সব কিছু নষ্টদের অধিকারে !

প্রাচ্যের অক্সফোর্ট আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় । মুক্তচিন্তার চারন ভূমি।জন্মলগ্ন থেকেই এটি প্রগতিশীল,মুক্ত চিন্তক উৎপাদনের ফেক্টরি হিসাবে পরিচিত।
এখানেই প্রস্ফুটিত হয়েছে হুমায়ুন আযাদ ,অজয় রায়,শামসুর রহমান,আহমদ শরিফের মত লোকেরা।এমনি হাজারো মুক্তমনা কান্ডারীদের পদভারে উদ্ধেলিত এই ক্যাম্পাস। কিন্তু এখন মনে হয় এগুলো শুধুই অতীত।শুধু ইতিহাস।
এখন এর ক্যাম্পাসে হুমায়ুন আযাদ,অভিজিৎদের মত মুক্তমনাদের চাপতির আঘাতে রক্তাক্ত হতে হয়,খুন হতে হয়। প্রগতিশীলতা চর্চাই যেন থমকে দাড়িয়েছে জঙ্গীদের চাপতির নিচে।
বাংলাদেশের সবকিছু যখন ইসলামিকরন তথা জঙ্গীকরন হচ্ছে তার উত্তপ্ত হাওয়া। ঢাবির ক্যাম্পাসেও ধাক্কা দিয়েছে।

এমন একটি প্রতিষ্ঠানের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ,ভাইস চান্সেলর আ.আ.ম.স আরেফিন সিদ্দিক যিনি গতকাল বুধবার (২০ এপ্রিল) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার আর্টস মিলনায়তনে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন-

“‘একমাত্র ইসলাম ধর্মই ব্যবহারিক
জীবনে গণতন্ত্র, প্রগতি ও উদারতার
শিক্ষা দিয়েছে।”
সূত্র: www.banglamail24.com/news/146698

ইসলাম কোথায় গনতন্ত্র চর্চা করেছে?
মুহাম্মদ মারা যাওয়ার পর আবুবক্করকে খালিফা নির্বাচিত করা হয়েছে। কিন্তু এটা কি গনতান্ত্রিক পদ্ধতি ছিল?না একদম না।
আবুবক্কর যখন খালিফা হলো মদীনার জনগন এ সম্পর্কে কিছুই জানতনা। তার পরবর্তি খালিফারাও সম্পুর্ণ অগনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে খালিফা পদে মনোনিত হয়েছিলেন। ইসলাসে গনতন্ত্র বলে কিছু
নেই। নিচের লিংকগুলোতে দেখুন…

১। http://fmahmudbd.wordpress.com/tag/%E0%A6%97%E0%A6%A8%E0%A6%A4%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0-%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%87-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE-%E0%A6%93-%E0%A6%95/

২। https://islamqa.info/bn/98134

৩। http://cybermujahid7.blogspot.com/2015/02/blog-post_97.html?m=1

এবার আসুন প্রগতির ও উদারতার কথায়।
ইসলাম যদি প্রগতির ধর্ম হয় তাহলে প্রগতির সংজ্ঞা পরিবর্তন করতে হবে প্রথম।
প্রগতির প্রধান ধারকই হলো মুক্ত চিন্তা। ইসলাম কি মুক্তচিন্তা কে সাপোর্ট দেয়?না দেয়না।মুক্তচিন্তা নামক শব্দটিতেই তালা মেরে দিয়েছে ইসলাম।কোরান ,হাদিস ছাড়া কোন কিছু ভাবা যাবেনা ,কোন কিছু করা যাবেনা ।
নিজের মত যদি ভাবতেই না পারি তাহলে প্রগতিশীলতা আসবে কোথা থেকে?
সুতরাং ইসলাম প্রগতির ধর্ম হতে পারেরা।বরং যুগে যুগে ইসলাম প্রগতিশীলদের হত্যা করেছে খুবই নিষ্টুর পন্থায়,ইতিহাসের পাতায় পাতায় রয়েছে এর সাক্ষ।

তিনি ইসলামের উদারতার কথা বলেছেন!

ইসলামে উদারতা বলে কোন শব্দ নেই ।
নবী মুহাম্মদের জীবনি থেকে দেখা যায় ততকালিন আরবের যে সকল ব্যক্তি বা গোত্র মুহাম্মদের বা তার ধর্মের সমালোচনা করেছে ,হয় তাদের দেশ ছাড়া করেছে নতুবা তাদের হত্যা করা হয়েছে অথবা জোড় করে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে তাদের।তার পরবর্তি খালিফারা ,অপেক্ষাকৃত উদার বলে পরিচিত সূফীরা,তথা বর্তমান বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায়-
ISIS,তালেবান,বকোহারাম,লস্কর ই তৈয়বা,হেফাজত,জে.এম.বি ,সহ বিভিন্ন ইসলামী জঙ্গী সংগঠন,যারা কোরান,হাদিসকে পরিপুর্ণ অনুসরন করে চলে তারা চিৎকার করে বলছে ইসলাম কোন উদার ধর্ম নয়,ইসলাম যুদ্ধের ধর্ম,সাম্পদায়ীকতার ধর্ম,অসহিষ্ণুতার ধর্ম। ইসলাম উদার ধর্ম হলে বাংলাদেশে এ যাবত কালে এত মুক্তমনা মানুষের জঙ্গীদের চাপতির নিচে প্রান দিতে হতোনা।তিনি আরো বলেন–

