‘তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর।’ কাদেরকে?

সুরা নিসার ৮৯ নম্বর আয়াতকে ব্যবহার করা হয় কথিত মুরতাদ হত্যার বৈধতা প্রমাণ করতে। এই আয়াতে আল্লাহ নাকি ইসলাম ত্যাগকারী মুরতাদদের যেখানে পাওয়া যায় সেখানেই হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন। আসলেই কি তাই? চলুন বিশ্লেষণ করা যাক।
আয়াতটিতে বলা হয়েছে-

‌’তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে চলে আসে। অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না এবং সাহায্যকারী বানিও না।

যারা এই আয়াতকে কথিত মুরতাদ হত্যার স্বপক্ষে দলিল হিসেবে দেখিয়ে থাকেন তারা নিশ্চয়ই জানেন এই আয়াতে যাদেরকে হত্যা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা কারা। বস্তুত তারা মক্কার কুরাইশ ইসলামবিরোধী রাষ্ট্রশক্তির প্রতিনিধি, যারা ইসলামের জন্মশত্রু। আর তাদেরকে হত্যা করার জন্য যাদেরকে হুকুম করা হচ্ছে তারা মদীনার সদ্যগঠিত ইসলামী রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ।

এখানে অভিযুক্তরা হচ্ছে সেইসব লোক, যারা পৃথিবী থেকে ইসলামের নাম-গন্ধ মুছে ফেলার এমন কোনো প্রয়াস নেই যা অবশিষ্ট রেখেছিল। এরাই সেই ষড়যন্ত্রকারী যারা নবী মোহাম্মদ (সা.)কে প্রাণে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ও সেই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখে নি। এরা রসুলের আসহাবগণকে বিনা অপরাধে কী অমানবিক নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়েছে তা ইতিহাস। ইয়াসীর, সুমাইয়া (রা.)কে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল এবং নব্যগঠিত মদীনাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করার পায়তারা করছিল মক্কার এই কাফেররাই।

বস্তুত মুসলমানদের সাথে মক্কাবাসী মুশরিকদের তখন যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছিল। সেই যুদ্ধাবস্থায় মদীনার পক্ষ থেকে কিছু ট্রুপ মক্কাবাসীর বাণিজ্য কাফেলায় হামলা করার জন্য ওঁত পেতে থাকত। অতঃপর যখন সুযোগ পাওয়া যেত, হামলা চালানো হত। দেখা যেত আক্রান্ত হয়ে মক্কাবাসী কাফেররা তখন জীবন বাচানোর জন্য প্রতারণার আশ্রয় নিত। মুশরিকদের পক্ষ ত্যাগ করে মোহাম্মদের (সা.) পক্ষ নেওয়ার ভান করত। কিন্তু যেই না তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হত, তারা মক্কায় গিয়ে পুনরায় নবগঠিত মদীনা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালাতো।

এই যে তারা ছলনা-প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে মুসলিম সেনাদের হাত থেকে প্রাণরক্ষা করতে পারত- পৃথিবীর ইতিহাসে এমন ঘটনার দ্বিতীয় কোনো দৃষ্টান্ত আছে কি? যুদ্ধাবস্থা চলাকালে শত্রুপক্ষের একদল সেনাকে হাতের কাছে পেয়েও শুধু মুখের কথায় বিশ্বাস করে ছেড়ে দেওয়ার মত উদারতা প্রায়ই দেখাত মুসলিম সৈন্যরা। এমন উদারতার সুযোগ নিয়ে প্রাণরক্ষা করার পর যারা বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং পুনরায় মুসলিম রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়, অর্থাৎ যুদ্ধাপরাধ করে তাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে না তো কার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে?

