প্রতারকরাই সহিহ মুসলমান: জিহাদি ও মডারেটরা সবাই এক, তাদের লক্ষ্য অভিন্ন

ইসলামকে মহাশান্তির ধর্ম প্রচার ও প্রমানের একটা কৌশল হলো সহিহ ইসলামী প্রতারনা যাকে ‘তাকিয়া’ বলা হয়। তাকিয়া হলো – ইসলাম প্রচার ও প্রসারের জন্যে প্রয়োজনে যে কোন ধরনের প্রতারনা করা । যারা খাটি সহিহ মুসলমান তারা এসব প্রতারনা না করে, ইসলাম যেমন সেটাই অনুসরন করে থাকে। যেমন – আই এস , বোকোহারাম , তালিবান, আল কায়েদা ইত্যাদিরা। তাকিয়া ব্যবহার করে কথিত মডারেট মুসলমানরা। তারা জানে যে আই এস বা তালিবানরা যা করছে তা সবই ইসলাম সম্মত কিন্তু প্রকাশ্যে স্বীকার করা যাবে না।তাই জিহাদী ও মডারেটরা মূলত: সবাই এক ও অভিন্ন। শুধু কৌশল ভিন্ন।

প্রতারনা করার জন্যে কোরানে বলেছে ———-

সুরা নাহল-১৬: ১০৬: যার উপর জবরদস্তি করা হয় এবং তার অন্তর বিশ্বাসে অটল থাকে সে ব্যতীত যে কেউ বিশ্বাসী হওয়ার পর আল্লাহতে অবিশ্বাসী হয় এবং কুফরীর জন্য মন উম্মুক্ত করে দেয় তাদের উপর আপতিত হবে আল্লাহর গযব এবং তাদের জন্যে রয়েছে শাস্তি।

Yusuf Ali : Any one who, after accepting faith in Allah, utters Unbelief,- except under compulsion, his heart remaining firm in Faith – but such as open their breast to Unbelief, on them is Wrath from Allah, and theirs will be a dreadful Penalty.

তার অর্থ আবশ্যক হলে , নিজেকে অমুসলমান হিসেবে পরিচয় দেয়া যাবে। অমুসলমানের মত ভান করা যাবে। দরকারে ইসলামের বিধি বিধান সম্পর্কে ভিন্ন কথা বলে প্রতারনা করা যাবে।

প্রেক্ষাপট: সুরা নাহল একটা মাক্কি সুরা। স্বভাবতই মক্কায় মুহাম্মদের অনুসারী ছিল খুবই সামান্য। মুহাম্মদের মক্কার জীবনে যদি কেউ ইসলাম গ্রহন করত , কুরাইশরা তাকে সমাজে গ্রহন করত না। সুতরাং , উপায় একটাই। সেটা হলো প্রতারনা। গোপনে ইসলাম গ্রহন করে , প্রকাশ্যে সেটা অস্বীকার করতে হবে , অর্থাৎ মিথ্যা কথা বলতে হবে , প্রতারনা করতে হবে।

পরবর্তীতে দেখা যায়, বিভিন্ন প্রয়োজনে , মুহাম্মদ এভাবেই প্রকারান্তরে মুসলমানদেরকে প্রতারনা করার জন্যে বলে যাচ্ছেন তার কোরানে , যেমন –

সুরা আল মুমিন – ৪০: ২৮: ফেরাউন গোত্রের এক মুমিন ব্যক্তি, যে তার ঈমান গোপন রাখত, সে বলল, তোমরা কি একজনকে এজন্যে হত্যা করবে যে, সে বলে, আমার পালনকর্তা আল্লাহ, অথচ সে তোমাদের পালনকর্তার নিকট থেকে স্পষ্ট প্রমাণসহ তোমাদের নিকট আগমন করেছে? যদি সে মিথ্যাবাদী হয়, তবে তার মিথ্যাবাদিতা তার উপরই চাপবে, আর যদি সে সত্যবাদী হয়, তবে সে যে শাস্তির কথা বলছে, তার কিছু না কিছু তোমাদের উপর পড়বেই। নিশ্চয় আল্লাহ সীমালংঘনকারী, মিথ্যাবাদীকে পথ প্রদর্শন করেন না।

সুরা বাকারা -২: ২২৫: তোমাদের নিরর্থক শপথের জন্য আল্লাহ তোমাদেরকে ধরবেন না, কিন্তু সেসব কসমের ব্যাপারে ধরবেন, তোমাদের মন যার প্রতিজ্ঞা করেছে। আর আল্লাহ হচ্ছেন ক্ষমাকারী ধৈর্য্যশীল।

