বিশ্বাস


কায়েদ ছাহেব হুজুরের এলাকার এক হতদরিদ্র বাসিন্দা কাশেম মিয়া। পেশায় একজন সামান্য কৃষক। নুন আনতে পান্তা ফুরায় এমন অবস্থা। বাড়ির পাশের রকিব আলি ছৌদি প্রবাসী। সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই। গত পাঁচ বছর হলো ছৌদিতে গেছেন।যাবার শুরুর দিকে রকিব কোন রকম টাকা-পয়সা পাঠাতে পারেন নাই। কিছুদিন আগে দেশে ফিরেছেন রকিব আলি। নিজের বাড়ি আসার সময় সাথে করে নিয়ে এসেছেন কয়েক ভরি স্বর্নালংকার ও নগদ কিছু অর্থ। মাঝে মাঝেও টাকা পাঠাতেন ছৌদি থাকাকালীন।

কাশেম মিয়ার’ রকিব মিয়ার সাথে দেখা হয়েছে প্রথম দিনেই। মাঠের কাজ রেখে ভাই কে আনতে গিয়েছিলেন লঞ্চঘাটে। নিজে ভ্যান চালিয়ে নিয়ে এসেছিলেন রকিব মিয়াকে বাড়িতে। বাড়ি পৌছে রকিব কাশেম মিয়ার হাতে ৫০০ টাকার একটা নোট গুঁজে দেয়। কাশেম মিয়ার আনন্দ আর ধরে না। ভাই ছৌদি থাকে! লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক। বাড়ির পাশেই করেছে ২ তলা বিল্ডিং ঘর। ভেবেই তাকিয়ে দেখে নিজের খুপরি ঘর টার দিকে। এবার যদি চাল টাকে মেরামত না করা যায় তবে আর রক্ষা নেই মনে হচ্ছে। যে কাল বৈশাখী ঝড়ের দাপট শুরু হয়েছে, তাতে করে ঘরে আর ঝড়ের তোড়ে থাকাই দুষ্কর হয়ে যাবে। চোখে ঝাপ্সা দেখা শুরু করছে কাশেম মিয়া।

কোথায় পাবে সে ঘর মেরামতের টাকা ? কম করে হলেও হাজার বিশেক এর মত লাগবে। এম্নিতেই নিজের জমি-জমা প্রায় কিছুই নেই। আছে শুধুমাত্র এই ভিটা-মাটিই সম্বল। অন্যের জমিতে হাড়-খাটুনি খেটে কি আর ঘর মেরামত করা যায়!
হেটে চলে পুকুর পাড়ে। স্নান সেরে নেয়। ঘরে ঢুকেই হুংকার ছাড়ে ,

-কই গো নিপা, কই গেলা? খাওন দেও। খিদা লাগছে তো!

কাশেম এর বউয়ের নাম নিপা। সেও এক হত দরিদ্রের মেয়ে সন্তান। কাশেম ছেলে ভালো জুয়া-টুয়া, নেশা-পানি করে টরে না।
নিপার বাবাই অনুরোধ করেছিলেন যেন নিপাকে সে বিয়ে করে। বিয়েতে কোন লোক জনকে দাওয়াত সেভাবে দাওয়াত করতেও পারেন নাই দুই পক্ষের কেউই। দেখতে সুন্দরী, উজ্জ্বল শ্যামবর্নের নিপা খাতুন।

-নিপা ঘরে’তে নেই।
রকিব আলির আনা সম্পদের নহর দেখতে গিয়েছে সে। আরও আরও জোরে কয়েকবার ডাক দিতেই নিপা দৌড়ে চলে আসে। ভাত বেড়ে দেয় কাশেম আলিকে।
নিপা বাতাস করেছে গুন গুন করে গাইছে ,

“শ্রেষ্ঠ নবি দিলে মোরে, তরিয়ে নিতে রোজ হাশরে, খুধা পেলে অন্ন জোগাও মানি চাই না মানি খোদা তোমার মেহেরবানী”……

