পল্লবি -(শফিক আহমেদ )

পল্লবির সাথে আমার পরিচয় আজ এক বছর । পল্লবির সাথে আমার পরিচয় পুরো নাটকীয়ভাবেই ঘটে । সেদিন আমি আমায় কয়েক বন্ধুদের সাথে টিএসসি ক্যাফেটেরিয়রের কাছে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম । আমরা নিয়মিত এখানেই আড্ডা দেই । সেদিনও এর ব্যতিক্রম ছিল না । সেদিন চৈতি একটু দেরিতে এসেছিল । কারণ চৈতি ওর কাজিনের ক্যাম্পাসে গিয়েছিল । চৈতির কাজিন জাহাঙ্গীরনগর ভার্সিটিতে বাঙলায় অনার্স পড়ছে । তো চৈতি আমাদের সাথে যোগ দিল নিয়মিত আড্ডার বেঁধে দেয়া সময়ের থেকে আধঘন্টা পরে । আজ চৈতির সাথে একটা মেয়ে এসেছে । আমাদের ক্যাম্পাসের যে কেউ না তা বলাই যায় । কেননা , আমাদের ক্যাম্পাসের হলে অবশ্যই আগে পরিচয় থাকত । যেহেতু অপরিচিত মেয়ে সেহেতু আমাদের ক্যাম্পাসের কেউ না । চৈতি এসে আমার পাশে বসল । চৈতির পাশেই বসল অপরিচিত মেয়েটি । চৈতি আমার খুব ভাল বন্ধু । চৈতি আমার পাশে বসেই আমার কাঁধে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে বলতে লাগল ,
চৈতি: উফ ! খুব টায়ার্ড লাগছে । যা গরম পড়েছে । ইচ্ছে করছে কাপড় খুলে বসে থাকি । আমি বললাম ,
আমি বস না , কে ধরে রাখছে তোকে !
কাঁধ থেকে মাথা সরিয়ে আমার চুল মুঠি করে ধরে চৈতি বলল ,
চৈতি: গর্দভ , আমি ছোট থাকলে ঠিকই বসতাম । আমি হেসে বললাম ,
আমি: তুই বড় নাকি ! কই জানতাম না তো ।
চৈতি আমার চুল খুব জোরে টান দিল । আমি ব্যথা পেয়ে ওর হাতের মুঠি থেকে আমার চুল ছাড়িয়ে নিলাম । চৈতির সাথে আসা অপরিচিত মেয়েটি আমাদের এই কান্ড দেখে মুচকি হাসছে । মেয়েটির দিকে আমার চোখ পরল । মেয়েটিকে চুপচাপ থাকতে দেখে চৈতিকে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করলাম ,
আমি: মেয়েটি কে রে ? চৈতি অপরিচিত মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বলল ,
চৈতি: অহ ! এ হচ্ছে আমার কাজিন , পল্লবি । জাহাঙ্গীনগরের বাঙলায় অনার্স করছে । (পল্লবিকে) আর এরা আমার বন্ধু । (আমার দিকে) আর এ হচ্ছে আমার সবচেয়ে ভাল বন্ধু অপু ।
আমরা সকলেই চৈতির কাজিন পল্লবির সাথে পরিচিত হলাম । পল্লবি খুব শান্ত একটি মেয়ে । আমরা অনেক দুষ্টুমি করছি , কিন্তু পল্লবি একদম চুপচাপ । মাঝে মাঝে আমার আর চৈতির ঝগড়া , মারামারি দেখে মুখ টিপে মুচকি হাসছে । আমি চৈতির সাথে ঝগড়া , মারামারি করলেও বারবার পল্লবির দিকেই তাকাচ্ছিলাম । কি সুন্দর একটা শান্ত মেয়ে । চোখ দুটো পল্লবির খুব মায়াবি । যে কেউ চোখের মায়ায় পরে যাবে । সেদিন চৈতি বেশিক্ষন আড্ডা দিল না । রাত তখন সাড়ে নয়টা । চৈতি খুব টায়ার্ড তাই ও একটু তাড়াতাড়িই আমাদের থেকে বিদায় নিয়ে হলে চলে গেল । আমিও চৈতির চলে যাওয়ার দশ মিনিট পরেই বাসায় চলে গেলাম । কারণ চৈতি না থাকলে আড্ডা তেমন ঝমে না ।

