ঈশ্বরের রূপকথারা – ১

মোটামুটি দেখা যায়, Neolithic যুগের শুরু থেকে, মানে আনুমানিক ১০০০০ BCE, স্টোন এজ শেষ হচ্ছে, কৃষি যুগ শুরু হবে হবে করছে, সামনে ধাতব যুগ, মানুষের খাবার নিয়ে চিন্তা কমছে, অলস সময় বাড়ছে, ঈশ্বর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে শুরু করে, কিন্তু যার যার ঈশ্বর তার তার, ঈশ্বরের মানে স্রষ্টা পালনকর্তা তখনো হয় নি, অনেকটা এমিবা লেভেলের ঈশ্বর, কালেকটিভ। এর আগে পর্যন্ত মানুষ ছিলো হান্টার-গ্যাদারার, টোটেম পূজা প্রচলণ ছিলো, হিংস্র পশু থেকে রক্ষা, শিকার বেশি পাওয়া, এমন বিভিন্ন ফাংশনাল টোটেম। কৃষিযুগ শুরুর পরে টোটেম চেঞ্জ হয়, নারী টোটেম পূজা চালু হয়, গর্ভবতী নারী টোটেম, ঊর্বরতার প্রতীক, প্রধাণ উৎসব ফসল তোলার উৎসব, উর্বরতা উদযাপন, উদ্দাম যৌনতা। পাশাপাশি, চন্দ্র-সূর্য্য ইত্যাদি টোটেম। এটা ক্লাসিক Paganism এর সূচনা। আমরা Göbekli Tepe (আনুমানিক ১০০০০বিসি – ৮০০০ বিসি) কে উদাহরণ ধরে দেখতে পারি। এটা এ পর্যন্ত খুঁড়ে বের করা সব থেকে প্রাচীন উপাসনালয়, বর্তমান তুরস্কে। এখানে খুব সম্ভব আশেপাশের একটা রেডিয়াসের সব ট্রাইব এক হতো নিজেদের টোটেম নিয়ে। কালেকটিভ ঈশ্বরদের একের সাথে অন্যদের দেখা হতো। ঈশ্বর তখনো পরাক্রমিশালী নন, বস্তুত ঈশ্বরের ধারণারই তখন সবে ভ্রূণ দশা।

মোটামুটি দেখা যায়, Neolithic যুগের শুরু থেকে, মানে আনুমানিক ১০০০০ BCE, স্টোন এজ শেষ হচ্ছে, কৃষি যুগ শুরু হবে হবে করছে, সামনে ধাতব যুগ, মানুষের খাবার নিয়ে চিন্তা কমছে, অলস সময় বাড়ছে, ঈশ্বর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে শুরু করে, কিন্তু যার যার ঈশ্বর তার তার, ঈশ্বরের মানে স্রষ্টা পালনকর্তা তখনো হয় নি, অনেকটা এমিবা লেভেলের ঈশ্বর, কালেকটিভ। এর আগে পর্যন্ত মানুষ ছিলো হান্টার-গ্যাদারার, টোটেম পূজা প্রচলণ ছিলো, হিংস্র পশু থেকে রক্ষা, শিকার বেশি পাওয়া, এমন বিভিন্ন ফাংশনাল টোটেম। কৃষিযুগ শুরুর পরে টোটেম চেঞ্জ হয়, নারী টোটেম পূজা চালু হয়, গর্ভবতী নারী টোটেম, ঊর্বরতার প্রতীক, প্রধাণ উৎসব ফসল তোলার উৎসব, উর্বরতা উদযাপন, উদ্দাম যৌনতা। পাশাপাশি, চন্দ্র-সূর্য্য ইত্যাদি টোটেম। এটা ক্লাসিক Paganism এর সূচনা। আমরা Göbekli Tepe (আনুমানিক ১০০০০বিসি – ৮০০০ বিসি) কে উদাহরণ ধরে দেখতে পারি। এটা এ পর্যন্ত খুঁড়ে বের করা সব থেকে প্রাচীন উপাসনালয়, বর্তমান তুরস্কে। এখানে খুব সম্ভব আশেপাশের একটা রেডিয়াসের সব ট্রাইব এক হতো নিজেদের টোটেম নিয়ে। কালেকটিভ ঈশ্বরদের একের সাথে অন্যদের দেখা হতো। ঈশ্বর তখনো পরাক্রমিশালী নন, বস্তুত ঈশ্বরের ধারণারই তখন সবে ভ্রূণ দশা।

