বাসযোগ্য পৃথিবী চাই

শাড়ী বনাম চলমান তাঁবু।
 
ধর্ম নিয়ে লেখালেখি আমার অভ্যাস নয় যদিও, আর সেই অর্থে ধার্মিকও নই তাই ধর্ম নিয়ে আমার মাথা ব্যথাটা কোন কালেই ছিল না, কিন্তু ধর্মীয় কুসংস্কারের কারণে আজ আমাদের সমাজের চিত্রটার আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে, যা একটা রাষ্ট্রের জন্যে ভীষণ রকম অশনি সংকেত।
 
আমাদের প্রধানমন্ত্রী যখন মুখ খোলা অবস্থায় কালো বোরখায় আচ্ছাদিত হয়ে সৌদি আরবে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন চালু রাখতে ও সমর্থন চাইতে ওআইসি সম্মেলন যোগদান করেন তখন অনেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আমাদের সংস্কৃতির ঐতিহ্য শাড়ী পরিহিতা অবস্থায় বা শাড়িকে প্রাধান্য না দেয়াতে অখুশি হয়েছেন কিন্তু যখন মানিনীয় প্রধানমন্ত্রী আবার নিজেই বোরখায় আচ্ছাদিত হওয়াকে চলমান তাঁবুর সাথে তুলনা করেছেন তা নিয়ে ধর্মগুরুরা দারুন ভাবে বেজার হয়েছেন, তাদের মাঝে অনেকেই আবার মিডিয়াতে তাদের মনক্ষুন্ন হবার কথা প্রকাশ করেছেন।
 
আমার ছোটবেলার বন্ধু আমরা কাছে জানতে চেয়েছে :- “খণ্ডিত কোন সত্য দিয়ে যে কোন বিষয়কে বিশ্লেষণ করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়”। এই কথাটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত, কারণ প্রকৃত সত্য জানতে বা জানাতে হলে ধর্ম গ্রন্থগুলো কোন ভাবেই জটিল বা দুর্বোধ্য হওয়া উচিত নয়। আমরা যতটুকু জানতে চাই ততটুকুই যদি বুঝতে কঠিন হয়ে যায় তবে অনেকেই এই কঠিন দুর্বোধ্য বাণীগুলো বুঝতে পারে না, তাই হয়তো ধর্মের নামে এই সুন্দর বাস যোগ্য পৃথিবীকে বা বাংলাদেশকে যে ভাবে অস্থিতিশীল করে তোলা হচ্ছে সেটা মানব জাতীর জন্যে খুবই অনভিপ্রেত। ধর্মকে এখন রাজনীতিবিদরা রাজনৈতিক ব্যবসায় ব্যবহার করে যাচ্ছে বা করছে যেমন ধরুন সংসদে দাড়িয়ে প্রতিনিধিরা হরহর করে কোরান সুন্নাহর ব্যাখ্যা দিয়ে যাচ্ছেন কিন্তু এই সংসদে দাড়িয়ে কোন প্রতিনিধি কি একটিবারের জন্যে বলতে সাহস পাবেন যে ধর্ম শুধুই একটি গল্প আমাদের সংবিধানে ধর্মের কোনই প্রয়োজন নেই, বাংলাদেশে দুর্নীতিবাজ রাজনৈতিক লুটেরা তাদের সম্পদ প্রবাসে পাচার করার অভিলাষে দেশের মাটিকে একটি রাজনৈতিক ব্যবসার জায়গায় পরিণত করেছে যেখানে ধর্ম একটি উপলক্ষ মাত্র।
 
আস্তিকরা আজ নির্ভয়ে নাস্তিকদের হুমকি দিলেই আর রক্ষে নেই আইন তার ভূমিকা পালন করছে কিন্তু মিডিয়াতে ধর্ম গুরুরা যখন নারীদের নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করে বেড়াচ্ছেন ঠিক সে ধরনের প্রশ্নের জবাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিকারে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে খুব কৌশলে তা এড়িয়ে গিয়ে নারীদের সহজে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি নিজে কি ভূমিকা রাখছেন সে ফিরিস্তি শুনিয়ে দিলেন, দেশের ধর্মগুরু ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা একবারও ভেবে দেখছে না ধর্ম বিশ্বাস না করাটাও একটা নাগরিক অধিকার, যে কোন সংসদ সংসদে দাড়িয়ে ধর্মে অবিশ্বাসী হওয়াটাও জোর গলায় বলার অধিকার রাখে। এইসব দুর্নীতিবাজ হাইব্রিড রাজনৈতিক ধর্ম ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দেশকে উদ্ধার করতে নতুন প্রজন্মকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করাই হচ্ছে এক মাত্র উপায়। সংস্কৃতিকে ধর্মের অজুহাতে যতো বেশী আঘাত করা হবে তত বেশী নাস্তিক জন্ম নেবে, কারণ মানুষ একদিন বুঝতে পারবে ধর্ম একটি গল্পের নাম, অনেকের কাছেই তা আবার একটি বিশ্বাসের নাম, কাজেই রাষ্ট্র ধর্ম বহাল রাখা মানেই হচ্ছে খুবই চতুরতার সাথে সেকুলারিজামের নামে ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মকে মুখামুখি দাড় করিয়ে দেয়া।
 
সময় চলে যাচ্ছে দিন পার হয়ে যাচ্ছে, আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি , বাংলাদেশ পিছিয়ে যাচ্ছে। দেশের রাজনৈতিক দল গুলো আজ তাদের আদর্শ বিসর্জন দিয়ে ক্ষমতার দখলের দ্বন্দ্বে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলায় লিপ্ত মানবতাকে উপলব্ধি করতে হলে একজন মানুষকে যে ধর্মীয় মতবাদে বিশ্বাস করতেই হবে এমন তো কথা হতে পারে না, মানবতার দৃষ্টি নিয়ে মানুষকে ভালবাসতে হলে ধর্মের উপর নির্ভর না করলেও চলে, তাই নয় কি ? বুঝলাম সব ধর্মের মাঝেই শান্তির কথা বলা আছে, যদি তাই হবে তবে এই ধর্মীয় জঙ্গিবাদের উত্থান কেন ? ধর্মান্ধদের উন্মাদনার শেষ কোথায় ? ধর্ম যে শান্তির বাণী সেটা আমাদের কাছে সহজ ভাবেই বোধগম্য হলে isis এর কাছ সেটা দুর্বোধ্য কেন ? আনসারউল্ল্যা বাংলার কাছে সেটা দুর্বোধ্য কেন? তালেবান জঙ্গিদের কাছে সেটা কি এতটাই দুর্বোধ্য যে তারা ধর্মের নামে মানুষ হত্যা করে চলেছে ? বার্মাতে মুসলমানদের উপর কোন ধর্মের বাণী নিয়ে এই আক্রমণ ? শিব সেনারা কোন ধর্মের বাণীতে ভারতে নিরীহ মুসলমানদের উপর ঝাঁপিয়ে পরছে ? বোকাহারাম আজ কেন উন্মাদের মত আচরণ করে মানুষ হত্যায় নেমে পরেছে ? ধর্মের বাণী সবার কাছেই সহজ হওয়া উচিত যেন শান্তি প্রিয় মানুষ সেটা সহজে বুঝতে পারে আর এই পৃথিবীতে ধর্মের নামে হানাহানির অবসান ঘটে।
 
— মাহবুব আরিফ কিন্তু।
ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

80 − 73 =