বাসায় এসে কাঁধ থেকে ব্যাগটা টেবিলে রেখে কাপড় চেঞ্জ করলাম । বাবা এখনও বাসায় আসে নি । রাত এখন দশটা । বাবা প্রায় সময় বাসায় লেট করে ফিরে । আজকাল বাবা তার বিজনেস নিয়ে খুব ব্যস্ত । আমার মা নেই । সেই ছোটবেলায় আমাকে এই পৃথিবী দেখিয়েই চলে গিয়েছেন । মায়ের ভালবাসা কি তা আমি বুঝি না । যাই হোক ওয়াশ রুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বের হলাম । খাবার টেবিলে বসে খাওয়া শেষ করে ল্যাপটপ টা নিয়ে বসলাম । কিছুক্ষন ফেসবুক ব্যবহার করে ল্যাপটপটা বন্ধ করে টেবিলের উপর রেখে বিছানায় গা এঁলিয়ে দিলাম ঘুমানোর উদ্দেশ্যে ।

পরদিন ঘুম থেকে একটু তাড়াতাড়ি-ই উঠলাম । বিছানা ছেড়ে উঠে ওয়াশ রুমে গিয়ে ফ্রেশ হলাম , এরপর নাস্তা করে কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম । ক্যাম্পাসে পৌছে যথারীতি ক্লাস রুমে ঢুকলাম উদ্দেশ্য ক্লাস করা । কারণ , কয়েক সপ্তাহ পরেই পরীক্ষা । দুইটা ক্লাস করে টিএসসিতে আসলাম । মাথাটা প্রচন্ড ব্যথা করছে । এক কাপ কড়া চা খাওয়া দরকার । স্বপন মামাকে এক কাপ কড়া লিগারে রঙ চা বানাতে বলে একটা সিগারেট ধরালাম । স্বপন মামা চা দিল । বেঞ্চে বসে চা এবং সিগারেট খাচ্ছি । এমন সময় চৈতি আসল । পল্লবিও আছে চৈতির সাথে । চৈতি এসেই আমার মাথার চুল নেড়ে এলোমেলো করে দিল । তারপর আমার পাশে বেঞ্চে বসতে বসতে আমার হাত থেকে চায়ের কাপ ও সিগারেট জোর করেই কেড়ে নিল । তারপর চায়ের কাপে লম্বা এক চুমুক দিল এবং পরে সিগারেটে লম্বা টান । পল্লবি দাড়িয়ে আছে । মেয়েটা আসলেই একটু লাজুক । আমি উঠে দাড়িয়ে পল্লবিকে বললাম ,
আমি: এখানে বসুন । পল্লবি আমার দিকে তাকাল এবং মুচকি হেসে বেঞ্চে বসল । আমি পল্লবির হাসির অর্থ বুঝলাম না । বোকার মত তাকিয়ে ছিলাম পল্লবির দিকে । পল্লবির দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে চৈতি আমার পায়ে ওর পা দিয়ে খোঁচা দিল । আমি পল্লবির দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে চৈতিকে বললাম ,
আমি: নাস্তা করছিস ?
চৈতি: আমি কি কখনও বারটা পর্যন্ত বসে থাকি নাস্তা না করে !
আমি: তা করিস না ।
চৈতি: শোন , আজ ধানমন্ডি লেকে আসিস । সন্ধ্যার দিকে-ই আসিস ।
আমি আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করলাম ,
আমি: কেন , লেকে কি ?
চৈতি: তোকে আসতে বলছি , আসবি । প্রশ্ন করিস কেন এত ?
আমি: ঠিক আছে আসব ।
আমরা প্রায় ঘন্টাখানেক আড্ডা দিলাম । এই ঘন্টাখানেক সময়ে একটি বার পল্লবি কথা বলে নি । কিন্তু বারবার আমার দিকে তাকিয়ে মুখ চেপে হেসেছি । দুপুর হয়ে গিয়েছে । চৈতি হলে যাবে । তাই বিদায় নিয়ে চৈতি আর পল্লবি হলে চলে গেল । ওরা চলে যাওয়ার পর আমি একটি সিগারেট ধরিয়ে আনমনে লম্বা লম্বা টান দিতে লাগলাম ।