(উপরে খননকার্য্য চলাকালীন Göbekli Tepe, নিচে, শিল্পীর তুলিতে)


ঈশ্বরেরা হালকা পাতলা কাজ কর্ম নিয়ে দিব্যি ছিলো বহু যুগ, প্রায় ৬০০০ বছর। , কৃষিযুগ বিবর্তিত হয়ে ধাতব যুগ শুরুর সাথে সাথে নগরকেন্দ্রিক সভ্যতার সূচনা হয়, বিশেষ করে একদিকে নাইল আর অন্যদিকে ইউফ্রেটিস-টাইগ্রিস অববাহিকায়, আনুমানিক ৩৫০০ বিসি তে। মুশকিল হলো, ধাতু আবিষ্কারের পর থেকে, বিশেষ করে কপার আবিষ্কারের পরে ব্রোঞ্জ বানাতে শিখে এবং পরবর্তিতে সোনা মূল্যবান বিবেচিত হবার পরে, এই ব্রোঞ্জের প্রাচুর্যের উপরে ভিত্তি করে শক্তিশালী সামরিক রাষ্ট্র (Warlord State) গড়ে উঠতে থাকলো। ব্রোঞ্জের অস্ত্র, সামরিক পাল্লা অনেকের ভারী করে দিলো। মিশরে তাদের ওল্ড কিংডম, বা তৎকালীন মেসোপটেমিয়ায়, সুমেরীয়, বা এশিয়া মাইনরে প্রোটো-ইন্দো-ইরানিকদের নগর। সুমেরিয়াতে আবার ১২-১৫ টা নগর। সব নগরের ওয়ারলর্ড, গড কিং, বাকি সমস্ত টোটেমের চাইতে গড কিং বেশি পূজ্য। মিশরের মত বড় রাষ্ট্রে, গড কিংকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাধারণ রাজনীতিবিদদের একটা কিছু প্রয়োজন ছিলো। ওরা প্রথম অরগানাইজড মোল্লাতন্ত্র চালু করে। ঈশ্বর(গন) এই প্রথম, শক্তিশালী পরাক্রমশালী হয়ে উঠলো। গড কিং এবং গড মিলে মিশে একাকার হয়ে গেলো। (সিন্ধু উপত্যাকায় বা চীন এলাকায় ব্রোঞ্জ যুগ কাছাকাছি সময়ে কিন্ত, এখানে নগরকেন্দ্রিক সভ্যতা আরো পরে)। আমরা এখান থেকে শুরু করবো:

প্রাচীন মিশর, পৌরণিক মিশর
————————-
প্রাচীন মিশর আর পৌরণিক মিশর এক সময়কাল নয়। প্রাচীন মিশরের সময়কাল, আনুমানিক ৫০০০BC নাগাদ। এটা এক আশ্চর্য্য সময়, প্রায় কাছাকাছি সময়ে (৫০০০-৪০০০ বিসি), ইউরেশিয়া অঞ্চলের চারটে নদী অববাহিকায় গড়ে ওঠে বৃহৎপ জনপদ; মিশর, মেসোপটেমিয়া, সিন্ধু উপত্যকা এবং চিন । ৪০০০ বিসি নাগাদ প্রাইমারি ব্রোঞ্জ যুগের শুরু, মিশরও দুই ভাগে বিভক্ত, Upper Egypt, Lower Egypt. ভুমধ্যসাগরের দিকটা ছিলো লোয়ার ইজিপ্ট, লোহিত সাগর থেকে মরুভুমির ভিতর পর্যন্ত আপার ইজিপ্ট। দুই ইজিপ্টের দুই রাজা ছিলো, অবশ্যই গড কিং। আর যত Deity থাকুক, কিং সবার বড় ঈশ্বর। আনুমানিক ৩২০০ নাগাদ, সুমেরিয়রা অক্ষর আবিষ্কার করে এবং পরবর্তি ১০০ বছরের মধ্যে মিশরীয়রাও Hieroglyphics তৈরী করে ফেললো এবং লিপিবদ্ধ করলো ওদের Cosomology, ঈশ্বরতত্ব বললে ঈশ্বরতত্ব, সৃষ্টিতত্ব বললে তাই।. খুব সরল সাদাসিধে ওদের কসমোলজি,