-গান বন্দ কইরা বাতাস করো। গরমে কাহিল লাগতাছে। কাশেম আলি মুখে ভাত নিয়েই বলছে।
কাশেম আলি মাঠে চলে গেছে কাজ করতে । অর্ধেক বেলা করলেও অনেকটাই এগুবে ধান কাটা।
সন্ধ্যায় হাট থেকে কিছু সদায়-পাতি নিয়ে স্থানীয় আল-আমিনের বাপের দোকানে বসেছে চা খেতে । এই দোকানের রঙ চা তা মজাই লাগে। প্রত্যেকদিন হাটে আসবে ৩ টাকা দিয়ে এক কাপ চা কাশেমের চাই-ই- চাই। দোকানে ভান্ডারী গান ছেড়ে দিয়েছে। কাশেমের অবশ্য এসব গান ভালো লাগেনা। কাশেম পছন্দ করে জারি, শরিয়ত-মারেফত পালাগান। রাতে খাবার খেতে বসে কাশেমের চোখ চড়ক গাছ! এত খাবার ? বুঝতে বাকি নেই এসব তার রবিক আলি পাঠিয়েছে। মাংস পোলাও খায় না অনেক দিন কাশেম। আজকে পেট ভরেই খাওয়া টা হলো।

-রকিব ভাই তো কতকিছু আনলো। ছোদি আরব হইলো সোনার দ্যাশ। ঐ দেশে একবার যাইতে পারলেই তো হইছে কাম! আল্যার কাম ও হইলো আবার পয়সাও কামাই অইলো আল্লার ইচ্ছায়।

-হ তাও কথা খারাপ কও নাই। কিন্তু যাইতে তো ম্যালা টাহা লাগে, এত টাহা মুই পামু কোনহানে ? মোর কি বাপের জমিদারি আছে নাহি , যে হেইয়া বেইচ্চা মুই ছৌদি করমু? ছিড়া খাতায় হুইয়া লাখ টাহার স্বফনো দেহোন বাদ দেও। এতে শইল্লে দোষ হয়। মাইন্সে আলিস্যা অইয়া যায়। ঘুমা মাগি!! যত্তসব ফাও চিন্তা মাতায় ঘোরে। এই লইগ্যাই নবিজি কইছে মাইয়া মাইন্সে হইলো শয়তানের খুডা।

রকিবের লগে আলাপ টা করাই যায়। যাইতে তো টাহা পয়সা কম লাগেনা। যদি বাড়িটা বন্ধক রাইখাও পারি তাইলে বরং যাই। কিন্তু তার আগে রকিবের লগে আলাপ হওনটা দরকার। আপন ভাই, সাহায্য তো অবশ্যই করবে। ধুর! কি সব চিন্তা-মাথায় ঢূকছে। মাইয়া মানুষ আসলেই শয়তানের কারখানা। রাইতের কথা মাথা থেকে সরাতে পারতেছিনা ।

স্বিদ্ধান্ত হীনতায় ভুগতে ভুগতে একটা সময় রকিবের বাড়ির দরজায় এসে দাড়ায় কাশেম। রকিব ভাই বাড়ি আছো? দুইডা কতা জিগাইতাম।
কাশেম আমতা আমতা করে শুরুতেই বলে, ছৌদি যাইতে কত টাহা লাগে রে ভাই? মুই কি যাইতে পারমু?