সন্ধ্যায় একটু আগেই বাসা থেকে রেডি হয়ে ধানমন্ডি লেকে উদ্দেশ্যে রওনা হলাম । লেকে পৌছে দেখি চৈতি ও পল্লবি দাড়িয়ে আছে । ওদের কাছে পৌছাতেই চৈতি বলল ,
চৈতি: এত দেরি করলি কেন গর্দভ ?
আমি: দেরি করলাম কোথায় ?
চৈতি আমার গালে থাপ্পড় দিতে দিতে বলল ,
চৈতি: চুপ শালা , কথা কম বল । পল্লবি সেই মুখ চাপা হাসি হাসছে । পল্লবি আজ শাড়ি পড়েছে । শাড়িতে পল্লবিকে খুব সুন্দর লাগছে । শাড়ির রঙটা আমার পছন্দের নীল রঙ । কিন্তু আজ চৈতি , পল্লবি এত সেঁজেছে কেন বুঝতে পারছি না । হঠাত্‍ চৈতি আমার হাত ধরে টানতে টানতে ছোট্ট একটা টেবিলের কাছে নিয়ে আসল । টেবিলের উপর একটা কেক । কেকের চারপাশে মোমবাতি জ্বলছে । আমি অবাক হয়ে চৈতিকে জিজ্ঞেস করলাম ,
আমি: এগুলো কি ?
চৈতি একটি ছোট্ট চাকু হাতে নিয়ে আমার গলার কাছে আনতে আনতে বলল ,
চৈতি: গাধা, আজকে তুই পয়দা হইছিস । মনে আছে তোর ?

আজ আমার জন্মদিন অথচ আমিই জানি না । এই ভেবে কপালে হাত দিয়ে চৈতিকে জিজ্ঞেস করলাম ,
আমি: তুই জানলি কি করে আজ আমার জন্মদিন ?
চৈতির চাকুটা আমার হাতে দিতে দিতে বললে ,
চৈতি: যেভাবে ইচ্ছে জেনেছি । তুই কেক কাট গাধা ।
পল্লবি চৈতির পাশেই দাড়িয়ে আছে । চৈতি গিফটও এনেছে । একটা শার্ট কিনে এনেছে চৈতি । পল্লবিও একটা গিফট এনেছে । কিন্তু গিফটটা খুব ভাল করে প্যাকিং করা । তাই দেখতে পারলাম না কি গিফট । মোমবাতির আগুন নিভিয়ে কেক কাটলাম । চৈতিই প্রথম এক টুকরো কেক হাতে নিয়ে আমার মুখে দিতেই যাচ্ছিল । আমার চোখ থেকে টপ করে জল ওর হাতে পরার কারণে কেকটা টেবিলে রেখে বলল ,
চৈতি: গাধা, আজ কাঁদছিস কেন !
আমি চোখের জল মুছতে মুছতে বললাম ,
আমি: কাঁদছি না । চোখে কি যেন পরেছে ।
আসলে চোখে কিছুই পরে নি । জন্মের পর এই প্রথম আমার জন্মদিন কেউ সেলিব্রেট করছে । তাই চোখে জল এসে গেল । আমি টেবিলে রাখা কেক থেকে এক টুকরো হাতে নিয়ে চৈতিকে খাইয়ে দিলাম , চৈতিও আমাকে এক টুকরো খাওয়ালো । এরপর আমি এক টুকরো হাতে নিয়ে পল্লবির দিকে ঘুরলাম । পল্লবি আমার দিকে তাকিয়ে আছে । চোখে চোখ পরতেই পল্লবি চোখ নামিয়ে নিল । পল্লবির মুখে কেকের টুকরোটা দিলাম । পল্লবি ছোট্ট একটা কামড় দিয়ে কেকের টুকরো থেকে একটু খানি খেলো । রাত নয়টা পর্যন্ত আমরা খুব মজা করলাম , গল্প করলাম । এরপর চৈতি ও পল্লবিকে একটা রিকসা করে দিলাম সুফিয়া কামাল হল পর্যন্ত । আমি পল্লবি ও চৈতির গিফট নিয়ে বাসায় ফিরে আসলাম ।

বাসায় এসেই পল্লবির দেয়া গিফটের প্যাকিং খুললাম । প্যাকিং খুলতেই দেখলাম খুব দামি একটা ঘড়ি । ঘড়িটা খুব সুন্দর । পল্লবির দেয়া গিফটটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে । গিফট যে দিয়েছে সেই পল্লবিকেও আমার খুব ভাল লাগে । শান্ত , লাজুক একটা মেয়ে । গিফটগুলো টেবিলের উপর রেখে আমি শুয়ে পরলাম বিছানায় ।

