মহা দুর্নীতিবাজ ও ফেরারি আসামী তারেক রহমান এবং তার দুর্নীতিনামা

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বর্তমানে বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে ফেরারী জীবন যাপন করছেন। প্রায় ৮ বছর যাবৎ চিকিৎসার অজুহাতে লন্ডনে বসবাস করছেন তিনি। ২১ অগাস্টে গ্রেনেড হামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলা দায় মাথায় নিয়ে ২০০৮ সাল থেকে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে বিলাস বহুল জীবন যাপন করছেন তারেক রহমান।

সম্প্রতি ব্রিটেনে অসুস্থতার নাম করে তিনি রীতিমত প্রকাশ্যেই রাজনীতি করে চলেছেন। যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক জনমতের ৪৬ সংখ্যায় প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে রয়েছে দুদকের (দুর্নীতি দমন কমিশন) ২৫ টি মামলা। বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৫ মামলা, তারেকের ১৪, কোকোর ৫ এবং তারেকের স্ত্রী ডা. জোবায়দার বিরুদ্ধেও ১টি মামলা রয়েছে। ২০০৭ সালে এসব মামলা দায়ের হয়। ২০০৯ সালে একটি মামলা প্রত্যাহার করা হয়। ৪টি মামলা উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত হয়েছে। জীবনে আর রাজনীতি করবেন না এমন মুচলেকা দিয়ে তারেক রহমান চিকিৎসা সেবা গ্রহণের জন্য প্যারোলে মুক্তি পান। ২০০৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তারেক রহমান লন্ডনে যান। চিকিৎসা নিতে থাকেন লন্ডনের ওয়েলিংটন হসপিটালে। বসবাস শুরু করেন লন্ডনেই। এদিকে বিভিন্ন মামলার শুনানিতে তারেক রহমান আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় আদালত তারেক রহমানকে পলাতক বিবেচনা করে তাঁর জামিন বাতিল করে দেন। বর্তমানে তারেক রহমান বিধি মোতাবেক পলাতক আসামি।

দীর্ঘ সময়ে তিনি কোন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। স্ত্রী ডা. জুবাইদা গুলশান আরাও কিছু করেন না। উপরন্তু মেয়ে জাইমা লন্ডনে পড়াশোনা করছে। সাধারণত বাইরে বের না হলেও মেয়েকে স্কুল থেকে আনার জন্য প্রায়ই চালকের সঙ্গে বাইরে যান। এদেশে তারেক রহমান ও তাঁর মা বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার কয়েকটি ব্যাংক এ্যাকাউন্ট জব্দ করা আছে। সে সুবাদে তারেক রহমানের একমাত্র বৈধ রোজগার হিসেবে তার মা খালেদা জিয়ার গুলশানের বাড়ির বাসা ভাড়া। এ বাসা ভাড়ার টাকা দিয়ে তারেক রহমানের এমন বিলাসী জীবন যাপনের জন্য ব্যয় হওয়া অর্থের একাংশ মেটানো সম্ভব নয়।

প্রসঙ্গক্রমে, তারেক রহমান তার বাবার মৃত্যুর সময় ১৯৮১ সালে তারেক জিয়া স্কুলের ছাত্র। তার বাবার মৃত্যু পরবর্তীতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি তাদের ক্যান্টনমেন্টের বাসায় থাকার সুযোগ করে দেয়। তখন সে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ এর ছাত্র। জানা যায় তার (তারেক জিয়া) চরিত্রের দূর্বলতা ঐ স্কুল জীবন থেকেই শুরু যা সকলের কাছে ফুটে উঠে। লোকমুখে জানা যায় তাকে আদমজী স্কুল থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল। পরে রাজধানীর এক অখ্যাত স্কুল ও কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাশ করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি হয়েছিলেন। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস – বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি অতিক্রম করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। বর্তমানে বিএনপি-জামায়েত ইসলামী পন্থী কিছু লোক প্রচার করে বেড়াচ্ছে তিনি এখন লন্ডনে কোন এক বিশ্ববিদ্যালয়ে নাকি আইন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য ও প্রমাণ ছাড়া লন্ডনে তার পড়াশোনা নিয়ে প্রচার বিশ্বাস করাও জাতির জন্য বোকামি হবে।