দু’টি বিষয় আমাদেরকে পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে।

যুদ্ধাপরাধ ও রাষ্ট্রদ্রোহিতা।

নবী (সা.) যখন মদীনায় গেলেন, মদীনায় আল্লাহর হুকুমতের ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠিত হলো, রসুলাল্লাহ হলেন রাষ্ট্রপতি। কুরাইশদের সাথে শুরু হলো সশস্ত্র যুদ্ধ। একটার পর একটা অভিযান চলতে থাকল। কখনও রসুল নিজে নেতৃত্ব দিয়েছেন, কখনও সাহাবীদের পাঠিয়েছেন। এই যে যুদ্ধ শুরু হলো সেই যুদ্ধের নীতি কী হবে, কাকে ক্ষমা করা হবে, কাকে শাস্তি দেওয়া হবে, কী শাস্তি দেওয়া হবে সেসব বিষয়ে আল্লাহ কোর’আনে বিধি-বিধান পাঠাতে লাগলেন। উপরোক্ত আয়াতটি তেমনই একটি যুদ্ধনীতি। সেই নীতি মোতাবেক যারা ইতোপূর্বে রসুলাল্লাহর সেনাবাহিনীতে ছিল, অতঃপর রসুলের পক্ষ ত্যাগ করে প্রতিপক্ষের সেনাবাহিনীতে গিয়ে যোগ দিয়েছে বা প্রতিপক্ষের পক্ষে কাজ করেছে (কথায়, কাজে, সশস্ত্রভাবে যেভাবেই হোক)- এমন অপরাধীকে মুসলমান কর্তৃপক্ষ কী শাস্তি দিবে সেটাই আল্লাহ বলে দিচ্ছেন উপরোক্ত আয়াতে। এমন অপরাধীকে পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্রই ক্ষমা করবে না, করলে সেটা হবে নির্বুদ্ধিতার পরিচয়।

অন্যদিকে মদীনায় শাসনব্যবস্থা হিসেবে ইসলাম গৃহীত হলে রসুলাল্লাহ হলেন সেই রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি। এমতাবস্থায় সেই রাষ্ট্রের মৌলিক স্তম্ভের বিরুদ্ধে গিয়ে, রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা, রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো, মানুষকে বিভ্রান্ত করা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার পায়তারা করা ইত্যাদির শাস্তিস্বরূপ আল্লাহর পক্ষ থেকে মৃত্যুদণ্ডের বিধান এসেছে। ফলে রসুলাল্লাহর সময় রাষ্ট্রদ্রোহীদেরকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

এই শাস্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও যুদ্ধাপরাধের শাস্তি। প্রচলিত অর্থের ধর্মবিশ্বাস ত্যাগ করার শাস্তি নয়। রাষ্ট্রে বসবাসকারী যে ধর্মবিশ্বাসের মানুষই এই অপরাধ করবে বিধি মোতাবেক তারই শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড; আর সে দণ্ড কার্যকর করবে রাষ্ট্র, অর্থাৎ কর্তৃপক্ষ। ইসলাম কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে কোনো অপরাধেরই দণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দেয় না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on “‘তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর।’ কাদেরকে?

  1. মানে মহাবিশ্বের স্রষ্টা, অসীম
    মানে মহাবিশ্বের স্রষ্টা, অসীম ক্ষমতাবান, পরম করুণাময়, অসীম জ্ঞানবান মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়া তাআলা কিছু মানুষকে আদেশ করছেন অন্য কিছু মানুষ সম্পর্কে যে তাদেরকে যেখানে পাও হত্যা করো। এটা আল্লাহর বাণী?

    আয়াতটি পড়লে মনে হয় আল্লাহ পাক যেন বাংলা ছবির ভিলেন।

    আপনাদের ঘিলু কি মোটেও কাজ করবে না কোনো দিন?

    এ আয়াতটি যদি যুদ্ধবাজ মুহাম্মদের বলে দাবি করা হত তব তাও কিছু সময় হয়ত মেনে নেয়া যেত।

    মাথা খাটান ভাই, মাথা খাটান।

    মুহাম্মদ কি মানব জাতির জন্য সেরা আদর্শ: হজরত মুহাম্মদের যৌন অনৈতিকতা
    https://istishon.blog/?q=blog/4108

    আমরা বলি, বাচো এবং বাচাও; দয়াময় আল্লাহপাক বলেন, মারো এবং মরো
    https://istishon.blog/?q=node/20330

    1. @বেহুলার ভেলা
      @বেহুলার ভেলা

      বঙ্গবন্ধুর ভাষণে ‌’আমরা তোমাদের ভাতে মারব, পানিতে পারব’ লাইনটা শুনে কি আপনার মানবতাবোধে আঘাত লেগেছে কোনোদিন? কিংবা গণজাগরণ মঞ্চ থেকে যখন স্লোগান উঠল- যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে, মানবতা মুছে ফেল টিস্যুতে- সেই সময়? অথবা যখন মিছিল থেকে স্লোগান ভেসে আসে- একটা একটা শিবির ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর, তখন কি দুঃখে আপনার অন্তর ফেটে যেত? পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীরা কি মানুষ নয়? যুদ্ধাপরাধীরা কি মানুষ নয়? শিবিরের যে পালাপাইনগুলা রগ কাটাকাটি করে বেড়ায় তারা কি মানুষ নয়? অবশ্যই মানুষ। কিন্তু আপনি তাদের বিরুদ্ধে জ্বালাময়ী উত্তেজিত স্লোগান দেওয়াকে অমানবিক মনে করেন না। কারণ, আপনি জানেন তারা অপরাধী। মানুষ তো সবাই। যে হিটলার ষাট লক্ষ ইহুদিকে হত্যা করল সেও তো মানুষই ছিল, তবু তাকে ঘৃণা করেন কেন? হিটলারের জন্য কখনও আফসোস করেছেন? আহা! একজন মানুষ আত্মহত্যা করে মরে গেল! বলেছেন কখনও?

