অবশেষে তাকে আমি আমার জীবনের ”তুমি” করে পেলাম

সব মানুষ ই তার লাইফ এ খুব কাছের একজন মানুষ চায়, যে তাকে অনেক ভালবাসবে , অনেক কেয়ার করবে… সবার থেকে আলাদা ভাবে – অন্যরকম ভাবে । আমিও তার ব্যাতিক্রম নই । আমিও এমন একজন কে আমার লাইফ এ চেয়েছি । কর্পোরেট লাইফ এর বেড়াজালে বন্দী হয়ে গিয়েছিলো লাইফ টা । কিছুটা এক ঘেয়েমি চলে এসেছিলো । -_- বার বার মনে হচ্ছিলো লাইফ এ যদি কেউ থাকতো , যাকে অনেক ভালবাসতে পারবো । যার কাছাকাছি থাকবো , সব শেয়ার করবো । দিন শেষে মানসিক শান্তির একটা জায়গা পাবো মানুষটার কাছে । এসব প্রায়ই ভাবতে থাকতাম । ঠিক হঠাত করেই একদিন সে আসলো আমার জীবনে । সময়টা ২০১৫ এর মাঝামাঝির পর ধরা যায় ……… আমার লেখালেখির অভ্যাস আছে টুকটাক। ফেসবুকে প্রতিদিন ই অনেক কিছুই সাজিয়ে গুছিয়ে লিখে থাকি । আবেগ-ভালবাসা-অভিমান-রাগ-জীবন-বাস্তবতা ইত্যাদি অনেক কথা । তো এই লেখালেখির কারণে অনেক ছেলে মেয়েই রিকুয়েস্ট দিয়ে থাকে , ম্যাসেজ করে । লাইক দেয়, কমেন্ট করে । তো ঠিক এভাবে একদিন অনেক মেয়ের মাঝেই একটা মেয়ে আমাকে রিকুয়েস্ট দেয় ফেসবুকে । প্রথমে তেমন একটা খেয়াল করিনি সেভাবে । কারন অনেকেই তো দিয়ে থাকে। সে ও হয়তো লেখা দেখে ভালো লেগেছে, তাই দিয়েছে । পরে একদিন রাতে সে আমাকে নক দিলো , আমিও কথা বললাম । জিজ্ঞেস করলাম চিনে কিনা আমাকে ? বল্লো – না, একটা আপু আপনার লেখা লাইক দিয়েছে । সেটা আমার হোম পেজ এ আসছিলো । লেখা দেখে ভালো লাগলো, ভুলে হয়তো রিকুয়েস্ট চলে গিয়েছে হয়তো। আমি বললাম, ও আচ্ছা… থ্যাংকস ! তো ভুলে যখন আসলো ,চুপচাপ এড করে রেখে দিলাম। কথা হয়নি ।। তো এরপর হঠাত ২-১ দিন কথা হলো । তারপর কিছুদিন পর হঠাত একদিন কোনও কাজ ছিলোনা, এফবি তে বসে বসে সবার চেকিন দেখছি , তো অমন সময় ওর প্রোফাইল টা চোখের সামনে আসলো ,তো খুব ভালভাবে তার প্রোফাইল চেক করলাম । খুব যে আহামরী সুন্দরী সেটা বল্বো না , কিন্তু কি যেনো একটা আছে মেয়েটার মধ্যে ! এক ধরনের মায়া… একটা হালকা নীল কালারে থ্রি পিস পড়া একটা ছবি আপলোড দিলো, সেটা দেখে অনেক ভালো লাগলো তাকে । বলতে গেলে ছোট খাটো ক্রাশ বলতে পারেন । ^_^ তারপর সেদিন তাকে আবার নক দিলাম । কথা হলো … এভাবে কথা চলতে থাকলো । এভাবে অনেক দিন কথা বলতে বলতে একদিন তার নাম্বার টা নিলাম, বললাম – সময় পেলে মাঝে মাঝে কল দিবো, সমস্যা হবে ? বল্লো – না, কিসের সমস্যা ! ভালো ফ্রেন্ড, কল দিতেই পারেন, সমস্যা নাই । তারপর একদিন ই জাস্ট কল দিলাম। ২ /১ মিনিট কথা বললাম । শেষ , এরপর এফবিতেই কথা , চ্যাট !! এভাবে অনেকদিন কথা বলতে থাকলাম ! কখন যে কথা বলতে বলতে মানুষ টাকে ভালো লেগে গেলো বুঝতেই পারলাম না । বলবো বলবো করে ও বলতে পারতেসিনা ভয়ে । যদি বলি, তোমাকে ভালো লেগে গেছে অনেক, তোমাকে আমি আমার করে চাই সবসময়ের জন্য । হয়তো আমাকে বাজে