” প্রথমে ছিলো শুধু Chaos (বিশৃঙ্খলা, উথাল পাথাল, অন্ধকার, Primordial Beginning), আচমকা স্থিতি এলো, ক্যাওস থেকে এলো Maat (শৃঙখলা, আলো, ন্যায়, একতা, Primordial Balance, Order)। মা’ট সৃষ্টির ফলে ক্যাওস সরে গিয়ে যেই শুন্যতা সৃষ্টি হলো, সেখানে এলো অনন্ত জলধি Nun, তার উপরে সমতল পাতের মত পৃথিবী, পুরুষ Geb, উপরে বিছিয়ে রাখা আকাশ, নারী Nut, (নুট এবং গেব স্বামী-স্ত্রী), সূর্য্য Helios, সূর্য্যের অধিকর্তা Ra, চাঁদ Khonsu, জ্ঞান Thoth এবং Duat. এই ডুয়াট তখন শুধুই Spiritual plain, আধ্যাত্মবাদি জায়গা, সূর্য্য ডোবার পরে সূর্য্যের পুনর্জন্ম হয় এই ডুয়াট এ। ক্যাওস কিন্তু মা’ট পছন্দ করে না, সে ধ্বংস করে দিতে চায়, তার পারসোনিফিকেশন হচ্ছে মহানাগ Apophis, যে প্রতিমুহুর্তে চেষ্টা করে যাচ্ছে মা’ট গ্রাস করার। তার বিরুদ্ধে সেনাপতি রা, এপোফিসের সাথে রা এর এটারনাল যুদ্ধ। রা সবার নেতা। ”

এপর্যন্ত মিশরের দেবতারা মানুষের কোন কিছু নিয়ে মাথা ঘামায় নি, নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত থাকতো, দুই গড কিং , আপার লোয়ার মিশর চালাচ্ছিলো। কিন্তু আশে পাশের ট্রাইব, যেমন মেসিডোনিয়ান, এসিরিয়ান, সুমেরিয়ান, নাবাতিয়ান, ইজরাইলি (ইব্রাহিমের সম্প্রদায়, এরা ঐ জেরুজালেম এলাকায় ছিলো প্রায় ৭০০০ বিসি থেকে), এরা নিয়মিত দুপাশ থেকে হামলা করতো মিশরে। দুই অংশেই ছিলো দুর্বল শাসক। এই সুযোগে সিভিল ক্যু হয়ে গেলো। মিশরিয় প্রিস্ট সম্প্রদায় তাদের জাদুবিদ্য নিয়ে রাজনীতিতে ঢুকে পড়লো, তারা এক সাবেক রাজপুত্রকে নেতা হিসেবে রেখে, গৃহযুদ্ধ শুরু করে দিলো। Namor (আনুমানিক ৩১০০ বিসি) প্রথম ফারাও হিসেবে দুই মিশর একীভুত করে সম্রাট হয়ে ওঠে, মোল্লাদের সাহায্য নিয়ে। শুরু হয় ডাইন্যাস্টিক মিশরের। পালটে গেলো কসমোলজি, পালটে গেলো ঈশ্বরের ভুমিকা, পালটে গেলো ডুয়াট, পালটে গেলো মিশরিয় সভ্যতার ধরণ। এবারে ফারাও নিজে ঈশ্বরের অবতার, মোল্লা আর তলোয়ার যুথবদ্ধতার সূচনা এই প্রথম মিশরিয় সাম্রাজ্য থেকেই। পৌরণিক মিশর এই শুরু হলো। এবারে যা ঈশ্বরতত্ব এলো :

