‘ইনকিলাব’ একটি জারজপত্রিকা। আর এটি সবসময় আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ-চেতনার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে(প্রথম পর্ব)।

‘ইনকিলাব’ একটি জারজপত্রিকা। আর এটি সবসময় আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ-চেতনার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে(প্রথম পর্ব)।
সাইয়িদ রফিকুল হক

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ‘ইনকিলাব’ নামক পত্রিকাটি সম্পূর্ণ জারজপত্রিকা। ১৯৭১ সালের কুখ্যাত-রাজাকার, শয়তানের জারজপুত্র, জল্লাদবাহিনীর প্রধান, মাওলানা-লকবধারী চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জের আব্দুল মান্নানের হাতে এর জন্ম হয়েছে। এই জারজপত্রিকার জন্মদাতা: আব্দুল মান্নান একাত্তরের কুখ্যাত-নরঘাতক ও বাংলাদেশবিরোধী চিহ্নিত-জারজসন্তান। জন্মলগ্ন থেকে সে ছিল পাকিস্তানীদের জারজপুত্র। ১৯৭১ সালে, তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে বাংলাদেশে কমপক্ষে ৩০হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এছাড়াও, ১৯৭১ সালের ১০-১৬ই ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে যে-ভাবে ব্যাপকহারে ‘বুদ্ধিজীবীনিধন-যজ্ঞ’ শুরু হয়েছিলো, তার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিল এই শয়তানের জারজপুত্র। আর তার হাতেই নিহত হয়েছে বিশিষ্ট-চিকিৎসক-বুদ্ধিজীবী ডাক্তার আলিম চৌধুরী, ডাক্তার ফজলে রাব্বীর মতো মহাপুরুষেরা। এই শয়তান সবসময় বাংলাদেশবিরোধী এক জারজ-রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। তাই, এই শয়তান সাবেক স্বৈরাচার এরশাদের মন্ত্রীসভায় একসময় ঠাঁই নিয়ে পাকিস্তানী-বিজাতীয় আদর্শে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে থাকে। আর সে বাংলাদেশবিরোধী শক্তি ও অর্থ সংগ্রহ করার কাজে নেমে পড়ে। এভাবে একসময় সে এরশাদের দালালি করে ধর্মমন্ত্রী পর্যন্ত হয়েছিলো। কিন্তু ‘ধর্মীয় আকিদাহ’র দিক থেকে এই শয়তান সবসময় ছিল পাকিস্তানপন্থী ও ওহাবীখারিজীপন্থী। আর এমন একটা শয়তান কিনা হয়েছিলো আমাদের স্বাধীন-সার্বভৌম-বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রী! এই শয়তান কখনও মুসলমান ছিল না। আর সে ছিল লেবাসধারী এজিদীয় মুসলমান। এরশাদের মন্ত্রীসভায় থাকার সুবাদে সে অবাধে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট করাসহ মাদ্রাসার শিক্ষকদের কল্যাণতহবিলের মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করে নিজের নামে এই জারজ ‘ইনকিলাব’ আবিষ্কার করে! মাদ্রাসার গরিব মুদাররেসদের সাহায্যের নামে সে গঠন করেছিলো ‘জমিয়েতুল মুদাররেছীন’ নামক একটি সংগঠন। পরে এই সংগঠনের নামে তাদের ফান্ডে জমাকৃত সব টাকা চুরি করে, ডাকাতি করে হাতিয়ে নেয় এই শয়তানের জারজপুত্র আব্দুল মান্নান। এভাবে সে অর্থ আত্মসাৎপূর্বক নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেয় ‘ইনকিলাব’। আর ‘জমিয়েতুল মুদাররেছীন’-এর কর্তৃত্ব থাকে তার হাতে। এই ‘জমিয়েতুল মুদাররেছীন’ আগে-পরে-এখনও সবসময় স্বাধীনতাবিরোধীদের প্ল্যাটফর্ম। বর্তমানে এর নেতৃত্ব রয়েছে: শয়তানের জারজপুত্র আব্দুল মান্নানের জারজপুত্র এএমএম বাহাউদ্দিনের হাতে। আর এই রাজাকারপুত্র বাহাউদ্দিন বর্তমানে ‘ইনকিলাব’ নামক জারজপত্রিকাটির সম্পাদক।

