মুসলমান চরিত্র নির্মানে টলিউডি দৈন্যতা


টলিউডি সিনেমায় মুসলমান চরিত্র বলতে একটাই ছবি ভেসে ওঠে গোঁফ কামানো দাড়ি আর সুরমায় জ্বলজ্বল মুখে পায়জামা পাঞ্জাবি আর রুমাল-টুপির একটা ব্লেন্ড যে ভালো করে বাংলা বলতে পারেনা, কথা বলেন বাংলা উর্দু আরবি ফারসি মেশানো এক “হামি মুসলমান আছি” টাইপের ভাষায়। পিওর কমার্শিয়াল ছাড়া একটু অন্যধারার সিনেমাতেও মুসলমান মানেই সেই স্টিরিওটাইপ এবং চরিত্র গুলোর ট্রেন্ডও হয় ভগবান নয় শয়তান, মাঝামাঝি ‘মানুষ’ সে অর্থে নয়।

টলিউডি সিনেমায় মুসলমান চরিত্র বলতে একটাই ছবি ভেসে ওঠে গোঁফ কামানো দাড়ি আর সুরমায় জ্বলজ্বল মুখে পায়জামা পাঞ্জাবি আর রুমাল-টুপির একটা ব্লেন্ড যে ভালো করে বাংলা বলতে পারেনা, কথা বলেন বাংলা উর্দু আরবি ফারসি মেশানো এক “হামি মুসলমান আছি” টাইপের ভাষায়। পিওর কমার্শিয়াল ছাড়া একটু অন্যধারার সিনেমাতেও মুসলমান মানেই সেই স্টিরিওটাইপ এবং চরিত্র গুলোর ট্রেন্ডও হয় ভগবান নয় শয়তান, মাঝামাঝি ‘মানুষ’ সে অর্থে নয়। তবে ব্যাতিক্রম যে নেই একথা বলব না, তুলনায় কমার্শিয়াল ‘বোঝেনা সে বোঝেনা’তে সোহম যে চরিত্রটা করেছে সেটা মন্দ নয় কেবল কস্টিউম ডিজাইনারের গলায় তাবিজ ঝোলানোর মুসলমানত্বটা না দেখালেও চলত।

টলিউডের এ দৈন্যতার কারণ সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতা। আমরা যতই হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতির কথা বলিনা কেন সেটা সম্ভব নয় সাংস্কৃতিক সহবস্থান ছাড়া। একে অপরের সংস্কৃতিটাকে জানতে হবে জানতে হবে অপরের জীবনযাপনকে, চিনতে হবে পাশের বাড়ির পড়শি ভাই বোন টিকে। আর টলিউডি পরিচালককুল ভয়ংকর ভাবে সেই বিচ্ছিন্নতার শিকার। পশ্চিমবাংলায় লক্ষ লক্ষ মুসলমান আছে যারা ওই জগাখিচুড়ী নয় বাংলাতেই কথা বলেন , তাদের অনেকে স্কুল কলেজে বাংলা পড়ানও। তাদের জীবনযাত্রা পোশাক পরিচ্ছদ শরিয়া রীতি মেনে নয় একেবারে এদেশের ডাল ভাতের বাঙালীর, তারা খান পাঠান নয় মন্ডল সরকার সরদার বিশ্বাস। এ ব্যাপার গুলো একটু চোখ মেললেই দেখা যায়।

আসলে বাঙালী হিন্দুদের বরাবরই একটা উন্নাসিকতা কাজ করে এসেছে মুসলমানদের প্রতি। নইলে টলিউড একটা ‘সামান্য’ সাধারণ মুসলমান চরিত্র নির্মানে এতটা অক্ষম কেন? কেনই বা সব ক্ষেত্রে চরিত্রগুলো স্টিরিওটাইপ হয়ে যায়? ( এ প্রসঙ্গে বলে রাখি পশ্চিমবাংলার বহু স্থানে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা নিজেদের ‘বাঙালী’ বলে পরিচয় দেয়, এ বাঙলায় বাস করে বাঙলা ছাড়া অন্য কোনো ভাষা না জেনেও মুসলমানরা বাঙালী নয়!! )

রিংগোর ‘ন হন্যতে’তে দেবশঙ্কর বাবু এক মডার্ন মুসলমান চরিত্রে অভিনয় করেছেন যিনি পাঁচ বার নামাজ পড়েন আবার মদ্যপান ও করেন। এই ধরণের বৈপরীত্য নিয়ে এ বংগে একজনও মুসলমান আছেন এমনটা আমার জানা নেই। ভাবতে অবাক লাগে অপর্ণা সেনের মত বুদ্ধিজীবী পরিচালকও এই স্টিরিওটাইপ চরিত্র ভেঙে বেরোতে পারেন না। আসলে এক্ষেত্রে সদিচ্ছা থাকলেও রিংগো বা অপর্ণা সেন দুজনেই ব্যার্থ কারনটা ওই সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতার যে কারণে রিংগো বা মিসেস সেন কেউই সুযোগ পাননি বাঙলার মুসলমান সংস্কৃতি বাঙালী মুসলমান জীবনযাপনকে জানার।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “মুসলমান চরিত্র নির্মানে টলিউডি দৈন্যতা

  1. আরে বাবা খবর সমালোচনা ইত্যাদি
    আরে বাবা খবর সমালোচনা ইত্যাদি লেখার অভিলাষ করার আগে তোমরাও নিজেরা ঠিক মত বাংলা লিখতে শেখ! নিজেদের ভাষার ‘দৈন্য’ ঘোচাও!! বাংলা ‘দৈন্যতা’ বলে কোন শব্দ নেই!!!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

7 + 1 =