” আচমকা রা এর কাছে ভবিষ্যতবাণী, নুট-গেবের সন্তানদের কাছে রা রাজত্ব হারাবে। রা, নুট এবং গেব এর মিলন বন্ধ করে দিলো। তাও ফাঁকি দিয়ে তারা মিলিত হলো। নুট গর্ভবতী, রা জানতে পারলো, সে ডিক্রি জারি করলো, সূর্য্য চলবে এমন কোন দিনে নুট বাচ্চার জন্ম দিতে পারবে না। প্রসব বেদনায় ছটফট করছে, কিন্তু জন্ম দেয়ার সুযোগ নেই। এমন সময় নুট, চন্দ্রের সাথে জুয়া খেললো। জুয়া খেলে চন্দ্রের কাছ থেকে কিছু চন্দ্রালোক জিতে নিলো, সেই আলো দিয়ে নুট ৫ টা দিন তৈরী করলো, সেই ৫ দিনে জন্ম দিলো Osiris, Isis, Set, Nephthys এবং Haroeris। ডিসেম্বর ২৭-৩১, এই ৫ টা দিনকে বলা হয় Demon Days (আগে মিশরের ক্যালেন্ডারে ৩৬০ দিন ছিলো, ডেমন ডে যুক্ত হবার পরে আনুমানিক ৩০০০ বিসি, ফাইনাল মিশরিয় ক্যালেন্ডার তৈরী হয়)। তো যাই হোক, ঈশ্বরেরা পলিটিক্স শিখলো , ওসিরিসের সাথে বিয়ে হলো আইসিস এর, সেট এর সাথে নেফথাইস এর, ওসিরিস সবথেকে পাওয়ারফুল, কিন্তু সেট সবথেকে ম্যাজিকালি স্ট্রং, সে গড অব কেওয়াস কন্ট্রোল, রা এর ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট, ওসিরিস রিজার্ভ ফোর্স। আইসিস প্রেগন্যান্ট হলো, ছেলে হবে, আইসিসের মধ্যে ক্ষমতার লোভ দেখা দিলো।

মিশরিয় Conocept of Soul মতে, আত্মা বা স্পিরিট, ৬ অংশে বিভক্ত, Ib (হৃদয়, ভাবনা, চিন্তা), Sheut (ছায়া, প্রতিচ্ছবি, আকার, আত্মপ্রকৃতি), Ren (প্রকৃত নাম, পরিচয়, জীবনের প্রতি মুহুর্তের স্মৃতি , এক কথায়, স্বত্বা, Ba (ব্যক্তিত্ব), Ka (জীবনীশক্তি) এবং Akh (পারলৌকিক আত্মা)। এই পর্যায়ে এসে আমরা পরবর্তিকালের স্পিরিচুয়ালিজম এর অনেকগুলো ভেরিয়েশন দেখতে পাচ্ছি। যাই হোক, আইসিস প্রেগন্যান্ট হবার পরে ভাবলো, যদি ওসিরিস রাজা না হয়, তাহলে তাদের সন্তানের ভবিষ্যত কি হবে। আইসিস জাদুবিদ্যার দেবী, সে একটা ফন্দী আঁটলো, রা এর শরীরের ঘাম সংগ্রহ করে সেটা মিশিয়ে একটা বিষাক্ত সাপ বানালো এবং সেই সাপ গিয়ে রা কে কামড় দিলো। কোনকিছুতেই আর সাপের বিষ থেকে রা মুক্ত হতে পারে না , সমস্ত চিকিৎসা ব্যর্থ। এসময়ে আইসিস এসে বললো, সে ট্রাই করে দেখবে , আইসিসকে দেখেই রা যা বোঝার বুঝে ফেলেছিলো,কিন্তু কিছু করার ছিলো না, বিষের যন্ত্রণায় রা বাধ্য আইসিসের কথা শুনতে। আইসিস বললো, বিষ সরানো সম্ভব, যদি রা আইসিসকে নিজের Ren জানায়, শুধু তাহলেই এই বিষ নামানো সম্ভব (তৎকালীন প্রচলিত তত্বমতে, Ren বা প্রকৃত নাম কেউ জানার অর্থ হচ্ছে, যার রেন তার উপরে সমস্ত ক্ষমতার অধিশ্বর হয়ে যাওয়া। যে কোন জাদু ব্যবহার করা যাবে, যা খুশি তাই করিয়ে নেয়া যাবে, তাই অতি বিশ্বস্ত একান্ত আপন ১/২ জন ছাড়া কেউ রেন প্রকাশ করতো না)। তো রা বাধ্য হয়ে আইসিসকে নিজের রেন জানিয়ে দিলো , আইসিস বিষ সরিয়ে, সেই রেন ইউজ করে, রা কে অবসর নিতে বাধ্য করে। এবারে সান বোটের সিংহাসনে বসবে ওসিরিস।