১৯৭১ সালে, শয়তানের জারজপুত্র আব্দুল মান্নান নিজের হাতে গোরু-জবাই করা বড় ছুরি দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের জবাই করে হত্যা করতো। এই জারজ এমনই নিষ্ঠুর-কসাই ছিল।

বর্তমানে ‘ইনকিলাব’ হলুদ-সাংবাদিকতার নিয়মরীতি পেরিয়ে সম্পূর্ণ জারজপ্রক্রিয়ায় পরিচালিত হচ্ছে। আর এই জারজপত্রিকাটি পরিচালনার জন্য রয়েছে একটি সিন্ডিকেট। এই জারজসিন্ডিকেটের সদস্যরা হলো: শয়তানপুত্র এএমএম বাহাউদ্দিন, মোবায়েদুর রহমান, আব্দুল গফুর, স্টালিন সরকার, মেহেদী হাসান পলাশ ইত্যাদি। এই জারজরা কখনও সত্যখবর ছাপায় না। এরা কখনও কোনো ঘটনাস্থলে যায় না। এরা এই জারজসিন্ডিকেটের পরামর্শে সবসময় প্রতিদিনের দেশবিরোধী হেডলাইন তৈরি করে থাকে। ইনকিলাবের সম্পাদক, সহসম্পাদক, স্টাফরিপোর্টার, নিজস্বপ্রতিবেদক ইত্যাদি পাকিস্তানের জারজসন্তান। এরা সবসময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ-চেতনা, বাংলা-সংস্কৃতি, বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, বাংলা-নববর্ষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে বিষোদগারপূর্ণ আজেবাজে লেখা লিখে থাকে। এরা সবসময় ইনিয়ে-বিনিয়ে বাঙালির প্রাণের উৎসব ‘পহেলা বৈশাখ’ বা ‘বাংলা-নববর্ষ’কে ‘হিন্দুয়ানী’ বলে অপপ্রচার চালিয়ে থাকে। আর এজন্য তারা প্রতিবছর বাংলা-নববর্ষকে সামনে রেখে তাদের অপপ্রচারসমূহ জোরদার করতে থাকে। এজন্য তাদের রয়েছে বেতনভুক্ত কয়েকজন জারজপ্রতিবেদক। আর এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য জারজ হচ্ছে: মোবায়েদুর রহমান, স্টালিন সরকার ও মেহেদী হাসান পলাশ। এরা অর্ধশিক্ষিত জীবমাত্র। কিন্তু এরা পাণ্ডিত্য জাহির করার অভিপ্রায়ে বাংলা-নববর্ষকে ‘হিন্দু-কালচার’ বা ‘হিন্দু-সংস্কৃতি’ বা ‘হিন্দুয়ানী’ আখ্যা দিয়ে থাকে। এরা বাংলা-নববর্ষে ঐতিহাসিক ‘রমনা-বটমূলে’র অনুষ্ঠানকে মুসলমানের জন্য ‘নাজায়েজ, বিদআত ও হারাম’ বলে অপপ্রচার চালিয়ে থাকে। এসবই এদের মনগড়া, উদ্ভট, আজেবাজে, আবোলতাবোল ও আলতুফালতু অপপ্রচার মাত্র। আর এরা বাঙালি-মুসলমানের মনের মধ্যে বাংলা-নববর্ষবিরোধী মনোভাবসৃষ্টির জন্য অত্যন্ত কুকৌশলে তারা ধর্মের দোহাই দিয়ে তাদের ‘নিজস্ব ও মনগড়া জারজনীতি’র বাস্তবায়ন করতে চায়। এদের ধৃষ্টতা দিনের-পর-দিন মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এদের কাছে ‘পহেলা বৈশাখে’র পান্তা-ইলিশ ‘নাজায়েজ ও হিন্দুয়ানী’! কিন্তু ওদের কাছে সবসময় মদ জায়েজ (আর পাকিস্তানীমদ হলে তো ওরা এটিকে আরও বেশি হালাল মনে করে থাকে।), ধর্ষণ জায়েজ, একাত্তরের মতো ব্যভিচার জায়েজ, আর হিন্দু-মেয়েদের জোরপূর্বক ভোগ করা জায়েজ! ওদের কাছে একাত্তরের নারীধর্ষণসহ ‘সর্বপ্রকার নারীধর্ষণ’ সবসময় জায়েজ, এবং এখনও হিন্দু-নারীদের জোরপূর্বক ধর্ষণ করা ওদের বাপ-দাদার ‘পাকিস্তানীশরীয়ত’ মোতাবেক সম্পূর্ণ জায়েজ।
আমাদের একটা কথা সবসময় মনে রাখতে হবে: ইনকিলাবীরা মুসলমান নয় কিংবা এরা ইসলামের কেউ নয়। তবুও এরা ইসলামের মিথ্যা দাবিদার হয়ে ইসলামরক্ষার নামে পাকিস্তানীস্বার্থরক্ষার জন্য জানপরান দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বসে ওদের যার যা মনে আসছে, তা-ই লিখছে। এব্যাপারে যেন বাংলাদেশে দেখার কেউ নাই। ইনকিলাবীরা সবসময় গায়েরে ইসলাম। মানে, এরা সবসময়ের জন্য ইসলামবহির্ভূত বা ইসলামবিরোধী-অপশক্তি। আর এরা নিজেদের শয়তানীএজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য সবসময় মুখে ইসলাম-ইসলাম করে থাকে। এরা পাকিস্তানীদের মতো মুখে ইসলাম বলে ভিতরে শয়তানী লালনপালন করছে। আর এরা মহান আল্লাহকে অস্বীকার করে বাংলাদেশের মুসলমানদের জন্য হালাল অনুষ্ঠানসমূহকে ‘নাজায়েজ-হারাম’ বলার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। এদের এখনই শক্তহাতে টুঁটি চেপে ধরতে হবে। এদের আর কোনোক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া যাবে না।

