মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, যে বিষয়ে জ্ঞান নেই সে বিষয়ে চুপ থাকেন

কিছুদিন আগে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুক্তচিন্তা কী তা নিয়ে বিজ্ঞ মতামত দিয়েছেন। প্রায় ৪ দশক ধরে রাজনীতি করেও যিনি গণতন্ত্র কী সেটাই জানতে পারেন নি; বুঝতে পারেন নি, শিখতে পারেন নি- তিনি কোন মুখে মুক্তচিন্তার সংজ্ঞা দেবার দুঃসাহস পান বোঝা বড্ড মুশকিল।

যদিও বাঙলাদেশ এমন একটি দেশ, যেখানে মানুষ যে বিষয়ে অনভিজ্ঞ সে বিষয়ে বিশাল বড় লেকচার দিয়ে দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে রাজনীতি যারা করেন, তারা নিজেদের বিশ্বের উচ্চমার্গীয় চিন্তাশীল জ্ঞানীগুণী বোধ করে থাকেন। তাদের বাপের নাম জিজ্ঞেস করা হলে মায়ের নাম বলতে থাকেন। মায়ের নাম জিজ্ঞেস করা হলে যুদ্ধের কথা বলতে থাকেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাঙলাদেশের সংবিধান কখনো পড়েছেন কী না সে বিষয়েও সন্দেহ আছে। তিনি যদি সংবিধান পড়ে থাকতেন কিংবা কারো মুখে শুনেও থাকতেন তাহলে উদ্ভট সব কথাবার্তা বলতেন না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘তিনি ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলেন’। তিনি যদি মেনেই চলতেন, তাহলে তিনি কীভাবে দেশের প্রধানমন্ত্রী হলেন? অতীতে খালেদা জিয়াই বা কীভাবে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন! রাজনীতিতে ধর্মের প্রবেশ প্রয়োজন কেনো? ধর্মের অনুশাসন মেনেই যদি দেশ চলত তাহলে তো নারী কখনো প্রধানমন্ত্রী হতে পারত না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুপুত্রকে হত্যার পরিকল্পনা করাতে কতো কী কাহিনী! অথচ প্রতিদিন সাধারণ মানুষ মারা যাচ্ছে তাতে তার কিছু যায় আসে না? দায়ভারও নিয়ে চাচ্ছেন না। যদি দায়ভার নিতেই না পারেন তাহলে গদিতে বসে আছেন কেনো? শুধু কি সজীব ওয়াজেদ জয়ের জীবনই মূল্যবান? সাধারণের জীবন কি মূল্যহীন?

প্রতিনিয়ত লেখক হত্যা করা হচ্ছে, ব্লগার হত্যা করা হচ্ছে, শিক্ষক হত্যা করা হচ্ছে, প্রকাশক হত্যা করা হচ্ছে, নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছে কিন্তু সরকারের কোন দায়ভার নেই? সেনাবাহিনী’কে বাঁচানোর জন্য তনু ধর্ষণ হত্যা মামলা ধামাচাপা দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা চুরি করেছেন সেটাও ধামাচাপা দিয়েছেন। কোন তদন্ত নেই, কোন বিচার নেই, কোন দায়ভার নেই।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, দেশ যদি ধর্মীয় অনুশাসনে চলা শুরু করে তবে শরিয়া আইন মতাবেগ পাথর ছুঁড়ে বা ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে বা শিরচ্ছেদ করে নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কারণে আপনাকে প্রথমে শাস্তি পেতে হতো। আরেকটি কথা স্মরণ করিয়ে দেই, আপনার পিতা যে দেশের জন্ম দিয়েছিলেন, সেটা ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার জন্য বাঙালি স্বাধীন করে নি। বইপত্র পড়েন। অতএব, যে বিষয়ে জ্ঞান নেই সে বিষয়ে চুপ থাকাই বুদ্ধিমানের লক্ষণ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, যে বিষয়ে জ্ঞান নেই সে বিষয়ে চুপ থাকেন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 77 = 84