স্বাধীন বাংলাদেশে পাপের অন্যতম প্রতিশব্দ একজন ‘শফিক রেহমান’

স্বাধীন বাংলাদেশে পাপের অন্যতম প্রতিশব্দ একজন ‘শফিক রেহমান’
সাইয়িদ রফিকুল হক

তিনি বিদেশে পড়ালেখা করে বিবিধ বইয়ের পৃষ্ঠা গোগ্রাসে খেয়ে, আর বিশ্বের তাবৎ পর্নসাহিত্য সমূলে হজম করে বাংলাদেশে এসেছিলেন সংবাদপত্র-ব্যবসা করতে। এরা কেউই সাংবাদিক নয়—এরা ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী’র মতো ভয়ানক ধূর্ত। এই দেশে এদের সাংবাদিক বলে কারা? এদের বাড়ি নিশ্চয় করাচী, লাহোর, রাওয়ালপিন্ডি, পেশোয়ার কিংবা ইসলামাবাদ। এরা পাকি মাল। এরা এই দেশে টিকে থাকার জন্য বিশ্বশয়তান ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী’র মতো মানুষের সামনে দিগম্বর হতে লজ্জাবোধ করে না। এরা স্বার্থের জন্য যখন-তখন নিজেদের রঙ পাল্টে ফেলতে পারে।
একজন শফিক রেহমান কোনো সাংবাদিক নয়। বরং সাংবাদিকের নামধারী অর্থ-অনুসন্ধানী নামকরা দালাল। আর একমাত্র দালালিই এদের নেশা ও পেশা।

বাংলাদেশে উলঙ্গসভ্যতার পথিকৃৎ এই শফিক রেহমান। বিশ্বভালোবাসা-দিবসের নামে বিজাতীয় সভ্যতা তাকে কুরে-কুরে খাচ্ছে। বাঙালি-সংস্কৃতি তার কখনও ভালো লাগেনি। আর এখনও ভালো লাগে না। তার কাছে পহেলা বৈশাখ অযাচিত, আর বিদেশী-প্রেসক্রিপশনে ‘ব্যভিচারের অমৃত-নেশা ‘কথিত-বিশ্বভালোবাসা-দিবস’ খুবই আনন্দের বিষয়। প্রতি-বছর বাংলাদেশে ১৪ই ফেব্রুআরি বিশ্বভালোবাসা-দিবস পালিত হয়। আর এই বছর তারা ১৩ই ফেব্রুআরি থেকে ‘বিশ্ব-অবাধ যৌনাচারদিবস’ পালনের প্রচেষ্টা চালিয়েছিলো। কিন্তু সফলকাম হতে পারেনি। মূলত বিজাতীয় উলঙ্গসভ্যতা শফিক রেহমানদের ভালো লাগে।

একজন শফিক রেহমান কি আসলে সাংবাদিক?
আসুন, দেখি তিনি এই জীবনে কী-কী সম্পাদনা করেছেন। তার সম্পাদিত রগরগে যৌনপুস্তিকা হচ্ছে: সাপ্তাহিক ‘যায় যায় দিন’ ওরফে ‘হায় হায় দিন’!
‘মৌচাকে ঢিল’ নামক বিষাক্ত হুল! আর সবসময় জেনেশুনে বাঙালি-সংস্কৃতির বিরুদ্ধে হুল ফোটানোই এদের একমাত্র নেশা।
আর বর্তমানে তার সম্পাদিত মিথ্যাকথার খনি ‘দৈনিক যায় যায় দিন’ ওরফে ‘হায় হায় দিন’ সবসময় বাঙালি-সংস্কৃতি ও মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ-চেতনাবিরোধী একটি আজেবাজে পত্রিকা।
এটা কোনো পত্রিকা নয়। বরং টয়লেট পেপার। এখানে, সর্বাংশে বাংলাভাষার বিকৃতি চলে। এদের কাছে বাংলার যুক্তব্যঞ্জন, আদি-শব্দ, চন্দ্রবিন্দু কোনোকিছুই ভালো লাগে না। এরা বাংলাভাষার বিরুদ্ধে ভয়ানক ষড়যন্ত্রকারী।
আর এই ‘যায় যায় দিন’ পত্রিকাটি চালায় দেশের একটি চিহ্নিত-মাফিয়া-গ্রুপ! আর এই গ্রুপের অন্যতম একজন কর্ণধার হলেন এই শফিক রেহমান। তিনি বিশ্বের অন্যতম সন্ত্রাসী-ডন: ভারতের (দুবাইয়ে আশ্রিত) দাউদ ইব্রাহিমের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ-সহযোগী তারেক জিয়ার শিষ্য। আর বর্তমানে তিনি ২০০৪ সালের ২১-এ আগস্টের গ্রেনেড-হামলার পরিকল্পনাকারী তারেক জিয়ার শিষ্যত্বগ্রহণ করে খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হয়েছেন।