      এই জগতের অনেক সত্য ও সুন্দরের জন্ম দিয়েছে মানুষ, আবার মিথ্যার পক্ষ নিয়ে সত্য ও সুন্দরের বিনাশও করেছে মানুষ। গোড়ায় গেলে দেখা যাবে- মানুষ মূলত দুই ধরনের। এক- সত্যের ধারক, সত্যের পক্ষাবলম্বনকারী; দুই- মিথ্যার পক্ষাবলম্বনকারী। সত্য-মিথ্যার দ্বন্দ্ব চলে আসছে সেই প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে। এই দ্বন্দ্বে যখন মিথ্যার বিনাশ ঘটিয়ে সত্যের জয় হয়েছে, মানুষ পেয়েছে শান্তি, ন্যায়, নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি। আর যখন সত্যের কণ্ঠরুদ্ধ করে মিথ্যার প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তখন মানবজীবন অন্যায়, অবিচার, অশান্তি, অনিরাপত্তায় ছেয়ে গেছে।

      সত্য-মিথ্যার এই দ্বন্দ্বে স্রষ্টা কখনই চান না মিথ্যার জয় হোক, মানুষ কষ্ট পাক। কারণ মানুষের ভেতরে তার রূহ আছে। মানুষের কষ্ট তাকে ব্যথিত করে। তাই যখনই মিথ্যার গাঢ় অন্ধকার মানবসমাজকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছে তখন তিনি সত্য পাঠিয়ে মানুষকে ন্যায়-অন্যায়ের জ্ঞান দান করেছেন। মানুষের প্রতি করুণা করেছেন। যুগে যুগে আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা নবী-রসুলগণ সত্যের ভিত্তিতে বিশুদ্ধপ্রাণ মানুষগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে মিথ্যার ধারকদের বিনাশ ঘটিয়েছেন। আসলে ওটা বিনাশ নয়, ওটা নবনির্মাণের সূচনা।

      নতুন ফসল বুনতে হলে পুরানো ফসল কাটতে হয়, নতুন সভ্যতার সূচনা করতে পুরোনো জরা-জীর্ণ, ব্যর্থ মতবাদের উচ্ধেদ করতে হয়। আর তা করতে গেলেই আঘাত লাগে কোনো না কোনো কায়েমী স্বার্থে। তখন হৈ হৈ রৈ রৈ করে তেড়ে আসে পূর্বের বিকৃত ধর্মমতের ধ্বজাধারী ও সমাজনেতারা। মিথ্যার ধারকরা সর্বশক্তি একত্রিত করে সত্যকে অঙ্কুরেই ধ্বংস করে ফেলতে চায়। করেছেও অনেকবার। কিন্তু যখন আল্রাহ সিদ্ধান্ত নেন তিনি সত্যকে বিজয়ী করবেনই, তখন মিথ্যার ধারকদের মর্মন্তুত শাস্তি দিয়ে হলেও সত্যকে প্রতিষ্ঠা করেন। এই শাস্তি তিনি কখনও নিজ হাতে দেন, যেমন ফেরাউনকে দিয়েছিলেন, কখনও সত্যনিষ্ঠ মু’মিনদের মাধ্যমে দেন, যেমন উম্মতে মোহাম্মদীর হাত দিয়ে ক্বাবার ধর্মব্যবসায়ী ফেতনাবাজদের শাস্তি দিয়েছিলেন। মিথ্যার ধারকদের জন্য এটা শাস্তি হলেও সত্যনিষ্ঠদের জন্য এটা করুণা।