অর্থাৎ ইসলামের প্রয়োজনে , যে কোন রকম উল্টা পাল্টা শপথ করলেও সেটা দোষনীয় নয়।

এবং পরিশেষে আল্লাহ নিজেকেই মহা প্রতারক বলে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে , যেমন –

সুরা আল ইমরান- ৩: ৫৪: এবং কাফেরেরা প্রতারনা করেছে আর আল্লাহও প্রতারনা করেছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ হচ্ছেন সর্বোত্তম প্রতারক।

কিছু লোক এখনই এসে চিৎকার করে বলা শুরু করবে — ইহা সহিহ অনুবাদ নহে, আসল আরবীতে পড়িতে হইবেক। আর তাহা হইলে আসল অর্থ জানা যাইবেক। ঠিক আছে এবার আরবীতে পড়া যাক , উক্ত ৩: ৫৪ আয়াতটি আরবীতে এরকম –

وَمَكَرُواْ وَمَكَرَ اللّهُ وَاللّهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ

উচ্চারন- Wamakaroo wamakara Allahu waAllahu khayru al-makireena

আরবিতে মাকর শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে , যার অর্থ হলো – প্রতারনা । উক্ত আয়াতে কাফের ও আল্লাহ উভয়ের জন্যে ক্রিয়াপদের মূল শব্দ মাকর ব্যবহৃত হয়েছে। ঠিক একই রকম আয়াত আর একটা –

সুরা নমল- ২৭: ৫০ : তারা এক চক্রান্ত করেছিল এবং আমিও এক চক্রান্ত করেছিলাম। কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি।

আরবি:
وَمَكَرُوا مَكْرًا وَمَكَرْنَا مَكْرًا وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ

উচ্চারন- Wamakaroo makran wamakarna makran——

আরবী উচ্চারনের সূত্র: সূত্র: http://www.quran.gov.bd

মাকর অর্থ সর্বদাই আরবীতে নেতিবাচক হিসাবে ব্যবহৃত হয় – যেমন প্রতারনা , চক্রান্ত ইত্যাদি। এটাকে পরিকল্পনা বা বুদ্ধি করা বা কৌশল করা এরকম ইতিবাচক অর্থে ব্যবহার করার কোনই সুযোগ নেই। যেমনটা – বাংলায় ‘বদমায়েশ’ শব্দটাকে নেতিবাচক ভাবে ব্যবহৃত হয়, একে কোথাও কোনভাবেই ইতিবাচক অর্থে ব্যবহার করার কোনই সুযোগ নেই।
আশ্চর্য জনকভাবে , উক্ত http://www.quran.gov.bd সাইটে , কাফেরদের ক্ষেত্রে মাকর এর অর্থ করছে চক্রান্ত , আর আল্লাহর ক্ষেত্রে করছে কৌশল। কেন সেটা করছে সেটা সহজেই বোধগম্য। সাধারন মানুষকে ধোকা দেয়াটাই হচ্ছে এখানে আসল উদ্দেশ্য যা বলা বাহুল্য এই তাকিয়া এর একটি প্রকৃষ্ট উদাহরন।

সুতরাং যেটা জানা গেল তা হলো – খোদ আল্লাহ নিজেই মহাপ্রতারক , আর তাই সে তার বান্দাদেরকে সর্বদাই প্রয়োজনে প্রতারনা করার জন্যে বলে দিচ্ছে।

ঠিক এই বিষয়গুলোই বলা হয়েছে পরিস্কারভাবে হাদিসে –

সহিহ মুসলিম :: বই ৩২ :: হাদিস ৬৩০৩:
হারমালা ইবন ইয়াহইয়া (র)…………হিজরত কারিনীদের মধ্যে নবী (সা) -এর হাতে প্রথম বায়ঁআত গ্রহণকারীদের অন্যতমা উম্মু কুলসূম বিনত উকবা ইবন মূঈত (রাঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) -কে বলতে শুনেছেন যে, তিনি বলেছেনঃ সে ব্যক্তি মিথ্যাবাদী নয়, যে মানুষের মাঝে আপোষ মীমাংসা করে দেয় । সে কল্যাণের জন্যই বলে এবং কল্যাণের জন্যই চোগলখুরী করে । ইবন শিহাব (র) বলেন, তিনটি ক্ষেত্র ব্যতীত কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা) মিথ্যা বলার অনুমতি দিয়েছেন বলে আমি শুনিনি । যুদ্ধ ক্ষেত্রে, লোকদের মাঝে আপোষ-মীমাংসার জন্য, স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীর কথার ও স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীর কথা প্রসঙ্গে