Duat, এ পর্যন্ত ছিলো, আধ্যাত্ববাদ। এবারে ডুয়াট হয়ে গেলো , পার্থিব জগৎ বাদে সব কিছু। সেখানে এখন আন্ডারওয়ার্ল্ড, সেখানেই ঈশ্বরের রাজ্য, সেখানেই নরক, সেখানেই স্বর্গ। স্বর্গ বা নরক যদিও Vague তখনও, কিন্তু এই প্রথম কনসেপ্টটা এলো। ক্যাওসও ওখানেই, লর্ড অফ ডেমনস এপোফিস এগিয়ে আসতে চাইছে প্রতি মুহুর্তে। সূর্যাস্তের পরে, সান বোট, পশ্চিম দুয়ার দিয়ে ডুয়াটে প্রবেশ করে, বারো টা প্রহর River of night এবং Lake of fire এর মধ্যে ভ্রমণ করে, পূর্ব দুয়ার দিয়ে বেরিয়ে যায়। এর মধ্যে বোট কয়েকটা Pit Stop নেয়। তেমনই একটা পিট স্টপ হচ্ছে Throne Room, রাজ দরবার। ওসিরিস এখন ফারাও, প্রথম ফারাও, সব দেব দেবী কম বেশি মেনে নিয়েছে, কিন্তু রা এর লেফটেন্যান্ট গড অফ ক্যাওস কন্ট্রোল সেট, তার কোন খোঁজ নেই। প্রথম রাতে, রাজদরবারে প্রথমবারের মত সিংহাসনে বসে আছে ওসিরিস, এমন সময় এলো সেট, টানটান উত্তেজনা, সেট কি ওসিরিসকে চ্যালেঞ্জ করবে? কিন্তু না, রহস্যময় হাসি মুখে নিয়ে, সেট ওসিসিরিসের বশ্যতা স্বীকার করে নিলো।

সেট বললো, ” মহান ফারাও, আপনার অভিষেক উপলক্ষে আমি একটা জিনিস প্রস্তুত করেছি, অনুমতি দিলে আনতে বলি?”
ওসিরিস আনন্দিত হয়ে বললো, “অবশ্যই ভ্রাতা, তুমি কি উপহার এনেছো সেটা আমারও দেখতে তর সইছে না।”
সেট হুংকার দিলো , “এই কে আচিস, লিয়ে আয়”

সেটা ছিলো অসম্ভব সুন্দর ডিজাইনে ব্রোঞ্জ আর সোনা দিয়ে তৈরী Sarcophagus (মিশরীয় কফিন, যেখানে মামি রাখা হয়), এত আকর্ষনীয় আর জাদুশক্তি ঠিকরানো ছিলো, প্রত্যেক দেবতাই লোভে পড়ে গেলো। কিন্তু সেট বললো, শুধু যে যোগ্য সেই এই সারকোফেগাসে শুতে পারবে। মহান ওসিরিস, দেখিয়ে দিন, শুধু আপনিই যোগ্য। গর্বে ওসিরিসের বুক ফুলে উঠলো, তাড়াতাড়ি নেমে ওর মধ্যে ওসিরিস শুয়ে পড়তেই, ঢাকনা বন্ধ হয়ে গেলো। যাদু দিয়ে বন্ধ করা, সেট নিজে ছাড়া কারো পক্ষে সম্ভব না খোলা, কারো কিচ্ছু করার নেই। রা এর প্রতিনকরা অন্যায় এর প্রতিশোধ নিলো সেট। আইসিসকেও মারতে যাচ্ছিলো, কিন্তু আইসিস শেষ মুহুর্তে চিল’র রূপ ধারণ করে পালিয়ে যায়। সেট ওসিরিরসের শরীর ওই কফিনের মধ্যেই টুকরো টুকরো করে, সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেয় (বলা হয়, ওসিরিসের শরীরের টুকরো যেখানে যেখানে পড়েছে, সেখানে সেখানে মরুদ্যান তৈরী হয়েছে)।