      আল্লাহ প্রতিহিংসাপরায়ণ নন। যদি প্রতিহিংসাপরায়ণ হতেন তাহলে দুনিয়াতে কোনো নাস্তিক, কোনো পাপাচারি, কোনো আল্লাহদ্রোহী মানুষ নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ পেত না। তিনি তো কেবল এটুকুই চান যে, মানুষ ন্যায়-অন্যায় বুঝে সঠিক পথে চলে শান্তিতে বসবাস করুক। মানবজাতির এই শান্তির পথে যারা বাধা হয়ে দাড়ায় তারা যেমন মানুষের শত্রু, মানবতার শত্রু, তেমন আল্লাহরও শত্রু। এই শত্রুদের বিনাশ হওয়া উচিত মানুষেরই কল্যাণে। জোড়ায় জোড়ায় যাদেরকে কাটতে বলা হচ্ছে তাদের মধ্যেও কি আল্লাহ রূহ নেই? আছে। তাদেরকে কি আল্লাহ সৃষ্টি করেন নি? করেছেন। তবু আল্লাহ তাদের প্রতি এত নিষ্ঠুর হচ্ছেন, তাদেরকে দণ্ড দিচ্ছেন কারণ এই দণ্ড তাদের প্রাপ্য। ওই লোকগুলো সত্য প্রতিষ্ঠার পথে বাধা হয়ে দাড়িয়ে পড়েছে, তাদেরকে উপেক্ষা করে যদি সত্য প্রতিষ্ঠা করা যেত, শান্তি আনয়ন করা যেত তাহলে তাদের উপেক্ষাই করা হত, কিন্তু তেমন সুযোগ নেই বলেই এই দণ্ড তাদেরকে ভোগ করতে হবে কৃতকর্মের পরিণতিস্বরূপ।

      কখনও কখনও এমন সময় আসে যখন দুইটি খারাপের মধ্য থেকে অপেক্ষাকৃত কম খারাপকে বেছে নিতে হয়। ডাক্তারের কাছে যখন গ্যাংরিনের রোগী আসে, ডাক্তার কোনোরূপ চিন্তা-ভাবনা না করে তার অঙ্গ কেটে ফেলেন, নিজের হাতে তাকে পঙ্গু করে ফেলেন তার জীবন বাঁচানোর লক্ষ্যে। সন্তান জন্মদানের সময় যখন এমন সময় আসে যে, বাচ্চার জীবন বাঁচাতে গেলে মা মারা যাবে আর মায়ের জীবন বাঁচালে বাচ্চা মারা যাবে, তখন সিদ্ধান্ত নেয়া হয় মায়ের জীবন বাঁচানোর। বাচ্চার প্রাণহানিকে মেনে নিতে হয় শত অনিচ্ছা সত্ত্বেও। কারণ, এটা কেবল মৃত্যু নয়, মৃত্যুর মধ্য দিয়ে জীবনের সূচনা ঘটানো। যুদ্ধ মানেই রক্ত, যুদ্ধ মানেই ক্রন্দন। কিন্তু প্রেক্ষাপট কখনও কখনও যুদ্ধকে অনিবার্য করে তোলে। তখন নৈতিকতার সংজ্ঞাটাই পরিবর্তিত হয়ে যায়।

      উপরোক্ত আয়াত নাযেলের প্রেক্ষাপট জানতে হবে। জানতে হবে এই নির্দেশ আল্লাহ কাদেরকে দিচ্ছেন? কেন দিচ্ছেন? বস্তুত এই নির্দেশ আল্লাহ দিচ্ছেন মদীনায় নবগঠিত ইসলামী রাষ্ট্রের মুসলিম সেনাদেরকে, যাতে করে তারা অমিততেজে যুদ্ধ করে মক্কার ফেতনা সৃষ্টিকারী কাফের-মুশরিক যোদ্ধাদেরকে পরাজিত করতে পারে এবং তার মাধ্যমে সত্য বিজয়ী হয়। যাদেরকে হত্যা করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে তাদের অপরাধের ফিরিস্তিটা বিবেচনা করুন এবং মানবতার দোহাই দিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দিলে ‘ডু অর ডাই’ অবস্থায় থাকা মদীনায় নবগঠিত ইসলামী রাষ্ট্র কতখানি হুমকির মুখে পড়তে পারত তাও ভেবে দেখুন।

  2. আপনার কথাটাই বিশ্লেষণ করা
    আপনার কথাটাই বিশ্লেষণ করা যাকঃ

    সেই যুদ্ধাবস্থায় মদীনার পক্ষ থেকে কিছু ট্রুপ মক্কাবাসীর বাণিজ্য কাফেলায় হামলা করার জন্য ওঁত পেতে থাকত। অতঃপর যখন সুযোগ পাওয়া যেত, হামলা চালানো হত।

    – বুঝছেন তো কাহিনী? আর কিছু ব্যাখ্যা করা লাগবে? এই কথাগুলাই মুক্তমনা সহ আরও অনেক সাইটে তুলে ধরা হয়েছে। আসলে যে কয়টা যুদ্ধ মুহাম্মদ করেছিলেন, তার অধিকাংশই ছিল নিরীহ কাফেলা বাহিনীর উপর আক্রমন। এইগুলাকে যুদ্ধ বলেনা। এইগুলা হইল কাপুরুষতা।