পরদিন ঘুম ভাঙল অনেক দেরিতে । ঘুম তখনও ভাঙত কিনা কে জানে । ফোনে কল এসেছে । তাই ঘুম ভেঙে গিয়েছে । কল রিসিভ করে বললাম ,
আমি: হ্যালো , কে বলছেন ? নাম্বারটা অপরিচিত ছিল । অপর প্রান্ত থেকে একটি মিষ্টি কন্ঠের মেয়ে বলল ,
অপরিচিত মেয়ে: আমি পল্লবি । আপনি কোথায় ?
পল্লবি নামটা শুনেই লাফ দিয়ে উঠে বিছানায় বসলাম । থতমত খেয়ে জিজ্ঞেস করলাম ,
আমি: আপনি আমার নাম্বার কোথায় পেয়েছেন ?
পল্লবি: পেয়েছি , পেয়েছি । আপনি দ্রুত টিএসসি আসেন । আপনার সাথে জরুরি কথা আছে ।
আমি কি কথা !
পল্লবি: আছে আপনি আগে আসুন । এই বলেই পল্লবি কল কেটে দিল । আমি ফোনটা বিছানায় রেখে ওয়াশ রুমে গেলাম । ফ্রেশ হয়ে , নাস্তা করে চৈতির দেয়ার শার্টটা পরলাম । আর পল্লবির দেয়া ঘড়িটা হাতে দিলাম । এরপর বাসা থেকে টিএসসির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম ।

আধঘন্টা পর টিএসসি পৌছালাম । পৌছেই দেখি পল্লবি একা বসে আছে স্বপন মামার দোকানের সামনে । আমি গিয়ে পল্লবির পাশে বসলাম । বসতেই পল্লবি উঠে দাড়াল এবং বলল ,
পল্লবি: চলুন ।
আমি দাড়ালাম এবং পল্লবির দিকে তাকিয়ে বললাম ,
আমি: কোথায় যাবো ?
পল্লবি: আমি যেখানে নিয়ে যাবো সেখানে । জাহান্নামে হলে জাহান্নামেই ।
আমি পল্লবির এধরনের কথা শুনে রীতিমত অবাক । যে মেয়ে এত শান্ত সে মেয়ে এত চটপটে কথা কি বলে ! পল্লব একটা রিকসা ঠিক করে উঠে বসল । আমাকেও উঠতে বলল । কি আর করা আমিও উঠে বসলাম । রিকসায় পল্লবির পাশে আমি বসে । কিছুটা নার্ভাস লাগছে । আমার নার্ভাস মুখ দেখে পল্লবি হেসে দিল । পল্লবি রিকসা থামাল একটা কফিসপের সামনে । রিকসা ভাড়া পল্লবিই দিল এবং ভাড়া দিয়ে কফিসপের ভিতরে ঢুকল । বাধ্য ছেলের মত আমিও পল্লবির পিছু পিছু কফিসপে ঢুকলাম । কফিসপে ঢুকে একটা নিরিবিল স্থানে বসলাম । পল্লবি কফি অর্ডার দিল । কফি আসল । পল্লবি কফির কাপে চুমুক দিচ্ছে । আমি পল্লবির এই রকম ব্যবহার দেখে রীতিমত অবাক । শান্ত , লাজুক পল্লবি আজ কতটা উচ্ছল । আমি কাপে চুমুক দিয়ে কফি খেলাম । পল্লবি ওর কাপটা টেবিলে রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল ,
পল্লবি: অপু আপনাকে কিছু কথা বলব । জানি না আপনি কথাগুলো কিভাবে গ্রহন করবেন ।
আমিও পল্লবির দিকে তাকিয়ে বললাম ,
আমি: ঠিক আছে বলুন ।
পল্লবি মাথা নিচু করে বলল ,
পল্লবি: আসলে অপু , মানে , আমি আপনাকে ভালবাসি ।
ভালবাসি কথাটি শুনে আমি তো অবাক । আমি চুপ করে পল্লবির দিকে তাকিয়ে আছি । পল্লবি মাথা নিচু করেই আছে । মিনিট পাঁচেক চুপ থাকার পর আমি বললাম ,
আমি: সেইম টু ইউ ।
কথাটি শুনে পল্লবি আমার দিকে তাকাল । সেদিন অনেক্ষন কফিসপে ছিলাম আমরা । এরপর কফিসপ থেকে বের হয়ে রিকসা নেই । রিকসায় করে টিএসসি পৌছাই । আমি টিএসসি নেমে যাই আর পল্লবি রিকসাতে করেই চৈতির হলে পৌছায় । ঘন্টাখানেক টিএসসিতে অন্যান্য বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেই ।

আস্তে আস্তে পল্লবির সাথে আমার সম্পর্কটা গভীর হতে থাকে । পল্লবি তার ক্যাম্পাসে চলে যায় । নিয়মিত কথা হচ্ছে ফোনে । ভালবাসা ধীরে ধীরে গভীরতা পেতে থাকে । পল্লবির প্রতি আমার একটা মায়া চলে আসে ।

সম্পর্ক হওয়ার পাঁচ মাস পরের ঘটনা । পল্লবি আবার ঢাকা এসেছে । পল্লবির ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়েছে । কিছুদিন ভার্সিটি বন্ধ । এই ছুটিতে পল্লবি গ্রামে যাবে ঠিক করেছে । পল্লবিদের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম । সেদিন বিকেলে পল্লবি একা টিএসসিতে আসে সে গ্রামে যাবে এই কথা জানাতে । আমাকে ওর সাথে নিতে চেয়েছে । কিন্তু আমার পরীক্ষা তাই ইচ্ছে থাকলেও আমি যেতে পারব না । সেদিন বেশ কিছুক্ষন সময় আমার সাথে কাটাল পল্লবি । রাত সাড়ে নয়টার দিকে পল্লবিকে চৈতির হলের কাছে পৌছে দিয়ে আমি বাসায় চলে যাই । পল্লবির সাথে আমার যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে তা চৈতি জানে এবং এতে চৈতিরও সমর্থন আছে ।

পরদিন বিকেলে পল্লবি গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয় । যাওয়ার সময় পল্লবি আমাকে ফোন দেয় ।

গ্রামে বেশ কিছুদিন কাটায় পল্লবি । ওর বাবা মাকে আমার কথাও বলে দিয়েছে পল্লবি । গ্রামে থাকা অবস্থায় নিয়মিত ফোন করত পল্লবি ।

বেশ কয়েক সপ্তাহ গ্রামে কাটাল পল্লবি । এই দিকে ক্যাম্পাস খোলার সময়ও হয়ে গেছে পল্লবির । গ্রাম থেকে ফিরার আগের দিন পল্লবির ফোন আসল । পল্লবি জানাল আগামী কাল ও ঢাকা আসবে । আমি প্রায় কয়েক সপ্তাহ পল্লবিকে কাছে না পেয়ে প্রায় অস্তির হয়ে গিয়েছি । ঠিকমত আড্ডা না দিয়ে পড়াশুনায় ব্যস্ত হই যাতে পল্লবির শূন্যতা কিছুটা হলেও ভুলে থাকতে পারি । যাই হোক পরের দিন রাত আটটার ট্রেনে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে চেপে বসল । পল্লবির বাবা পল্লবিকে ট্রেনে উঠিয়ে দিতে ষ্টেশন পর্যন্ত আসল । পল্লবি ট্রেনে উঠেই আমাকে ফোন করে জানাল , ও ট্রেনে উঠেছে । আমিও কিছু স্বস্তি পেলাম পল্লবি আসছে এই কথা শুনে । দীর্ঘ শূন্যতার অবসান ঘটতে যাচ্ছে । যান্ত্রিক ত্রুটির ফলে ট্রেন ছাড়তে আধঘন্টা লেট হল । ট্রেন ছাড়তেই পল্লবি আমাকে জানাল । ট্রেনে থাকাকালীন সময় পল্লবির সাথে ঐটাই আমার শেষ কথা ।

পরদিন সকাল আটটার মধ্যেই চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি ঢাকা পৌছালো । আমি কমলাপুর ষ্টেশনে পল্লবির জন্য অপেক্ষা করছি । ট্রেন থেকে সকলেই নামছে , কিন্তু পল্লবিকে দেখতে পাচ্ছি না । প্রায় আধঘন্টা অপেক্ষা করে আমি পল্লবির ফোনে কল করলাম , কিন্তু ফোন আউট অফ রিচ । পল্লবির ফোন সহজে অফ থাকে না । কি হয়েছে পল্লবির । আমি ষ্টেশন মাস্টারের রুমে গেলাম । ষ্টেশন মাস্টার কিছুটা ব্যস্ত ছিলেন তবুও আমি ষ্টেশন মাস্টার কাছে যাই এবং তাকে জিজ্ঞেস করি ,
আমি: আংকেল এইমাত্র যে ট্রেনটা আসল ওটা কি চট্টগ্রাম থেকে এসেছে ?
ষ্টেশন মাস্টার কি যেন লিখছে । লিখতে লিখতেই জবাব দিল ,
ষ্টেশন মাস্টার: হ্যাঁ ।
আমি ষ্টেশন মাস্টারের উত্তর শুনে শকড । তবে পল্লবি কোথায় ? ওর তো এই ট্রেনেই আসার কথা । আমি আবার ষ্টেশন মাস্টারকে প্রশ্ন করলাম ,
আমি: আংকেল , চট্টগ্রাম থেকে আসা ঐ ট্রেনে কি পল্লবি নামের মেয়ে এসেছিল জানা যাবে ? এবার ষ্টেশন মাস্টার আমার দিকে তাকাল । আমার দিকে তাকিয়ে থেকে আবার কি যেন লিখতে লিখতে জবাব দিল ,
ষ্টেশন মাস্টার: দেখো বাবা কে কোন ট্রেনে এসেছে তা আমি কি বলব ?
আমি পুরোপুরি শকড । ট্রেন ছাড়ার পরেই তো পল্লবি আমাকে ফোন করেছিল । তবে পল্লবি কোথায় গেলো ?
আমি হতাশা নিয়ে ষ্টেশন মাস্টারের রুম থেকে বেরিয়ে এসে চট্টগ্রাম থেকে সদ্য আসা ট্রেনে কাছে গিয়ে পল্লবির খোঁজ করতে থাকলাম । কিন্তু পল্লবিকে পেলাম না । দুপুর একটার সময় ক্লান্তি এবং হতাশা নিয়ে বাসায় ফিরে গেলাম ।