আইসিস পৃথিবীতে লুকিয়ে থেকে জন্ম দেয় সন্তান হোরাসকে, তৎকালীন মিশরীয় ক্যালেন্ডার অনুসারে ২১, ২৩ বা ২৫ ডিসেম্বর (২৫ ডিসেম্বর এর উল্লেখ সবথেকে বেশি পাওয়া যায় এবং ধারণা করা হয় এখান থেকেই যীশু খ্রিস্টের জন্ম রহস্য এসেছে)। ফ্যালকন গড হোরাস, যুদ্ধের দেবতা, যখন প্রস্তুতি নিচ্ছে সেট এর বিরুদ্ধে যুদ্ধের, আইসিস তখন মরুভুমি ঘুরে ঘুরে খুঁজে বেড়াচ্ছে ওসিরিসের টুকরো। অবশেষে একদিন ওসিরিসএর শরীরের সমস্ত টুকরো এক করে সাজিয়ে, তার মধ্যে একে একে Ib, Sheut, Ba, Ka এবং Akh প্রবেশ করিয়ে সর্বশেষ সেই শরীরের উপরে Penis বসিয়ে তাতে Ren প্রবেশ করায় (নিচে তৎকালীন মিশরীয়দের আঁকা এই বিষয়ের ছবি দ্রষ্টব্য)। ওসিরিস পুনরুত্থিত হয় ঠিক, কিন্তু শরীরের মৃত্যু হয়েছে, সে পার্থিব জগৎে থাকতে পারবে না, তাকে ডুয়াটেই থাকতে হবে। তো হোরাসকে এখন ফারাও এর সিংহাসনও দখল করতে হবে। ফাইনালি হোরাসের শক্তি আর আইসিস এর জাদু মিলে সেট কে পরাস্ত করে হোরাস ফারাও হয়ে বসে। ওসিরিস হয়ে যায় পরকালের শাসনকর্তা, সেখানে সেট এর ছেলে আনুবিস গড অফ ডেথ।”

এবারে এই ঐশ্বরীক সাম্রাজ্যের আক্ষরিক কপি নাকি মিশরীয় সাম্রাজ্য। ফারাও কখনো ওসিরিস, কখনো হোরাস, কখন কেউ আইসিস। যদি ভাই ওসিরিস আর বোন আইসিস ধরে নেয় পুরোহিতরা তাহলে ভাই বোন বিয়ে। ফারাও যা করছে তা আসলে ঈশ্বরের কাজ। (খুব সম্ভব এই সময়েই তৎকালীন মেসোপটেমিয়াতে আব্রাহামের জন্ম)। এই ঈশ্বরেরা লোকের শোবার ঘরেও ঢুকে গেলো। ফারাও হবার আগে, একেক এলাকার দায়িত্বে ছিলো একেক দেবতা। হোরাস ফারাও হওয়াটা হচ্ছে, unification of upper and lower Egypt, সূর্য দেবতা রা এর সাথে Mysticism এর দেবতা Amon একীভুত হয়ে আমন রা হয়ে গেলো, এমন অনেক কিছু ঘটিয়ে পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথমবারের মত ঈশ্বর-তলোয়ার-জীবন একাকার করে দেয়া হলো। খ্রিস্টপূর্ব ৩০৫০-২৬৫৯ পর্যন্ত এই প্রাথমিক ফারাও বংশ টিকে ছিলো এবং অন্তত ঐ সময় পর্যন্ত মিশরীয়রাই ছিলো পৃথিবীর একমাত্র Gods’ Warlord’s Kingdom.

(চালানোর চেষ্টা করা হবে………..)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

16 − = 10