তার রাজনীতিতে উত্থানের নেপথ্যে তার মা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বলিষ্ঠ ভূমিকা রয়েছে। ১৯৯১ সালে তার মা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুবাদে সমাজের বিভিন্ন মহলে তার অবাধ বিচরণ বেড়ে যায়। পরবর্তীতে তার মা ২০০১ সালে যখন বাংলাদেশে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হন, তখন তিনি (তারেক জিয়া) হয়ে যান মহাপরাক্রমশালী গডফাদার। রাজনীতি ও প্রশাসন যন্ত্রকে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বনানীর বহুল বিতর্কিত হাওয়া ভবনের জন্ম দেন। হাওয়া ভবন থেকে তিনি দেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করেন। ২০০১-২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি’র শাসনামলে বাংলাদেশে জঙ্গীদের কর্মকান্ড ব্যাপক আকারে শুরু হয়। আর জঙ্গীদের পৃষ্টপোষকতায় তিনিসহ বিএনপি’র তৎকালীন মন্ত্রী সভার বেশ কয়েকজন সদস্য একত্রে কাজ করেন। হাওয়া ভবনে হরকাতুল জিহাদের নেতা আঃ হান্নান এবং ইয়াহিয়ার সাথে একাধিকবার বৈঠক করেন। তার পৃষ্টপোষকতা ও পরিকল্পনায় ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সভা চলাকালীন গ্রেনেড হামলা পরিচালনা করা হয়েছিল। ক্ষমতার দাপট ও আধিপত্য দেখানোর এটাই শেষ নয়। তিনি আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্রের হোতা দাউদ ইব্রাহিমের সাথেও ঘনিষ্ট সম্পর্ক স্থাপন পূর্বক বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হন।

বিএনপি’কে পুনরায় ক্ষমতায় আনার লক্ষ্যে এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে তাঁর নেতৃত্বে নানাবিধ ষড়যন্ত্র করা হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান করা নিয়ে যে ভণ্ডামি শুরু হয়েছিল সেখানে ও তারেক জিয়ার ভূমিকা ছিল অগ্রগন্য। এক সময় দেশের শান্তিকামী জনতার প্রতিরোধের মুখে তার সকল ষড়যন্ত্র ভেস্তে যায়। রাষ্ট্রের অর্থ পাচার করার ক্ষেত্রে তার জুড়ী নেই। বিপুল পরিমান রাষ্ট্রীয় অর্থ সিংগাপুরসহ বিশ্বের অনেক দেশে পাচার করা হয়। এ সংক্রান্তে দেশের প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তিনি প্যারোলে মুক্তি নিয়ে লন্ডনে পাড়ি জমান এবং চিকিৎসার নামে সেখানে বসে দেশ-বিরোধী ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি তার দল থেকে ঘোষনা দেয়া হয়েছে যে তিনি দেশে ফিরে রাজনীতিতে যোগ দিচ্ছেন। তার দেশে ফেরা নিয়েও তার দলের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। দলের নীতি নির্ধারণীতে তারেক জিয়ার আধিপত্যকে দলের অনেক শীর্ষ ত্যাগী নেতারা মেনে নিতে পারছেন না। বিএনপি’র অভ্যন্তরে তাঁর নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে দ্বিধাদন্ধ রয়েছে। তারেক জিয়ার ব্যক্তিগত চরিত্রেও রয়েছে বহু কলংকের চিহ্ন।

তার মায়ের আর্শিবাদে তিনি একটা ক্ষমতার বলয় তৈরী করেছিলেন। অনেকে সমালোচনার সুরে বলে থাকেন তিনি নাকি একাধিক বিয়ে করেছেন। আর তাঁর বেশির ভাগ অপকর্মের অন্যতম সহযোগী ছিল রকিবুল ইসলাম বকুল ডিউক ও গিয়াসউদ্দীন মামুনসহ আরো অনেকে। তার কৃত দুর্নীতির কিছু চিত্র নিম্নে তুলে ধরা হল-

১০ ট্রাক অস্র পাচারের সংগে তারেক রহমানের সম্পৃক্ততাঃ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল সিইউএফএল ঘাট থেকে আটক করা হয় ১০ ট্রাক ভর্তি অস্ত্রের চালান। এ ১০ ট্রাক অস্র মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ১০ ট্রাক অস্ত্র আটকের কথা শুনেও নীরব ছিলেন তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক সাদিক হাসান রুমী তাঁকে অস্ত্র আটকের তথ্য জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিচারক রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, সাক্ষীদের জবানবন্দির ভিত্তিতে এ মামলায় হাওয়া ভবনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুর রহিমের জন্য উইং কমান্ডার (অব.) সাহাবউদ্দিনের মাধ্যমে টাকা দেয় দুবাইয়ের এআরওয়াই গ্রুপ। এ গ্রুপের আবদুর রাজ্জাক ইউসুফের সঙ্গে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের যোগাযোগ ছিল।

তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলাসমূহঃ সিঙ্গাপুরে প্রায় ২১ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর ক্যান্টনমেন্ট থানায় তারেক রহমান ও তার বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।২০১০ সালের ৬ জুলাই আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। এই মামলায় বিচারিক আদালত তারেক রহমানে খালাস দেয়। কিন্তু উচ্চ আদালত আবার ওই মামলায় তারেককে অভিযুক্ত করার নির্দেশ দেয়। বর্তমানে এই মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।

অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কাফরুল থানায় তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