““মুসলিম নামধারী কতক. বিপথগামীর কারণে গোটা মুসলিম জাতি আজ ঝুঁকির মুখে পড়েছে ,প্রকৃত মুসলমান কখনও হত্যা, নৈরাজ্য, হানাহানি বা অশান্তিতে লিপ্ত হতে পারে না।”

বাহ্ চমৎকার বললেন আমাদের ভিসি মহোদয়! যারা কোরান হাদিসের বানী হবুহু অনুস্বরন করে তারা বিপথগামী মুসলিম?
কোরান যে তাদের এরুপ বিধর্মীদের হত্যা করার নির্দেশ দিয়ে রেখেছে তা কি তিনি জানেননা?পরমত মেনে না নেয়া যে নবীর আদর্শ ছিল তা কি তিনি জানেননা? মক্কার অপেক্ষাকৃত উদারচিন্তার কোরাইশদের কে অশান্তির আগুনে ঠেলে দিয়েছিল তা কি তিনি জানেন না? আসল নিজেদের মডারেটরা ভাল মানুষ করে সাজাতে চায় সামাজিকতা,বিবেকবোধ থেকে।এত সব অপকর্মের প্রসুতি এই ধর্মকে কোন অবস্থাতেই ছাড়া যাবেনা।বরং একে আধুনিকতার রং দিয়ে চকচকে খুত বিহীন করতে হবে। কিন্তু কেন?
প্রকৃত মুসলমানরা হানা-হানি, নৈরাজ্য,হত্যায় লিপ্ত হতে পারেনা।এটি খুবই ভালো হতো,কল্যানকর হত, যদি তা বাস্তব সম্মত হতো!কিন্তু তা সম্ভব নয়। কারন একজন প্রকৃত মুসলমান মানে নবীকে সম্পুর্ণ রুপে অনুস্বরনকারি,কোরান,বা হাদিসকে সম্পুর্ণরুপে অনুস্বরনকারি। নবী মুহাম্মদ নিজেই যেখানে হাজার হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হত্যাকারী সেখানে আজকের মুসলিমদের ভালো মানুষ হওয়ার কোন উপায় আছে কি,যদি সে মুহাম্মদের উস্মদ বলে নিজেকে পরিচয় দিতে চায়? এই ক্ষনে ভিসি মহোদয়ের কথায় একটা প্রশ্ন জাহে মনে –
মুহাম্মদ কি তাহলে প্রকৃত মুসলমান ছিলেন না? প্রাচীন আরবের সব চেয়ে নারকীয় হত্যাকান্ড ছিল বানু কোরাইজা গোত্রের হত্যাকান্ড ।এখানে একই সাথে একের পর এক ৮০০-৯০০ লোককে হত্যা করে ফেলেছিল।মুহাম্মদ তখনক সামনে দাড়িয়ে এসব হত্যাকান্ড পর্যবেক্ষন করছিলেন ,এর মধ্যে কথিত আছে ৩-৪ জনকে তিনি নিজেই শিরচ্ছেদ করেছিলেন।এমনি ইসলাম প্রচারের নামে হাজার হাজার মানুষের হত্যাকারী এই মুহাম্মদ।তাহলে ভিসির বক্তব্য অনুসারে ওনি প্রকৃত মুসলমান নন।
আসলে কোন মুসলিম যদি সহী মুসলিম হতে চায় তাহলে তার মধ্যে সহিংস দিকগুলো চলে আসবেই।

ওনি বলেছেন ১৯৭১ এ নাকি ইসলামের অপব্যবহার হয়েছে।

তাহলে মুহাম্মদের সময়ে যে সকল যুদ্ধ তথা দাঙ্গা হয়েছে সেখানেও তো তাই করেছিল মুহাম্মদ তথা তার জঙ্গী বাহিনী যা ৭১এ পাকিস্থানীরা করেছে।

পরিশেষ তিনি বললেন-

“‘নিজেদের জীবনকে উন্নত ও পরিশীলিত করতে ইসলামি শিক্ষাকে কাজে লাগাতে হবে।”

এ ক্ষনে ভিসি মহোদয়কে জিজ্ঞাস করতে ইচ্ছে করছে,জিবনকে উন্নত ,পরিশীলিত করতে যদি ইসলামী শিক্ষা অপরিহার্য তাহলে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু ইসলামি শিক্ষার আয়োজন করে,বাকি সকল সাবজেক্ট/ডিপার্টমেন্টকে বন্ধ করে ছাত্র-ছাত্রীদের উন্নত জীবনের দিকে এগিয়ে দিচ্ছেন না কেন?আপনার জীবনযাত্রায় ইসলামী লেবাস নেই কেন?

আসলে এদের মত মডারেট উচ্চ শিক্ষিতরা ধর্মের স্বপক্ষে সাফাই গেয়ে শুধু শুধু বাহবা কুড়ানোর ধান্দায় থাকে।জেনে বুঝে নিজ স্বার্থ রক্ষার্থে ধর্মকে,সমাজ,রাষ্ট্র,বিজ্ঞান সব কিছুর ধারক হিসাবে প্রচার করে বেড়ায় কিন্তু এরা বুঝেনা হয়তো বুঝতে চায়না,এতে করে পৃথিবী আরো কতটা পিছিয়ে পরছে! এরা প্রাগৈতিহাসিক কালেও ছিল,এখনও আছে ভবিষ্যতেও থাকবে!তাই হুমায়ুন আযাদের ভাষায় বলতে হয়–
#সব কিছু এখন নষ্টদের অধিকারে#

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

86 − 81 =