হুজুগ , এথিকস আর বাংলাদেশ

আমার হিসাবে হুজুগ খুব বাজে একটা জিনিস । বাঙ্গালীরা হুজুগে মাতাল । এরা হুজুগে লাফালাফি করে , হুজুগে আর্তনাদ করে , হুজুগে সাদা পতাকা নিয়ে বসে থাকে , হুজুগে বিচার চাই বলে আন্দোলন করে । হুজুগের নতুন আপডেট আসলে পুরানো ইস্যু ভুলে যায় তারা ।
এথিকস ..!! এটা আবার কি জিনিস ..??

কয়েক বছর আগের ঘটনা । সাংবাদিক দম্পতি নিজের বাসায় হত্যাকান্ডের স্বীকার হল । ঘটনাটা অনেক ধস্তাধস্তির পরে ধামা চাপা পড়ল । কিন্তু সুরহা পাইনি আমরা কেউ ।
“সরকার বেডরুমের নিরাপত্তা দিতে পারবেন না ।”

গোটা কয়েক ব্লগার হত্যা । খুনীরা নিরুদ্দেশ । যদি জিজ্ঞাস করি খুনের কারন , তবে বলা হচ্ছে তাদের নাস্তিকতা এবং ধর্মান্ধদের পরিকল্পিত আক্রমন । “ নাস্তিকতা ” শব্দটা খুব মজার একটা শব্দ । দেশের মাথা মোটা জ্ঞানী গুনী ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসা করলে উত্তর পাওয়া যাবে , যারা ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলে এবং ধর্ম নিয়ে বাজে মন্তব্য করে তারা নাস্তিক । মজার বিষয় হচ্ছে এই বিশিষ্ট মাথা মোটা বুদ্ধিজীবীরা শব্দটার সংজ্ঞায়ন পরিবর্তন করে ফেলেছেন । তারা নাস্তিক এবং ধর্ম বিদ্বেষীর পার্থক্য বোঝেন না । এই উচ্চ মানের আবাল দের বলছি ধর্ম বিদ্বেষীদের নাস্তিক বলে , নাস্তিকদের অপমান করবেন না । কথা হচ্ছে যারা নাস্তিক তারাতো সৃষ্টিকর্তাতেই বিশ্বাস করে না । তো তারা কটূক্তি করবে কিভাবে ..!! কটূক্তি তারাই করে , যা বিভিন্ন ধর্মের প্রতি ঈর্ষাপরায়ণ । অর্থাৎ , ধর্ম বিদ্বেষী ।
“আমাদের দেশে আবার ধর্ম বিদ্বেষী হওয়াটা ক্রেডিটের মনে করা হয় কিনা ..!!”
প্রথম কথা , মানলাম না হয় ধর্ম বিদ্বেষী তথাকথিত মুক্তমনা ব্লগারদের হত্যা করা হয়েছে , আমার প্রশ্ন হছে খুনীদেরকে কতখানি আইনের আওতায় আনা হয়েছে ?
দ্বিতীয় কথা , দেশটা অসম্প্রদায়িক ছিল । কতিপয় ধর্ম বিদ্বেষী আর ধর্মান্ধদের কারনে দেশটা সম্প্রদায়িক হচ্ছে দিন দিন ।
তৃতীয় কথা , সম্প্রদায়িকতা বাড়বে , রামু বারবার পুড়বে । সম্প্রদায়িকতা বাড়বে , ধর্ম নিয়ে কটূক্তি বাড়বে । সম্প্রদায়িকতা বাড়বে , ব্লগার মারা পড়বে । সম্প্রদায়িকতা বাড়বে , কেউ মারা পড়লেই ধর্ম বিদ্বেষী তথাকথিত নাস্তিক বলে আখ্যা দেওয়া হবে । সাম্প্রদায়িকতা বাড়বে , দেশ আরও রসাতলে যাবে ।
“সরকার রাস্তায় নিরাপত্তা দিতে পারবেন না ।”