    দেখুন এখানে,
    Sahih Muslim Book 019, Hadith Number 4366.
    “It has been narrated by ‘Umar b. al-Khattib that he heard the Messenger of Allah (may peace be upon him) say: I will expel the Jews and Christians from the Arabian Peninsula and will not leave any but Muslim.”
    অর্থাৎ,
    “আমি আরব ভূমি থেকে ইহুদি ও খৃষ্টানদেরকে উচ্ছেদ করব, মুসলিম ছাড়া এখানে আর কেউ থাকবে না।”

    আপনি আরও বলেছেন,

    দেখা যেত আক্রান্ত হয়ে মক্কাবাসী কাফেররা তখন জীবন বাচানোর জন্য প্রতারণার আশ্রয় নিত। মুশরিকদের পক্ষ ত্যাগ করে মোহাম্মদের (সা.) পক্ষ নেওয়ার ভান করত। কিন্তু যেই না তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হত, তারা মক্কায় গিয়ে পুনরায় নবগঠিত মদীনা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালাতো।

    – তা ভাই সেটাই কি স্বাভাবিক না? নিরীহ মানুষজন বানিজ্য সামগ্রী নিয়ে (দক্ষ অথবা যুদ্ধবাজ সৈনিক সাথে নিয়ে নয়, লক্ষ্য করুন) ব্যাবসা বানিজ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করত। তখন অতর্কিত আক্রমন থেকে জীবন বাঁচাবার জন্য কি করনীয় ছিল তাদের জন্য? আপনি বা অন্য কোন মুসলিম হলে কি করতেন? ধরুন আপনি ভারত এর একটি রেসিডেনসিয়াল এলাকায় থাকেন পরিবারসহ; একটি চরমপন্থি উগ্র সনাতনপন্থি বা হিন্দুত্ববাদী দল আপনাদেরকে অতর্কিতে পথে আক্রমন করে, হুমকি দিয়ে বলল যে ওই এলাকায় থাকতে হলে হিন্দু ধর্ম গ্রহন ও পালন করতে হবে; অন্যথায় দ্বিতীয়বার আর হুমকি দেওয়া হবে না, সোজা কতল। জান বাঁচানোর জন্য এখন আপনি কি করবেন? খুব সোজা ভাবেই হিসাব করলে আপনি যা করবেন, তা হল –
    – প্রথমেই জান বাঁচানোর জন্য তারা যা বলবে, তাতে রাজী হবেন
    – দ্বিতীয়ত ওদের কাছ থেকে মুক্তি পাওওার পর ওই এলাকা ছেড়ে চলে যাবেন

    এটাই কি স্বাভাবিক নয়? করেক শতাব্দী ধরে আপনি আপনার পরিবার, আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব যারা সবাই ইসলামের ‘সু-শীতল’ (!!!) ছায়াতলে বসবাস করছেন, আল্লাহ এবং মোহাম্মদ কে মেনে আসছেন, হঠাৎ করে যদি ২০১৬ সালের কোন কোন মুহূর্তে আপনার এবং আপনার পরিবারের উপর অতর্কিত আক্রমন হয়, অস্ত্রের মুখে আপনাকে বাধ্য করা হয় আপনার ধর্ম ত্যাগ করতে (অন্যথায় আপনার পরিবারকে কতল করবার হুমকি দেওয়া হয়), তখন আপনি কি তা করবেন না? আপনি জান বাঁচানোর জন্যই তা করবেন এবং সুযোগ সুবিধামত আবার ‘সুশীতল’ (!) ছায়াতলে ফিরে আসবার চেষ্টা করবেন, নয় কি? তাছাড়া ইসলামে তো এইটার সুন্দর একটা গালভরা নামও আছেঃ ‘তাকিয়া’ (Holy Deception), ঠিক না?

  3. আমরা বলি, বাচো এবং বাচাও;

    আমরা বলি, বাচো এবং বাচাও; দয়াময় আল্লাহপাক বলেন, মারো এবং মরো

    এখানে কার কথা কার্যকর হচ্ছে ? অাল্লাহর কথা সুতরাং অাল্লাহই সত্য তাঁর কথাই শেষতক সত্য হয় তিনি মহান।

    1. আমরা বলি, বাচো এবং বাচাও;

      আমরা বলি, বাচো এবং বাচাও; দয়াময় আল্লাহপাক বলেন, মারো এবং মরো

      কই? আমি তো চারদিকে ‘ফাসি চাই ফাসি চাই’ শুনে অভ্যস্ত।

  4. আপনার কথাটাই বিশ্লেষণ করা
    আপনার কথাটাই বিশ্লেষণ করা যাকঃ

    “সেই যুদ্ধাবস্থায় মদীনার পক্ষ থেকে কিছু ট্রুপ মক্কাবাসীর বাণিজ্য কাফেলায় হামলা করার জন্য ওঁত পেতে থাকত। অতঃপর যখন সুযোগ পাওয়া যেত, হামলা চালানো হত।”

