যানজটমুক্ত নগরীর প্রতিশ্রুতি মগবাজার মৌচাক ফ্লাইওভার

এতদিন যা ছিলো স্বপ্ন আজ তাই সত্যে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মগবাজার-মালিবাগ ফ্লাইওভার এখন প্রায় বাস্তব রূপ পেয়েছে। হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে তেজগাঁও সাতরাস্তা পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার রাস্তা খুলে দেয়া হয়েছে। তার মানে অফিস যাত্রার দীর্ঘ ক্লান্তি এখন থেকে আর নেই। ঢাকা- এ উপমহাদেশের এক ঐতিহাসিক নগরী। ১৬১০ সালে ঢাকা মুঘল শাসকদের প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর থেকে এর সম্প্রসারণ ও সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রা শুরু হয়। ১৯৭১ এ স্বাধীনতা লাভের পর পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানী থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হিসেবে এ শহরের গুরুত্ব ও মর্যাদা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রশাসন, অর্থনীতি, রাজনীতি, স্বাস্থ্যসেবাসহ সকল ক্ষেত্রে ঢাকা দেশের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ১৯৭১ সালের প্রায় ৩৩৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের রাজধানী আজ প্রায় ১৫৩০ বর্গকিলোমিটারে পৌঁছেছে। সে সময় ঢাকার জনসংখ্যা ছিলো মাত্র ১০ লাখ যা আজ প্রায় দেড় কোটিতে উন্নীত হয়েছে। আয়তন আর জনসংখ্যায় বাড়লেও ঢাকার সড়কের ধারণক্ষমতা তেমন একটা বাড়েনি। সাধারণ নাগরিক পরিষেবা নিশ্চিত করার জন্য যেখানে একটি শহরের মোট আয়তনের শতকরা ২৫ শতাংশ রাস্তা থাকা প্রয়োজন সেখানে ঢাকার রয়েছে মাত্র ৮ শতাংশ। এতে যানজটের কারণে নাগরিকদের নিয়মিত চলাচলে যেমন বাধার সৃষ্টি হচ্ছে তেমনি নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান কর্মঘণ্টা, পুড়ছে জ্বালানি, বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ। মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ঢাকা মহানগরী, বিশেষত এফডিসি, মগবাজার, মৌচাক, মালিবাগ ও শান্তিনগর ইন্টারসেকশনের যানবাহন ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ ও সহজ যানবাহন চলাচল নিশ্চিতকরণ। এর ফলে এলাকার জনগণের যাতায়াত, শিক্ষা, ব্যবসা বাণিজ্যের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফ্লাইওভারের বাকী দুটি অংশের মধ্যে বাংলামটর থেকে মগবাজার এবং সেখান থেকে মৌচাক পর্যন্ত অংশটি আগামী জুনে এবং শান্তিনগর-রাজারবাগ-মালিবাগ-রামপুরা অংশটি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে। এটি পুরোপুরি চালু হলে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে যান চলাচল আরো সহজ হবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 4