জঙ্গিবাদ কি জিনিস ? ইসলামের সাথে জঙ্গিবাদের কোন সম্পর্ক আছে ?

জঙ্গিবাদ-এর সংজ্ঞাতে বলা হয়েছে- Terrorism, in its broadest sense, is defined as the use of violence, or threatened use of violence, in order to achieve a political, religious, or ideological aim(https://en.wikipedia.org/wiki/Terrorism)। অর্থাৎ কোন রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বা আদর্শিক লক্ষ্য হাসিলের জন্যে সন্ত্রাসী বা হিংসাত্মক কর্মকান্ডই জঙ্গিবাদ। এই সংজ্ঞা অনুসারে , ইসলাম কি জঙ্গিবাদ ? নাকি শান্তিবাদ?

আমাদের নবী বলেছেন –
Bukhari :: Volume 4 :: Chapter 52 :: Hadith 220:
Narrated Abu Huraira: Allah’s Messenger (sallallahu ‘alaihi wa sallam) said, “I have been sent with the shortest expressions bearing the widest meanings, and I have been made victorious with terror (cast in the hearts of the enemy), and while I was sleeping, the keys of the treasures of the world were brought to me and put in my hand.” Abu Huraira added: Allah’s Messenger (sallallahu ‘alaihi wa sallam) has left the world and now you, people, are bringing out those treasures (i.e. the Prophet did not benefit by them).

বাংলা অনুবাদ:

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ২২০:
ইয়াহ্ইয়া ইব্ন বুকাইর (র)……………আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, অল্প শব্দে ব্যাপক অর্থবোধক বাক্য বলার শক্তি সহ আমি প্রেরিত হয়েছি এবং সন্ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে। একবার আমি নিদ্রায় ছিলাম, এমতাবস্থায় পৃথিবীর ধনভান্ডার সমূহের চাবি আমার হাতে অর্পণ করা হয়। আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) তো চলে গেছেন আর তোমরা তা বের করছ।

অর্থাৎ মুহান্মদ সরাসরি বলছেন যে , তিনি সন্ত্রাসী ঘটনার মাধ্যমেই ইসলাম প্রচারের জন্যে প্রেরিত হয়েছেন। তার স্বীকারোক্তিতে কোন রকম অস্পষ্টতা নেই। সহজ সরল স্বীকারোক্তি। আরও দেখা যাক ,

Muslim :: Book 19 :: Hadith 4292
Ibn ‘Aun reported: I wrote to Nafi’ inquiring from him whether it was necessary to extend (to the disbelievers) an invitation to accept (Islam) before meeting them in fight. He wrote (in reply) to me that it was necessary in the early days of Islam. The Messenger of Allah (may peace be upon him) made a raid upon Banu Mustaliq while they were unaware and their cattle were having a drink at the water. He killed those who fought and imprisoned others. On that very day, he captured Juwairiya bint al-Harith. Nafi’ said that this tradition was related to him by Abdullah b. Umar who (himself) was among the raiding troops.

বাংলা অনুবাদ :
সহিহ মুসলিম :: বই ১৯ :: হাদিস ৪২৯২
ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া তামীমী (র)……ইবন আউন (র) থেকে বর্ণিত । তিনি বললেন, আমি নাফি” (রাঃ) কে এই কথা জানতে চেয়ে পত্র লিখলাম যে, যূদ্ধের পূর্বে বিধর্মীদের প্রতি দীনের দাওয়াত দেওয়া প্রয়োজন কি না? তিনি বলেনঃ, তখন তিনি আমাকে লিখলেন যে, এ (প্রথা) ইসলামের প্রারম্ভিক যুগেছিল । রাসুলুল্লাহ (সা) বনূ মুসতালিকের উপর আক্রমণ করলেন এমতাবস্হ্যয় যে, তারা তা জানতে পারেনি । তাদের পশুদের পানি পান করানো হচ্ছিল । তখন তিনি তাদের ষোদ্ধাদের হত্যা করলেন এবং অবশিষ্টদের বন্দী করলেন । আর সেই দিনেই তাঁর হস্তগত হয়েছিল । (ইয়াহইয়া বলেনঃ যে, আমার ধারণা হল, তিনি বলেছেনঃ) হযরত জুওয়ায়রিয়া বিনত হারেস (রাঃ) বর্ণনাকারী বলেনঃ, এই হাদীস আমাকে আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বর্ণনা করেছেন । তিনি তখন সেই সেনাদলে ছিলেন ।