    – বুঝছেন তো কাহিনী? আর কিছু ব্যাখ্যা করা লাগবে? এই কথাগুলাই মুক্তমনা সহ আরও অনেক সাইটে তুলে ধরা হয়েছে। আসলে যে কয়টা যুদ্ধ মুহাম্মদ করেছিলেন, তার অধিকাংশই ছিল নিরীহ কাফেলা বাহিনীর উপর আক্রমন। এইগুলাকে যুদ্ধ বলেনা। এইগুলা হইল কাপুরুষতা।

    দেখুন এখানে,
    Sahih Muslim Book 019, Hadith Number 4366.
    “It has been narrated by ‘Umar b. al-Khattib that he heard the Messenger of Allah (may peace be upon him) say: I will expel the Jews and Christians from the Arabian Peninsula and will not leave any but Muslim.”
    অর্থাৎ,
    “আমি আরব ভূমি থেকে ইহুদি ও খৃষ্টানদেরকে উচ্ছেদ করব, মুসলিম ছাড়া এখানে আর কেউ থাকবে না।”

    আপনি আরও বলেছেন,
    “দেখা যেত আক্রান্ত হয়ে মক্কাবাসী কাফেররা তখন জীবন বাচানোর জন্য প্রতারণার আশ্রয় নিত। মুশরিকদের পক্ষ ত্যাগ করে মোহাম্মদের (সা.) পক্ষ নেওয়ার ভান করত। কিন্তু যেই না তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হত, তারা মক্কায় গিয়ে পুনরায় নবগঠিত মদীনা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালাতো।”

    – তা ভাই সেটাই কি স্বাভাবিক না? নিরীহ মানুষজন বানিজ্য সামগ্রী নিয়ে (দক্ষ অথবা যুদ্ধবাজ সৈনিক সাথে নিয়ে নয়, লক্ষ্য করুন) ব্যাবসা বানিজ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করত। তখন অতর্কিত আক্রমন থেকে জীবন বাঁচাবার জন্য কি করনীয় ছিল তাদের জন্য? আপনি বা অন্য কোন মুসলিম হলে কি করতেন? ধরুন আপনি ভারত এর একটি রেসিডেনসিয়াল এলাকায় থাকেন পরিবারসহ; একটি চরমপন্থি উগ্র সনাতনপন্থি বা হিন্দুত্ববাদী দল আপনাদেরকে অতর্কিতে পথে আক্রমন করে, হুমকি দিয়ে বলল যে ওই এলাকায় থাকতে হলে হিন্দু ধর্ম গ্রহন ও পালন করতে হবে; অন্যথায় দ্বিতীয়বার আর হুমকি দেওয়া হবে না, সোজা কতল। জান বাঁচানোর জন্য এখন আপনি কি করবেন?
    খুব সোজা ভাবেই হিসাব করলে আপনি যা করবেন, তা হল –
    – প্রথমেই জান বাঁচানোর জন্য তারা যা বলবে, তাতে রাজী হবেন
    – দ্বিতীয়ত ওদের কাছ থেকে মুক্তি পাওওার পর ওই এলাকা ছেড়ে চলে যাবেন

    এটাই কি স্বাভাবিক নয়? করেক শতাব্দী ধরে আপনি আপনার পরিবার, আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব যারা সবাই ইসলামের ‘সু-শীতল’ (!!!) ছায়াতলে বসবাস করছেন, আল্লাহ এবং মোহাম্মদ কে মেনে আসছেন, হঠাৎ করে যদি ২০১৬ সালের কোন কোন মুহূর্তে আপনার এবং আপনার পরিবারের উপর অতর্কিত আক্রমন হয়, অস্ত্রের মুখে আপনাকে বাধ্য করা হয় আপনার ধর্ম ত্যাগ করতে (অন্যথায় আপনার পরিবারকে কতল করবার হুমকি দেওয়া হয়), তখন আপনি কি তা করবেন না? আপনি জান বাঁচানোর জন্যই তা করবেন এবং সুযোগ সুবিধামত আবার ‘সুশীতল’ (!) ছায়াতলে ফিরে আসবার চেষ্টা করবেন, নয় কি? তাছাড়া ইসলামে তো এইটার সুন্দর একটা গালভরা নামও আছেঃ ‘তাকিয়া’ (Holy Deception), ঠিক না?

