বকুল এর ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা উপন্যাস’ -চতুর্থ পর্ব

তৃতীয় পর্ব
পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা উপন্যাস
বকুল


অনামিকা চুপচাপ বসে আছে।কোনো রা নেই।এভাবে সে ঘন্টার পর বসে থাকতে পারে।অনামিকার কাছে মনে হয় এই ঘাপটি মেরে বসে থাকাটা একটা বিরাট ব্যাপার!সবাই পারেনা।এক্সপ্রেশন যেকোনো ভাবে দিয়ে দ্যায়।কিন্তু অনামিকার ব্যাপারটা সম্পূর্ণ আলাদা।সে এটা পারে।এটা তার সময় কাটানোর জন্য বিরাট প্ল্যানের ছোট্ট অংশ।ধীরে ধীরে সব বলবো বাপু এই বয়সে তো ধীরে সুস্থে থাকা যায়না।আনিসকে দেখুননা।

আনিস তুমি আবার অফিসে সিগারেট ধরিয়েছো?তোমাকে আর কতবার বললে বুঝবে ডিসিপ্লিন বলে একটা ব্যাপার শিল্পীদেরো থাকে।এটা কাজের জায়গা ফুর্তি ফার্তার না।একবার আনিসকে আবার দেখে মনে হোলো আসলে আনিস শুনছেনা তাই এবার ধমকের সুরে কথা বলতে শুরু করলেন।
আনিস আমি জানি তুমি বুদ্ধিমান।তাই তোমাকে অবশ্যই বোঝানো গেছে আমি কি বুঝিয়েছি।ফার্দার এরম কিছু করলে কি পানিশমেন্ট তা আগেও বলেছি এখনো বলছি ”অন্য কোথাও যাও,এখানে ভাত হবেনা”
এটা উজ্জ্বল করিমের কথা না।এটা গণি স্যারের কথা।তিনি হাই স্কুলে আমাদের ইতিহাস পড়াতেন।পড়াতেন কি পড়াতেন না কে জানে।তবে উজ্জ্বল করিম সাহেব এই কথাখানা ছাড়া ইতিহাসের এক বিন্দুও বোঝেননি।বুঝতে চানও না।মায়া থাকলে না হয় জেনে মায়াকে জানিয়ে অবাক করিয়ে দেওয়া যেত।কিন্তু এখন?কি লাভ?

আনিস উজ্জ্বল করিমের মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝলো উজ্জ্বল করিম খেই হারিয়ে আবার তালগোল পাকিয়েছেন।অর্থাত তার চাকরি যাচ্ছেনা।কিছুক্ষন পর উজ্জ্বল করিম সাহেব তাকে একলা ডেকে গায়ে হাত দিয়ে বলবেন,ভাই বোঝোই তো।অফিস তো মেইনটেইন করতে হয়।কত চাপ।আবার অনামিকাও আছে।এর মাঝে সবসময় মাথা ঠিক থাকেনা।
কি বলতে কি বলে ফেলি!

আচ্ছা আনিস সত্যি করে বলতো তুমি কি ইচ্ছা করে এই কাজটা করো?
আনিস কোনো কথা বলেনা।উজ্জ্বল করিমের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে বলে উঠি ভাই।ক্যাচালে তো কাজই হোলোনা।করিগে।নইলে বলবেন কাজ করো ছাই আবার স্যালারী মোটা চাও!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

64 − 62 =