বাসায় ফিরে বিছানায় শুয়ে পরলাম । খুব হতাশ হয়ে গিয়েছি । পল্লবি কোথায় গেলো । হঠাত্‍ ড্রয়িং রুম থেকে টিভির শব্দ আসলো । বাবা আজ বাসায় আছে । বাবা টিভিতে খবর দেখছে । আমি ড্রয়িং রুমে গেলাম । বাবা সোফায় বসে আছে । আমি বাবার পাশে সোফায় বসলাম । মাথাটা খুব ব্যথা করছে । এক কাপ চা খাওয়া দরকার । চা বানাতে যাওয়ার জন্য সোফা ছেড়ে উঠে দাড়ালাম । হঠাত্‍ টিভিতে খবর দেখতে পেলাম কুমিল্লা ষ্টেশন থেকে কিছুটা দূরে একটা জঙ্গলে একটি মেয়ের লাশ পাওয়া গিয়েছে । মেয়েটির শরীর আগুনে ঝলসানো । খবরটা দেখেই আমি চৈতিকে ফোন দিলাম । চৈতি ফোন রিসিভ করল ,
আমি: চৈতি পল্লবি কোথায় ? ও কি তোর সাথে ?
চৈতি: না তো । ও তো এখনও ফিরে নি । আর ওর ফোনটাও আউট অফ রিচ । আংকেল আমাকে ফোন করেছিল , পল্লবি ফিরেছে কিনা জানতে ।
চৈতির এই কথা শুনেই আমি কল কেটে দেই । এবং রুমে গিয়ে ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পরি ।

কুমিল্লা যাচ্ছি । উদ্দেশ্য ঐ মৃত মেয়ের সম্পর্কে তথ্য নেয়া । আমি কিছুটা সন্দেহ করতে লাগলাম । ঐ লাশটিই কি পল্লবি ? বিকেলের দিকে কুমিল্লা থানায় পৌছালাম । থানার ওসি থানাতেই ছিল । আমি ওসি সাহেবের রুমে ঢুকলাম । ওসি সাহেব আমাকে দেখেই বলল ,
ওসি: কে আপনি ?
আমি চেয়ারে বসতে বসতে বললাম ,
আমি: আমি কিছু তথ্য জানতে চাচ্ছি । প্লিজ হেল্প মি ।
ওসি সাহেব আমার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে বলল ,
ওসি: হ্যাঁ বলুন কি সাহায্য করতে পারি ?
আমি: আজ আপনারা পুড়ে যাওয়া যে মেয়েটির লাশ পেয়েছেন তার সম্পর্কে কি কিছু জানতে পেরেছেন ?
ওসি: মেয়েটি আপনার কে হয় ?
আমি: দেখুন আমার একজন চট্টগ্রাম থেকে কাল ঢাকা আসার কথা ছিল । কিন্তু এখন পর্যন্ত ঢাকা পৌছায় নি । তাছাড়া তার ফোনটাও আউট অফ রিচ ।
ওসি: দেখুন আমরা যে মেয়েটির লাশ পেয়েছি , তার সাথে আমরা একটা ব্যাগ পেয়েছি । ব্যাগে কি আছে আমরা এখন চেক করি নি । নিশ্চই ওই ব্যাগ থেকে আমরা কিছু তথ্য পেতে পারি ।
আমি উদ্বিগ্ন কন্ঠে বললাম ,
আমি: আমি কি ঐ ব্যাগটা দেখতে পারি ?
ওসি সাহেব আমার দিকে কিছু তাকিয়ে রইল এরপর হাবিলদারকে ডাকল । হাবিলদার ওসির রুমে আসলে ওসি হাবিলদারকে লাশের সাথে পাওয়া ব্যাগটি নিয়ে আসতে বলল । হাবিলদার ব্যাগটি আনতে চলে গেল । কিছুক্ষন পর হাবিলদার ব্যাগ নিয়ে ওসির রুমে আসল এবং টেবিলের উপর ব্যাগটা রাখল । ব্যাগটা দেখেই আমি চিনে ফেলি । কারণ ব্যাগটা পল্লবির । আমি দ্রুত ব্যাগটা নিয়ে ব্যাগটা খুলি এবং ব্যাগে থাকা কাগজগুলো দেখে নিশ্চিত হই ঐ পুড়ে যাওয়া লাশটা অন্য কারো নয় পল্লবির ই । আমি ওখানে ঐ অবস্থাতেই অজ্ঞান হয়ে যাই । যখন জ্ঞান ফিরল তখন আমি হাসপাতালের বিছানায় । চৈতি আমার পাশে আমার হাত ধরে বসে আছে । আমি চৈতির দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছি । চৈতির চোখে জল । আমি চৈতিকে জিজ্ঞেস করলাম ,
আমি: পল্লবি কোথায় ?
চৈতির চোখ দিয়ে অঝর ধারায় জল টপটপ করে গাল বেয়ে পরতে লাগল ।