    1. আসলে যে কয়টা যুদ্ধ মুহাম্মদ
      @দয়াল বাবা-

      আসলে যে কয়টা যুদ্ধ মুহাম্মদ করেছিলেন, তার অধিকাংশই ছিল নিরীহ কাফেলা বাহিনীর উপর আক্রমন। এইগুলাকে যুদ্ধ বলেনা। এইগুলা হইল কাপুরুষতা।

      জ্বি না, এইগুলা যুদ্ধেরই অংশ ছিল এবং তৎকালীন যুদ্ধনীতিতেও যে এই বিচ্ছিন্ন হামলাগুলো অবৈধ ছিল না তার প্রমাণ হচ্ছে- যখন মুসলমান ট্রুপের হাতে মক্কার কোনো লোক বন্দী হত, মক্কাবাসী তার মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে যেত। কেউ কোনো অভিযোগ করত না। যুদ্ধনীতি বহির্ভুত হামলা হলে অবশ্যই তারা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাত।

      আর গেরিলা হামলা কাপুরুষতা নাকি যুদ্ধকৌশলের কার্যকরী একটা উপাদান- এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকেও পেতে পারেন।

      “It has been narrated by ‘Umar b. al-Khattib that he heard the Messenger of Allah (may peace be upon him) say: I will expel the Jews and Christians from the Arabian Peninsula and will not leave any but Muslim.” অর্থাৎ, “আমি আরব ভূমি থেকে ইহুদি ও খৃষ্টানদেরকে উচ্ছেদ করব, মুসলিম ছাড়া এখানে আর কেউ থাকবে না।’

      এই বিষয়টি পোস্টের সাথে প্রাসঙ্গিক নয় বলে মনে করি। তবে এ বিষয়ে পরবর্তীতে আলোচনা করার আশা রাখছি।

      ধরুন আপনি ভারত এর একটি রেসিডেনসিয়াল এলাকায় থাকেন পরিবারসহ; একটি চরমপন্থি উগ্র সনাতনপন্থি বা হিন্দুত্ববাদী দল আপনাদেরকে অতর্কিতে পথে আক্রমন করে, হুমকি দিয়ে বলল যে ওই এলাকায় থাকতে হলে হিন্দু ধর্ম গ্রহন ও পালন করতে হবে; অন্যথায় দ্বিতীয়বার আর হুমকি দেওয়া হবে না, সোজা কতল। জান বাঁচানোর জন্য এখন আপনি কি করবেন?

      বিষয়টা এরকম নয়। আপনাকে মনে রাখতে হবে বর্তমানের রাষ্ট্রব্যবস্থার মত তখনকার সময় সামরিক-বেসামরিক ভাগ ছিল না। যখন কোনো গোত্র যুদ্ধে জড়াত সেই গোত্রের প্রাপ্তবয়স্ক সকলকেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে হত। অনেক সময় নিজে কোনো কারণে যুদ্ধে যেতে না পারলেও, প্রতিনিধি হিসেবে নিজের দাসকে যুদ্ধে পাঠাতে হত। অর্থাৎ তখনকার প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে বোঝা যায়- যুদ্ধচলাকালে শত্রুপক্ষের একদল লোককে হাতের নাগালে পেয়েও বেসামরিক লোকবিধায় ছেড়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ তখন ছিল না। যুদ্ধ চলাকালীন প্রতিপক্ষের প্রাপ্তবয়স্ক সকলকেই যোদ্ধা হিসেবে বিবেচনা করা হত। নইলে আজকে যাকে বেসামরিক বলে ছেড়ে দেওয়া হবে, দেখা যাকে কালকে সে-ই আমার গলা কাটতে আসছে।

      সেই প্রেক্ষাপটে উদাহরণটা হতে পারে এরকম-ধরুন যুদ্ধটা বাংলাদেশ ও মায়ানমারের মধ্য। যুদ্ধ চলাকালীন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রসদ বোঝাই একটা জাহাজ থাইল্যান্ড থেকে আসার পথে মায়ানমারের সমুদ্রসীমায় ঢুকে পড়ায় মায়ানমারের সেনাবাহিনীর হাতে আটক হলো। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মায়ানমার কর্তৃপক্ষ সমস্ত মালামাল হস্তগত করার পর সিদ্ধান্ত নিল জাহাজে থাকা বাংলাদেশে সেনাবাহিনীর লোকগুলোকে হত্যা করবে। কিন্তু মায়ানমারের সংবিধানের একটি বিধি হচ্ছে- কোনো ব্যক্তি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করলে তার অপরাধ ক্ষমা করে দেওয়া হবে, এটা তাদের যুদ্ধনীতিরও অংশ। এটা জানা থাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আটককৃত লোকগুলো প্রতারণার ফন্দি আটল। তারা জীবন বাচানোর জন্য বৌদ্ধধর্ম গ্রহণের ঘোষণা দিল। ফলে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হলো এবং বলে দেওয়া হলো যেন তারা যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বেরিয়ে মায়ানমারে চলে আসে।

