বকুল এর পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা উপন্যাস

পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা উপন্যাস

বকুল


বউকে আনিস বারবার বলেছে তরকারীতে লবণ কম দিতে।এত লবণ মানুষে খায়?আনিস নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করে।এই তরকারী তো শুধু সে খায়না শিউলিও খায়।ওর ভাল্লাগে? এত পরিমান লবণ খেতে!আচ্ছা ও আধপেটা থেয়ে থাকে নাতো?

আনিস আর শিউলি ছ’মাস যাবত বিয়ে করেছে।বাবা মার সম্পূর্ণ অমতে বিয়ে।তাদের সাথে এখোনো তারা কোনো যোগাযোগ করেনি।কল্যাণপুরে একটা বাসার দুইটা রুম নিয়ে আছে।এমনিতেই ঝামেলা তারপরে আছে আনিসের শিল্প!একটা মানুষ কিভাবে সারাক্ষন রঙ তুলি নিয়ে ডুবে থাকে তা আনিসকে না দেখলে বোঝা যাবেনা।কোনো কোনো দিন ঘুমায়ও না।আবার মাঝে মাঝে কিছু দুষ্টুমিও করে।হঠাত হঠাত জড়িয়ে ধরে আর কি সব করে।বিয়ের আগে হাত ধরা ছাড়া কোনোদিন শিওলির শরীরে হাত দেয় নি আনিস।অদ্ভুত একটা মানুষ।শিওলির ইচ্ছে করে রান্না করা বেশি লবণের তরকারী হাসিমুখে খেয়ে ফ্যালে!


মন খারাপ করে আনিস অফিসে এসেছে।শিওলির হাবভাব কাল রাত থেকে হঠাত পুরো বদলে গেছে।সকালে সাধারণত ওই ডেকে দেয়।কিন্তু আজ নিজেও ওঠেনি।ওকেও ডাকেনি।নয়টায় ঘুম ভাঙছে।দশটায় অফিস।তড়িঘড়ি করে বের হয়ে এসেছে।ও যখন রেডী হচ্ছিলো আর শিওলিকে ডাকছিলো তখন একবার শিওলি চোখ খুলে আবার পেছন ফিরে শুয়েছে।আনিস ভেবেছিলো শরীর খারাপ তাই গায়ে হাত দিয়ে দেখতে চেয়েছিলো জ্বর টর কিনা কিন্তু শিওলি বললো যাও অফিসে যাও।আমায় নিয়ে ভাবতে হবেনা।

আনিস অফিসের ডেস্কে বসে ভাবছিলো কাল রাতে এমন কি হোলো যে শিওলি এরম খেঁপে গেলো।নাকি সাহারাকে নিয়ে আবার কিছু হোলো।এই মেয়েটাকে বারবার বলেছে হুটহাট ফোন দেবেনা।অফিসে তো দেখা হয়ই।কিন্তু না তিনি দেখা হলে কিছু বলবেন বাসার নাম্বারে ফোন দিয়ে বলবে,ভাবী আনিস ভাইয়ের সাথে খুব জরুরী প্রাইভেট কথা আছে তাড়াতাড়ি দ্যান।আনিস ফোন ধরলে আলবাল কথ বলে রেখে দেয়।এর সমস্যা কি?আজ একটা হেস্ত নেস্ত করতে হবে।

আনিস বাইরে গিয়ে একটা সিগারেট ধরালো।আনিস শিল্পী মানুষ বাঁধাধরা কাজ নেই।বেশিরভাগ সময় বসেই থাকতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা।সে সময়টুকুও আনিস নষ্ট করেনা বসে বসে আঁকে।ওর অফিসটা একটা অ্যাডভার্টাইসিং ফার্ম।ও আইডিয়া দেয় বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের।বাজারে প্রচুর কাজ আছে আনিসের কিন্তু আনিসকে কেউ চেনেনা।এতেও যদিও আনিসের কিছু যায় আসেনা।কিন্তু শিওলীর কি হোলো?সাহারাকে কি চার্জ করবে?অফিসের ভেতরে বলা ঠিক হবেনা।অফিস শেষে বলতে হবে।

সিগারেট শেষ করে ওর ডেস্কে গিয়ে দেখলো একটা খাম।খামটা খুলতেই একটা চিরকুট।সেখানে গোটা গোটা অক্ষরে লেখে ”আনিস ভাই,আর কতভাবে বোঝালে আপনি আমার ভালোবাসাটা বুঝবেন”।আর কিচ্ছু না।কে লিখেছে এটা?সাহারা?এখন কম্পিউটার টাইপে কাজ চলে কারো হাতের লেখা দেখা হয়না।কিন্তু এটা কি ধরণের লেখা।মেজাজ কি সাধে খারাপ হয়!

চলছে চলবে…

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 6 = 3