চোখ ফেলা যাক গত বছরের বাংলা বর্ষবরণ-এ । স্থান টি.এস.সি চত্তর ।
যতদূর মনেপড়ে হুমায়ূন আজাদের মতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া মেয়েদেরকে নাকি চুইংগামের মত চাবাতে শখ জাগে ।
শংকরের মতে মেয়েরা নাকি রসগোল্লা । রাখলেই নাকি পিঁপড়া ধরে । মাঝে মাঝে নাকি উল্লা-ও এসে পড়ে ।
আর শফি চাচার তেঁতুলতত্ত্ব ই বা ভুলি কিভাবে..!!
আর হুমায়ূন আহমেদের কথা ফেলে দেই কিভাবে । তার প্রতিটি উপন্যাসের মেয়েরা যেন একখানা আবেগী জড় কাঠের পুতুল ..!! খাস বাংলায় বললে , তিনবেলা চোদা খাচ্ছে তো খাচ্ছেই পুরুষ সমাজের কাছে কিন্তু ঘুরে আর জীবনে দাড়ায় নি ।
কথা হচ্ছে নামেই পরিচয় লেখকগুলো যদি তাদের লেখার মধ্যে নারীদেরকে চৈব্য চোষ্য , যৌনযন্ত্র আর অসহায় করে তুলে ধরে তাহলে এমনিতেই তো মাতাল পাবলিক পরে তো ভবের মাতাল হয়ে যাবে ।
আমি শালা বলব ব্যাটা মখা লেখকগুলকে আগে প্যাদা ।
যেটা বলছিলাম , পহেলা বৈশাখের ঘটনা । কোন সি.সি.ক্যামেরার ফুটেজ ছিল না দু একটা ছাড়া । যা পাওয়া গিয়েছিল তা থেকে কয়েক জনের চেহারা তুলে ধরা হলেও তাদের কোন হদিস মেলেনি ।
তা বলছিলাম কতখানি ক্ষমতাধর হলে সি.সি.ক্যামেরার ফুটেজ গায়েব করা যায় আর পাড়া প্রতিবেশীর মুখ বন্ধ রাখা যায় আমার জানা নেই ।

আসা যাক তনু হত্যার ঘটনায় ।
প্রথমবার ফরেনসিক রিপোর্ট বলল ধর্ষণের পরে হত্যা । লাশ উদ্ধার হল সেনানিবাস থেকে । উত্তাল চারিদিক । আন্দোলন । মিডিয়াতে একটাই খবর , তনু হত্যাকান্ড । বিচার চাই আন্দোলনে ফেটে পড়া বাঙ্গালী । লাশটা আবার মর্গে যায় । তবে এবারের ফরেনসিক রিপোর্টটা আরও একটু মজার । হত্যা শব্দটি আছে কিন্তু ধর্ষণ নামক কোন শব্দের ছোঁয়া নেই ।
আমিও এমন একটা ক্ষমতা চাই যে ক্ষমতা থাকলে , লাশ দ্বিতীয় বার মর্গে যাওয়ার পরে ফরেনসিক রিপোর্ট পরিবর্তন হয়ে যাবে । এমন একটা ক্ষমতা চাই যে ক্ষমতা থাকলে , তনুর পরিবারের কেউ মুখ খুলবে না । এমন একটা ক্ষমতা চাই যে ক্ষমতা থাকলে , সেনানিবাসের মত এলাকায় ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী ধর্ষিত না হয়েও ধর্ষিতার মত পড়ে থাকবে তনুরা । যেখানে কিনা ফুটপাত থেকে রাস্তায় পা ফেললেই আর্মির কাছে বাড়ি খাওয়া লাগে । জেব্রা ক্রসিং কিংবা ওভারব্রিজ ব্যবহার না করে রাস্তা পার হলে আবার ফিরে গিয়ে সঠিক ভাবে পার হতে হয় ।
মজার বিষয় হচ্ছে তখন আই.সি.সির বিশ ওভারের টুর্নামেন্ট চলছিল । তো বেশ কয়েক দিন চিল্লাচিল্লির পরে যখন বাংলাদেশ ফাইনালে যাবে যাবে প্রত্যাশা তখন তনু হালকা চাপা পড়তে শুরু করে । পহেলা বৈশাখের আমেজ গেল । অনেকখানি ঠাসা পড়ল তনু । শফিক রেহমান গ্রেফতার হল ।
মিডিয়ার দৃষ্টি শফিক রেহমানের দিকে । কোথাকার কোন তনু কে জানে ..!!
“হুজুগে মাতাল বাঙ্গালী । আপডেট নিলে মেমরী লস হয় তাদের ।”

