রানা সাহেবের এই ক্ষতি অপূরণীয়

যুবলীগ নেতা সোহেল রানা সাহেব ‘রানা প্লাজা’র মালিক। নাম দেখেই বোঝা যাচ্ছে, তার সাধের ভবনটির নামকরণ তার নামানুসারেই হয়েছে। তো তিনি স্বয়ং আজ সকালে ভবনের নীচতলায় মিটিং করছিলেন, ভবনটি কখন থেকে বা কতদিনের জন্য বন্ধ রাখা যায়, ভবনের রক্ষনাবেক্ষনে কি ব্যবস্থা নেয়া যায় – এইসব বিষয়ে। কিন্তু দুখের বিষয়, মিটিং শুরু করার কিছুক্ষন পরেই ভবনটি ধ্বসে পড়ে। (সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেড এবং বিডি নিউজ)

নিজের চোখের সামনে নিজের ভবন গুড়িয়ে যাওয়া, চাট্টিখানি কথা নয়। নিদারুণ এই মানসিক কষ্ট। শুধু ভবন নয়, তার সিডান গাড়িটিও তার চোখের সামনে তার ভবনের কনক্রিটের চাপে দুমড়ে মুচড়ে যায়। নিজের গাড়ি আর বাড়ির এই ধ্বংস নিজের চোখে অবলোকন করা অত্যন্ত কষ্টকর। তিনি জীবনে কখনো এই শোক কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে মনে হয় না।

ধব্সে পড়া ভবন থেকে বের হতে গিয়ে তার কনুইয়ের চামড়া খানিকটা ছিলে যায়। পিঠেও মৃদু ব্যথা পান। উফ!

আমি মাননীয় সরকারের কাছে আবেদন জানাই, তার গাড়ী ও বাড়ীর যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেয়া হোক। এবং তিনি যে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন, সেজন্য সরকারী হাসপাতালে সরকারী খরচে তার শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসার দাবী জানাইলাম।

তাকে স্বশরীরে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় স্থানীয় সাংসদ তৈমুর জং। এমপিকে কেন তাকে উদ্ধার করতে হলো, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে কেন আসলেন না তাকে উদ্ধার করতে? আমি সরকারের কাছে এই প্রশ্ন রাখলাম।

জনতার রোষানলে পড়ার ভয়ে তিনি বের হতে না পারেননি কিছুক্ষন, তাই জনতার রোষানল থেকে রক্ষা করার জন্য আমি তাকে সরকারী খরচে সার্বক্ষনিক বডি গার্ড নিয়োগ দেবার দাবী জানাই।

ভবন ধসে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটলেও সোহেল রানা আঘাত পাননি বলে জানান ঘটনাস্থলে রানার সঙ্গে থাকা তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু অ্যাডভোকেট মাসুদ চৌধুরী। — জনাব সোহেল রানাকে এই বীরত্বের জন্য আন্তর্জাতিক কোন পুরস্কারে ভূষিত করা হউক।

“মঙ্গলবার বিকালেই ভবনটিতে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিলে ভবন মালিক সাভার পৌর যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. সোহেল রানা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “ভবনের বড় ধরনের কোন ক্ষতি হয়নি। সামান্য একটু প্লাস্টার খসে পড়েছে। এটা তেমন কিছু না।” যদিও স্থানীয় প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক ভবন ঘুরে দেখে বলেছিলেন, ভবনের নিরাপত্তার স্বার্থে বুয়েট থেকে প্রকৌশলী এনে পরীক্ষা করা প্রয়োজন, তা না হলে বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।” (সূত্র: বিডি নিউজ)

আমি স্থানীয় প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাককে বেহুদা মাতবরী না ফলানোর অনুরাধ জানাই। আমি বলতে চাই, সে কি রানাত্তে বেশী বুঝে?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “রানা সাহেবের এই ক্ষতি অপূরণীয়

  1. শুধু রানা সাহেব কেন? উনার
    শুধু রানা সাহেব কেন? উনার পুরো চৌদ্দ গুষ্টি এই অপূরণীয় ক্ষতিতে যে মানসিক আঘাত পেয়েছে তাদের সবারও সরকারী খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। প্রয়োজনে মাউন্ট এলিজাবেথে নেওয়ার জন্য সিঙ্গাপুর এয়ারের বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থার দাবী জানাই। :মাথাঠুকি:

  2. ভবন ধ্বসের জন্য অতীতের
    ভবন ধ্বসের জন্য অতীতের ঘটনাগুলোর শাস্তি না হওয়াতে এই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে। এই রানা নামের বেজন্মাকে এই মহুর্তে আটক করে আইনের মুখোমুখী করা হোক।

  3. এটাকে তো ধরতেই হবে ! তারপর
    এটাকে তো ধরতেই হবে ! তারপর অনুমোদন বিহীন যতগুলি ভবন আছে তার সবগুলিই গুড়িয়ে দিতে হবে। নইলে আরও জীবণ অকালে ঝরে যাবে…

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 62 = 69