ছেলে ভাব্বে , রিমুভ করে দিবে । সেই ভয়ে বলিনি । কিন্তু , ১ সপ্তাহ যাওয়ার পর ভাবলাম, যা হয়ার হবে… বলেই ফেলি ভাললাগার কথা টা। নাহয় অন্য কেউ যদি বলে দেয়, তখন কস্ট টা বাড়বে । তাই ভাবলাম, যাই হোক না কেনো , বলেই দেই কথাটা । তো, ভেবে ভেবে একদিন রাতে বলেই দিলাম তার প্রতি ভাললাগার কথা । সে হাসলো … ভেবেছে , মজা করসি । সিরিয়াসলি নেয়নি কিন্তু আমি বললাম মজা করতেসিনা । আমি সিরিয়াস তোমাকে অনেক ভালো লাগে । ফ্রেন্ড এর চেয়ে বেশি কিছু ! সে বললও , ভালো লাগতেই পারে , দোষের কিছু না । কিন্তু আমার ও তো ভালো লাগা থাকতে পারে, তাই না ! আমি বুঝে গেলাম, সে অন্য কাউকে হয়তো পছন্দ করে । মন টা খারাপ হয়ে গেলো । তারপর সরি ! বলে অফ হয়ে গেলাম । বললাম , আচ্ছা সরি, আজকের পর থেকে আর কথা বলবো না, শুধু শুধু কস্ট টা বাড়বে । সে ও বল্লো , দেখেন যদি আমার সাথে কথা বললে কস্ট হয়, তাহলে না ই বলেন । আমিও চাইনা আপনি কস্ট পান ! আর যদি ফ্রেন্ড হিসেবে ভালো লাগা থাকে কথা বলতে পারেন । কিন্তু না, আমি ওই বলেই চুপ হয়ে গেলাম। আর তাকে নক দিলাম না । কোন ও ম্যাসেজ দিলাম না। কল ও দিলাম না আর। একদম অফ হয়ে গেলাম । ভাবলাম, যাকে পাবো না, শুধু শুধু ডিস্টার্ব করে কি লাভ ! নক দিয়ে কি লাভ ! সেদিন ওর এই ইগ্নোরেন্স এ চোখে পানি চলে আসলো । পরে ভাবলাম, ওর কি দোষ ! কয়েকদিনের পরিচয়ে কি আর কারো সাথে এভাবে রিলেশন হয় !! স্বাভাবিক ।। তারপর কয়েকদি কেটে গেলো … কোন ও কথা নাই দুইজনের । এমনিতে দেখতাম, আমার লিখাগুলো তে লাইক দিতো হুট হাট ! কিন্তু আমি কিছু বলতাম না তাও । এভাবে চলে যাচ্ছিলো সময়… হঠাত একদিন আমি অসুস্থ হয়ে পরি । প্রচন্ড জ্বর আসে , শরীর খারাপ হয় । তো , আমি সেটা ফেসবুকে পোস্ট করি – অনেক জ্বর , শরীর ভালনা , ব্লা ব্লা !! হঠাত দেখি , সে কমেন্ট করলো , ওষুধ খেয়ে নিন…রেস্ট করেন । দেখে খুব অবাক হলাম। এতো মানুষ লিস্ট এ , কেউ একটা খবর ও নিলো না, অথছ এই মেয়েটা নিলো । যাই হোক, সেদিন রাত টা পার হয়ে গেলো । ৩-৪ দিন পর আমাকে ইনবক্স এ ম্যাসেজ দিলো , কি খবর আপানার এখন? কেমন আছেন ? আমি বললাম, হুম, এখন ভালো । ওর খবর জিজ্ঞেস করলাম । এভাবে অনেক্ষন কথা হোলও আবার। হঠাত আমি জিজ্ঞেস করলাম, আচ্ছা আমি কেনো কথা বলতেসি তোমার সাথে ! শুধু শুধু কথা বললে আরো মনে পরবে তোমাকে, কস্ট বাড়বে । তখন সে বল্লো , আপনি কেনো বলতেসেন জানিনা , কিন্তু আমি বলতেসি কারণ, আমি আপনাকে মিস করতেসিলাম,তাই ! শুনে, অবাক হলাম – আমাকে মিস করতেসো o.O কিন্তু কেনো ! তুমি ই তো অফ হয়ে যেতে বলসিলা । তখন, বল্লো, হুম বলসিলাম কিন্তু কেন মিস করতেসি জানিনা । আমি বললাম, কিন্তু আমি চাইনা আমরা কথা বলি , যখন ভাললাগার মানুষ টা কে পাবোই না , শুধু শুধু কথা বাড়িয়ে কি লাভ ! শুধু একটা রিকুয়েস্ট , তুমি কারো সাথে রিলেশন কইরোনা প্লিজ । আমি সেটা দেখতে পারবো না । তখন সে হেসে দিলো , আর বললও – কারো সাথেই করব না?? আমি বললাম ‘না’ – কার ও সাথে না । তখন সে বললও – ঠিক আছে, আপনি কইরেন । আমি বললাম না, আমিও করবনা … করলে তোমার সাথেই করতাম । কারন তোমাকে মন থেকে অনেক ভালো লেগে গেছে । কিছুক্ষন চুপ থাকলো , তারপর সে বললও – ” আচ্ছা আপনার ইচ্ছে টাই পুরণ হোক তাহলে । আমি বললাম মানে ? তখন সে বললও – মানে , আমার সাথেই রিলেশন করুন তাহলে । আমি বললাম , মজা করতেসো আমার সাথে ! প্লিজ ফান করিও না। সে বললও – না, মজা করতেসিনা, সিরিয়াসলি বলতেসি আর আমি সিরিয়াস … আমিও আপনার হতে চাই ! আমি বললাম সত্যি বলতেসো ?? তাহলে এতদিন এসবের মানে কি ! তখন সে বললও , আমি আসলে এতদিন আপনাকে দেখতেসিলাম ! আপনি কেমন ! আমি সেদিন আসলে মিথ্যে বলেছিলাম, কাউকেই পছন্দ করিনা, রিলেশন ও নেই । আমি দেখছিলাম আপনি কেমন ! কি করেন !! সবাইতো এক হয় দেখি… কিন্তু মনে হচ্ছে আপনি একটু আলাদা অন্যদের চেয়ে , এটা আমার বিশ্বাস ! সেই বিশ্বাস থেকে আপনাকে ভালবাসতে চাই । কিছু কথাও বললও সে… কেমন ছেলে চেয়েছিলো , ব্লা ব্লা !!! ওই মুহূর্তে মনে হচ্ছিলো , সবচেয়ে সুখী মানুষ আমি এই পৃথিবীর । কারন যেই মানুষ টাকে এতো ভালো লাগলো তাকে আজ নিজের করে পাচ্ছি 🙂 । আমি শুধু বললাম, যা ই হোক না কেনো, শুধু বিশ্বাস টা রাখবা নিজের ভালবাসার উপর। আমিও বিশ্বাস করি ভালোবাসা টা । আজ থেকে আর আপনি না , আমি তোমাকে আমার জীবনের ‘ তুমি ‘ করে চাই । খুব একাকিত্ত একটা সময়ে সে আমার লাইফ এ আসলো , খুব প্রয়োজনে ওর দুটি হাত আমার কাছে বাড়িয়ে দিলো । আমি তাকে নিজের করে নিলাম সেদিন থেকে । আমি থাকি ঢাকা আর ও মাগুরা । অফিসের কারণে আমার যাওয়া পসিবল হলো না। ভাবিনি সে আসবে … কিন্তু দেখি মানুষ টা নিজেই চলে এলো ঢাকায় , দেখা করার জন্য । খুব অবাক হলাম, যেখানে একটা ছেলে হয়ে গেলামনা , আর সে মেয়ে হয়ে চলে এলো _ অথছ আমি ই বেশি সিরিয়াস আর ভালোবাসি ভালোবাসি করলাম । এভাবেই সম্পর্কের ঠিক বরাবর ১ মাস পর আমাদের দেখা হলো । বলা যায়, সারপ্রাইজ এক ধরনের 🙂 এভাবেই একসাথে দুইজন অনেক সুন্দর কিছু সময় কাটালাম । লাইফ এর সেরা কিছু মুহূর্ত । এখন আমরা দুইজন দুইজনের অনেক কাছের দুইজন মানুষ ! অনেক ভালোবাসে মানুষ টা , আমি ও ওর সব ভাললাগা গুলো কে নিজের মতো করে ভালোবাসি , সবচেয়ে বড় কথা , তার বলা একটা কথা, সেটা হলো – সে আমাকে পেয়ে ‘ হ্যাপি ‘ ওর লাইফ এ । জীবন টা যখন কর্পোরেট লাইফ এর বেড়াজালে আটকে যাচ্ছিলো, একাকিত্ত ঘিড়ে ফেলতেসিলো আমাকে, ঠিক তখন ই মানুষ টা তার ভালবাসার হাত দিলো আমাকে, আমাকে তার জীবনের গল্পে জড়িয়ে নিলো 🙂 এভাবেই আমাদের ভালবাসার গল্প চলছে … ইনশাল্লাহ সবসময় আমরা এক্ সাথেই থাকতে পারবো । আল্লাহ্‌ সবাইকে ভালো রাখুক ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 2 =