আল্লাহ আবার আপনার কাছে এ সম্পর্কিত ওহি নাজিল শুরু করেছে।

      2. নবীকে ছেড়ে যাবে কিভাবে? তারা
        নবীকে ছেড়ে যাবে কিভাবে? তারা কি জানতো না ,তারা যদি নবীকে ছেড়ে চলে যায় তাহলে তাদের গর্দানে মাথা থাকবেনা। এতটুকু বোকা তারা কি করে হতে পারত?

  3. @মোল্লা
    @মোল্লা
    আসলে আপনি যখন কোন আদর্শের মোকাবেলা করবেন; তখন আপনার ব্যাক্তিগত আদর্শ আর জীবন- যাপন পদ্ধতি কিন্তু মানুষ দেখবে আর তারা মেলাবে। হাবশী গোলাম অভিজিত রায়, রাজীব, তসলীমা করার কথা বলেছে কারন তারা দাবী করে মুহাম্মদ অনৈতিক জীবন যাপন করেছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে মুক্তচিন্তার দাবীদার যারা করে তাদের নিজেদের জীবনই অনেক বেশী অনৈতিক। মুক্তচিন্তার নামে নানান অসামাজিক কার্যকলাপের তারা সমর্থন করে।
    ফলে সাধারন মানুষ কনফিউসড হচ্ছএ। তারা মেলাতে পারছে না। আপনাদের সাথে আম জনতার দূরত্ব বাড়ছে। খুন- খারাবীর মত ঘটনা ঘটছে।

    1. মনে হচ্ছে , আপনার সাথে
      মনে হচ্ছে , আপনার সাথে নিরপেক্ষভাবে আলোচনা করা যায়।

      কিন্তু বিষয় হচ্ছে , যখন কোন আদর্শকে আপনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট আদর্শ বলবেন , কাউকে সর্বকালের সর্বশ্রেস্ট আদর্শ মানুষ বলবেন , সমস্যাটা তখনই ঘটে।

      পরিবর্তনশীল বিশ্বে আসলেই চিরস্থায়ী কোন আদর্শ আছে ? থাকা সম্ভব ? আপনাকে চিন্তা করতে হবে আপেক্ষিকভাবে। এই পঞ্চাশ বছর আগে , শিশু কন্যাকে বিয়ে দেয়া বা করাকে কিন্তু এই আমাদের দেশেও অপরাধ হিসাবে গন্য করা হতো না। দুই তিন চার বিয়ে করাকেও খারাপ দৃষ্টিতে দেখা হতো না। এখন আপনি যত বড় ইমানদার মুমিনই হন না কেন , সমাজে ভাল মানুষ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হতে , নিশ্চিতভাবেই হঠাৎ করে একটা শিশুকে বিয়ে করতে পারেন না, পারেন না যখন তখন একটার পর একটা বিয়ে করতে। যদি করেন , সেটা এমনকি ইমানদার বান্দারাই আপনাকে বদমাইশ বলবে, তাই না ?

      এখন মুহাম্মদ যদি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট আদর্শ মানুষ হিসাবে গন্য হন , তাহলে তার জীবনের সকল কাজই সর্বকালের জন্যে আদর্শ প্রমানিত হতে হবে । সর্বকালের মানদন্ডের পরীক্ষায় পাশ করা লাগবে। এখন বলুন তো , মুহাম্মদ যে ৬ বছরের আয়শাকে বিয়ে করল , সেটা কি এই যুগের মানদন্ডে পাশ করবে নাকি আইনের দৃষ্টিতে অপরাধী হিসাবে গন্য হবে ? তারপর , আপনি কি পারবেন , আপনার পালিত পুত্রের বধুকে বিয়ে করতে ? যদি করেন , আপনার আশ পাশের ইমানদার মুমিনেরাই আপনাকে বদমাইশ বলবে। কি বলবে না ? তাই যদি হয়, এই কাজটা কিভাবে একটা আদর্শ কাজ হয় ? আর মুহাম্মদই বা কিভাবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট আদর্শ মানুষ হন ? সমস্যাটা কিন্তু এখানে।