‘ইনকিলাব’ বাংলাদেশবিরোধী একটি জারজগোষ্ঠীর নাম। আর এদের জন্মই হয়েছে বাংলাদেশরাষ্ট্রকে ধ্বংস করে পাকিস্তানীজারজধারা প্রতিষ্ঠিত করতে। এরা সবসময় খবরের নামে মিথ্যা কাসুন্দী-ঘেঁটে আমাদের একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলার সূর্যসন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অপপ্রচার চালিয়ে থাকে। আর এব্যাপারে এদের সামান্যতম লজ্জাশরম বলে কিছু নাই। এরা কখনও বাংলাদেশরাষ্ট্রকে স্বীকার করে না, মানে না, ভালোবাসে না। আর এরা বাইরে বাংলাদেশের জন্য যতোরকমের মায়াকান্নাপ্রদর্শন করে থাকে। অথচ, এদের স্বপ্নের দেশ হলো পাকিস্তান। এদের ঈমানআকিদাহ হলো পাকিস্তানীশরীয়ত! আর এদের ‘জাতির পিতা’ হলো শয়তানের জারজপুত্র জিন্না। এখন এরা বাংলাদেশে টিকে থাকার জন্য আমাদের ‘বঙ্গবন্ধু’র কথা একটুআধটু লিখে থাকে। আর এসবও ওদের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।

