এই ধরণের সংবাদগুলো পীড়াদায়ক, রুপকথার মতো। কিন্তু এদেশে এগুলোই বাস্তব, এভাবেই সব হয়!

এই ধরনের খবর পড়া পীড়াদায়ক। কিন্তু পড়তে হয়। শেয়ারও করা উচিত যাতে ভবিষ্যতে এই সামান্য ব্যাপারগুলো জানা থাকবার কারণে আরও বড় বিপর্যয় এড়ানো যায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক হ্যাকারদের সহজ শিকার হতে পারবার বড় একটা কারণ হচ্ছে এখানকার আভ্যন্তরীন নেটওয়ার্কে সংযুক্ত কম্পিউটারগুলো কোনো ফায়ারওয়ালের আওতায় ছিল না এবং বাসাবাড়ীতে ব্যবহারকৃত সস্তা ইথারনেট সুইচ ব্যবহার করা হয়েছিলো সুইফট নামক গ্লোবাল পেমেন্ট নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হতে।

এতো গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমের সাথে সংযুক্ত নেটওয়ার্কের বেসিক সিকিউরিটি মেজারস যখন বাসাবাড়ির কম্পিউটার ব্যবস্থার নিরাপত্তার চেয়েও ঠুনকো থাকে, তখন এটাই মনে হয় যে হ্যাকারেরা মাত্র ৬০০ কোটি টাকা সরিয়ে নিতে পেরেছিলো তা ছিলো একটী অলৌকিক ঘটনা। ভান্ডার উজাড় হয়ে যাবার কথা ছিলো।

কত টাকার যন্ত্রপাতির অভাবে এতো বড় দুর্বলতা উন্মুক্ত রাখা হয়েছিলো আইটিতে কাজ করা যে কেউ বুঝতে পারবেন। বড়জোর লাখ খানেক টাকা। কয়টা ম্যানাজেবল সুইচ আর একটা বেসিক ফায়ারওয়াল থাকলেও এই কাজটা শতগুণ কঠিন হয়ে যেতো। যদিও এই সময়ের যেকোনো ডাটা সেন্টার অথবা আর্থিক লেনদেন সম্পৃক্ত কোনো সিস্টেমে অন্ততপক্ষে ইউটিএম এর হাই-এন্ড না হলেও তার কমমুল্যের লো-প্রোফাইল নিরাপত্তা সুবিধা অন্তত সংযুক্ত থাকা উচিত এবং ২৪/৭ লগ চেক এবং সিস্টেম সুপারভিশন খুবই জরুরী।

এই ব্যবস্থাগুলোর অভাব কেবল হ্যাকারদের কাজকেই সহজ করে দেয়নি, মাত্র শ’খানেক ডলার অথবা বড়জোর লাখ পাচেক টাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নেটওয়ার্কিং যন্ত্রপাতির অনুপস্থিতি কিভাবে হ্যাকারেরা ঢুকেছিলো, কোথা থেকে ঢুকেছিলো এবং তাদের কাজের গতিবিধি কেমন ছিলো এসব নির্ণয় করাও দুরুহ করে দিয়েছে তদন্তকারীদের জন্য। এ ব্যাপারে বেশ কিছুদিন আগে একটা পোস্টে আরও বিস্তারিত লিখেছিলাম।

এ ব্যাপারে রয়টারকে সাইবার ফার্ম অপটিভের একজন এক্সপার্ট কনসালটেন্ট জেফ উইখম্যান বলেন,

“আপনি এমন একটি সংস্থ্যার কথা বলছেন যার বিলিয়ন ডলারে এক্সেস ছিলো এবং তারা একদম প্রাথমিক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও গ্রহন করেনি।”

হ্যা, উনি ঠিকই বলেছেন। দেশটা তো এভাবেই চলছে। এই ক্ষেত্রে আতিউর রহমান, অর্থমন্ত্রী কিংবা অর্থ সচিব সহ কেউ দ্বায়িত্ব এড়াতে পারেন না। এটা কেবল মারাত্মক আহাম্মকীই নয়, অপরাধও। দেশের সকল প্রতিষ্ঠানের সর্বস্তরে অনড় অবস্থান নিয়ে বসে আছে গর্ধবের দল। মন্ত্রী মাল সাহেব এখন আর ফেডের দোষ দেন না কেন? ফেডের বিরুদ্ধে মামলার কি হলো? আইনী ব্যবস্থা নেবেন বলে না নিলে কথার বরখেলাপ হয়ে যাবেনা? তাড়াতাড়ী মামলা দিন আপনি। আইনী কাজে অনেকে আমেরিকা ভ্রমন করে আসতে পারবে। আমেরিকায় মনে হয় সরকারী কাজে গেলে প্রথমশ্রেনীর সরকারী কর্মকর্তাদের ডেইলী এলাউন্স ৩০০ ডলারের উপরে। সৎ উপার্জনের সুযোগ করে দিন কিছু মানুষকে। ইতিমধ্যেও বেশ অনেকজন পুলিশ, গোয়েন্দা এবং বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক কর্মকর্তা বৈধ পথে আয় করছেন ফিলিপাইন, শ্রীলংকা সহ নানা দেশে অর্থ উদ্ধারকাজে গমন করে।

তবে শেষপর্যন্ত সব দোষ হয়ে যায় জোহাদের। বেচারার মনে হয় ব্যাকআপ নাই, ওইরকম সুক্ষ চিন্তাও ছিলো না মাথায়। যা ঠিক মনে হয়েছিলো তাই বলে ফেলেছিলো। যাক, তাও ভালো। উনি ইলিয়াস আলী হয়ে যান নাই। আচ্ছা, কোন সংবাদপত্রের কি এটা জানতে ইচ্ছা করে না উনি এতোদিন কোথায় গায়েব ছিলেন এবং ওই গায়েব থাকাকালীন সময়ে উনার অভিজ্ঞতা কি হয়েছিলো?

না, এইসব জানা যাবে না, জানানো যাবে না। একটূ অসুবিধাই আছে। এরচেয়ে সানী লিওনের নাকি একটা ছেলে আছে, একটি সারমেয় ছেলে। সে কিভাবে সানি আপাকে চাটাচাটি করে তা ছাপালেও কাটতি বাড়বে, হিট বাড়বে অনলাইন সংস্করণেও। ওগুলোই তো আসল নিউজ।

সূত্রঃ

http://www.reuters.com/article/us-usa-fed-bangladesh-idUSKCN0XI1UO

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 11 = 16