  4. হাবশী গোলামের ছাগালাপী মার্কা
    হাবশী গোলামের ছাগালাপী মার্কা মিথ্যাচার দেখে অবাক হলাম। অভিজিৎ রায় এর প্রথম স্ত্রী অসুস্থ হয়ে মারা যান। তার সাথে অভিজিৎ রায় সম্পর্ক চমৎকার ছিল। কিন্তু ঐ যে ছাগালাপী, সারাদিন মাথায় অভিজিৎ রায় ঘুরে, স্বপ্নে অভিজিৎ রায় দেখে চিৎকার করে ঘুম ভাঙ্গে।

    নাস্তিকদের কোনো গুরু নেই। অভিজিৎ রায়ও নবুয়তি দাবি করেন নি। এই সামান্য যুক্তিবোধ যাদের নেই তারা ব্লগে না এসে মাঠে ঘাস খেতে যায় না কেন?

  5. লেখককে ধন্যবাদ। চমৎকার পোস্ট।
    লেখককে ধন্যবাদ। চমৎকার পোস্ট। মানুষকে ইসলামের নূরানি দুষ্টচক্র থেকে বের করে নিয়ে আসতে এ ধরণের পোস্টের দরকার অনেক।

  6. কি আর বলব কাঠ ভাই, এইগুলা হইল
    কি আর বলব কাঠ ভাই, এইগুলা হইল ‘সহি মুমিন লজিক’। এই যুক্তি খণ্ডাবে, সেই সাধ্য কার? খুজে খুজে বের করলেন বেশ কিছু সহি তথ্য, যা থেকে আমরা জানতে পারি
    – সাফিয়া মুহাম্মদের স্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখত
    – অভিজিৎ রায়ের স্ত্রী আত্মহত্যা করেছিল
    – রাজিব পরকীয়া করত

    কি শিখলাম আমরা তাহলে? What is the moral of the story?

    Moral of the story হইলঃ তাইলে মুহাম্মদ মিয়া যা যা আকাম করছে, তার সবই জায়েয। মানে কিনা, অভিজিৎ (অথবা রাজিব) আর মুহাম্মদ সবাই একই লেভেল এর ইতিহাস বিখ্যাত মানুষ। একজন এর আকাম জায়েয হইলে আরেকজনের টাও জায়েজ, সেটাই বুঝা যাচ্ছে।