অর্থাৎ যুদ্ধক্ষেত্রে মিথ্যা বলা শত্রুকে ধোকা দেয়া যাবে। মনে হতে পারে , এর মধ্যে কোন অসৎ উদ্দেশ্য নেই। কিন্তু বিষয়টা কি তাই ? মুসলমানরা কিন্তু সর্বদাই অমুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জারি রেখেছে , আর সেটা কিন্তু আল্লাহ ও তার নবী মুহাম্মদের নির্দেশেই। এটা এমন না যে , কোথাও দুই পক্ষ যুদ্ধ শুরু করল আর উক্ত বিধান শুধু তখনই চালু হবে। সেটা মোটেও সত্য না , যেমন কোরান বলছে –

সুরা তাওবা – ৯: ৫: অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

অর্থাৎ মুহাম্মদের সময়কালে কথিত সেই নিষিদ্ধ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর অমুসলিমদের বিরুদ্ধে চিরকালীন যুদ্ধ জারি হয়ে গেল। তবে যদি তারা ইসলাম গ্রহন করে , তাহলে ভিন্ন কথা। বিষয়টা বিস্তারিত জানতে যেতে হবে : www.qtafsir.com অথবা http://www.quraneralo.com/tafsir/ সেখানে ইবনে কাসির সুন্দরভাবে এই আয়াতের অর্থ করেছেন। এরপর —

তাওবা – ৯: ২৯: তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

উক্ত আয়াতেই পরিস্কার জানা যাচ্ছে , ইহুদি ও খৃষ্টানরা যতক্ষন পর্যন্ত ইসলাম কবুল না করবে , ততক্ষন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জারি হয়ে গেল। এটা কোন সাময়িক যুদ্ধ না , এটা হলো চিরকালীন যুদ্ধ। তবে যদি তারা ইসলাম গ্রহন করে বা জিজিয়া কর প্রদান করে , তাহলে ভিন্ন কথা। বিষয়টা অতি সুন্দরভাবে বলা আছে কিছু সহিহ হাদিসে –

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩০:
আবু তাহির, হারমালা ইবন ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবন ঈসা (র)……আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই – এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি । সূতরাং যে কেউ আল্লাহ ছাড়া ইলাহ নেই স্বীকার করবে, সে আমা হতে তার জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শরীআতসম্মত কারণ ব্যতীত । আর তার হিসাব আল্লাহর কাছে ।

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩১:
আহমাদ ইবন আবদ আয-যাবিব (র)………আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই,-এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত এবং আমার প্রতি ও আমি যা নিয়ে এসেছি তার প্রতি ঈমান না আনা পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি । এগুলো মেনে নিলে তারা তাদের জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে, তবে শরীআতসম্মত কারণ ছাড়া ।আর তাদের হিনাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে ।

এখানে উক্ত সুরা তাওবায় কোথাও বলা হয় নি যে মুশরিক বা ইহুদি-খৃষ্টানরা মুহাম্মদকে আক্রমন করতে যাচ্ছিল আর তাই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বা তাদেরকে হত্যার বিধান জারি হলো। বরং খুব পরিস্কার ভাষায় বলা হচ্ছে , যেহেতু তারা ইসলাম গ্রহন করছে না , তাই তাদেরকে হত্যা করতে হবে , তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে, সেটার কোন নির্দিষ্ট দিনক্ষন নেই , সেটা চলবে , যতদিন পর্যন্ত না তারা ইসলাম গ্রহন করবে , ততদিন পর্যন্ত। ভাষার মধ্যে কোনই অস্পষ্টতা নেই।

তার মানে মুসলমানরা চিরকালই অমুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত- তা সে সরাসরি অস্ত্রপাতি দিয়ে হোক , বা অন্য কোন কায়দায় হোক। তা সে মুসলমানরা কোন অমুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশে বাস করুক বা কিছু অমুসলিম কোন সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম দেশে বাস করুক, তাতে কিছুই যায় আসে না। আর সেই যুদ্ধ করার জন্যেই আল্লাহ ও তার নবী প্রতারনা করার জন্যে পরিস্কারভাবে বলে দিচ্ছে।