১৯৯২ সালে ভারতে বাবরীমসজিদ ভাঙ্গাকে কেন্দ্র করে এই জারজ-ইনকিলাব বাবরীমসজিদ-ভাঙ্গার পরদিন মিথ্যা-হেডলাইন ছাপিয়ে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক-দাঙ্গার সূত্রপাত করে। এরা জারজ। তাই, সবসময় বাংলাদেশে ধর্মকেন্দ্রিক বিশৃংখলাসৃষ্টি করতে চায়। এদের সাম্প্রদায়িক নিউজ-হেডলাইনের জন্য সেই সময় বাংলাদেশের অসংখ্য হিন্দুর ঘরবাড়ি-মন্দির একশ্রেণীর কাটমোল্লাদের হামলার শিকার হয়। স্বৈরাচার এরশাদের শয়তানীনীতির কারণে তখন সাম্প্রদায়িক-শক্তির লেলিহানশিখা বাংলাদেশকে প্রজ্জ্বলিত করেছিলো।

দৈনিক ইনকিলাব নামক জারজপত্রিকাটির বাংলাদেশবিরোধী জারজসাংবাদিকতার কয়েকটি দৃষ্টান্ত এখানে তুলে ধরা হলো:

১. এরা সবসময় আমাদের জাতিসত্তার অন্যতম প্রধান আদর্শ ‘ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ’বিরোধী মনগড়া শয়তানীঅপপ্রচার চালিয়ে থাকে। এই জারজরা বলে থাকে: ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ মানে ধর্মহীনতা, নাস্তিকতা! অথচ, এটি পবিত্র কুরআন-হাদিসের কোথাও লেখা নাই। ধর্মনিরপেক্ষতা মানে: “প্রত্যেকে তার স্ব-স্ব ধর্ম পালন করবে, আর রাষ্ট্র কোনো ধর্মের ব্যাপারে পক্ষপাতিত্ব-প্রদর্শন করবে না।” আর এখানে, কোনোভাবেই ধর্মকে অস্বীকার করা হয়নি। কিন্তু এই ইনকিলাবীজারজগোষ্ঠী সবসময় আমাদের ‘জাতীয় চার-মূলনীতি’র বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালিয়ে থাকে। আর ধর্মনিরপেক্ষতার সহজ ও সুন্দর অর্থকে সবসময় বিকৃতভাবে দেশের মানুষের সামনে উপস্থাপনার অপচেষ্টা করে থাকে।
২. এরা দেশের ভিতরে একটা ভালোকাজ হতে দেখলে সবসময় এর বিরোধিতা করে থাকে। আর সবখানে ইসলামের কথা বলার নামে নিজেদের মিথ্যা, গীবত, শেকায়েত, আজেবাজে সবকিছু পরিবেশন করতে থাকে। এরা পবিত্র ইসলামধর্মকে নিজেদের সামাজিক ব্যবসাসম্প্রসারণের জন্য সবসময় এটিকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে থাকে। এদের কেউই ইসলামধর্মকে ভালোবাসে না। এদের ভিতরে ইসলামের কিছুই নাই। এদের ভিতরে সবসময়ের জন্য আছে শুধু শয়তানী আর শয়তানী। এরা প্রায়শঃ রাষ্ট্রীয় কাজে বাধাসৃষ্টি করে বলে থাকে: “দেশে ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র! ভারতের আধিপত্যবিস্তারের চেষ্টা! ইসলামকে আঘাত করা হলে দেশের তৌহিদীজনতা মাঠে নামবে। তৌহিদীজনতা ফুঁসে উঠছে ইত্যাদি-ইত্যাদি।” কীসের তৌহিদীজনতা? দেশের কোনো প্রকৃত-ঈমানদার কিংবা সত্যিকারের তৌহিদীজনতা ওদের সঙ্গে নাই। ওরা তৌহিদীজনতার নামে নিজেদের নাশকতাকে এগিয়ে নিতে