কত সুন্দরভাবে বলা হচ্ছে যে , মুহাম্মদের বাহিনী , সম্পুর্ন অপ্রস্তুত একটা জনপদে হঠাৎ করে আক্রমন করে বহু জনকে হত্যা করলেন আর বাকীদেরকে বন্দী করলেন। এটা কোন আত্মরক্ষার যুদ্ধ ছিল না , ছিল গনিমতের মালের লোভে একটা শান্তিপূর্ন জনপদে আক্রমন , তাদেরকে হত্যা ও অত:পর , তাদের মালামাল লূটপাট ও বাকী লোকদেরকে বন্দি করে হয় বিক্রি করা, না হয় পন বন্দি হিসাবে অর্থ উপার্জন। এই হাদিস খুবই পরিস্কার ভাবে বলছে যে , ইসলাম প্রচারের প্রাথমিক যুগে অর্থাৎ মুহাম্মদ যখন মক্কাতে খুবই দুর্বল ছিলেন ও তার তেমন কোন অনুসারী ছিল না , তখনই শুধুমাত্র দাওয়াতের মাধ্যমে ইসলাম প্রচারের বিধান চালু ছিল। অত:পর ইসলাম প্রচারের একমাত্র বিধান হলো , অমুসলিমদেরকে আক্রমন , তাদেরকে ইসলাম গ্রহন করতে বাধ্য করা , না হয় তাদেরকে হত্যা করা। আরও একটা হাদিস দেখা যাক ,

Bukhari :: Volume 2 :: Chapter 14 :: Hadith 68
Narrated Anas bin Malik: Allah’s Messenger (sallallahu ‘alaihi wa sallam) (p.b.u.h) offered the Fajr prayer when it was still dark, then he rode and said, ‘Allah Akbar! Khaibar is ruined. When we approach near to a nation, the most unfortunate is the morning of those who have been warned.” The people came out into the streets saying, “Muhammad and his army.” Allah’s Messenger (sallallahu ‘alaihi wa sallam) vanquished them by force and their warriors were killed; the children and women were taken as captives. Safiya was taken by Dihya Al-Kalbi and later she belonged to Allah’s Apostle go who married her and her Mahr was her manumission.

বাংলা অনুবাদ

সহিহ বুখারী :: খন্ড ২ :: অধ্যায় ১৪ :: হাদিস ৬৮
মুসাদ্দাদ (র)—- আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) (একদিন) ফজরের সালাত অন্ধকার থাকতে আদায় করলেন । এরপর সাওয়ারীতে আরোহণ করলেন এবং বললেনঃ আল্লাহু আকবর, খায়বার ধ্বংস হোক ! যখন আমরা কোন সম্প্রদায়ের এলাকায় অবতরণ করি তখন সতর্কীকৃত দের প্রভাত হয় কতই না মন্দ ! তখন তারা (ইয়াহূদীরা) বের হয়ে গলির মধ্যে দৌড়াতে লাগল এবং বলতে লাগল, মুহাম্মাদ ও তাঁর খামীস এসে গেছে । বর্ণনাকারী বলেন, খামীস হচ্ছে , সৈন্য–সামন্ত। পরে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাদের উপর জয়লাভ করেন । তিনি যোদ্ধাদের হত্যা করলেন এবং নারী-শিশুদের বন্দী করলেন । তখন সাফিয়্যা প্রথমত দিহইয়া কালবীর এবং পরে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর অংশে পড়ল। তারপর তিনি তাঁকে বিয়ে করেন এবং তাঁর মুক্তিদানকে মাহররূপে গণ্য করেন । আবদুল আযীয (র) সাবিত (রাঃ)-এর কাছে জানতে চাইলেন, তাঁকে কি মাহর দেওয়া হয়েছিল, তা কি আপনি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন ? তিনি বললেন, তাঁর মুক্তিই তাঁর মাহর, আর মুচকি হাসলেন ।

