রামপাল ভয়ংকর!

?resize=396%2C212″ width=”400″ />

আমরা জানলাম ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর সাথে আপনাদের দফারফা অনুসারে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন সংলগ্ন রামপালে আপনারা বিদ্যুৎ কেন্দ্র করবেন শুধুমাত্র মংলা বন্দর থেকে কম খরচে কয়লা পরিবহনের সুবিধা নিতে!

আমরা হাসলাম যখন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা স্বীকার করেন স্থান নির্বাচনের আগে আপনারা পরিবেশের কথা ভাবেন নি।

আমরা জানলাম পরিবেশ সমীক্ষা না করেই আপনারা জমি অধিগ্রহণ শুরু করেছিলেন।

আমরা আরো জানলাম আদালতের স্থিতাবস্থা থাকা অবস্থায় আপনারা প্রকাশ্যে অনুষ্ঠান করে জমি কিনেছেন।

আমরা জেনেছি সেই স্থিতাবস্থা বহাল থাকা অবস্থায় এবং আপনাদের পরিবেশ আইন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনা অমান্য করে সেনাবাহিনীকে দিয়ে প্রকল্প এলাকায় মাটি ভরাটের কাজ করেছেন।

আমরা দেখলাম ভারতের সাথে চুক্তি সই করার সুবিধার্থে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে স্থিতাবস্থা ছয় মাসের জন্য তুলে নিতে।

আমরা আরো দেখলাম সম্ভাব্য পরিবেশ বিপর্যয়ের কথা পরিবেশ সমীক্ষায় উল্লেখিত থাকলেও প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারি সবাই বললেন সুপারক্রিটিকেল পদ্ধতিতে পরিবেশের কোন ক্ষতি হবেনা।

আমরা জানলাম পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বললেন তারা ঢাকা থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্যক্রম ডিজিটালি মনিটর করবেন।

আমরা শুনলাম ‘সুন্দরবনের পাশে ইতিমধ্যে যে ইপিজেড ও সিমেন্ট কারখানা আছে, সেগুলো বন্ধ করতে পেরেছেন?’

আমরা আরো শুনলাম ‘বাবা, আমরা সরকারি চাকরি করি, এই প্রকল্প অনুমোদন না দিলে চাকরি থাকবেনা।’

আমরা হাসলাম যখন রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে করা সব রিট পিটিশন উচ্চ আদালত খারিজ করে দিলেন।

আমরা দেখলাম রামপালমুখী লং-মার্চ ও বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ ও সরকারি বাহিনীর নগ্ন হামলা ও হয়রানি।

আমরা হাসলাম প্রধানমন্ত্রী যখন ঢাকায় বসে রামপালে নির্মাণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন এবং বলেন ‘কয়লা পানিতে পড়লে পানি পরিষ্কার হয়।’

আমরা অবাক হলাম যখন শুনি ‘পরিবেশের ক্ষতি হলেও রামপাল বিদ্যুৎ-কেন্দ্র হবেই,’ এমনকি পাশেই আরেকটি ১,৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপন করা হবে এবং বেসরকারি ওরিয়ন গ্রুপের কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজও চলবে।

আমরা উৎকণ্ঠিত হই যখন জানতে পারি সুন্দরবনের পাশে কয়লা বিদ্যুৎ-কেন্দ্র ছাড়াও জাহাজ-ভাঙ্গা শিল্প, সিমেন্ট কারখানা ও অন্যান্য ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ইতিমধ্যে দেয়া আছে।

আমরা এখন দেখছি এত কিছুর পরেও সরকার বাহাদুর বলেন আগামী ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসেই কেন্দ্রটি কয়লা পোড়ানো শুরু করবে।

মনে পড়ছে আলোকচিত্রী ও পরিবেশকর্মী Ansel Adams – এর একটা বিখ্যাত উক্তির কথা, “It is horrifying that we have to fight our own government to save the environment.”

আন্দোলন করেও যখন উন্নয়নকামী(!) সরকারের পরিবেশ বিধ্বংসী প্রকল্প থামানো যাচ্ছে না আবার যখন দেশের আদালতও পক্ষপাতিত্ব করছে এমতাবস্থায় একটি আন্তর্জাতিক পরিবেশ আদালত গঠনের জন্য দাবী তোলাটা খুবই যৌক্তিক। কেননা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দুর্নীতিপরায়ণ সরকার ও তাদের দোসর ব্যবসায়ীরা রামপাল, বাঁশখালী, ফুলবাড়ীর মতো অনেক জন-বিরোধী প্রকল্প হাতে নিচ্ছে ও আইন-আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সেসব কাজ বাস্তবায়ন করার প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বাঁশখালীতে দুর্নীতিপরায়ণ এস আলম গ্রুপের অবৈধ কয়লা বিদ্যুৎ-কেন্দ্রের বিরোধিতা করায় বিক্ষোভকারীদের গুলি করে হত্যা আর হুমকি-হয়রানি এবং পরবর্তীতে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর বিষেদাগার সেই ভয়াবহ বাস্তবতাকে সামনে এনে দিয়েছে।

২০০৬ সালে টানা আন্দোলনের এক পর্যায়ে কয়লা খনি-বিরোধী বিক্ষোভে তিনজন নিহত হবার পর সরকার ফুলবাড়ী চুক্তিতে সম্মতি জানায়। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা প্রকাশ্য জনসভায় জনগণের দাবী অনুযায়ী এশিয়া এনার্জির সাথে উন্মুক্ত খনি খননের চুক্তি বাতিলের দাবী জানিয়েছিলেন, আর সেই তিনি আজ প্রধানমন্ত্রী হয়ে নানা কায়দা করে খনিটি এশিয়া এনার্জিকে উপহার হিসেবে দিয়ে দিতে উঠেপড়ে লেগেছেন, চুক্তি বাতিল তো দূরের কথা।

এসব প্রকল্প যদি সত্যি দেশের উন্নয়ন করতে পারে এবং পরিবেশের ক্ষতি না করে তাহলে কেন আইন অমান্য করে, লুকিয়ে ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে করছেন?

(প্রথম প্রকাশ Norrfika.se te)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

31 + = 39