চায়। আর দেশের ভিতরে যতো ভায়োলেন্স হবে তার জন্য তৌহিদীজনতাকে টার্গেট করে। ওরা এদেশের মূর্খমুসলমানদের বুঝিয়ে দিতে চায়: তৌহিদীজনতা সবসময় ওদের পকেটে থাকে। ওরা যখন যা চাইবে তখন তা-ই বাস্তবায়নের জন্য তারা মাঠে নামবে। সেই পাকিস্তানআমলেও পাকিস্তানের শয়তান-সামরিকজান্তারাও ইসলামের দোহাই দিয়ে আর তৌহিদীজনতার ব্যানারে খুন, ধর্ষণ, মদ্যপান, ব্যভিচার, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ, সংখ্যালঘুনির্যাতনসহ যাবতীয় শয়তানীঅপকর্ম করে যেতো। এরা এমনই কালশয়তান। এদের কেউই এখনও ভালো হয়নি। আর কখনও ভালো হবে না। এই ইনকিলাবীরা সবসময় শয়তানের পক্ষে, পাকিস্তানের পক্ষে (যদিও শয়তান আর পাকিস্তান একই) কাজ করে যাচ্ছে। এরা কোনোদিনও মানুষ হবে না।
৩. বাংলাদেশে একটি উগ্রসাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর জন্ম হয়েছে। এদের নাম ‘হেফাজতে ইসলাম’। আসলে, এরা কেউই ‘হেফাজতে ইসলামে’র লোক নয়, এরা হলো: ‘হেফাজতে শয়তান’। এদের জন্মের কারণ হলো: ২০১০ সাল থেকে একাত্তরের মানবতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কার্যক্রম শুরু হয়। আর এই কার্যক্রমকে জামায়াত-শিবিরের একার পক্ষে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা নাই। তাই, ওরা পাকিস্তানীদের একসময়কার সর্বস্তরের দালালদের নিয়ে ২০১০ সালে গঠন করে ‘হেফাজতে শয়তান’। পাকিস্তানআমলেও এই ‘হেফাজতে শয়তান’ ছিল। আর তারা একাত্তরেও পাকবাহিনীর দোসর হয়ে পাকজওয়ানদের কাঁধে কাঁধ, মিলিয়ে একসঙ্গে অপকর্ম করেছে। এই ‘হেফাজতে শযতানে’র বর্তমান আমীর শাহ আহমেদ শফী একটা যুদ্ধাপরাধী ও পাকিস্তানের দালাল। আর সে ঈমান-আকিদাহর দিক থেকে একটা সম্পূর্ণ ওহাবীখারিজী ও সুন্নীআকিদাহবিরোধী একটা চিহ্নিতশয়তান। ১৯৭১ সালে, চট্টগ্রামে দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসায় পাকবাহিনীকে সাহায্য-সহযোগিতা করার জন্য যে ‘মুজাহিদবাহিনী’ গঠন করা হয়েছিলো, এই শয়তান তার অন্যতম উদ্যোক্তা। সে মুজাহিদবাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে তৎকালে সীমাহীন নাশকতা চালিয়েছিলো। আর এখনও তারা নতুনভাবে সংগঠিত হয়ে ‘হেফাজতে শয়তানে’র নামে বাংলাদেশে একের-পর-এক শয়তানী করে যাচ্ছে। আমাদের সবার মনে আছে: তাদের ২০১৩ সালের ৬ই এপ্রিলের নাশকতা আর ২০১৩ সালের ৫ই মে ঢাকার মতিঝিলের শাপলাচত্বরে ভয়াবহ তাণ্ডবলীলার কথা। আর এই জারজ-ইনকিলাবগোষ্ঠী সবসময় হেফাজতে শয়তানের পক্ষে থেকে বাংলাদেশবিরোধী-নাশকতাসৃষ্টিতে অপকর্ম করে যাচ্ছে।

