ধর্ষকেরা বয়স দেখে না, শরীর খুঁজে

একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম আমার মায়ের ছবি দেখে- আমার মা’কে ব্রা পরিধান করা অবস্থায় দেখার ইচ্ছেপোষণ করেন। একবার নয়, একাধিক পোস্টে তিনি আমার মা’কে ব্রা’তে দেখার ইচ্ছেপোষণ করেন। আমার মা ৬৯ বছর বয়সী বয়স্ক একজন মানুষ।

শুধু আমার মা নয়; পৃথিবীর সকল নারীই ব্রা পরেন; পৃথিবীর সকল মা’ই ব্রা পরেন। কোন নারীকে ব্রা’তে দেখার মধ্যে কোন কৃতিত্ব নেই। যিনি ইচ্ছেপোষণ করেছেন; তার মাও ব্রা পরেন। তার বোনও ব্রা পরেন। তার স্ত্রী কিংবা প্রেমিকাও ব্রা পরেন। যৌন বিকারগ্রস্থ, অসুস্থ চিন্তাধারার মানুষেরা শাড়ির ফাঁকফোকর খুঁজে, ব্লাউজের গলা খুঁজে, ব্রায়ের ফিতা খুঁজে, জিন্সে যৌনাঙ্গের গন্ধ পায়।

একজন ৬৯ বছর বয়সী বয়স্ক নারীকে ব্রা পরা অবস্থায় দেখলে তার কী হতো? ব্রা পরিধান অবস্থায় দেখলে তিনি কি কোন জ্ঞান অর্জন করতে পারতেন? নাকি তিনি শারীরিক তৃপ্তি পেতেন? তিনি কি হস্তমৈথুন করতেন? একজন নারীকে ব্রাতে দেখে তিনি কি জয়ী হতেন?

পূর্বে পত্রপত্রিকার মাধ্যমে আমরা জেনেছি, ৮৭ বছর বয়সী নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ২ বছর বয়সী, ৪ বছর বয়সী শিশুও ধর্ষণের শিকার হয়েছে। মাদ্রাসার শিক্ষক কোরআন খতম দিতে এসে ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে। প্রশ্ন জাগত মনে, কারা এইসব ধর্ষণ করত? এই ধর্মপ্রাণ মুসলমানটি দেখে সর্বপ্রথম মনে হয়েছে, তার মত চিন্তাধারার কোন ব্যক্তিই ৮৭ কিংবা ৪ বছর বয়সী নারীর মধ্যে যৌন জীবন খুঁজে পায়।

অনেক পুরুষই নারীকে বিছানায় শোয়ানো কিংবা পোশাক খোলানোর মধ্যে কৃতিত্ব খুঁজে পায়, বীর বোধ করে; মূলত এটা অসুস্থতার চিহ্ন। ধর্ষকের কাছে, স্বাভাবিক যৌন জীবনে অস্বাভাবিকতা বোধ করে; অস্বাভাবিক কুরুচিপূর্ণ বিকৃত যৌন জীবনে স্বাভাবিকতা খুঁজে পায়।

এই সকল পুরুষেরা নারীকে রসগোল্লা মনে করে, রসমালাই মনে করে। মিষ্টি খোলা রাখলে মাছি আসবেই এইসব চিন্তাধারার মানুষেরা মূলত ধর্ষণের জীবনদাতা। এরাই ধর্ষণের মত হিংস্র বর্বর নিপীড়নকে জাগিয়ে রেখেছে। এরা নারীদের কখনো নির্মল দৃষ্টিতে দেখতে পারে না। নারী দেখলেই তাদের শিশ্ন খাটা হয়ে যায়। বীর্যপাত না ঘটানোর পর্যন্ত ধর্ষণের স্বপ্নে মেতে থাকে। এরাই আবার একমুখে দু কথা বলে। একবার বলে, ইসলাম নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান অন্যদিকে নারী হল মাল, মাগী, মিষ্টি, খাওয়ার জিনিস।

৬ এপ্রিল ২০১৬

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

9 + = 13