রানা প্লাজা মানেই এক ভেঙে যাওয়া রাষ্ট্র

অামার এই লেখাটির বয়স তিন বছর।তিনটা বছর গেলো অথচ সব অাগের মতোই..বদলায়নি কিছুই..
সাভারের ঘটনাটা একটা রাজনৈতিক হত্যাকান্ড।তাই আমরা এরই মধ্যে এই বিষয়টা নিয়ে রাজনীতিবিদদের যথেষ্ট দৌড়-ঝাপ করতে দেখছি।
যে দলটি সরকারের দায়িত্বে আছে,তার অবস্থান বিশ্লেষন করাটা সবার আগে জরুরী।
আওয়ামীলীগ ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে।তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসাবে আমরা কাউকেই খুব একটা ভালো পারর্ফম করতে দেখিনি।কিন্তু একটা ব্যাপার এখন খুবই স্পষ্ট আওয়ামীলীগকে যারা ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছেন তারাই এখন দৃশ্যত তার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ।যেমনটা আমরা শাহবাগে দেখেছিলাম, তেমনটা আমরা এখন সাভারেও দেখছি।সরকার ভয় পাচ্ছে তার সংগঠিত জনগনকে। তাইতো উদ্ধার কাজে সে তার পোষ্য বাহীনিকে অগ্রণী দেখতে চায়,সাধারন মানুষকে নয়। সরকার এই উদ্ধার কাজের শেষ পর্য়ায়ে এসে তরিঘড়ি করে সাধারন মানুষকে সরিয়ে দিয়েছে। উদ্ধারকার্যের এই পর্যায়ে সে স্বৈরতন্ত্রকেই বেঁছে নিয়েছে। লাশ গুম তাকে করতেই হবে, কারন মধ্যবিত্তের আবেগ পুঁজি করে চলা দলটির জীবিত শ্রমিকের চাইতে মৃত শ্রমিককেই ভয় বেশী।তেমনি শ্রমিকের জীবনের চেয়ে তার কাছে দামী র‌্যাব আর সেনাবাহিনীর কুকুরের।প্রধানমন্ত্রীর আগমনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া জনগনের পয়সায় বেঁচে থাকা এইসব প্রশিক্ষিত কুকুরদের সাভারে দেখা য়ায়নি।
উদ্ধারকাজে রবিবারের অগ্নিকান্ডের ঘটনা নিয়ে অনেক গুজব আছে। তবে সরকার-এর মুখপত্র টিভি চ্যানেলগুলো গোটা ঘটনাটা’র জন্য দায়ী করলো একজন সাধারন মানুষকে। অথচ সাভারের উদ্ধার তৎপরতায় আটকে পরা মানুষকে বাঁচানোর প্রচেষ্টায় আমরা যেসব নতুন আবিস্কৃত উপায় দেখেছি তার পুরোটাই সাধারন মানুষের।পৃথিবীর কোন দেশে এরকম উদ্ধার তৎপরতায় গোলাপ জল, এয়ার ফ্রেশনার এ জাতীয় জিনিস পত্রের ব্যবহার আছে কিনা আমার জানা নাই। এই উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়া মানুষের মানবিকতাবোধ আজ বড় ভয়ের কারন আওয়ামীলীগের।
মহামতি প্লেটোর একটা কথা আছে-“মহান মিথ্যা ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায়না”। সরকার প্রধান তাই সংসদে দাড়িঁয়ে বললেন-ভবনের মালিক তার দলের কেউ নয়। শুধু তাই নয়,দলের নির্ভরযোগ্য পান্ডা রানাকে সেদিনই গ্রেপ্তার করা হলো যেদিন দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্ধারের নামে লাশ গুমের চেষ্টা শুরু করা হয়।রানাকে গ্রেপ্তার করেই র‌্যাব এর মহাপরিচালক দাবী করেন ভবন ধসের জন্য রানাই দায়ী। দেখানো হয় তার কাছে দুই বোতল ফেন্সিডিল পাওয়া গেছে। আমরা রানা’র চরিত্রে আরো যত ভয়াবহতা দেখবো তার গোটা অংশ জুড়েই থাকবে তার অস্ত্র,মাদক চর্চা অথবা নারী চর্চা। সুতরাং দেখানো হবে ব্যক্তি রানা খারাপ।ব্যক্তি খারাপ রানা ‘র আড়ালে ঢাকা পড়ে যাবে রাজনৈতিক চরিত্রের রানা।
এ সবই সরকারের ছক বাঁধা দস্যুবৃত্তি।
বিএনপি রাজনৈতিকভাবে পুরোপুরি দেউলিয়া। বর্তমান সংসদের যে ৪২ শতাংশ সদস্য তৈরী পোশাক কলের মালিক সে শতাংশে এই দলটিও পিছিয়ে নেই। এ দলের কোথাও শ্রমিকদের জন্য ঠাঁই নেই। না চিন্তায় না চেতনায়। এই দল বরাবরই সুবিধাভোগী, নীচু মানসিকতার ব্যবসায়ীদের সেবা দাস।তারাই এখন সাভার নিয়ে হরতাল ডাকছে। স্পেকট্রাম র্দূঘটনার সময় যাদের টিকিটিও খুঁজে পাওয়া যায়নি।এ যেন, মাছের মায়ের পুত্র শোক।বিএনপি’র এখন আশা ভরসা হেফাজতী আর জামাত। যদি তা না হতো তবে বিএনপি নিজে একটি দল হিসাবে উদ্ধারকার্য়ে যোগ দিতো।তা না করে সে শুধু কোলে চড়ে বেঁচে থাকতে চাইছে। অন্যদিকে হেফাজতী’রা শুধু মাত্র সব ক্রেডিট গণ জাগরন মঞ্চ নিয়ে যাবে এই তাড়নায় উদ্ধারকার্যে নাম লিখিয়েছে আর বোতল বোতল এয়ার ফ্রেশনার বাতাসে উড়িয়েছে।
তবে এখানে একটা ব্যাপার খুব লক্ষ্যনীয়। হঠাৎ করেই রাষ্ট্রের শ্রেনীপ্রেম নিম্নমূখী।রাষ্ট্রের পরিচালনায় থাকা দল থেকে শুর করে তার বিরোধীরা মেহনতি জনগনের জন্য শোকে, মমতায় বলকে উঠছে।আজ মধ্যবিত্ত পুরুষ বূঝতে পারছেন, মাসের একটা দিন বেতনের পয়সা বাঁচিয়ে মদ্যপানের অধিকার বাঁচাতে হলে তার শ্রমিককে প্রয়োজন।মধ্যবিত্ত নারী বুঝতে পারছেন, তার এলোমেলো বাতাসে শাড়ীর আঁচলে উড়াতে গেলে শ্রমিকের অধিকারের ঝান্ডা উড়ানো জরুরী।উচ্চবিত্ত নারীও বুঝতে পারছেন,তিনি তার ইচ্ছামতো কখনোই প্রগতিশীল হতে পারবেন না, যদি শ্রমিক এর জীবন গতিময় না হয়।আর বিত্তবান পুরুষেরা বুঝেন, বুঝেন বলেই শ্রমিককে দূরে সরিয়ে রাখেন তার সব অধিকার হতে।
রাষ্ট্রীয় সমীকরণ হলো- শ্রমিকের ক্ষুধা সিমীত।শ্রম, ভোগ আর দখলের বিপরীত শব্দ।যে রাষ্ট্রযন্ত্র শ্রমযন্ত্রের পেছনের শ্রমিকের জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারে না। শ্রমিকের চাওয়ায় তার ধ্বংস সময়ের ব্যাপার মাত্র।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + 1 =