  7. আপনাদের প্রত্যেকটা কথাই ত
    আপনাদের প্রত্যেকটা কথাই ত অনুমান আর মিথ্যা দিয়ে ভরপুর। অনুমান ছারা আপনারা কোন কথা বলতে পারেন না। একটা চোর বা ডাকাত বা ধর্ষণকারী বা ক্ষমতা লোভী শাসক প্রতেকের জন্ম থেকে মিত্তু পর্যন্ত জিবনে একটা মিল আছে। শুধু অনুমানের উপর নির্ভর করে একটা মানুষের গোটা জীবনকে কলঙ্কিত করা যায় না। যেমনঃ এখানে একজন বললেন যে তারা (মুহাম্মদের স্ত্রী) যদি নবীকে ছেড়ে চলে যায় তাহলে তাদের গর্দানে মাথা থাকবেনা। কিন্তু অন্যান্য হাদিস এবং উনার জিবনি পড়ে তা ত একদমি মনে হয় না। কোন ভাবেই প্রমানিত হয় না। তাছারা আপনারা যে হাদিস এবং কোরআন থেকে কথা বলেন সেখানে অসংখ্য অলুকিক ঘটনা, ভবিষ্যৎ বানী ( ১ নিজের কণ্ঠ নজের সাথে কথা বলবে- টেপ রেকরডার, ২ প্রতেকের মাথাই মাথাই বাদ্যযন্ত্র থাকবে ৩. আকাশ থেকে এক অজানা শব্দ ডাকবে যা প্রতেক সম্প্রদাই নিজ নিজ ভাষায় শুনতে পারবে, ইত্যাদি), বৈজ্ঞানিক তথ্য (“তিনি সৃষ্টি করেছেন রাত ও দিন এবং চাঁদ-সূর্য। সবাই আপন আপন কক্ষপথে বিচরণ করে।” সূরা আম্বিয়া -৩৩, “সূর্য নাগার পেতে পারে না চাঁদের এবং রাত আগে চলে না দিনের। প্রত্যেকেই আপন আপন কক্ষপথে সন্তরণ করে।” সূরা ইয়াসিন -৪০, “আমরা কি যমীনকে বিছানা এবং পাহাড়কে পেরেক লোহা বানাইনি?”“আমি পৃথিবীতে ভারী বোঝা রেখে দিয়েছি যাতে তাদেরকে নিয়ে পৃথিবী ঝুঁকে না পড়ে ।”সূরা আল আম্বিয়া -৩১, “তিনি সমান্তরালে দু’সমুদ্র প্রবাহিত করেছেন, এটি মিষ্ট,তৃষ্ণা নিবারক ও এটি লোনা,বিস্বাদ ;উভয়ের মাঝেখানে রেখেছেন একটি অন্তরায়,একটি দুভের্দ্য আড়াল।” সূরা ফোরকান- ৫৩, “অথবা তাদের কর্ম প্রমত্ত সমুদ্রের বুকে গভীর অন্ধকারের ন্যায়, যাকে উদ্বেলিত করে তরঙ্গের উপর তরঙ্গ,যার উপরে ঘন কালো মেঘ আছে।একের উপর এক অন্ধকার।যখন সে তার হাত বের করে,তখন তাকে একেবারেই দেখতে পায় না।আল্লাহ যাকে জ্যোতি দেন না,তার কোন জ্যোতি নেই।সূরা আন নূর-৪০, পবিত্র কোরআন মৌমাছি কিভাবে নিজ দক্ষতার মাধ্যমে নিজ প্রভূর প্রশস্ত পথের সন্ধান পায় তা তুলে ধরা হয়েছে। অধিকন্তু,উপরোক্ত আয়াতে উল্লেখিত ক্রিয়াপদে স্ত্রীলিঙ্গ ব্যবহূত হয়েছে।অর্থাৎ আরবীএবং আরবী চল ও খাও এর দ্বারা ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, খাদ্যের অন্বেষণে বাসা ত্যাগকারী মৌমাছি হল স্ত্রী মৌমাছি। অন্যকথায়, সৈনিক বা কর্মী মৌমাছি হল স্ত্রী জাতীয়। মূলতঃ শেক্সপিয়ারের ‘Henry the fourth’নাটকের কিছু চরিত্রে মৌমাছি সম্পর্কে আলোচনা এসেছে।সেখানে মৌমাছিকে সৈনিক উল্লেখ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে তাদের একজন রাজা আছে।শেক্সপিয়ারের যুগে মানুষে এরকমই চিন্তা করত।তাদের ধারণা যে,শ্রমিক মৌমাছিরা পুরুষ।তারা ঘরে ফিরে রাজা মৌমাছির কাছে জবাবদিহী করে।যাই হোক এটা সত্য নয়।শ্রমিক মৌমাছিরা স্ত্রী জাতীয় এবং তারা রাজার কাছে নয়,বরং বাণীর কাছে জবাবদিহী করে।আজ থেকে ৩শ বছর আগে আধুনিক গবেষণায় তা আবিষ্কৃত হয়েছে।অথচ,কোরআন তা ১৪শ বছর আগে বলেছে। ইত্যাদি) সেগুলোর কনটিই মিথ্যা হয় নি। পরিস্কার তথ্য না জেনে একটা মানুষ কে খারাপ বলা ঠিক না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 1 =