এখন দেখা যাক সেই প্রতারনা গুলো কি রকম। কিছু উদাহরন দেয়া যাক।

আই এস সিরিয়া ইরাকে খাটি খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেছে , আর ইসলামের বিধান মেনেই তারা সেখানে খৃষ্টান , ইয়াজিদি সহ সকল অমুসলিমকে ইসলাম গ্রহনের আহ্বান জানাচ্ছে , যারা গ্রহন করছে না , তাদেরকে তারা কোরান ও হাদিসের বিধান মেনেই হত্যা করছে। খোদ ইসলামী খিলাফতে আই এস দের কোন ধরনের প্রতারনা করার দরকার নেই , কারন তারাই সেখানে শাসক। কিন্তু বাকী বিশ্বের এক বিরাট সংখ্যক কথিত মডারেট মুসলমান বা শান্তিপ্রিয় মুসলমান বলছে – আই এস এর সাথে ইসলামের কোনই সম্পর্ক নেই। একই ভাবে তারা বলে থাকে , তালেবান , আল কায়েদা , বোকো হারাম , আল শাবাব , জে এম বি ইত্যাদির সাথে ইসলামের কোনই সম্পর্ক নেই। আর এটাই হচ্ছে প্রতারনা। এইসব কথিত মডারেটরা বর্তমানে খুব ভাল করেই জানে , আই এস বা অন্য সব জিহাদী গোষ্ঠি যা করছে , তা খাটি ইসলাম সম্মত , কিন্তু বাকী বিশ্বের অমুসলিমদেরকে ধোকা দিতে হবে , না হলে তাদের বিপদ হতে পারে , তাই তারা কোরান ও হাদিসের বিধান মেনেই এই তাকিয়া বা প্রতারনা করছে। তারা এই প্রতারনার জন্যে সারা দুনিয়ায় সকল মিডিয়া ব্যবহার করছে , বহু প্রতিষ্ঠিত স্কলারদেরকে তারা এমনকি অর্থ দিচ্ছে , তাদের পক্ষে কথা বলার জন্যে।

একই সাথে তারা প্রচার করছে , ইসলামে তো মানুষ হত্যার কথা বলে না। তারা এসব প্রচার করতে , কোরান ও হাদিস থেকে তারা তাদের সুবিধামত কিছু আয়াত ও হাদিস, তাও অনেক সময় আংশিক তুলে ধরে মানুষকে প্রতারনা করে যাচ্ছে। অথচ যখনই জিহাদ সম্পর্কিত কোন আয়াত বা অমুসলিমদের হত্যা বা ইসলাম ত্যাগীদের হত্যা বা নারী ধর্ষন সম্পর্কিত কোন আয়াত বা হাদিস তাদের সামনে তুলে ধরা হয়, তখন তারাই বলে সেটা নাকি সেই ১৪০০ বছর আগেকার প্রেক্ষাপটে। অথচ তারা যেসব আয়াত বা হাদিস তুলে ধরে , সেসবও কেন ১৪০০ বছর আগেকার প্রেক্ষাপটে বিবেচ্য হবে না , তা সম্পর্কে নিরব। তারা আরও বলে , কোরান ও হাদিসের ভিন্ন ব্যখ্যা আছে , আর সেটা হলো অতি শান্তিপূর্ন। এইসব ধানাই পানাই কথা বার্তা বলে তারা রাত দিন চব্বিশ ঘণ্টাই মিথ্যা কথা বলে মানুষকে প্রতারনা করে যাচ্ছে। উদ্দেশ্য পরিস্কার। জিহাদী দিয়ে এক দিকে অমুসলিমদেরকে হত্যা করে তাদের সংখ্যা কমাতে হবে , তাদের মনে ত্রাসের সঞ্চার করতে হবে , অন্য দিকে অমুসলিম দেশে বাস করে , সেটাকে মুসলিম দেশ বানাবার জন্যে সকল রকম মিথ্যা কথা বলে অমুসলিমদেরকে বিভ্রান্ত করতে হবে , যতটা পারা যায় তাদেরকে ইসলামের ছায়াতলে আনতে হবে অথবা কমপক্ষে অমুসলিম দেশে মুসলিমদের জন্যে একটা ভাল ও শক্ত অবস্থান তৈরী করতে হবে। উদ্দেশ্য একটাই , সেসব দেশকে ইসলামী বানান।

