মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, নবীকে অপমান বা ইসলামকে অপমান আপনি নিজেই বেশী করছেন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি পয়লা বৈশাখে এক বক্তব্যে বলেছেন , মুহাম্মদকে তথা ইসলামকে নিয়ে নোংরা কথা না বলতে। অর্থাৎ আপনি ইসলামকে অপমান করতে নিষেধ করেছেন। কথাগুলো সজ্ঞানে নাকি অজ্ঞানে বলেছেন , সেটা অজ্ঞাত। তবে কোরান হাদিস বিচার করলে , দেখা যাবে , আপনি নিজেই ইসলামকে বেশী অপমান করছেন। আপনার এইসব কথা , আপাত: আপনার গদিকে নিশ্চিত করতে পারে , কিন্তু সার্বিকভাবে তা দেশ ও জাতির জন্যে অপুরনীয় ক্ষতির কারন হচ্ছে। ঠিক এভাবেই মৌলবাদীদেরকে তোষন করতে গিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রটি শেষ হয়ে গেছে।

আমরা জানি না , আপনি কোরান হাদিস নিজের মাতৃভাষায় পড়েন কি না। যদি পড়ে থাকেন , তাহলে দেখবেন , ইসলাম নিয়ে সবচাইতে বেশী নোংরামি আপনিই করছেন , হয়ত সেটা না জেনে করছেন , অথবা জেনেও না জানার ভান করে করছেন। কোরান ও হাদিস খুব স্পষ্ট করে বলেছে – নারীরা হলো পুরুষ মানুষের অর্ধেক মর্যাদার , আর তাই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রধান আসন তো বটেই , এমন কি কোন দপ্তরের প্রধান হওয়ার অধিকারও নারীদের নেই। অথচ আপনি দিব্যি বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রীর আসনে বসে আছেন দীর্ঘদিন ধরে। এটাই হলো আপনার ইসলাম নিয়ে নোংরামি। দেখুন কোরানে লেখা –

সুরা বাকারা -২: ২৮২: দুজন সাক্ষী কর, তোমাদের পুরুষদের মধ্যে থেকে। যদি দুজন পুরুষ না হয়, তবে একজন পুরুষ ও দুজন মহিলা।

এখন আপনি বলবেন উক্ত আয়াতের প্রেক্ষাপট দেখতে হবে ? ভাল কথা , উক্ত আয়াতের ব্যখ্যা স্বয়ং মুহাম্মদ নিজেই যা দিয়ে গেছেন , সেটা একটু দেখুন –

সহিহ বুখারী :: খন্ড ১ :: অধ্যায় ৬ :: হাদিস ৩০১
সা’ঈদ ইব্ন আবূ মারয়াম (র) ……… আবূ সা’ঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, একবার ঈদুল আযহা বা ঈদুল ফিতরের সালাত আদায়ের জন্য রাসূলুল্লাহ্ (সা) ঈদগাহের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি মহিলাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেনঃ হে মহিলা সমাজ! তোমরা সাদকা করতে থাক। কারন আমি দেখেছি জাহান্নামের অধিবাসীদের মধ্যে তোমরাই অধিক। তাঁরা আরয করলেনঃ কী কারনে, ইয়া রাসূলুল্লাহ্? তিনি বললেনঃ তোমরা অধিক পরিমাণে অভিশাপ দিয়ে থাক আর স্বামীর না-শোকরী করে থাক। বুদ্ধি ও দীনের ব্যাপারে ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও একজন সদাসতর্ক ব্যক্তির বুদ্ধি হরণে তোমাদের চাইতে পারদর্শী আমি আর কাউকে দেখিনি। তাঁরা বললেনঃ আমাদের দীন ও বুদ্ধির ঘাটতি কোথায়, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! একজন মহিলার সাক্ষ্য কি একজন পুরুষের সাক্ষের অর্ধেক নয়? তাঁরা উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ’। তখন তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে তাদের বুদ্ধির ঘাটতি। আর হায়য অবস্থায় তারা কি সালাত ও সিয়াম থেকে বিরত থাকে না? তাঁরা বললেন, ‘হাঁ’। তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে তাদের দীনের ঘাটতি।

অর্থাৎ উক্ত ২: ২৮২ আয়াত ও এই হাদিস মোতাবেক , নারীরা হলো বুদ্ধিতে হীন তথা মূর্খ। আর সেই কারনেই নারীরা হলো পুরুষের অর্ধেক। গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে , একজন পুরুষ যদি পুর্নাঙ্গ ভোটার হয়, তাহলে তার অর্ধেক মর্যাদার নারীর কোন ভোটাধিকারই থাকতে পারে না। আর তাই সে পারে না দেশের প্রধানমন্ত্রী তো দুরে থাক , কোন একটা দপ্তরেরও প্রধান হতে। এটাই ইসলামী বিধান।

যেহেতু নারীরা হলো পুরুষের অর্ধেক , তাই , তারা আসলে কুকুর ও শয়তানের সমান। দেখুন হাদিসেই সেটা বলছে –