সপ্তাহখানেক হাসপাতালে থাকার পর বাসায় ফিরলাম । শরীর ও মন উভয় ই খুব দূর্বল । বাসায় ফিরে দেখি বাবা নেই । বাবা বিজনেস নিয়ে এতটাই ব্যস্ত যে আমার কোন খোঁজ খবর ই তার রাখার সময় নেই । মনে হয় বিজনেস ই তার সন্তান , আমি কেউ না । যাই হোক আমি আমার রুমে যাই । রুমে ঢুকতেই চোখে পরল আমার জন্মদিতে দেয়া পল্লবির ঘড়িটি । টেবিলে রাখা ছিল ঘড়িটা । টেবিলের কাছে এগিয়ে গিয়ে হাতে তুলে নেই ঘড়িটা । পল্লবির একমাত্র স্মৃতি বলতে এই ঘড়িটাই আমার কাছে আছে । হঠাত্‍ মনে পরল পল্লবির লাশটা কোথায় ? কথাটা মনে পরতেই ছুটলাম কুমিল্লায় ।

কুমিল্লা থানায় ওসির রুমে ওসির সাথে কথা বলছি । ওসি সাহেবকে জিজ্ঞেস করলাম ,
আমি: ওসি সাহেব আচ্ছা , পল্লবির লাশটা কোথায় ?
ওসি: ওর লাশ ওর বাবা মা নিয়ে গেছে । আমি চুপচাপ কিছুক্ষন বসে আছে ।
আমি: আচ্ছা পল্লবির মৃত্যুর কারণ কি আপনারা জানতে পেরেছেন ?
ওসি: হ্যাঁ । পোসমোর্টেম রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে উনার ধর্ষনের ফলে মৃত্যু হয়েছে । অর্থাত্‍ উনাকে ধর্ষন করে খুন করা হয় এবং খুনের পর গায়ে আগুন দিয়ে শরীর পুড়িয়ে দেয়া হয় , যাতে কেউ লাশটা শনাক্ত করতে না পারে ।
ওসি সাহেবের কথা শুনে আমি স্তম্ভিত হয়ে গেলাম । চারদিক অন্ধকার লাগছে । নিজেকে সামলে নিয়ে ওসি সাহেবকে জিজ্ঞেস করলাম ,
আমি: ও তো ট্রেনে ছিল । তাহলে চলন্ত ট্রেন থেকে পল্লবি কুমিল্লায় নেমেছিল কেন ?
ওসি: আসলে ঐ দিন যান্ত্রিক ত্রুটির ফলে কুমিল্লা স্টেশনে ট্রেন থেমেছিল । হয়ত উনি স্টেশনে নেমেছিল । আমরা স্টেশনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি ।
আমি থ হয়ে বসে আছি । আমি কখনও কারও কাছ থেকে ভালবাসা পাই নি । একমাত্র পল্লবি আমাকে খুব ভালবাসতো , আমিও পল্লবিকে খুব ভালবাসতাম । সেই পল্লবিকে আমার থেকে কেড়ে নিল । কি অপরাধ করেছিলাম আমি !