-ক্যান পারবা না ভাই? মোর ধারেই ১টা ভিসা আছে। তুমি জামেলা পসন্দো করো হেই লইজ্ঞা মুই তোমারে কই নাই। তয় তুমি যেহেতু আইয়্যা মুখ ফুইট্টা কইছোই হেতে মোর আর কিছু কওনের নাই। য্যা ভালো মনে করো তুমি। হ্যাছাড়াও তুমি মোর বড় ভাই। মুই তো চিন্তা করছি এ ফিরই শ্যাষ । আর যামুনা এফিরের পরে। হ্যারপরে তুমি মোর ঐহানে কাম করতে পারবা। মোর মালিক ভালো মানুষ ভাইয়্যো। এই য্যা সোনা-টাহা পয়সা দেখতেয়াছো সবই হের দোয়া। মুই তো ছৌদি বইয়া কিছু রাখতারিনাই। সবই তো বাড়ি পাডাইয়া দিসি। এই সব ছামান মোর মালিক দোয়া হিসাবে দিয়া দেছে আওনের কালা। এহন যে ভিসাডা মোরে মালিকে দেছে এইডা দিয়া তুমি যাইতে পারবা না ভাইয়্যো। মালিকের হাউজে একখান কামের লোক দরকার। মাইয়া মানুষ। হ্যার পোলাপান আছে কয়েকটা এগুলারে দেহাশুনা করার লইজ্ঞা।

-আর এডায় তো টাহাও লাগবে না তেমন। খালি মেডিকেল আর পাসফুট টা করতে অইবে । কইতে গ্যালে মাগনাই ! হেহেহেহে…

ও! তয় মোর যাওনের কোন ব্যবস্তা এহন নাই? একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে কাশেম ।

-রকিববাই, মুই কি যাইতে পারমু? মোরে নেওন যাইবে ছৌদি?

পেছন থেকে নিপার কন্ঠস্বর ভেসে আসে।

ঘাড় বাকিয়েই কাশেম আলি হুংকার দেয়।
এ মাগি তুই এইহানে আইলি কোন কালা ? যা ঘরে যা।। ব্যাডারা ব্যাডারা কতা কইতেয়াছি আর তুই মাঝখান দিয়া ফোড়ং মারো কিলইজ্ঞ্যা?

নিপা ঠায় দাড়িয়েই আছে, কাশেমের কথায় তার কোন ভ্রুক্ষেপই নেই একদম।
-ওয়াকি! এহনো খাড়াইয়া রইছো কিলইজ্ঞা ঠ্যাডানি মাইর্যাক ? যাইতে কইছি না এইহান দিয়া? যা কইতাছি।

আবার ধমক দিয়ে একপ্রকার জোর করেই পাঠিয়ে দেয় নিপাকে কাশেম আলি।
রকিব আলিও ব্যাপার টা ভালোভাবে নেয় নাই। পুরুষদের কথার মাঝখানে মেয়ে মানুষ সেও ভালো চোখে দেখেনা। মনে মনে ভাবছে নিপারেই তাহলে নেয়া যায়। ভাইয়ের আর্থিক উন্নতি তো হবে।
তাছাড়া বউ গেলে দরকার হইলে আবার বিয়া করবে কাশেম ভাই। এখানে সমস্যা কিছুই দেখছে না রকিব আলি মিয়া।

-ভাই হোনো , চ্যাতাচ্যাতি কইর্যো না। ভাবি যদি যাইতে চায় তয় হেতে তোমার সমেস্যাডা কি? হে গ্যালে তো তোমারই লাভ টাহা তো পাবা প্রত্যেক মাসে ২০ হাজার , নাকি?
আর ভাবি যাইয়া পয়সাপাতি কিছু অইলে ধিরে ধীরে তোমারেও নিয়া যাইতে পারবে। একটা ভালো সুযুগ আইছে তোমাগো। আমি ভাই দেইক্যাই কইতাছি তোমারে । তোমার এই অবাব মোর নিজেও ধারেও ভালো লাগেনা। তুমি এহন যাও। মুই হাডে যামু। কাম আছে ।

ঘরে ঢুকে গলার স্বর নরম করে নিপা কাছে ডাকে কাশেম। বলতে থাকে

“ সত্যিই তুমি যাবা ছৌদি ? পারবা মোরে থুইয়া থাকলে একলা”?

-এইয়্যা ক্যামন কতা কন! আম্নে গ্যালে মুই একলা থাকতাম না? আম্নে পারলে মুই পারমু না ক্যা? হোনেন, দেহিই না যাইয়া কি অয়। হাতের রূলি দুইডা বেইচ্যা কাইল যাইয়াই পাস্ফুট করোনের বেবস্তা করবেন।

মুই যামুই!!