তিনি সাংবাদিক কিনা তা আপনারাই ভালো বলতে পারবেন। কারণ, তিনি ঐতিহাসিক রগরগে যৌনপুস্তিকা ‘সাপ্তাহিক যায় যায় দিনের প্রতিষ্ঠাতাসম্পাদক। আর এভাবেই তিনি সাংবাদিক! এরা কখনও সাংবাদিক নয়—বরং সবসময় দেশবিরোধী সাংঘাতিক!
একজন শফিক রেহমান ক্ষমতার লোভে অন্ধ হয়ে যৌনগল্প লেখা বাদ দিয়ে হঠাৎ করে রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করলেন। আর তার রাজনীতি সদাসর্বদা নাশকতার পথে ধাবিত।
এরা পাপিষ্ঠ। এরা পাপের পথিকৃৎ। এরা বাঙালি-সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান শত্রু।
তার গ্রেফতারে জাতি সন্তুষ্ট।

তার কিছু ভক্ত নামক অযাচিত-পামর তার গ্রেফতারের বিরুদ্ধে নানারকম সরকারবিরোধী কুৎসা-রটনা করছে। কিন্তু কোনো কাজ হবে না বাছাধন। কথায় আছে না—চোরের দশদিন আর গেরস্তের একদিন।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
১৮/০৪/২০১৬

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “স্বাধীন বাংলাদেশে পাপের অন্যতম প্রতিশব্দ একজন ‘শফিক রেহমান’

  1. অত্যন্ত স্বাদু, উপভোগ্য
    অত্যন্ত স্বাদু, উপভোগ্য ,বিশ্লেষণধর্মী,সহজপাচ্য, অতি সরস লেখা। লেখককে সাধুবাদ জানাই। এমন একটি বিষয় তাঁকে ভাবিয়েছে এবং তিনি কলম ধরেছেন সেটি আমা হেন “হাবলু- গাবলু প্রেমে পাগলু গন্গ্গাফড়িঙকে” সহজ করে বোঝাতে – এই গত প্র্ক্রিয়াতুকু অসামান্য। তাঁকে শতেক অভিনন্দন। অধম বিজ্ঞান বিষয়ে বড়ই অজ্ঞ,অপঠিত। একটি পোস্টে সম্প্রতি মহাজগত বা আমরা পার্থিবরা কম্পিউটার “সিমুলেসন ” এবম্বিধ জটিল আধা-দার্শনিক আলোচনা পড়তে গিয়ে মাথার চুল থেকে গায়ের লোম একসঙ্গে খাড়া হয়ে উঠছে দেখে দীর্ঘ আলোচনা সূত্রটিকে ফলো করা শ্রেয় মনে না করে মাঝপথে পরিত্যাগ করি। গোড়াতেই বলেছি আমি বিজ্ঞানের অপরিমেয় (বা পরিমেয়) গভীরতা বিষয়ে পুরোপুরি মূর্খ কালিদাস অথবা চিফ মিনিস্টার গোত্রের । আমার খটমটে লাগল একদা পাঠ্য প্লেটো-র “রিপাবলিক’ মনে পড়ে। লেখক কবি নটনটীদের ঝেঁটিয়ে বিদেয় করেছিলেন তাঁর আদর্শ “রিপাবলিক” থেকে। তাঁদের দশ টানার নাকী অনুকরণের অনুকরণ করেন। “হনুকরণ ” বলি মুজতবা আলি সায়েবকে ধার করে। সক্রেটিস শিষ্যের প্রতিপাদ্য ছিল এ জগত এক ভিন্ন সত্তা ( বলুন জগত বা ওইপ্রকার কোনো অস্তিত্ত্বের ) ছায়া মাত্র। আর শিল্পী কবিরা নাকী সেই ছায়ার সঙ্গে কুস্তিকরেই সক্কলের গতর ব্যথা করে দেন। অতএব তাড়াও এইসব মশামাছি ,সাজোয়ান ,বুদ্ধিমান,শিক্ষিত নাগরিক তৈরির পথে যেনারা ভাইরাস হয়ে উঠবেন। মহাকম্পিউটার “সিমুলেসন” তত্ত্বটি যেটুকু পড়লাম সেটুকু কি ভুল পড়লাম মহা-অজ্ঞতায় ? আমার কি সর্পে রজ্জুভ্র্ম, নাকী রজ্জুতে সর্পভ্রম ? কোন দ্বিপদ দশ্দুশ্ত যদি লেখক একটু অমনই সহজ করে ড্রিল করে দেন তবে বিশেষ উপকৃত হই। এদেশের বেদ-উপনিষদ ভকতকূল এইসব পরম বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব প্লাস্টিক ঠোঙার মতো গিলে অম্ল-অজীর্ণ বাড়িয়ে যেসব নিঃসরণ করবেন পরবর্তীতে তা এ দ্যাশে বাস করা আরও কঠিন করে তুলবে এই শঙ্কা।
    নমস্কার জানবেন
    অমিতাভ সেনগুপ্ত

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 3 =