এছাড়া আয়কর ফাঁকিঃ বিভিন্ন কর বর্ষে ২৬ লাখ ৮৬ হাজার টাকা আয়কর ফাঁকির অভিযোগ এনে ২০০৮ সালের ৪ আগস্ট মামলাটি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার নেপথ্যে তারেক রহমানঃ বিস্ফোরক ও হত্যার অভিযোগে পৃথক দুটি মামলায় তারেক রহমানকে আসামি করা হয়। মামলা দুটি ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ আদালতে বিচারাধীন।

এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ২০০৭ সালের ৮ মার্চ গুলশান থানায় দ্রুত বিচার আইনে তারেক রহমান, তার এপিএস মিয়া নুরুদ্দিন অপু এবং, ঠিকাদার আমিন আহমেদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মামলাটি করে দুদক। পরে একই বছর ১৮ মার্চ তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
৮০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে ২০০৮ সালের ২৭ মার্চ গুলশান থানায় মামলা করেন জনৈক খান মো. আফতাব উদ্দিন। একই বছরের ২৭ মে ৪ কোটি ৮৯ লাখ চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে মামলা করেন আবু সাঈদ সোহেল। ওই থানায় ২০০৭ সালের মার্চে হারুন ফেরদৌস এবং ১৩ মে সৈয়দ শাহেদ বাদী হয়ে মামলা করেন। একই বছর ১৪ এপ্রিল শাহবাগ থানায় মামলা করেন খায়রুল বাশার।
২০০৭ সালের মার্চে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করার অভিযোগে দ্রুত বিচার আইনে, মার্চে মাসে কোম্পানি আইন ভঙ্গ ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে গুলশান থানায় পৃথক ৩ মামলা করে পুলিশ। চাঁদাবাজি ও ঘুষ গ্রহণের কয়েকটি মামলায় তারেকের বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকে সহযোগী আসামি করা হয়।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইস্কান্দার মির্জা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে লন্ডনে আশ্রয় নিয়েছিলেন। লন্ডনে বসবাসকালে তিনি অত্যন্ত অর্থকষ্টে পড়েন। বাধ্য হয়ে একটি হোটেলের ম্যানেজার হিসেবে তাকে চাকরি করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ইস্কান্দার মির্জাকে দারুণ অর্থ কষ্টে মৃত্যু বরণ করতে হয়েছে। উগান্ডার ইদি আমিনকে সৌদি আরবে ঝাড়ুদারের চাকরি করে জীবন নির্বাহ করতে হয়েছিল। অথচ বাংলাদেশের বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশে দুর্নীতি দ্বারা অর্জিত বিশাল অর্থ সম্পদের উপর লন্ডনে বিলাসী জীবনযাপন করছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে তিনি যুক্তরাজ্য ছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশসমুহ (যেমনঃ সিঙ্গাপুর, মালেয়শিয়া) ভ্রমন করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির ঘৃণ্য খেলায় মেতে উঠেছেন। তিনি তার বিভিন্ন ভিত্তিহীন বক্তব্যে দেশের সাধারণ মানুষদের বিভ্রান্ত করছেন। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অসম্মান করেও বিভিন্ন কটূক্তি করার দৃষ্টটা দেখাচ্ছেন। নিজের পিতা স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক এবং প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে অযোক্তিক ও অবান্তর দাবি করে বেড়াচ্ছেন। তাছাড়া চিকিৎসার অজুহাতে লন্ডনে থেকেও তিনি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০ ধারা ১২৪ (ক) তে রাষ্ট্রদ্রোহিতা কি এবং এর শাস্তির বিধান সম্পর্কে বলা হয়েছে।

“কোন ব্যক্তি যদি লিখিত বা উচ্চারিত কথা বা উক্তি দ্বারা অথবা চিহ্নাদি দ্বারা, অথবা দৃশ্যমান কোন প্রতীকের সহায়তায় অথবা অপর কোনভাবে বাংলাদেশের আইনানুসারে বৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা করার চেষ্টা করে অথবা বৈরিতা উদ্রেক করে বা করার চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন অথবা তিন বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে যার সাথে অর্থদণ্ড যোগ করা যাবে।”

তারেক রহমানের বেশামাল বক্তব্যকে এবং অব্যাহত ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টাকে পাগলের পাগলামী বলে অগ্রাহ্য করা যাবে না। তার সুরে সুর মিলিয়ে স্বয়ং বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াসহ বিএনপি-জামায়েত জোটের সকল নেতৃবৃন্দ তোতা পাখিরমত একই বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন যাতে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে, আমাদের নতুন প্রজন্ম যারা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি।

বর্তমান সরকারের উচিত তারেক রহমান ও খালাদা জিয়ার এসব মিথ্যাচার এবং অপ-প্রচারের বিরুদ্ধে আশু পদক্ষেপ গ্রহন করা। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করাসহ দেশের যেসব পত্র পত্রিকা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলসমূহ তারমত একজন ফেরারি আসামীর বক্তব্য সম্প্রচার করছে তাদের বিরুদ্ধেও যথাযথ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা।

খোরশেদ আলম, লেখক ও গবেষক

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 35 = 40