মাস খানেকের মধ্যেই নিপার মেডিকেল, পাসপোর্ট সম্পন্ন হয়ে যায়। রকিবের ছুটি শেষ না হওয়ায় সে আরও কিছুদিন পরে যাবে। নিপাকে ঢাকা থেকে বিমানে উঠিয়ে দিয়ে চলে যায় রকিব মিয়া।
কিং আব্দুল্ আজিজ এয়ারপোর্ট থেকে মালিকের লোক নিয়ে যায় গাড়িতে করে হাউজে।
আরবি কথা হরহামেশাই শুনছে নিপা। তার ভালই লাগছে। ধর্মীয় কিতাবে পড়েছে সে, আল্লার ভাষা আরবী। জান্নাতের ভাষাও আরবি। এই দেশেই নবী জন্ম নিয়েছিলেন। সে মনে করে বর্তমানে জান্নাতে এসে গেছে। হাজার পাপী বান্দা হলেও এই পূন্য ভুমির উছিলাতেই সে জান্নাত পেতে পারে।
বিমানবন্দর থেকে নিয়ে আসা লোকটি, ও একজন ষাট বছর বয়সী ফর্সা দাড়িওয়ালা ৬ ফুট উচ্চতার ব্যক্তি আরবি তে কথাবার্তা বলছে তাকে সামনে রেখেই। সে অবশ্য কিছুই বুঝতে পারতেছে না। কিছুক্ষন পর পর নিয়ে আসা লোকটি তার দিকে আঙ্গুল তুলে তাকে দেখিয়ে দিচ্ছে। তাই তাকে নিয়েই যে কথা হচ্ছে এটুকুই আঁচ করতে পেরেছে সে।

খানিক বাদেই অন্য একজন মাঝ বয়সী মহিলা এসে নিপাকে নিয়ে যায় একটা রুমে। ফলমুল খেতে দেয়। খাওয়া দাওয়া শেষ হলে তাকে ঘুমুতে দেয় ।এই মহিলা বাঙ্গালী, বাড়ি মুন্সিগঞ্জে। কাশেম বেচারার কথা এতক্ষনে তার মনে পড়েছে। কাদতে কাদতে ঘুমিয়ে পড়েছে কখন মনে নেই। ভোর বেলা সমস্ত্ কাজ বুঝিয়ে দেয় ঐ মহিলা। মোটামুটি বুঝেও নেয় সে , কাজ তেমন বেশি না। কাপড় ধোয়া, আর ফ্লোর পরিষ্কার করা। ব্যস এটুকুই। সন্ধ্যা হতে হতে যাচ্ছে এমন সময় তার ডাক পড়ে রান্না ঘরের দিকে। মদের বোতল সাজিয়ে নিয়ে রেডি থাকতে বলেন মাঝ বয়সী ঐ মহিলা। এরই মধ্যে বুঝছে সে, এটা হচ্ছে আরব শেখ র একটা বাসা। নানান মানুষ আসছে। সবাইকে আপ্যায়ন চলছে। তার মতই আরও ৪ জন কাজের মহিলা আছেন এ বাড়িতে । এই শেখের ৯ জন স্ত্রী। সবাই আলাদা আলাদা রুমে থাকেন। ছেলে –মেয়ে আছেন অনেক গুলা। এখানেই ধাক্কা লাগে নিপা’র। মাঝ বয়সী মহিলাকে প্রশ্ন করেন।

– ও চাচী আম্মা। এই ব্যাডার এত গুলা বউ ক্যা? আমাগো তো ৪ ড্যার উফরে বিয়া করা না জায়েজ।
-যা বুঝো না সেইটা নিয়া কথা বইলোনা, এরা খারাপ। তোমার মিসকিন দেশের ইছলামের লগে এডি মিলাইলে কি চলবো ? আরও অনেক কিছুই দেখবা যেগুলা নাযায়েজ তোমাগো দেশে। তয় এইখানে সে সব যায়েজ! ।