যখন পশ্চিমা দেশে জিহাদীরা আত্মঘাতী হামলা করে নিরীহ মানুষ মারে , তখন বলতে হবে কিছু সন্ত্রাসী এটা ঘটিয়েছে , এর সাথে ইসলামের কোনই সম্পর্ক নেই। কিন্তু মনে মনে এদেরকে সমর্থন করতে হবে। কারন এরা এভাবে একের পর এক আত্মঘাতী হামলা করলে , সমাজে অস্থিরতা সৃষিট হবে , তাতে দেশের অর্থনীতির বারটা বাজবে। তখন এইসব উন্নত দেশ আস্তে আস্তে ধ্বংস হয়ে যাবে। তখন ইসলাম প্রচার ও প্রসারে সুবিধা হবে।

এসব আত্মঘাতি হামলা হলে বলতে হবে , হিটলার বা স্ট্যালিন বা মাও সেতুং তো এদের চাইতে বেশী মানুষ হত্যা করেছিল। তারা যদি সন্ত্রাসী না হয় , মুসলমানরা কিভাবে সন্ত্রাসী হয় ? অপ্রাসঙ্গিক তুলনা করে সাধারন মানুষকে ধোকা দিতে হবে। বলা যাবে না , হিটলার বা স্ট্যালিন তো কোন ধর্মের নামে মানুষ হত্যা করে নি , বা , তারা যে হত্যা করেছিল , সেটাকে তো বিশ্ববাসী সমর্থনও করে না, বরং তাদের কড়া সমালোচনা করে। সুতরাং তাদের কর্মকান্ডের সাথে ইসলামী জিহাদীদের কর্মকান্ডের তো কোন তুলনা চলে না। আর যদি সেটা করা হয়, তাহলে ইসলামও তো সেই হিটলার বা মাও সেতুং এর মত মানবতা বিরোধী এক একনায়কতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার মতই কোন একটা ব্যবস্থা বলে গন্য হয়। কিন্তু সেটা বলা যাবে না।

সোজা কথায় – তার অর্থ – জিহাদী ও কথিত মডারেট মুসলমানদের লক্ষ্য এক। শুধু কৌশল ভিন্ন। তারা একে অন্যের পরিপূরক , ভিন্ন সেক্টর থেকে একই লক্ষ্য ও আদর্শের জন্যে ইসলামী যুদ্ধ বা জিহাদ করে যাচ্ছে।

এসব প্রতারনার কিছু সুন্দর বিতর্ক শোনা যাবে নিচের ভিডিও লিংকে গেলে –

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “প্রতারকরাই সহিহ মুসলমান: জিহাদি ও মডারেটরা সবাই এক, তাদের লক্ষ্য অভিন্ন

  1. যখন পশ্চিমা দেশে জিহাদীরা

    যখন পশ্চিমা দেশে জিহাদীরা আত্মঘাতী হামলা করে নিরীহ মানুষ মারে , তখন বলতে হবে কিছু সন্ত্রাসী এটা ঘটিয়েছে , এর সাথে ইসলামের কোনই সম্পর্ক নেই

    তার আগে আপনাদের পেয়ারের পশ্চিমারা যে টমাহক বোমা, এফ১৬ জংগী বিমান আর ক্লাস্টার বোমা মেরে ইরাক, লিবিয়া , সিরিয়া, আফগানস্থানে লাখ লাখ নিরীহ মুসলমান মেরেছে , সেটা কি সন্ত্রাসী হামলা নয়?তারা এই দেশগুলা তছ-নছ করেছে তার কি হবে ? ওরা তো স্যেকুলার, মুক্তমনা। আর আইএস , বোকো হারাম ইত্যাদি দলগুলো তৈরি হয়েছে পশ্চিমাদের বর্বর আক্রমনের পর, লাখ লাখ নিরীহ মানুষ মারা যাবার পর , তার আগে নয়।

    এসব আত্মঘাতি হামলা হলে বলতে হবে , হিটলার বা স্ট্যালিন বা মাও সেতুং তো এদের চাইতে বেশী মানুষ হত্যা করেছিল। তারা যদি সন্ত্রাসী না হয় , মুসলমানরা কিভাবে সন্ত্রাসী হয় ? অপ্রাসঙ্গিক তুলনা করে সাধারন মানুষকে ধোকা দিতে হবে।

    হিটলার, স্টালিন ,মাও সেতুং কমিউনেজমের নামে প্রায় ১০০ মিলিয়ন মানুষ হত্যা করেছে।

    ইসলাম যদি সন্ত্রাসী ধর্ম হয় তবে তো, মুক্তচিন্তা, সেক্যুলারিসম, সম্রাজ্যবাদ, কমিউনিজম হাজার গুনে বেশী সন্ত্রাসী।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 66 = 75