      কিন্তু বাংলাদেশে এসে পুনরায় তারা যথারীতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষে কাজ করে যেতে থাকল যাতে প্রমাণিত হলো তারা আসলে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করে নি, সেটা ছলনা ছিল। এরপর পুনরায় তারা থাইল্যান্ড থেকে রসদ নিয়ে আসার সময় দুর্ভাগ্যজনকভাবে মিয়ানমার সেনার হাতে আটক হলো। এইবার আর মিয়ানমার সেনারা তাদের ছলনায় পা দিল না। কারণ তাদের সংবিধানে এও আছে যে, বৌদ্ধধর্ম গ্রহণের ছলনা করে প্রাণ বাচিযে যারা পুনরায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হবে তাদেরকে যেখানেই পাওয়া যাবে হত্যা করতে হবে। ফলে রাষ্ট্রীয় বিধি মোতাবেক এইবার আর ক্ষমা করা হলো না, দণ্ড কাযকর করা হলো।

      এখন বলুন- প্রথমবার যখন বাংলাদেশি সেনা ওদের হাতে ধরা পড়ল তখনই যদি তাদেরকে হত্যা করে ফেলা হত আপনি এটাকে অন্যায় বলতে পারতেন কি? কিন্তু তারা কী করেছে, তারা শত্রুকে হাতের কাছে পেয়েও হত্যা করেনি, ছেড়ে দিল কেবল মুখের কথা বিশ্বাস করে। অতঃপর সেই বিশ্বাসও যখন ভঙ্গ করা হলো তখন তারা স্বাভাবিক দণ্ড কাযকর করল, যেটা কোনো যুদ্ধনীতিতেই অবৈধ হবার কথা নয়।

      যুদ্ধে প্রতিপক্ষের একদল সেনার কাছে কেউ এর চেয়ে ভালো ব্যবহার আশা করতে পারে না নিশ্চয়ই? ভুলে গেলে চলবে না এটা যুদ্ধ, ছেলেখেলা নয়। এখানে প্রতিপক্ষের সর্বোচ্চ নির্মমতা-নৃশংসতা দেখার জন্য প্রস্তুত থাকতে হয় সর্বদা।

  5. নিজের মনগড়া কথাবার্তায় ভরপুর
    নিজের মনগড়া কথাবার্তায় ভরপুর একটা ভাল পোষ্ট , বিনোদন উপযোগী।

    মুহাম্মদ মদিনাবাসীদের সাথে আতাত করে , মক্কার ওপর আক্রমন করার ষড়যন্ত্র আটছিল। আমার এক পোস্টে তার যথাযথ রেফারেন্স দেয়া আছে। তো এমতাবস্থায় কুরাইশদের কি করা উচিত ?

    মুহাম্মদ অত:পর প্রানের ভয়ে মদিনায় পালিয়ে গেলেন , একটা দল গঠন করলেন যাদের কাজ হলো কুরাইশদের বানিজ্য কাফেলা আক্রমন , লুটপাট ও বনিক হত্যা। এটা কি জিহাদ ? এটাই কি ইসলাম ? আর এই ইসলাম গ্রহন না করলে , বা তার বিরোধীতা করলে , আপনি বলছেন তাদেরকে হত্যা করতে হবে ?

    মিথ্যার ফুলঝুরি আর কতদিন ফুটাবেন ? আপনাদের এই মিথ্যার বিরুদ্ধে কথা বললেই চাপাতি নিয়ে ঝাপিয়ে পড়বেন ? এটা ইন্টারনেটের যুগ , ফেসবুকের যুগ , কয়জনকে হত্যা করবেন ? বেশী হত্যা করতে পারবেন না , তার আগেই আপনাদের বেলুন ফুটো হয়ে যাবে। ইতোমধ্যেই ফুটো হওয়া শুরু করেছে। তাই মিথ্যার দাসত্ব বাদ দিয়ে , সত্য পথে আসুন।

    আর শুনুন , মানুষ কিন্তু বেশীদিন আপনাদের বর্বরতা অসভ্যতা সহ্য করবে না। এটা ৭ম শতাব্দির আরব না , এটা এক বিংশ শতাব্দি। যখন মানুষের হুশ হবে , আপনাদের কোন চিহ্ন দুনিয়াতে থাকবে না।

    https://en.wikipedia.org/wiki/Caravan_raids

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 60 = 70