গণজাগরণমঞ্চের অন্যতম উদ্যোক্তা স্থপতি আহমেদ রাজিব হায়দারকে জঙ্গীরা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। আর এই হত্যাকাণ্ডের পরদিন এই জারজইনকিলাব হত্যাকারীদের সমর্থন করে আমাদের পবিত্র রাসুল সা.-এর নামে নিজেরা ‘অশ্লীল-জঘন্য’ কথাবার্তা লিখে তা রাজিবের নামে অপপ্রচার করে। এভাবে, এরা শুধু একজন রাজীব হায়দার নয়, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রতিটি লোকের চরিত্রহননের কাজে ব্যস্ত। এমনই কুরুচিপূর্ণ-জঘন্য মনমানসিকতা এদের।
শুধু তাই নয়, এরা দেশের ব্লগারদের বিরুদ্ধে সবসময় আজেবাজে কথা লিখে থাকে। এই পর্যন্ত দেশে ‘রাজিব-অভিজিৎ’সহ যে-কয়েকজন ব্লগার নিহত হয়েছে, ইনকিলাবীরা তাদের বিরুদ্ধে যারপরনাই মিথ্যাসংবাদ পরিবেশন করে হত্যাকারীদের আরও উৎসাহিত করেছে। এরা এখনও একাত্তরের মতো সম্পূর্ণ রাজাকারি-চেতনায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নাশকতা চালিয়ে যাচ্ছে। এদের কোনো ধর্ম নাই। এদের কোনো চরিত্র নাই। আর এদের কোনো মনুষ্যত্ব নাই। তাই, এরা শয়তানের জারজপুত্র।
এরা এমনই জারজ যে, এদের তুলনা দেওয়ার মতো এই দুনিয়ায় কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। এরাই ২০০৪ সালে জ্ঞানতাপস, বহুমাত্রিক লেখক, কবি ও গবেষক ড. হুমায়ুন আজাদের ওপর হামলাকে সমর্থন করে একাধিক কলাম লিখেছিলো। আর লিখেছিলো তাদের সবসময়ের মনগড়া জারজসম্পাদকীয়। এরা হুমায়ুন আজাদের লেখাকে অশ্লীল ও ধর্মবিরোধী আখ্যায়িত করে তখনও লিখেছে, আর এখনও লিখে চলেছে সমানে। এরা বাংলার সক্রেটিস ড. হুমায়ুন আজাদের মৃত্যুতে ব্যাপকভাবে উল্লসিত হয়েছে। আর তাঁর নামে, তাঁর বিরুদ্ধে ইনকিলাবীরা তাদের জারজনীতির বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। এই জারজ-ইনকিলাবগোষ্ঠী সবসময় ব্লগারদের চরিত্রহননে ব্যস্ত। মূলত স্বাধীন বাংলাদেশে ইনকিলাবীরা একটি সম্পূর্ণ জারজগোষ্ঠী। আর সবসময় এদের টার্গেট হলো: বাংলাভাষা, বাংলাদেশ, বাঙালি-জাতি ও বাঙালি-সংস্কৃতি। এই জারজ-ইনকিলাবগোষ্ঠী সবসময় মানুষ ও মানবতার শত্রু। ১৯৭১ সাল থেকে তারা জারজনীতির বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে অদ্যাবধি তা বহাল রেখেছে। কিন্তু আর কত? এবার এই ইনকিলাব-জারজশক্তির মূলোৎপাটন করতে হবে।

এই ইনকিলাব সবসময় বাংলাদেশবিরোধী একটি জারজপত্রিকা। তাই, এটি ধ্বংস করা প্রতিটি বাঙালির নৈতিক দায়িত্ব।
(ক্রমশঃ)

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
০২/০৪/২০১৬

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “‘ইনকিলাব’ একটি জারজপত্রিকা। আর এটি সবসময় আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ-চেতনার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে(প্রথম পর্ব)।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

16 − 12 =