এই আয়াতেও দেখা যাচ্ছে , মুহাম্মদ ও তার দলবল খুব ভোরে অন্ধকার থাকতেই খায়বারের জনপদে হঠাৎ করে আক্রমন করে , তাদের বহুজনকে হত্যা করেন , বাকীদেরকে দাস দাসী হিসাবে বন্দি করেন। এখানেই গণিমতের মাল হিসাবে সাফিয়াকে মুহাম্মদ নিজের জন্যে গ্রহন করেন।

এইসব সহিহ হাদিস তো বটেই , ইবনে ইসহাক , আল তাবারী, ইবনে হিসাম ইত্যাদিরা যে মুহাম্মদের জীবনি বা ইসলামের ইতিহাস লিখে গেছেন , তারা সবাই খুব পরিস্কারভাবে বর্ননা করে গেছেন , কিভাবে মুহাম্মদ ও তার দলবল মদিনার পাশে বানিজ্য কাফেলার ওপর নিয়মিত আক্রমন করে , বনিকদের হত্যা করে , তাদের মালামাল লুটপাট করতেন , কিভাবে একের পর এক অমুসলিম জনপদে আতর্কিতে আক্রমন করে তাদের হত্যা করে বা বন্দি করে তাদের ধন সম্পদ লুটপাট করতেন। অর্থাৎ মুহাম্মদের নিজের স্বীকারোক্তি মোতাবেক , তার ইসলাম প্রচারের প্রধান মাধ্যমই ছিল সন্ত্রাস সৃষ্টি। সন্ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি মানুষের মনে ত্রাস বা ভীতির সঞ্চার করতেন, আর এভাবেই তিনি তার ইসলামের প্রতিষ্ঠা , প্রসার ও প্রচার করে গেছেন।

বর্তমানে ইরাক সিরিয়াতে ঠিক এভাবেই আই এস , সন্ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে একের পর এক জনপদ ও নগর দখল করেছিল, আত্মঘাতী গাড়ী বোমার বিভীষিকায় ইরাকী ও সিরিয়ার সৈন্যরা অস্ত্রপাতী ফেলেই জীবন নিয়ে পালিয়ে গেছিল । যাদেরকে তারা বন্দি করেছিল, নির্মমভাবেই তারা মুহাম্মদের দেখান পথে , বন্দিদেরকে হত্যা করেছিল। অনেকে বলতে পারে যাদেরকে হত্যা করা হয়েছে , তারাও তো মুসলমান ছিল। জ্বী না , ইসলামী বিধান মতে তারা মুসলমান ছিল না। তারা ছিল হয় খৃষ্টান , না হয় ইয়াজিদি , আর না হয় শিয়া। এই বাংলাদেশেই কোন সুন্নি ইমাম বা আলেম শিয়াদেরকে মুসলমান হিসাবে গণ্য করে না , বলে তারা হলো মুনাফিক। আর মুনাফিকের শাস্তি কি ? সোজা কল্লা কাটা। আই এস সেটাই করেছে ও করছে। তালেবান, আল কায়েদা , বোকো হারাম ইত্যাদির মত সহিহ ইসলামী গোষ্টিগুলি এই ইসলামী বিধান মেনেই , তাদের ভাষায় অমুসলিম ও মুনাফিকদেরকে হত্যা করে হয় শহিদ হচ্ছে , না হয় গাজি হচ্ছে।

এখন পাঠক, আপনারাই বলুন তো , ইসলাম ও জঙ্গিবাদের মধ্যে পার্থক্য কোথায় ?

অনেকেই যে সারাদিন জঙ্গিবাদ জঙ্গিবাদ বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলে , আর বলে ইসলামের সাথে জঙ্গিবাদের কোনই সম্পর্ক নাই , কিছু লোক ইসলামের নামে জঙ্গি কাজ কারবার করছে , সন্ত্রাস করছে , ইসলাম হলো মহা শান্তির ধর্ম, তারা কি সহিহ মুসলমান , নাকি তারা মিথ্যাবাদী মুনাফিক ?

হাদিস সূত্র :
http://sunnah.com/
http://www.quranexplorer.com/Hadith/English/Index.html
http://www.searchtruth.com/hadith_books.php

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “জঙ্গিবাদ কি জিনিস ? ইসলামের সাথে জঙ্গিবাদের কোন সম্পর্ক আছে ?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 73 = 83