প্রায় মাসখানেক সময় পেরিয়ে গেছে । আজকাল ঠিকমত ভার্সিটি যাই না । পরীক্ষাও দেই নি । চৈতি মাঝে মাঝেই ফোন দেয় কিন্তু রিসিভ করি না । সবার থেকে আমি একদম দূরে থাকি । আলো ছেড়ে অন্ধকারে কাটাই জীবনের বেশিটা সময় । সপ্তাহখানেক পর কুমিল্লা থানার ওসির ফোন পেলাম । কল রিসিভ করে ,
আমি: হ্যালো , ওসি সাহেব বলুন ।
ওসি: অপু সাহেব , আমরা ধর্ষক ও খুনিকে ধরতে পেরেছি । আপনি কি একটু কষ্ট করে কুমিল্লায় আসতে পারবেন ?
আমি: জ্বি হ্যাঁ আমি আসছি ।
বলেই কল রেখে দিলাম এবং কুমিল্লার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে রওনা হলাম ।

আমি ওসি সাহেবের রুমে বসে আছি । ওসি সাহেব থানায় আসে নি । হাবিলদার আমাকে এক কাপ চা দিয়ে গেল আর জানালো পাঁচ মিনিট পরেই ওসি সাহেব আসবে । পাঁচ মিনিট পরেই ওসি সাহেব আসলো । ওসি সাহেব তার চেয়ারে বসতে বসতে বলল ,
ওসি: অপু সাহেব , সরি একটু লেট করে ফেললাম ।
আমি: না না সমস্যা নেই ।
ওসি সাহেব একটা ফাইল নিয়ে কি যেন দেখছে । কিছুক্ষন পর ফাইলটা রেখে আমার দিকে তাকিয়ে ওসি সাহেব বলল ,
ওসি: অপু সাহেব আমরা ধর্ষককে ধরতে সক্ষম হয়েছি । আমরা তার কাছ থেকে সব খবর বের করতে পেরেছি ।
আমি: আচ্ছা আপনারা কি এটা জানতে পেরেছেন কেন ওরা পল্লবিকে ধর্ষন করল ?
ওসি: হ্যাঁ জানতে পেরেছি । ওরা নয় একজন ছিল । আর সে কোন প্রফেশনাল কিলার কিংবা ধর্ষক নয় । সেদিন ট্রেনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কুমিল্লা স্টেশনে ট্রেন থেমেছিল । ত্রুটি ঠিক করতে অনেক লেট হয় । সিসি টিভি ফুটেজ থেকে আমরা জানতে পারি , ট্রেনের অন্যসব যাত্রির সাথে পল্লবিও সেদিন স্টেশনে নেমেছিল । সিসি টিভির ফুটেজ থেকে আমরা জানতে পারি যে পল্লবি সেদিন এক সিএনজি তে উঠেছিল ।
আমি আশ্চর্যান্বিত হয়ে প্রশ্ন করি ,
আমি: পল্লবি সিএনজিতে কেন উঠেছিল ?
ওসি: ওই ধর্ষকের জবানবন্দি থেকে আমরা জানতে পারি , পল্লবি তখন স্টেশনেই বসে ছিল । অন্যান্য যাত্রিরা দ্রুত ঢাকা যেতে বিভিন্ন উপায় খুঁজে । পল্লবিও সেদিন ঢাকা দ্রুত যাওয়ার জন্য উপায় খুঁজছিল । সেদিন একটি সিনজি স্টেশনের বাইরে দাড় করানো ছিল । পল্লবি সেদিন ঐ সিএনজি ভাড়া করল ঢাকা যাওয়ার জন্য । পল্লবি সিএনজিতে উঠল । স্টেশন থেকে কিছু দূর যাওয়ার পর সিএনজি থামাল ড্রাইভার । ড্রাইভার মদ্যপান করা অবস্থায় ছিল । সিএনজি থামিয়ে জোর করে সিএনজি থেকে পল্লবিকে নামায় ও পাশে জঙ্গলে নিয়ে যায় । এরপর জোর করে সিএনজি ড্রাইভার পল্লবিকে মদ খাওয়ায় এবং জোর করে পল্লবিকে ধর্ষন করে । ধর্ষনের পর প্রমাণ লোপাট করতে অর্থাত্‍ যাতে পল্লবিকে কেউ যাতে চিনতে না পারে তাই গায়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় ।
ওসি সাহেবের থেকে সব কথা শুনে আমার চোখ দিয়ে জল গাল বেয়ে টপটপ করে পরতে থাকল । আমি থানা থেকে বের হই এবং বাসায় চলে আসি ।

বাসায় ফিরে আমি রুমে ঢুকলাম । বিছানায় শুয়ে পরলাম । আর ভাবতে থাকলাম পল্লবির সাথে কাটানো প্রতিটা রোমান্টিক মূহুর্ত মনে করতে লাগলাম ।

আজ প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেছে । পল্লবির সাথে কাটানো মূহুর্তগুলো আজও আমার কাছে সেই এক বছর আগের মতই সজিব । আমার পুরোটা হৃদয় জুড়ে আজও পল্লবি । আমি আজও আমার হৃদয়ের পুরোটা জায়গা জুড়েই পল্লবিকে রেখেছি ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 2