গভির রাত ঘুমিয়ে পড়েছে নিপা । হঠাৎ চাচী আম্মা ডাকলেন তাকে । শেখ তাকে যেতে বলেছেন। সাথে এও বলে দিলেন যাই বলুক শেখ, সে যেন কোন প্রতিবাদ না জানায়।
ঘুম ঘুম চোখে ঠিক বুঝে উঠতে পারলো না সে কিই এমন হবে যে প্রতিবাদ না জানাই বলে গেল?
নিপার আর্তচিৎকারে ঘর টা ভরে গেছে। তার চিৎকার তার কানেই আবার ফিরে ফিরে আসছে। আরবের শিখ তাকে ধর্ষন করেছে। আরবী ভাষায় অনেক কিছুই বলেছে শিখ, কিন্তু তার কিছুই সে বুঝেনি। অজ্ঞানের মত পড়ে আছে নিপা। শিখ নেমে গেছে। বাইরে এতক্ষন অপেক্ষা করছিলো শিখেরই অন্য এক ছেলে। সে আগেই যেত, পিতার জুতা দেখে অপেক্ষা করতেছিলো, কখন আলাব(পিতা) বের হবেন।
নিপা ভাবছে, এই আল্লার দেশে এত খারাপ মানুষ! আল্লা নিশ্চ্যয়ই এদের উপর গজব নাজিল করতেন, শুধুমাত্র নবীজির দেশ বলে কিছু বলছেন ন। চাচী আম্মা বলেছেন, আরবীয়রা খারাপ।
এ তো হতে পারেনা। শেখ খারাপ হলেও আরব অবশ্যই খারাপ না, ইছলাম ধর্ম খারাপ না। ।

শেখ আলাব বের হবার সাথে সাথেই ছেলে ঘরে ঢুকে। সেও একই কায়দায় চালায় পাশবিক নির্যাতন। ভোর বেলা রক্তমাখা বিছানাতে শুয়ে আছে। সমস্ত শরীরে আঘাতের দাগ। ব্যাথায় নড়তেও পারছে না নিপা। ভাবছে, আরবের লোকজন এত জঘন্য! না না, এতো হতে পারে না।
এই পরিবার খারাপ হতে পারে, কিন্তু আরব খারাপ না। ছৌদি খারাপ না। ইছলাম ধর্ম খারাপ না। ভোর বেলা ব্যাথাভরা দেহের উপরেই আবারও ঝাপিয়ে পড়ে আরবীয়, সম্ভবত ছেলে বা রিলেটেড কেউ হবেন ঐ শেখের পরিবারেরই। যন্ত্রনা সইতে না পেরে এক পর্যায়ে কামড় বসিয়ে দেয় ঐ আরবের হাতে। এইই যেন কাল হলো নিপার। অমানুষিক নির্যাতন চালাতে থাকে এর ওপরে। এবার চিৎকার আর নিপার গলা থেকে বের হচ্ছেনা। চিৎকার করার মত শক্তি টুকুও সে হারিয়ে ফেলেছে। এমতাবস্থায় সে ভাবছে , আরবীয়রা খারাপ হতে পারে, ইছলাম খারাপ না , ছৌদি খারাপ না। ইছলাম’ই শ্রেষ্ঠ ধর্ম। নির্যাতনে র পর্ব শেষ হলে, ঘরে ঢোকেন বাঙ্গালী চাচী আম্মা!

