‘সুশীল’ শব্দটি এখন গালির প্রতিশব্দ

একটি সময় সমাজের সবচেয়ে শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, সাংবাদিক তথা বুদ্ধিজীবীরা। শিশু-কিশোরদের চরিত্র গঠনে অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে সেই সব শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বদের জীবনী পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হতো।

ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং বুদ্ধিজীবী-এ দুটি শ্রেণী যখন থেকে রাজনীতির মেরুকরণে ক্ষমতার ছোঁয়া পেতে নিজেদের দলীয় কর্মী হিসেবে উপস্থাপন করা শুরু করলেন তখন থেকে শ্রদ্ধার আসনগুলো ক্রমশ হারিয়ে যেতে শুরু করে।

অতীতে বিভিন্ন গণআন্দোলনে ও ইতিহাস বিকৃতিরোধে বুদ্ধিজীবীরা যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছিলেন। অথচ গত দুই বছরে ইতিহাস নিয়ে তারেক রহমান যে নির্লজ্জ মিথ্যাচার ও নোংরামি করেছে তার বিরুদ্ধে বহু সুশীলকে নীরব দেখেছি। যুদ্ধাপরাধের রায় ঘোষণার পর জামায়াত-শিবির যে নৈরাজ্য চালিয়েছে তখনও অনেক বুদ্ধিজীবী মুখ খোলেননি; অনেকে ন্যাক্কারজনকভাবে তাদের পক্ষ নিয়েছেন। বিএনপি-জামায়াত ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে তিন মাসে যে নৃশংসতা চালিয়েছে তার প্রতিবাদ করতে দেখিনি বহু সুশীলকে। তারা খালেদাকে নৈরাজ্য বন্ধ করার অনুরোধও জানাননি।

ক্রসফায়ারে একজন সন্ত্রাসীকে হত্যা করা হলে বিচার বহির্ভূত হত্যার নিন্দা জানায় সুশীল সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীরা। অথচ ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে আন্দোলনের নামে পরবর্তী ৯২ দিনে বিএনপি-জামায়াত যেভাবে পুড়িয়ে মানুষ হত্যাসহ যে নাশকতা চালিয়েছে তার প্রতিবাদ করেছে কতজন? তাদেরকে সামান্য সহানুভূতি প্রকাশ করতেও যাননি সংলাপ প্রত্যাশী সুশীলরা।

যাদের কথা শুনে আমরা সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখবো, তাদের পদবী এখন টকমারানি। যারা আমাদের দিকনির্দেশনা দিবেন, সেই সুশীল শব্দটি এখন গালির প্রতিশব্দ। জাতির আস্থার এ স্থানটি নষ্ট করেছে সুশীলরাই।

ভবিষ্যতে স্মরণীয় বরণীয় ব্যক্তিদের তালিকায় স্থান পাওয়ার মতো ক’জন ব্যক্তি আমরা খুঁজে পাবো! সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিদের সম্মান হারানোর ধারাটি যেকোনো জাতির জন্য ক্ষতিকর, হতাশাজনক এবং দুর্ভাগ্যজনক।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 47 = 48