আলোর পালের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষন

আলোর পাল
——————-
আলো বস্তুটা কী এ নিয়ে মানুষের আগ্রহের সীমা নেই।সেই প্রস্থর যুগ থেকে এই নিয়ে মানুষ চুল-চেড়া গবেষনা করে আসছে।কবিদেরও আলোর প্রতি যথেষ্ট ভালোবাসা ছিলো।রবী বাবু তো গানই লিখে ফেলেছেন “”আলো আমার আলো ওগো;আলো ভূবন-ভরা””
কিন্তু আজ আমরা বাতাসের পালের মতন আলোর পালের বিষয়ে জানবো।
আমরা প্রায় কম বেশী সকলেই নৌকার পালের কথা জানি।ওখানে বাতাসের ব্যাবহার করে নৌকাকে আগে নিয়ে যাওয়া হয়।সেখানে পালে গিয়ে বাতাস ধাক্কা দেয়।আর সেই ধাক্কাতেই নৌকা হেলে-দুলে চলা শুরু করে।
আলোর পালের ইঞ্জিনিয়ারিংটাও প্রায় একই রকম।এখানে বাতাসের জায়গায় ধাক্কাটা দেবে আলো!
নিশ্চই সবাই অবিশ্বাসের নিশ্বাস ফেলছেন।কিন্তু আজব হলেও সত্য আলো ধাক্কা দিতে পারে।
আলো কিছু প্যাকেটের মতন চলাফেরা করে।গ্যাভিটির মতন এটাও প্যাকেট বিনিময়ের মাধ্যমে কাজ-কারবার করে থাকে।প্যাকেট নিয়ে আলোচনা করার ঢের সময় পড়ে রয়েছে।ও নিয়ে অন্য কোনও দিন মাথা ঘামাবো।আজ খালি আলোর পাল নিয়ে আলোচনা করি।
আলোর সাধারনত কোনও ভর,শক্তি কিছুই নেই।কিন্তু সে যখন প্যাকেটের মাধ্যমে পার্ট নয়ে চলাফেরা করে থাকে তখন তার ভর,শক্তি সমস্ত কিছুই থাকে।
এখন একটা প্রশ্ন হতে পারে আমরা “”নৌকায় আলোর পাল ব্যাবহার না করে বাতাসের পাল কেনো ব্যাবহার করি??
আলো কি তবে আমাদের ধাক্কা দেয় না??””
উত্তর আলো নৌকার পালেও আঘাত দেয়।আমি,আপনাকেও ধাক্কা দেয়।প্রতিনিয়ত ধাক্কা দিচ্ছে।তবে আপনাকে যদি মাছি বা পিপড়া ধাক্কা দেয় আপনি কি আদৌ টের পাবেন?(ঘরে চেষ্টা করবেন না;বিষ পিপড়ার কামড় খাইলে আমি কেনো দুনিয়ার কেহই দায়ী থাকবে না।)
পাবেন না।কারন আপনার তুলনায় পিপড়ার ধাক্কা সামান্যতম।
তেমনি হর-হামেশা আলোও আমাদের ধাক্কা দিচ্ছে।প্রতি মুহুর্তে আপনি আমি আলোর ধাক্কা খাচ্ছি।তবে তা অতি মাত্রায় নগন্যতুল্য।আপনি বা আমি কেউই এটা টের পাবো না;কিন্তু আলো ধাক্কা দিচ্ছে।
এখন যদি কোনও এমন যান তৈরি করতে পারা যায় যেটার ভর কিনা একেবারে কম (স্টিফেন হকিং একটি মহাকাশ যান তৈরি করার কথা ভাবছেন যেটা কিনা ১ গ্রাম ভরের;এবং হ্যা এটা আলোর পালের টেকনোলজি ইউজ করেই চলবে)
সেটা দিয়ে অবশ্যই এই প্রযুক্তি ব্যাবহার করা যাবে।
আলো যখন প্যাকেটের মাঝে থাকে সে প্রতিফলককে ধাক্কাও দিতে পারে।আর সেই ধাক্কা ব্যাবহার করেই আস্ত একটা যানকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
আর আলো যদি একবার ধাক্কা দেওয়া শুরু করে সে কলুর বলদের মতন ধাক্কা দিতেই থাকে।
আর এক্ষেত্রে প্রতিফলকটিকে (আলোর পালের -পাল) যথেষ্ট পাতলা হতে হবে।একেবারে প্লাস্টিকের পলিথিনের থেকেও পাতলা হতে হবে।
ওই রকম পাল যদি খুব ক্ষুদ্র কোনও যানে লাগিয়ে দেওয়া হয় তবে ওই যানটি আলোর ধাক্কাতেই চলাফেরা করা শুরু করবে।আর এক্ষেত্রে যানটি আলোর বেগের প্রায় “”এক পঞ্চমাংশ”” পেয়ে যেতে পারে।
আর এ বিষয়ে মহামতি কার্ল স্যাগান সর্ব প্রথম কাজ করেন।তবে তিনি বেচে থাকতে থাকতে সফলতার স্বাদ আশ্বাদন করতে পারেন নি।
সম্প্রতি স্টিফেন ডব্লু হকিং কার্ল স্যাগানের স্বপ্নের রূপায়ন করার চেষ্টায় আছেন।আর খুব জলদিই আমরা খুশীর খবর পেয়ে যেতে পারি।আমরা ৪.৫ আলোক বর্ষ দূরের আলফা সেঞ্চুরিতে মাত্র ২০ বছরে পৌছুতে পারবো।
ভবিষ্যতের‍ স্কুল বই গুলোতে পালতোলা নৌকার ছবির সাথে “”পালতোলা মহাকাশ যান “” এর ছবিও দেওয়া লাগতে পারে।
যাক অনেক কথা হলো এখন আমি রবী বাবুর আলো আমার আলো ওগো ভূবন ভরা গান শুনতে শুনতে পালতোলা মহাকাশ যানে করে (স্বপ্নের মাঝে) একটু আলফা সেঞ্চুরি ভ্রমন করতে যাবো।।।
আলো আমার আলো ওগো…….
আলো ভূবন ভরা………….

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “আলোর পালের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষন

  1. আ‌লোর পাল টি না হয় অ‌নেক
    আ‌লোর পাল টি না হয় অ‌নেক পাতলা হল, কিন্তু মহাকাশযা‌নের ভ‌রেরও তো একটা ব্যাপার আছে। তারপর অন্যান্য আনুষ‌ঙ্গিক যন্ত্রপা‌তি তো আছেই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

35 − = 34