-তরে আগেই তো, কইছিলাম কুনু প্রতিবাদে যাইছ না। হ্যাসে গ্যেলি ক্যান? কথা না হুইনা কিল্লিগা অহন মাইরডি খাইলি‍! আর অমন করিছ না। যা কয় মাইনা লইছ, নাইলে টেকাও পাইবি না আর ডেইলি মাইর খাইবি ফাও!…

বেশ কিছুদিন চলতে থাকে এমন নির্যাতন, এরই মধ্যে নিপা জেনেছে, এদেশের কালচার না এটা। বস্তুত এটাই ইছলাম ধর্ম, ধর্মে প্রকাশ্যেই বলা আছে দাসী /কাজের লোক ভোগ হালাল। এতে দুই পক্ষের কারওই কোন গুনাহ হবে না।বরং দাসী ভোগ মুনিবের জন্য হালাল ও দাসীর কর্তব্য।

দেড় বছর অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করার পরে দশ হাজার রিয়েল নিয়ে দেশে আসেন নিপা, যার বাংলাদেশ মুল্যমান প্রায় দুই লক্ষ টাকা। এত সব ঘটনার কিছুই জানেন না কাশেম, রকিব মিয়াও আর ফিরে যাননি ছৌদিতে। এখানে থেকেই বিয়ে থা করে সংসার করেছেন। হাটে একটা বড় মুদি দোকান দিয়েছেন, গাছের কারবারি শুরু করেছেন।

-ও নিপা, কও না ? ছৌদি দ্যাকতে কেমন ? হেইহানের মানুষ তো হারাদিন আল্লার বাষা আরবীতে কতা কয় , তুমি কিছু হেকো নাই আরবী?

নিপা দাঁত খিলখিল করে হাসে কাশেমের কথা শুনে।

-আরে হাইসোনা। এইবার আমিও যামু তোমার লগে। দুই জনে যদি ঠিকঠাকছে বছর চাইর থাক্তারি হেলেই অইবে, আইয়া দোহান দিমু, তুমি বাসায় থাকপা। টাহা গুলা ভাঙার দরকার নাই। রাইক্যা দেই । এইবার বাড়িই বেইচ্যা হালামু, টাহা টোহা সব মিলাইয়া হেরপরে যামুহানে দুই জামাই বউ একলগে।

কাশেম ছুঁতে যায় নিপাকে, নিপা বাঁধা দেয়,

-ধইর্যোপনা। সমেস্যা আছে ।
-কি সমেস্যা আবার তোমার ? অসুখ টসুক অইসে নাহি আবার ?
-আরে নাহ। আইজ ঘুমাও কাইল কমুহানে।
টাকাগুলো দুই জনের দুই বালিশের পাশে রেখে ঘুমিয়ে যায় এই দম্পতি।

নিপা চিন্তা করতে থাকে, সে তো অপবিত্র। স্বামীর হক সে, কিন্তু এখন আর সতী স্ত্রী নেই।
স্বামী র কাছে লুকিয়ে রাখাটাও অন্যায় হয়েছে। কিন্তু প্রত্যেকটা পাপ-ছোয়াবের সমান ভাগাভাগি হয় স্বামী স্ত্রীর মাঝে। এরপরে আবার যদি কাশেম ও তার সাথে বিদেশে যায় তাহলে তো সবই জেনে যাবে। রকিব মিয়াও তো সবই জানে নিশ্চয়ই। এখন কাশেম টাকার ঘোরে সব হয়তো ভুল বসে আছে। কাল সকালেই হয়তো তারও মনে পড়বে। এর চেয়ে চলে যাওয়াটাই বোধহয় শ্রেয়।

ছৌদি শেখ খারাপ, ছৌদি শেখের ছেলেরা খারাপ, তাদের আত্নীয় স্বজন সবাই খারাপ, ছৌদির মানুষ খারাপ, গোটা ছৌদি আরব খারাপ, তাদের ধর্ম খারাপ কিন্তু ইছলাম ধর্ম খারাপ না –
বিশ্বাস টা নিয়ে চলে যায় নিপা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “বিশ্বাস

  1. গৃহকর্মী পাঠানোর চুক্তি করে
    গৃহকর্মী পাঠানোর চুক্তি করে ফেলছে বাংলাদেশ সৌদির সাথে।কিন্তু হায় এই গৃহকর্মীর কেউই জানে না তাদের দ্বারা সৌদি শেখের গৃহের কোন কোন ‘কাম’ করানো হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

9 + = 12