এখন আবার আই.পি.এল চলছে । বারমুডার মত রহস্যময় মুস্তাফিজ কে নিয়ে উত্তাল বাঙ্গালী । মাঝেদিয়ে আরো কয়েকটা লাশ পড়ে গেল ।

ওহ ..!! মজার ঘটনা , কিছুদিন আগে রেন্ডিয়ান টাইমস না কি যেন নিউজ নামের সাইটে একটা আর্টিকেল লিখল যে , আই.এস. নাকি বাংলাদেশে কয়েকটা হামলার নথি ফাঁস করেছে । আরও হামলা নাকি হবে । এ নিয়ে বাঙ্গালীরা অনেক দ্বিধাদন্দে ভুগল কয়েকদিন । যে শালারা নিজেদের বাঙ্গালী দাবী করে আমাদের বাঙ্গাল বলে গালি দেয় ওই চাড়ালের কথা কানে তুলবো আমি ..!! অন্তত আমি বিশ্বাস করি না যে আক্রমনগুলো আই.এস.-এর ছিল ।

খুন বনাম জঙ্গীবাদ , জাতীয় ইস্যু কোনটা ? কাঠ ফাটা গরমে বৃষ্টির আশায় থাকে বাঙ্গালী । আই.পি.এল এর আমেজ জনতাকে জাতীয় ইস্যু থেকে তফাত রাখে । চোখের সামনে খুন হলেও তা “ বিচ্ছিন্ন ঘটনা ” । কোন একদিন বিকালে ঘুম থেকে উঠে শুনব চেতনা বিক্রি হয়ে গেছে পুরোটা । আর তখন নিশ্চিত ভাবে টের পাব যে , সূর্য দোজোখের মত তাপ ছড়াচ্ছে আর আমরা ছাগলের ছয় নাম্বার বাচ্চার মত তখনও বিদেশী পর্ণোগ্রাফী দেখছি । হঠাৎ হয়ত রাস্তায় কাউকে বলতে শুনব “ ভাই , ভাই আমারেতো ভইরা দিছে । ” আর “ ওই মিয়া , আপনারে ভরছে আমারে কি ব্লোজব দিছে ? ”

পুনশ্চঃ কিছুদিন আগে এক বন্ধুর এক ছোট ভাই তার তথাকথিত প্রেমিকাকে নিয়ে পার্কে গেল ডেটিং এ । রোমান্স করার এক পর্যায়ে পুলিশ ওয়্যাগন থেকে ওদের লক্ষ্য করে । যখন ওরা পার্ক থেকে বের হয় ওদের তখন ওয়্যাগনে তোলে । ওই ছোট ভাইয়ের এক ফ্রেন্ড ওদের আশে পাশেই ছিল আরকি । সেও আবার হালকা ক্ষমতার অধিকারী । তো ওই ছোট ভাইয়ের বন্ধু জিজ্ঞাস করতেছে , ওদের দুইজনকে গাড়ীতে তুলছেন ক্যান ? পুলিশ সুন্দর ভাবে দাঁত বের করে দিয়ে ওই ছোট ভাইয়ের প্রেমিকার বুক হাতিয়ে বলল , পার্কে বসে এভাবে হাতাহাতি করতেছিল ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “হুজুগ , এথিকস আর বাংলাদেশ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

89 + = 96