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৪ :: হাদিস ১০৩২:
আবু যার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন নামাযে দাঁড়ায়, সে যেন হাওদার খুটির ন্যায় একটি কাঠি তার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। সে যদি তার সামনে হাওদার পিছনের খুটির ন্যায় একটি কাঠি দাঁড় করিয়ে না দেয়- এমতাবস্থায় তার সামনে দিয়ে গাধা, স্ত্রীলোক এবং কালো কুকুর যাতায়াত করলে তার নামায নষ্ট হয়ে যাবে। (আবদুল্লাহ ইবনে সামিত (রা) বলেন): আমি বললাম, হে আবু যার (রা)! কালো কুকুরের কি অপরাধ, অথচ লাল ও হলুদ বর্ণের কুকুরও তো রয়েছে। তিনি বলেলেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তুমি আমাকে যে প্রশ্ন করেছ, আমিও রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অনুরূপ প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি উত্তরে বলেছেন : কালো কুকুর হল একটি শয়তান।

নারীরা হলো কাল কুকুরের সমান , আর কাল কুকুর যেহেতু শয়তান , তাই নারীরা আসলে শয়তান।

নারীরা যেহেতু কুকুর ও শয়তান , আর তাই তাদেরকে পেটানো যায় যদি তারা সামান্য বেয়াড়াপনা করে। বেয়াড়া ষাড়কে আমরা মাঝে মাঝে পেটাই। ঠিক সেভাবেই নারীকে পেটাতে বলেছে কোরানে , দেখুন –

সুরা নিসা-৪: ৩৪: পুরুষেরা নারীদের উপর কৃর্তত্বশীল এ জন্য যে, আল্লাহ একের উপর অন্যের বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং এ জন্য যে, তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে। সে মতে নেককার স্ত্রীলোকগণ হয় অনুগতা এবং আল্লাহ যা হেফাযতযোগ্য করে দিয়েছেন লোক চক্ষুর অন্তরালেও তার হেফাযত করে। আর যাদের মধ্যে অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ কর এবং প্রহার কর। যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায়, তবে আর তাদের জন্য অন্য কোন পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সবার উপর শ্রেষ্ঠ।

এই আয়াতে আরও বলছে , নারীরা থাকবে পুরুষের অধীনে। পুরুষরাই তাদের ভরন পোষণ করবে। অথচ আপনি সেটা থোড়াই কেয়ার করেন। তাহলে ইসলামকে অপমান করছে কে ?

অতএব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী , আপনি নিজেই ইসলামী বিধানকে থোড়াই কেয়ার করে দেশের প্রধানমন্ত্রীর আসন দখল করে বসে আছেন। এটা কি আপনার ইসলাম নিয়ে নোংরামী নয় ? এটা কি আপনার কর্তৃক ইসলামকে অপমান করা নয় ?

আর যদি দেশের মৌলবাদী গোষ্ঠিকে তোষণ করার জন্যে এ ধরনের বক্তব্য প্রদান করে থাকেন , তাহলে আপনি দেশ ও জাতির বিরাট ক্ষতি করছেন। মৌলবাদী গোষ্ঠিকে তোষন করার ফলেই কিন্তু বঙ্গবন্ধু মারা যাওয়ার পর দেশের রাজাকার আল বদরদেরকে বিচার করা যায় নি , যেটা আপনি এখন করছেন। মৌলবাদীদের তোষন করার ফলেই পাকিস্তান নামক দেশটা ধ্বংস হয়ে গেছে , এখন সেটা হয়েছে সন্ত্রাসের স্বর্গভূমি। আপনিও মৌলবাদীদেরকে তোষন করে দেশকে সন্ত্রাসের স্বর্গভূমি বানাবার জন্যে ভিত্তি প্রস্তুত করছেন। সেসময় হয়ত আপনি এই দুনিয়ায় থাকবেন না , কিন্তু আমাদের বংশধররা থাকবে , আর তারা সেই সন্ত্রাসের যন্ত্রনা ভোগ করবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, নবীকে অপমান বা ইসলামকে অপমান আপনি নিজেই বেশী করছেন

  1. ইসলামই সর্বপ্রথম ১৪০০ বছর আগে
    ইসলামই সর্বপ্রথম ১৪০০ বছর আগে নারীদের সম্মপত্তির উত্তরাধীকার দিয়েছে। বিয়েতে দেনমোহর, তালাকের পর স্বামীর পক্ষ থেকে অর্থ সহাওয়তার পাবার অধিকার দিয়েছে নারীদের। ইসলাম নারীদের বেশ্যাবৃত্তি বা প্রস্টিটিউশন সম্পুর্ন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। উলংগতা আর বেহাপনা নিরুতসাহীত করেছে। আর এসব ক্ষেত্রে নাস্তিকরা কোনই উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেনি।

    বরং আপনারা মুক্তমনারা নারীদের সস্তা পণ্য আর উলংগপনায় উতসাহিত করেন, বিয়ে ছাড়াই লিভ টুগেদার করেন আর জারজ বাচ্চা উতপাদন করেন। নিয়মিত ব্রোথেলে যাতায়াত করেন।
    এসব ভন্ডামী আর কতদিন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 77 = 87