শিক্ষা পেলাম মানবতার!!!

পাপা একটা কেক কিনে দাওনা

না,কেক খেলে দাঁতে পোকা হবে

না না হবেনা তুমি তারাতারি কিনে দাওনা,নাহলে কাকুটা চলে যাবেতো,তাহলে আর পাবো না।

দাদা,একটা কেক দিন..

হকারটির হাত থেকে কেক নিয়ে বাচ্চাটি ট্রেন থেকে নেমে এক দৌড়ে চলে গেলো প্লাট ফর্মের এক কোনায়। তারপর হাতের কেকটি তুলে দিল তারই সমবয়সি জ্বরাজীর্ন কঙ্কালসার অপর একটি বাচ্চার হাতে। তারপর একই ভাবে দৌড়ে এসে বসে পড়লো নিজের সিটে।

কামরায় উপস্থিত সবাই ততক্ষনে বিস্ময়ে হতবাক!!হতবাক হয়ে দাড়িয়ে আছে হকারটিও,সম্ভবত তার দীর্ঘ হকার জীবনে সে এই ধরনের দৃশ্য প্রথমবার দেখছে। আগে হয়তো সে শুধু দেখেছে রেল যাত্রীদের হাতে পথ শিশুদের হেনস্থা হতে মার খেতে রেল পুলিশের তাড়া খেতে।আজ সে দেখছে সম্পুর্ন ভিন্ন একটি দৃশ্য।হয়তে সে তার জীবনের অন্যতম একটি সুন্দর দৃশ্য দেখছে।তারপর সে তার কেকের বাক্স থেকে সম্ভবত সবথেকে দামি একটা কেক বার করে বাচ্চাটির হাতে দিয়ে,পাশের কামরার দিকে পা বাড়ালো। হকারটির ক্লান্তিময় মুখে একটি দৃস্টি নন্দন হাসি।যে হাসি হয়তো এক নিমেষে মন ভালো করে দিতে পারে একজন মুমুর্ষ ক্যান্সার রুগীর।

আমার সামনে বসে থাকা বছর সাতের বাচ্চাটির সাহসিকতা দেখে আমি বাকরুদ্ধ।পুর্ব ভারতের অন্যতম বৃহত্তম ও ব্যাস্ততম জনবহুল একটি রেল স্টেশন হাওড়া যেখানে বাঘা বাঘা মানুষ নিজেকে নেহাতই ছুঁচো মনে করে সেখানে এই বছর সাত আটের বাচ্চাটি কি অসিম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে একটি অভুক্ত পথ শিশু অবদি পৌছে দিলো কিছু খাবার।

সেই সাথে আমি বাচ্চাটির মহানুভবতা ও উদারতা দেখে নিজের প্রতি নিজে খুবই লজ্জিত,কারন ওই ক্ষুদার্থ পথ শিশুটিকে আমিও দেখেছিলাম,তবে ট্রেন ছেরে দেওয়ার বাহানা দিয়ে তাকে সাহায্য করিনি। হয়তো আমাদের কামরার অধিকাংশ মানুষ ওই পথ শিশুটিকে দেখেছিলেন,কিন্তু কোনোনা কোনো বাহানা দিয়ে নিজেকে ওই অসহায় শিশুটিকে সাহায্য করা থেকে বিরত রেখেছেন।

আমি সবসময় যে মানবতার কথা বলি আজ আমাকে সেই মানবতার শিক্ষা দিলেন একটি বছর সাতের বাচ্চা।

আসুন আমরা শিশুদের এই কোমলমতি নিস্পাপ মনটি রক্ষা করি। ধর্ম, জাত, সম্প্রদায় নামক যে বিষ আমরা পান করে শুরু করেছি নিজেদের মধ্যেই হানাহানি ভাগাভাগি,তা যেনো এই শিশুদের সাথে না করি।বরং তাদের পান করাই মানবতা ও মনুষত্য নামক অমৃত।যার দ্বারাই দুর হবে আমাদের সমাজের অন্ধকারচ্ছন্ন দূর্গন্ধময় পরিস্থিতি।

আসুন সেই সাথে পাশে দ্বারাই সেই সকল পথশিশুদের,যাাদের মাঝে হয়তো লুকিয়ে আছে ভবিষ্যতের মারাদোনা যে আমাদের বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ দেবে,হয়তো লুকিয়ে আছে আইনস্টাইন,নিউটনের মতন বিজ্ঞানি যারা জ্ঞ্যানে প্রতিভায় আমাদের বসাবে বিশ্বের সর্ব্বোচ্চ শ্রেস্ট আসনটিতে। হয়তো তাদের মাঝেই আমরা খুঁজে পাবো আমাদের অবিসংবাদিত রাস্ট্রনায়ক শেখ মুজিবর রহমানকে।

আমরা কি পারিনা লিঙ্গাকৃতি পাথরে দুদ ঢেলে তা অপচয় না করে তা ঢেলে দিতে কোনো অন্ধ ভিক্ষুকের বাটিতে!!!

মাটির প্রতিমাকে স্বর্নালঙ্কারে সাজানোর নামে ঢং না করে সেই অর্থ দিয়ে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহি আর্থিক ভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থিদের সাহায্য করতে!!!

প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকা নস্ট করে কথিত শয়তানকে পাথর মারতে সৌদি গিয়ে সৌদি রাজন্ত্রকে সোনার মার্সেডিজ কেনার তহবিল না জুগিয়ে।আমরা কি পারিনা সেই টাকা দিয়ে এতিম পথশিশুদের সুশিক্ষা ও সুসাস্থকর একটি পরিবেশ উপহার দিয়ে তাদের সমাজের মুল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে!!!!

প্রশ্ন রইলো আপনার বিবেকের কাছে..

মানবতাই হোক আমাদের ধর্ম, ভালোবাসাই হোক আমাদের ঈশ্বর/আল্লাহ

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 1